x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

শনির বচন

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ |

নোবেল শান্তি পুরস্কার ও শান্তির দূতবৃন্দ

কথায় বলে আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। আনন্দ তো হবেই। বিশেষ করে যারা ট্রাম্প পুজোয় বিশ্বাসী। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময় যারা ট্রাম্পের নামে যাগযজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। ভারতের মাটিতে। রীতিমত টাকাপয়সা খরচ করে ঢাকঢোল বাজিয়ে। যারা বাড়িতে ট্রাম্পের ছবিতে নিয়মিত মালা দিয়ে থাকেন। ভক্তিতে শ্রদ্ধায়। আরও খুশি হবেন তারা যারা মার্কীণপন্থী ভারতীয়। মার্কীণ স্বার্থে ঘা লাগলে যাদের শরীর খারাপ করে। আর মার্কীণ স্বার্থ পূরণ হলেই যারা আহ্লাদে আটখানা হন। খুশি হবেন নমস্তে ট্রাম্প শোয়ে’র হাজার হাজার সৌভাগ্যবান দর্শক। খুশি সেই সব বাবা মায়েরা, যাদের পুত্র কন্যারা মার্কীণমূলকের নাগরিক হয়ে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আর যারা মার্কীণ নাগরিক হয়ে দলে দলে ট্রাম্প সাহেবকে ভোট দিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। খুশিতো হবেনই তাঁরাও।

খুশি ট্রাম্প সাহেব নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বলেই। মনোনয়ণেই এত আনন্দ। পুরস্কার বিজয়ী হলে নিশ্চয় এঁদেরও জীবন সার্থক হবে শান্তি পুরস্কারের আনন্দে। হওয়ারই কথা। আমাদের ভারতে ট্রাম্পের ভক্ত কম নয়। অনেকেই ট্রাম্প সাহেবের মার্কীণমুলুককে ভারতের অভিভাবক রূপে দেখতে চান। অনেকেরই বিশ্বাস প্রয়োজন পড়লে এই মার্কীণশক্তিই ভারতকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস অনেকটা ঈশ্বর বিশ্বাসের সমতুল্য অনেকের কাছেই। তাঁরাই রীতিমত যাগযজ্ঞ করে নিয়মিত ট্রাম্প পুজোয় শান্তি পান। পুত্র কন্যাদের মার্কীন দেশের নাগরিকত্ব অর্জন এনাদের কাছে জীবনের সর্বোত্তম আনন্দ। এবং পরম গর্বের বিষয়। সেই আনন্দ ও গর্বে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত হবে, যদি সত্যই ট্রাম্পসাহেব নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভুষিত হন। 

খবরে প্রকাশ, গত আগস্টে ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমীরশাহী’র ভিতর স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির জন্যেই ট্রাম্প সাহেবের নোবেল শান্তি পুরস্কারের এই মনোনয়ণ। এই চুক্তির ফলে, মিশর ও জর্ডনের পর সংযুক্ত আরব আমীরশাহী তৃতীয় আরব দেশ হিসাবে ইজরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলো। এবং প্রতিদান স্বরূপ মার্কীণমুলুক থেকে আরও আরও বিলিয়ন ডলার সমরাস্ত্র কেনার অধিকারী হলো। আগস্টে এই দুই দেশের ভিতর স্বাক্ষরিত হওয়া চুক্তির কারণেই ট্রাম্প সাহেবের নোবেল শান্তি পুরস্কারের এই মনোনয়ন। কথায় বলে বাহবা নন্দলাল! 

সবচেয়ে মজার বিষয়, সদ্য স্বাক্ষরিক দ্বিপাক্ষিক একটি চুক্তির বলেই এই মনোনয়ণ। চুক্তির রূপায়ণ ও তার সাফল্যের ভিত্তিতে নয়। কারণ তার জন্য পাঁচ দশ বছর সময় লাগার কথা। কিন্তু ট্রাম্প সাহেবের হাতে অত সময় তো আর নাই। সামনেই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে একটি দুটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে গেলেই কেল্লাফতে। না পেলেও মনোনয়ণের প্রভাবও কম হবে না। এবং সেই অধরা শান্তি পুরস্কারকে হাতে ধরার সম্ভাবনাকে আরও মজবুত করতেই, আরও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো সম্প্রতি। ইজরায়েল সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ও বাহারিনের ভিতরে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সব তথাকথিত মার্কীণ ও ইজরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষিত করা চুক্তির ভিত্তিতেই ট্রাম্প সাহেব নোবেল শান্তি পুরস্কারের হাত ধরে আসন্ন নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গত বছর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে তাঁর গোপন ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর, হয়তো এটাই তার শেষ উপায় ছিল। এখন দেখার, সত্যই সেই অধরা নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতে হাসতে হাসতে আসন্ন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে পারেন কিনা তিনি। 

নোবেল শান্তি পুরস্কার যে ঠিক শান্তি বিস্তারের স্বীকৃতি স্বরূপই দেওয়া হয় তাও নয়। পূর্বে, এই পুরস্কারের একশ ঊনিশ বছরের ইতিহাসে বহুবার দেখা গিয়েছে যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে এবং বিশেষ করে ইজরায়লে ও মার্কিণশক্তির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই এই পুরস্কার প্রদত্ত হয়েছে একাধিকবার। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন ইজরায়েলী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সিমোন পেরজের নেতৃত্বে ইজরায়েলী সামরিক বাহিনীর হাতে ১৫৪ জন নিরস্ত লেবানিজ সাধারণ জনসাধারণের মৃত্যু হয়। সাংঘাতিক ভাবে আহত হন ৩৫১ জন। অনেকেরই ধারণা পরবর্তী নির্বাচনে জিততে নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্যেই সিমোন পেরেজের এই নরঘাতী প্রকল্প ছিল। এই প্রকল্পেই রাষ্ট্রপুঞ্জের আশ্রয় শিবিরে বোমা ফেলে ১০৬ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। তৎকালীন সামরিক আধিকারিকরা টেলিভেশনে একথাও বলেন যে তারা এই ঘটনার জন্য আদৌ অনুতপ্ত্ নন। এক দঙ্গল আরবের মৃত্যুতে কিছু এসে যায় না। এবং প্রধানমন্ত্রী সিমোন পেরেজ বলেছিলেন, ““Everything was done according to clear logic and in a responsible way. I am at peace.” (তথ্যসূত্র) এটাই ইহুদী সংস্কৃতি। এই ঘটনার ঠিক দুই বছর আগেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে বিশ্ববাসীকে ধন্য করেছিলেন সিমোন পেরেজ। 

