x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০২০

শনির বচন | জাগ্রত ভারতে নিদ্রিত বাংলা

sobdermichil | ডিসেম্বর ০৫, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

শনির বচন | জাগ্রত ভারতে নিদ্রিত বাংলা

জয়শ্রী রাম! সরকার যা করেন মঙ্গলের জন্যেই করেন। তা সে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ই হোক। ৩৭০ ধারা বিলোপ সাধনই হোক। সরকারী সম্পত্তি জলের দরে বেচে দেওয়াই হোক। কিংবা ঋণখেলাপী শিল্পপতিদের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মুকুব করে দেওয়াই হোক। পিছনের দরজা দিয়ে ব্যাংক লুঠকারী মোদীদের নিরবে দেশত্যাগ করতে দেওয়াই হোক। কিংবা নোট বাতিল করে দেশবাসীকে কান ধরে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়াই হোক। সবই কিন্তু অচ্ছে দিনের জন্য। সবই কিন্তু বিকাশের জন্য। সবই কিন্তু নির্বাচনী ইশতেহার মাফিক। কৃষক বিরোধী নতুন তিনটি কৃষি আইনও তেমনই দেশহিতার্থেই দেশবাসীকে সরকারের তরফ থেকে উপহার। 

কিন্তু খালিস্তানী কৃষকরা তো সে কথা শুনবে না। তাই হাজার হাজার ট্র্যাক্টর নিয়ে লক্ষ লক্ষ কৃষক দিল্লী অভিযানে নেমে পড়েছে। তাদের পরিস্কার কথা। নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এবং প্রত্যাহার করতে হবে বিশেষ লোকসভা অধিবেশন ডেকে। সোজা কথা? একটা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার। তা সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেছনে কতখানি পুলওয়ামা কতটা বালাকোট কিংবা কতটা ইভিএম মেশিন কিংবা কতটা তিন শতাধিক নির্বাচনী আসনে মোট ভোটারের থেকে বেশি ভোট পড়া রয়েছে, সেটা বিচার সাপেক্ষ। যেভাবেই হোক। হিন্দু মুসলিম করেই হোক। পুলওয়ামা বালাকোট দিয়েই হোক। ইভিএমের কারসাজিতেই হোক। সরকার যে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাতে তো আর সন্দেহ নাই। 

কথায় বলে যো জিতা ওহি সিকান্দর। ফলে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের চোখ রাঙানি তো সহ্য করতেই হবে। সরকার যখন যে আইন আনবে। নতমস্তকে মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। মাথা তুলে শিরদাঁড়া খাড়া করে গলা উঁচিয়ে প্রতিবাদ করলেই কিন্তু মুশকিল আছে। 

তেমন বেয়াদবি সরকার সহ্য করবেই বা কেন? খাড়া শিরদাঁড়ার উপরে মাথাটা