এমনই মহিমা এই নোবেল শান্তি পুরস্কারের। সিমোন পেরেজের মতোই আরও দুই ইজরায়েলী রাষ্ট্র প্রধানকেও নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ইৎজহাক রাবিন, যারা নেতৃত্বে ১৯৬৭ সালে প্রায় একহাজার মিশরীয় নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল যুদ্ধবন্দী হিসাবে। এবং মেনাহেম বেগিন ১৯৭৮ সালে। এঁরা তিনজনেই মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলী হত্যালীলা চালানো ও সাম্রাজ্যবাদী দখলদারী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পুরস্কার স্বরূপই লাভ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। 

২০০৯ সালে সদ্য নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মার্কীণ রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে বসেছেন বারাক ওবামা। সকলকে হতবাক করে দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভুষিত হয়ে গেলেন বারাক ওবামা। কারণ হিসাবে নোবেল কমিটি থেকে বলা হলো, ওবামা বিশ্ব থেকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূল করবেন। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। বিশ্ব পরিবেশ পরিবর্তন সমালিয়ে নেবেন। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আরও সুদৃঢ় হবে তাঁর কার্যকালে। অর্থাৎ সবটিই ভবিষ্যতের আশা। তারই ভিত্তিতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা। এই শান্তি পুরস্কার প্রদানের পর বিগত ১১ বছরে কয়টি পরমাণু অস্ত্র নির্মূল করে গিয়েছেন বারাক ওবামা? হ্যাঁ নির্বাচনের প্রক্কালে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির উপরেই নির্ভর করে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল তাকে। শান্তি পুরস্কার বগলদাবা করে ওবামা বিশ্বজুড়ে মার্কীণ সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কাজে সাফল্যের সাথে এগিয়ে গিয়ে লাগাতার সাতটি দেশে বোমাবর্ষণ করে গিয়েছিলেন। যাতে প্রায় ৯০% সাধারণ মানুষের প্রাণ চলে গিয়েছিল। (তথ্যসূত্র) নোবেল শান্তি পুরস্কারের কি অপার মহিমা। 

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপকদের এই নামের তালিকায় সবচেয়ে বরেণ্য শান্তিকামী মানুষটির নাম বোধহয় মার্কীণ সামারিক যুদ্ধের বিশিষ্ট রূপকার হেনরি কিসিংগার। এই মহাশয় ব্যক্তির বিশিষ্ট ভুমিকা ছিল ষাট সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতিহাসে। কুখ্যাত কম্বোডিয়ান বোমাবর্ষণের ঘটনাও তৎকালীন মার্কীণ রাষ্ট্রপ্রধান রিচার্ড নিক্সন ও এনারই নির্দেশে ঘটেছিল। ইন্দোনেশীয়ার পূর্ব টিমরে গণহত্যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সমর্থক এই কিসিংগারই ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান প্রতিবন্ধক। এনার পরিকল্পনাতেই মার্কীণ সপ্তম নৌবহর এগিয়ে আসতে শুরু করেছিল বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মোতায়েন থাকায় সেই নৌবহর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নয়ত বাংলাদেশের দশা হতে পারতো আজকের প্যালেস্টাইনের মতোই। এই বরেণ্য ব্যক্তির পরিকল্পনা মাফিকই চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিরোধ করা হয়েছিল সফল ভাবে। মসনদে বসানো হয়েছিল স্বৈরাচারী শাসককে। 

এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পালা। যিনি এই দিক কয়েক আগেই একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০১৭’তেই তিনি সিরিয়ার রাষ্ট্র প্রধান বাশার আসাদকে (পৃথিবী থেকে) সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। (তথ্যসূত্র) কিন্তু তৎকালীন মার্কিণ ডিফেন্স সচীব জেমস মাটিসের জন্য পারেননি। “I would have rather taken [Assad] out,”  ট্রাম্প সাহেব ফক্স চ্যনেলকে এক মঙ্গলবার বলেন, “I had him all set,” but “Mattis didn’t want to do it.” কি অসামান্য স্বীকারোক্তি! এই সেই ট্রাম্প সাহেব যাঁর সরাসরি নির্দেশে ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম বিশিষ্ট মেজর জেনারেল কাসেম সেলেইমানিকে হত্যা করা হয় প্রকাশ্য দিবালোকে। ঠিক একই কাজ ইরান বা রাশিয়া চীন কি উত্তর কোরিয়া কোন মার্কীণ সমারিক আধিকারিকের ক্ষেত্রে করলে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যেত। তুলনা করা হতো হিটলার কিংবা মুসোলিনীর সাথে। মার্কীণ বোমারু বিমান আর মিসাইল বর্ষণে ধ্বংসলীলা হত্যালীলা শুরু হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট দেশে। শুরু হয়ে যেতে পারতো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমাদের মার্কিণপন্থী ভারতীয় জনগণের যে অংশ ট্রাম্প সাহেবের পুজোয় মগ্ন। তাদের অবশ্য এতসব হিসাবের দরকার নাই। তারা শুধু দেখেছেন, তাদের প্রিয় নেতার গলা জড়িয়ে ধরে ট্রাম্প সাহেব কি রকম সুখ্যাতি করে থাকেন কারণে অকারণে। সাম্প্রতিক দিল্লীর দাঙ্গার সময়ে এহেন ট্রাম্প সাহেব তাদের প্রিয় নেতার সাথে যেভাবে আড্ডায় মশগুল ছিলেন, তাতেই তাদের ট্রাম্পভক্তি শতগুণ বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে। 

এখন আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে মরিয়া ট্রাম্প সাহেব পারলে খড়কুটো ধরতে ছোটেন। তাই এই মনোনয়ণ তার কাছে এতটাই জরুরী ছিল। অনেকেই বলবেন। ট্রাম্প সাহেবের মনোনয়ণ তো কোন মার্কিণ নাগরিক করেন নি। করে নি কোন মার্কিণ প্রতিষ্ঠান। ঠিক কথা। কিন্তু মনোনয়ণকারী নরোওয়ের সেই সাংসদ যেভাবে আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের হাত মজবুত করতে এগিয়ে এলেন। এই ঘটনার সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যাবে। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলার সেই সন্ত্রাসীর। যার একটি হামলায় মাস কয়েক বাদে নির্বাচনে বিপুল আসনে জিতে ফিরে এলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কি আশ্চর্য মিল। সব ঘটনাগুলিই ঘটে নির্বাচনের প্রাক্কালে। 

ট্রাম্প সাহেব নোবেল শান্তি পুরস্কার পান আর নাই পান। আসন্ন নির্বাচনে এই মনোনয়ণ তাঁকে যে বেশ কিছুটা হলেও রাজনৈতিক সুবিধা দেবে, সন্দেহ নাই সেই বিষয়ে। আর পুরস্কার পেয়ে গেলে তো কথাই নাই। একবার নির্বাচনে জিতে ফিরতে পারলেই পরবর্তী টার্গেট হতে পারে ইরান। গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এই একটিই পথের কাঁটা রয়ে গিয়েছে এখনও। বাকিটা বোঝা যাবে অদূর ভবিষ্যতেই। 


Read More »

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

শুভজিৎ_চট্টোপাধ্যায়

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ |
তর্পণ

শরতের ভোরের সূর্য্যটা গঙ্গার জলকে রাঙিয়ে দিয়ে তখনো আলস্য ভাঙে নি। একটা মিঠে আলোয় চরাচর জুড়ে এক প্রশান্তি। আজ গঙ্গার ধারে অন্যান্যদিনের তুলনায় লোক অনেক বেশি। কেউ নিজের বাচ্চাকে নিয়ে এসেছে সাথে করে, সে অবাক চোখে সব দেখছে। তার কাছে ভোরের গঙ্গার এই রূপ অপরিচিত। কিছু চোদ্দ পনের বছরের ছেলে এসেছে সাইকেল নিয়ে। তারা নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টায় ব্যস্ত। কেউ কেউ মোবাইলে সূর্য্যের ছবি তোলায় ব্যস্ত।​

হঠাৎ এত লোকের আনাগোনায় আশপাশের গাছের পাখিগুলো ও যেন আজ একটু থমকে গেছে। হালকা শরতের হাওয়ায় নদীর ধারের কাশফুল গুলো অল্প অল্প দুলছে। আগে এখানে অনেক কাশফুলের ঝাড় হতো শরতে। এই মফঃস্বলে শহুরে হাওয়া লাগতে শুরু করায় প্রকৃতিও যেন একটু বদলাতে শুরু করেছে।

গঙ্গার ঘাটের পাশে রাধামাধব জীউয়ের মন্দিরে লাউড স্পিকারে হালকা আওয়াজে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া চলছে। যারা ভোরে উঠে রেডিওতে শুনতে পারেননি তারা শুনে নিচ্ছেন। কিছু বাচ্চা খেলা করছে। এত সকালেই অনেকে তর্পণ করতে গঙ্গায় নেমে গেছেন। কেউ কেউ সাথে তাদের স্ত্রীদের নিয়ে এসেছেন। রচনাও সেরকম এসেছে তার স্বামীর সাথে। খুব মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রচনা। দুবছর হলো বিয়ে হয়েছে। স্বামীকে বন্ধু হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতো ছোটবেলা থেকে কিন্তু বিয়ে হয় ওর চেয়ে দশ বছরের বড়ো অনুভবের সাথে। স্বামীকে বন্ধু হিসেবে কখনোই পায়নি রচনা উল্টে স্বামীকে সে ভয়ই পায়। শ্বশুরবাড়িতে কোনো মেয়ের স্বামীর বা বাড়ির ছেলেদের মুখের উপর কিছু বলার কোনো অধিকার নেই। বিযের মাস চারেকের মধ্যে বাবাও এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে রচনা যেন আরো চুপচাপ হয়ে গেছে। আজ নদীর পাড়ে বসে এইসমস্ত কথা ভেবে মন খারাপ করে নদীর দিকে তাকিয়ে রচনা বসে আছে। তার স্বামী জলে নেমেছে পুরোহিতের সাথে তর্পণ করতে।

​চারদিকে ছড়ানো ছিটানো মানুষজন, তর্পণ করাতে নামা, ওঠা, মন্ত্রপাঠ সবকিছুর মধ্যে খুব অসামঞ্জস্য রেখে নদীতে নামলো এই এলাকায় সদ্য ট্রান্সফার হয়ে আসা ব্যাংককর্মী অমিতোষ ভট্টাচার্য্য আর তার স্ত্রী গার্গী। অতলোকের মধ্যে এদের দুজনকে কেউ সেভাবে খেয়াল করার প্রয়োজন বোধই করেনি। দুজনে সূর্য্যপ্রণাম সেরে শুরু করলেন তর্পণ করার তোড়জোড়।

- গার্গী শুরু করো। আমি প্রস্তুত।

উদাত্ত কণ্ঠে মন্ত্রপাঠ হচ্ছে
ওঁ নমঃ দেবা যক্ষাস্থতা নাগা গন্ধর্ববাপ্সরসোহসূরা .....

হঠাৎ আশেপাশের সমস্ত কাজে যেন এক অনুচ্চারিত বিরতি নেমে এলো। ঘটে উপস্থিত প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজ বন্ধ করে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন ।

এক ত্রিশোর্ধ্ব , সুঠাম , সুপুরুষ যুবক জলে দাঁড়িয়ে তর্পণ করছেন এবং তার সাথে পুরোহিত হিসেবে মন্ত্রপাঠ করছেন একটি সধবা স্ত্রী!

অসামান্য তার উচ্চারণ। প্রতিটি নিয়ম খুঁটিয়ে পালন করছেন। তার মন্ত্রোচ্চারণ, নিয়মনিষ্ঠা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নীচু হয়ে আসছে ঘাটে উপস্থিত প্রত্যেকের।​

- বন্ধ করো এ অনাচার।​

বজ্রকণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন এক বৃদ্ধ।

পাশের মন্দিরের বৃদ্ধ পুরোহিতের আওয়াজে সবার যেন সম্বিৎ ফিরলো।

- ছি, ছি। এ জল পূর্বপুরুষের মুখে পৌঁছবে না। একজন স্ত্রী হয়ে তর্পণ পৌরোহিত্য?

- কেন? বারণ আছে?

শান্ত ধীর কণ্ঠে জবাব দিলেন গার্গী।

- হ্যাঁ। গরুড় পুরাণে বলা আছে " পুত্র বিনা মুক্তি নেই" জলদান শুধু পুত্র করবে, বা পুত্রস্থানীয়। তোমার বোধ হয় তা জানা নেই।

- আপনি বিদগ্ধ পুরুষ। শাস্ত্রজ্ঞানী। আপনার শাস্ত্রজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমার ধৃষ্টতা। কিন্তু আমার কিছু তুচ্ছ কথার উত্তর দিলে আমার মত অজ্ঞানীর জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।
- মস্করা করছো?
- একদম না। আমি সংস্কৃত নিয়ে মাস্টার ডিগ্রী পাশ করেছি। আমার বাবার থেকে শাস্ত্র এবং সংস্কৃতে আমার উৎসাহ। যদিও আপনার তুলনায় তা নিতান্তই কম। জ্ঞানার্জনের জন্যই বলুন বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্যই বলুন আমার কিছু জানার আছে।​
- বলো।

উপস্থিত বাকি পুরোহিতেরা এসে ভিড় করলেন বৃদ্ধ পুরোহিতের পাশে। কিছু মানুষ মজা দেখার জন্য ভিড় করে দাঁড়িয়ে পড়লো। অনেকে এদিকে মন দিচ্ছে না দেখিয়েও অধীর আগ্রহে সেই কথোপকথনের দিকে কান পেতে আছে। বাচ্চাগুলো হঠাৎ এত লোকের ভিড় দেখে খেলা ছেড়ে মায়েদের গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। এক অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠলো রচনার।

আত্মীবিশ্বাসী স্বরে গার্গী বলা শুরু করলেন-

- মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে যারা প্রতি বৎসর শ্রাদ্ধ কাজে অপরাগ তারা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালন করে পিতৃদায় থেকে মুক্ত হতে পারেন। মেয়েদের যদি শ্রাদ্ধের অধিকার থাকে তাহলে তর্পণ করার নয় কেন?​

- না বৈদিক মতে নারীদের তর্পণে অধিকার নেই !

কেবল স্বামীহীনা, বিধবা, নারীদের ক্ষেত্রে, যাদের পুত্র সন্তান বা পৌত্র নাই, তাঁরা, স্বামী, শ্বশুরমশাই এবং দাদাশ্বশুরের অর্থাৎ শ্বশুরমশাইয়ের পিতার তর্পণ পৌরাণিক শাস্ত্রবিধিঅনুসারে করতে পারেন।
পুত্র, পৌত্ররা যদি বেঁচে থাকে, তবে, নারীদের সেই অধিকার নেই।

- শাস্ত্র তৈরি হয়েছে কাল ও স্থানের প্রয়োজনের নিরিখে। তাই সামাজিক এবং সমসাময়িক পরিস্থিতি অনুযায়ী মেয়েদের উল্লেখ নেই।​

কিন্তু মহাভারতের স্ত্রী পর্বে, কৌরব রমণীদের তর্পণ করার উল্লেখ আছে।

তাছাড়া ভাবুন তর্পণে, জলদান দ্বারা, মৃত পূর্বপুরুষ এবং দেবতাদের তৃপ্তিসাধনের জন্য চেষ্টা করা হয় ! তাঁরা, প্রীত হবেন কিনা, তাঁদের তৃপ্তিসাধন হবে কিনা, এটা কিন্তু পুরোটাই বিশ্বাসের উপর !তর্পণ, মৃত পূর্বপুরুষের জন্য, জীবিত বংশধরের জলদান।এটা পিতৃযজ্ঞ। যাঁর তর্পণকরা হয়েছে,তিনি তো আর বেঁচে নেই ! জীবিত লোকের তর্পণ হয় না ! জীবিত থাকলে এমনি তাঁর হাতে এক গেলাস জল তুলে দেওয়া যায় ! তিনি পিপাসার্থ থাকলে, তাঁর তৃপ্তিসাধন, নিশ্চিতভাবে হবে। সেটা তো বাড়ির মহিলারাই দেন। তাহলে মরণোত্তর জলদান নয় কেন? আর যদি তর্কের খাতিরে বলেন তাহলে বলবো আমি তো মন্ত্র পড়ছি। জলদান তো আমি করছি না। উনি করছেন, আমার স্বামী, আমার জজমান। ওনার তো জলদানে অধিকার আছে।

- তোমরা আধুনিকা, তোমাদের আছে যুক্তি, আমাদের আছে সংস্কার, বিশ্বাস আর শাস্ত্রের বাণীর প্রতি অচল নিষ্ঠা। আমরা তার কারণ অনুসন্ধানে যাই না।​

উপস্থিত জনতা মানসিক ভাবে প্রায় দুভাগে বিভক্ত। অনেকেই গার্গীর মতের সাথে একমত কিন্তু এতদিনের সংস্কার ভেঙে তার পাশে যেতে পারছেন না। মন্দিরের শাস্ত্রজ্ঞ পুরোহিত মশাইয়ের বিরুদ্ধেই বা কিভানে যাবেন তারা। কিছু মানুষ আবার বৃদ্ধ পুরোহিতের সমর্থনে। ভিড়ের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মন্তব্য উড়ে আসছে সেই গার্গীর দিকে। সামান্য হলেও কি বিচলিত দেখালো ওই দম্পতিকে।​

সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এলেন রচনা।​

- প্রণাম পুরোহিত মশাই। আপনি শ্রদ্ধেয়। কিন্তু সত্যিই ভেবে দেখুন তো উনি কিছু ভুল বলেছেন কি? বাড়িতে সবার সেবা তো আমরাই করি। মন্দিরে ভগবানের সেবাও করি। ভগবান কে যদি জল দিতে পারি, বাড়িতে বাবা, মা, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি কে যদি জল দিতে পারি তাহলে তাঁদের মৃত্যুর পর পারবো না? আজ আমার বাবা নেই। আমার ভাই আমার বাপের বাড়ির ওখানে তর্পণ করছে। আমার বাবা আমায় খুব ভালোবাসতেন। কই আমি তো জল দিতে পারলাম না। সত্যি ই কি বাবা মা অতৃপ্ত হবেন মেয়ের হাতে জল পেলে।

উপস্থিত ভিড় যেন চুপ করে গেছে। পিন পড়লেও আওয়াজ হবে। রচনার স্বামী এগিয়ে আসছে রচনার দিকে। রচনার ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে রচনার স্বামী বললেন​

- তুমি আমায় গর্বিত করলে। আমি এভাবে কখনো ভাবতেই পারিনি। কি চূড়ান্ত সত্যি কি সহজভাবে বললে তুমি।

গার্গী এসে রচনার কাঁধে হাত রাখলো।

পুরো ভিড় অপেক্ষা করছে বৃদ্ধ পুরোহিতের উত্তরের জন্য।

- তোমরা দুজন আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। আমি শাস্ত্রজ্ঞানী হিসেবে গর্ব করি। তবে আজ তোমরা অনেক ছোট হয়েও অনেক বড়ো একটা প্রশ্ন আমার মনে তুলে দিয়ে গেলে মা। আমার শাস্ত্রজ্ঞান শুধু পুঁথিগত রয়ে গেছে আর তোমরা তা অনুভব করেছো নিজেদের সাধারণ বুদ্ধিতে। আশীর্ব্বাদ করি সুখী হও মা।

ভিড়ের সমবেত প্রশংসার মধ্যে গঙ্গার ঘাট থেকে উঠে আসছেন গার্গী আর রচনা।​

মন্দিরের লাউড স্পিকারে তখন বাজছে

" জাগো দুর্গা......."
Read More »

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

১০পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন / বসিরহাট

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ |

আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় বসিরহাট হাই স্কুলে ১০ পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন। আয়োজনে , বসিরহাট লিটল ম্যাগাজিন ফোরাম।



Read More »

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

শনির বচন

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ |
পরিবর্তন পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ ও সংস্কৃতির একটা বড়ো পরিবর্তন সূচীত হয়েছিল ২০১১ সালে। নির্বাচনী ফলাফলের হাত ধরে সরকার বদলের ভিতর দিয়ে। তারপর সারদা নারদা। এবং ২০১৬’র নির্বাচনের পরপর হিন্দুত্ববাদী শক্তির আত্মপ্রকাশের পর পরই দুই রাজনৈতিক শিবিরের পারস্পরিক যুদ্ধ। ক্ষমতার আস্ফালন। পেশি শক্তির প্রদর্শন। ২০১৯’এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের হাত ধরে বেলাগাম রাজনৈতিক পেশি শক্তির আস্ফালন লাগামছাড়া ভাবে বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের অনৈতিক হুঙ্কারের সদম্ভ আস্ফালন। কে কত খারাপ ভাষা প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত। শুরু হয়েছে তারই প্রতিযোগিতা। কে কত নৃশংস মনোবৃত্তির ধারক ও বাহক, চলছে তারই বেআব্রু প্রদর্শনী। এই আবহে নতুন একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরী হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি করে দাঁড়াতে গেলে আগে অসভ্য হতে হবে। অসৎ হতে হবে। নৃশংস হতে হবে। এই তিনটি বদদোষ না থাকলে, এরাজ্যের রাজনীতিতে কল্কে পাওয়া যাবে না। বিগত শতক থেকে ক্রমাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধঃপতন শুরু হলেও অবস্থা এতটা ভয়াবহ ছিল না। হাতে গোনা কয়েকজনের ভিতর এইসব বদ দোষের সমাহার দেখা গেলেও সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশের পরিসর এতটা কলুষিত ছিল না। কিন্তু সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের অবসানের হাত ধরে। এবং ভারতবর্ষে চরম হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতালোভী শক্তির দ্রুত উত্থানের ভিতর দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংগা তৈরী হয়ে চলেছে।

আমরা একথা বলতে পারি না, এই শতকের আগে রাজ্য রাজনীতিতে অসভ্য অসৎ নৃশংস নেতানেত্রী ছিল না। কিন্তু সেই সংখ্যাটি সংখ্যাগুরু ছিল না। সার্বিক ভাবে একটা আড়াল ছিল। এই শতকের দ্বিতীয় দশকে এসে সেই আড়ালটুকু সম্পূর্ণ খসে গিয়ে সংখ্যালঘু কদর্য সংস্কৃতিটিই সংখ্যাগুরুর সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও একটি ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করতে গেলে নতুন একটি মাপকাঠি তৈরী হয়েছে। সেটি হলো রাজনীতিতে প্রবেশ করতে হলে আগে অশিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষিত হলে, তাঁর রাজনৈতিক নেতা হওয়ার যোগ্যতা থাকবে না। অসৎ অসভ্য এমন কি নৃশংস হলেই হবে না। সবার আগে অশিক্ষিত হতে হবে। আবার শুধু অশিক্ষিত হলেই হবে না। রাজনৈতিক ভাষণে। সাংবাদিক সম্মেলনে। নির্বাচনী বক্তৃতায় এবং আইন সভায়, সর্বত্র নিজের অশিক্ষিত পরিচয় রাখতে হবে। যে রাজনৈতিক নেতা যত বেশি অশিক্ষিত হবে, তার রাজনৈতিক শক্তি তত বেশি হবে। 

আবার ভারতবর্ষের সাথে সাথে আমাদের এক টুকরো বাংলাতেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন একটি অভিমুখ খুলে গিয়েছে। সেই অভিমুখে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে যতগুলি ফৌজদারী মামলা ঝুলতে থাকবে, তার নির্বাচনে জেতা তত বেশি নিশ্চিত হবে। এই ধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভারতের অন্যান্য অংশে যতটা ব্যাপক ছিল। আমাদের রাজ্যে ততটা ব্যাপক ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকে সেই রোগ এই বাংলাকেও গ্রাস করে ফেলেছে প্রায়। এখন আসুন আর একবার দেখে নেওয়া যাক। এই রাজ্যেও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজনৈতিক নেতা হতে গেলে কি কি যোগ্যতা লাগে। প্রথম যোগ্যতা প্রকৃত অশিক্ষিত হতে হবে। দ্বিতীয় যোগ্যতা পুরোপুরি অসৎ হতে হবে। তৃতীয় যোগ্যতা অসভ্য হতে হবে। চতুর্থ যোগ্যতা মিথ্যাবাদী হতে হবে। পঞ্চম যোগ্যতা নৃশংস হতে হবে। এবং ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত হলে সোনায় সোহাগা। নির্বাচনে দলের হয়ে নিশ্চিত আসন জেতা প্রার্থী হিসাবে বিবেচিত হতে গেলে এই সকল বদ দোষ থাকা একান্ত জরুরী। 

না এটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল না। ২০১১’র আগে থেকেই রাজ্য রাজনীতির পরিসর কলুষিত হতে শুরু করলেও, অবস্থা এতটা ভয়াবহ ছিল না। অনেক সংখ্যক শিক্ষিত সুসভ্য সৎ এবং শান্তিকামী রাজনৈতিক নেতানেত্রীর দেখা পাওয়া যেত। রাজনৈতিক মতাদর্শগত একটা অভিজাত্যও বর্তমান ছিল অনেকের ভিতরে। কিন্তু ২০১১’র পরিবর্তন ও ২০১৪’র ভারতব্যাপী হিন্দুত্ববাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের ফলে এই রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রায় একশো আশি ডিগ্রী বদলিয়ে গিয়েছে। 

এর একটি চমকপ্রদ প্রভাব পড়েছে রাজ্যবাসীর উপরে। আগে কল্পনা করা যেত না, অন ক্যামেরা ঘুষ নেওয়া কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবেন। ২০১৬’র নির্বাচনে সেই অভাবিত ঘটনাও স্বাভাবিক হয়ে দেখা দিল। একই দলের এক ডজন নেতানেত্রীকে অন ক্যামেরা ঘুষ খেতে দেখেও রাজ্যবাসী সেই দলকেই ঐতিহাসিক ফলাফলে বিজয়ী করে নিয়ে আসলো। এর ফল কিন্তু মারাত্মক। রাজনৈতিক নেতৃবর্গ দেখে নিল, সারদা নারদা করেও হেসে খেলে ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়। তাই প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শিবির স্পষ্ট বুঝতে পারলো এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে গেলে সারদা নারদা ঘুষকাণ্ড কাটমানি রাজনৈতিক অসততা এইগুলিকে ইস্যু করে কোন লাভ নাই। জনগণ এইসব ইস্যুর বিরুদ্ধে নয়। উল্টে জনতা সেই দলকেই বেশি ভোটে নির্বাচিত করবে যে রাজনৈতিক দল এইসব অনৈতিক কাণ্ডে যত বেশি মদত দেবে। তাই তাদের হাতে পড়ে থাকলো বিভাজনের রাজনীতির এক একটি তুরুপের তাস। সাম্প্রদায়িক বিভাজন। অনুপ্রবেশের রাজনীতি। ধর্মীয় উন্মাদনা। রামমন্দির। গোরক্ষা। গোমূত্র সেবন ইত্যাদি। ফলে এই সকল নন ইস্যুগুলিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে গেলে লাগাতার মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে হবে। এবং অনুপ্রবেশের রাজনীতির ভিতর দিয়ে মিথ্যা নাগরিকত্ব প্রদানের আশ্বাস দিয়ে জনতাকে বিভ্রান্ত করতে হবে। জনতা যত বেশি বিভ্রান্ত হবে। তত বেশি ভোট ঝুলিতে পড়তে থাকবে। আর জনতাকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা প্রচারের সাথে আরও একটা কাজ করে যেতে হবে। সেটি হলো অসংলগ্ন যুক্তিহীন কথাবার্তাকে রাজনৈতিক ভাষণ বলে প্রচার করা। কুরুচিকর মন্তব্য ও অশালীন আচরণকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে সমার্থক করে তোলা। এবং বেআব্রু পেশি শক্তির লাগাতার আস্ফালন চালিয়ে যাওয়া। 

জনগণ অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দুর্বৃত্তদের আশ্রয়ে থাকাই আজকাল বেশি নিরাপদ বলে মনে করে। এই সোজা কথাটুকু রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির স্পষ্ট করে বুঝে গিয়েছে। আর তার ফলেই রাজ্যব্যাপী সহিংস রাজনীতির রমরমা শুরু হয়ে গিয়েছে কাকদ্বীপ থেলে কালিঙপং অব্দি। পুরুলিয়া থেকে আলিপুরদূয়ার অব্দি। কে কার থেকে বড়ো দুর্বৃত্ত। কে কার থেকে বেশি খারাপ। কে কার থেকে আরও ভয়ানক। সেই ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিই এখন রাজ্য রাজনীতির মূলধারার সংস্কৃতি। 

সকাল থেকে সন্ধ্যা প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের নেতানেত্রীর মুখনিঃসৃত বাণীগুলি পরপর বাঁধিয়ে রাখলেই এই নব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্পষ্ট ছবি ধরা পড়বে। দিনভর ঘটে চলা রাজনৈতিক সহিংসতার ছবিগুলি পরপর ধরে রাখলেই এই নব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির ছবি বেআব্রু হবে। তাতে যাই হোক, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতানেত্রী আদৌ লজ্জিত হন না। এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছঁরি করে দায় সারে। সবচেয়ে মজার কথা হলো। সাধারণ জনতার তাতে কোন রকম হেলদোল দেখা যায় না। জনতার চিন্তাধারায়, এটাই সঠিক রাজনৈতিক আবহ। জনতার ধারণায়, রাজনৈতিক নেতা মাত্রেই অশিক্ষিত অসৎ অসভ্য মিথ্যাবাদী ও নৃশংস। তাই নেতানেত্রীরা যাই করুন না কেন, সেটি তাদের রাজনৈতিক ধর্ম ও প্রকৃতি। স্বভাব ও চরিত্র। তার বাইরে তাঁদের কোন অস্তিত নাই। থাকতেই পারে না। এবং জনতা খুব ভালো করেই জানে। এইসব অসাধু ব্যক্তিবর্গকে ক্ষমতায় পৌঁছিয়ে দিতে পারলেই আখেরে নানান ধরণের অনৈতিক সুযোগ সুবিধা আদায় করে নেওয়া সহজ হবে। তাই জনতার একটা বড়ো অংশই এই অসৎ রাজনীতির চারপাশে ঘুরঘুর করে। অসাধু নেতামন্ত্রীদের জনসভায় ভিড় বাড়ায়। 

ফলে রাজ্য রাজনীতির পরিসরে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতানেত্রী, ও সংখ্যাগুরু ভোটার সকলেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই সপক্ষে দাঁড়িয়ে। এর বাইরে যাঁরা, তারাই প্রকৃত সংখ্যালঘু। তারা নিরব। নির্বাক। ছত্রভঙ্গ। তাদের একত্র করার মতো কোন নেতা বা পথ নাই। তাদের ভোটের কোন মূল্যও নাই। তাঁরা অধিকাংশই ভোটযন্ত্রের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করেন। যার ফলে সম্পূর্ণ ফাঁকা মাঠে এক পক্ষের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বাজিমাত করে চলেছে বছরের পর বছর ধরে। সামনে পড়ে রয়েছে আরও আরও বাজিমাতের বছর। 

১১ই সেপটেম্বর ২০২০


Read More »

শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০

শনির বচন

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০ |
করোনা মোকাবিলায় তৃতীয় স্থানে ভারত
আসুন জয় শ্রীরাম বলে হাততালি দিন পাঁচ মিনিট ধরে। থালা বাজান। নয় মিনিট ধরে আলো নিভিয়ে প্রদীপ জ্বালান। না, পটকা ফাটানোর কথা বলা হয় নি রাত আটটার নির্দেশে। তবে ভক্তিতে পরিপূর্ণ হলে তাও ফাটাতে পারেন। অসুবিধা নাই। কিন্তু এই পথেই করোনার সাথে মোকাবিলা করতে হবে এক দেশ এক প্রাণ হয়ে। সেটাই আসল কথা। দেশ জুড়ে আমরা সকলে মিলে ‘মিলেমিশে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’ বলে, তাঁর কথায় এইসবই করেছিলাম। আবারও যেদিন করতে বলা হবে আমাদের। নিশ্চয় করবো। অবশ্যই করবো। আমরা সকলেই দেশপ্রেমী। হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তান হ্যায় হামারা। ভারত মাতা কি জয়। আমরা তো জানি। বিশ্ব জুড়ে করোনা মোকাবিলায়, আমাদের সরকারের সাফল্যের কথা। আমাদের সামনে শুধুমাত্র দুটি দেশ আর অবশিষ্ট আছে। অনেক নীচ থেকেই আমাদের সরকার করোনা মোকাবিলায় আমাদেরকে টেনে উপরে তুলে নিয়ে এসেছে। একেবারে তৃতীয় স্থানে। বিশ্বাস হচ্ছে না তো?। হবে কি করে বলুন। বিরোধী পক্ষের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে হবে? তারা তো সবসময় অর্ধেক খালি গ্লাসই দেখাবে। নিজের চোখে তাকিয়ে দেখতে হবে মশাই। তাহলেই দেখতে পাবেন। বুঝতে পারবেন বিরোধীরা কিভাবে টুপি পড়ায় আমাদের। 

এই যেমন। বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ল্ড মিটারে করোনা আপডেটের তালিকায় ভারত এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলেই বিরোধীরা আমাদেরকে কেমন ভুল বোঝাচ্ছে দেখুন একবার। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ভারতবর্ষ করোনা পজিটিভ রুগীর সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয়। আমেরিকা ও ব্রাজিলের পরেই ভারত ৩৮ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪০৬ টি পজিটিভ কেস নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এবং আমাদের সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আর খুব অল্প কয় দিনের ভিতরেই আমাদেরকে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছিয়ে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে ভারতবর্ষই বিশ্বে একমাত্র দেশ, যে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আশি হাজার মতো নতুন পজিটিভ রুগী ধরা পড়ছে। একশো তেত্রিশ কোটি মানুষের দেশে গড়ে প্রতিদন আশি হাজারের মতো পজিটিভ কেস ডিটেক্ট করা কি সোজা কথা? হ্যাঁ মানতেই হবে এই বিষয়ে পরিসংখ্যানের হিসাবে মোট পজিটিভ রুগী ডিটেক্ট করার সংখ্যায় আমেরিকা ও ব্রাজিল আমাদের থেকে এগিয়ে রয়েছে। এটাও মানতে হবে। এই দুই দেশের পরিকাঠামো অনেক বেশি উন্নত। কিন্তু আমরা আমাদের এত দুর্বল পরিকাঠামো নিয়েই ব্রাজিলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছি এখন। 

আমাদেরকে তো এটা বুঝতে হবে। করো‌নার সাথে মোকাবিলা করতে গেলে, আগে করোনার পজিটিভ কেসগুলি খুঁজে বার করতে হবে। প্রায় চিরুনী তল্লাশি করে সেই কাজ কতটা দক্ষতার সাথে করতে পারলে, প্রতিদিন গড়ে আশি হাজারের মতোন নতুন নতুন কেস খুঁজে বার করা সম্ভব ভাবুন একবার। অথচ চারপাশে তাকিয়ে দেখুন। সরকারের এহেন সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার বিরোধী দেশদ্রোহীরা কেমন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বক্তব্য বাস্তবের একেবারে উল্টো!। দেশ জুড়ে ৩৮ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪০৬ জনের ভিতরে করোনার উপস্থিতি তো এই সরকারই খুঁজে বার করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা কি বলেছিলেন? বলেছিলেন যত বেশি সংখ্যক টেস্ট করা যাবে। তত বেশি করে সাফল্যের সাথে করোনাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এবং এখানেও দেখুন। আমাদের সরকার বাহাদুরের বাহাদুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে শিরোধার্য্য করেই সরকার ঠিক সেই কাজটাই সাফল্যের সাথে রূপায়িত করে চলেছে। যে কাজে সাফল্যের নিরিখে আমাদের আগে রয়েছে মাত্র দুটি দেশ। আগেই বলেছি। আমেরিকা আর ব্রাজিল। যারা আমাদের থেকেও বেশি টেস্ট করে পজিটিভ রুগীর সন্ধান করতে পেরেছে। কিন্তু ওয়র্ল্ডমিটারের পরিসংখ্যানই বলছে গড়ে প্রতিদিনের টেস্ট রেজাল্টে পজিটিভ রুগীর সংখ্যা খুঁজে বার করতে পারার নিরিখে, আমরা সকল দেশকেই পিছনে ফেলে দিতে পেরেছি। আর কোন দেশই গড়ে প্রতিদিন আশি হাজারের মতোন করোনা রুগী খুঁজে বের করতে পারে না। আমাদের মতোন। এবং ভগবান করুন এই হার বজায় রাখতে পারলে, আর মাত্র মাস দেড়েকের ভিতরেই আমরাই জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবো। পজিটিভ কেসের নিরিখে ভারতই হবে প্রথম স্থানাধিকারী। বাকি আর সব দেশই থাকবে ভারতের পিছনে। সেই বিখ্যাত ডায়ালগের বাস্তব প্রয়োগ। আমার যেখানে দাঁড়াই। লাইন সেখান থেকেই শুরু হয়। সিনেমার ডায়ালগকে আমাদের সরকার বাস্তবে করে দেখাতে চলেছে। ভারত মাতা কি জয়। 

ফলে যারা আমাদের থালা বাজানো, আলো নেভানো প্রদীপ জ্বালানো হাততালি দেওয়া আর পুষ্পবৃষ্টি দেখা নিয়ে উপহাস করে থাকেন, তারা মূর্খের স্বর্গেই বাস করেন। না হলে বুঝতে পারতেন। কতটা বৈজ্ঞানিক ভাবে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দক্ষতায় এত দ্রুত হারে করোনা পজিটিভ খুঁজে বার করা সম্ভব। এবং এই বিষয়ে সরকারের নিরপেক্ষতা সব রকম বিতর্কের উর্দ্ধে। কেউ বলতে পারবেন না, সরকার শুধু নিজ দলের কর্মী সমর্থকদের ভিতর থেকেই করোনা পজিটিভ রুগী খুঁজে বের করছেন। সকলেই জানেন এই বিষয়ে আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় সরকার জাতপাত ধর্ম সম্প্রদায় বর্ণ, ধনী দরিদ্র্য, রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে, সকলের ভিতর থেকেই পজিটিভ রুগী খুঁজে বার করছেন। প্রতিদিন। কি একনিষ্ঠ পরিশ্রমে। কোন রকম পক্ষপাত নাই। সকলেই ভারতমাতার সন্তান। তাই সন্তান স্নেহে, বাড়িতে মা যেমন সন্তানের কপালে হাত দিয়ে দেখে নেন। সন্তানের জ্বরজারি হয়েছে কিনা? ঠিক তেমনই আমাদের বর্তমান সরকারও পরম মমতায় দেশবাসীর কপালে হাত দিয়ে রেখেছেন। রেখেছেন বলেই না এমন দ্রুত হারে প্রতিদিন আশি হাজারের বেশি মানুষের ভিতর করোনা ধরা পড়ছে। অন্য কোন সরকার হলে এই সাফল্য আশাই করা যেত না। 

জানি জানি, অনেকেই ঐ ৬৭ হাজার ৪৮৬টি মৃতদেহের সংখ্যা হিসাব করছেন তো? তা করুন ক্ষতি কি? শুধু মনে রাখার চেষ্টা করুন, একশ তেত্রিশ কোটির জনসংখ্যার দেশে মাত্র ৬৭ হাজার! তাও আবার বেশির ভাগই বয়স্ক মানুষ। আজ না হয় কাল যাঁদের মৃত্যু হওয়ারই কথা। ভাবুন ভাবুন। সরকারের সমালোচনা করা খুবই সহজ। কিন্তু ৬৭ হাজার ৪৮৬ জনের হিসাব করার সাথে এই সরকার ক্ষমতায় থাকায় কত কোটি কোটি মানুষ যে এখানো বেঁচে রয়েছেন সেটাও তো ভাবতে হবে। এই সরকার না থাকলে ঘরে ঘরে এত জীবন্ত মানুষ দেখতে পেতেন আজ? তাই সরকারের সমালোচনা করতে হলে করুন। কিন্তু সরকারের এহেন সাফল্যকে স্বীকার করে নিয়েই করুন। ওয়ার্ল্ড মিটারে যেদিন ভারতের স্থান সকল দেশের উপরে হবে। সেদিন প্রমাণ হবে সব কা সাথ সব কা বিকাশ, কোন কথার কথা নয়। গোটা দেশকে একসূত্রে বেঁধে না ফেলতে পারলে কখনোই প্রথম স্থান দখল করা সম্ভব নয়। এমনকি আজ যে আমরা এই তৃতীয় স্থানে। সেও ঐ সব কা সাথ সব কা বিকাশেরই বাস্তব প্রতিফলন। জাতি ধর্ম বর্ণ নিরপেক্ষ। জাতপাতের উর্দ্ধে। রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সকলের মধ্যে থেকেই আমাদের সরকার পজিটিভ রুগী খুঁজে বার করার শপথ নিয়েছেন। এই যে পজিটিভ এটিচ্যুড, এই যে পক্ষপাতহীন সরকারী প্রকল্প। তার প্রশংসা না করতে পারুন, অযথা সমালোচনা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কি ঠিক। ভেবে দেখুন না একবার। নিজেরাই। 

তাই বলছিলাম। দেশজুড়ে হাততালি দিয়ে থালা বাজিয়ে আলো নিভিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে একদেশ এক প্রাণ না করতে পারলে। গোটা দেশকে একসূত্রে না বাঁধতে পারলে এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো কি কখনো? তাই তাঁর প্রজ্ঞা ও সাধনাকে বাঁকা চোখে না দেখে সোজা চোখে বরণ করে নেওয়াই আজ দেশপ্রেম। 


৩রা সেপটেম্বর’ ২০২০



Read More »
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.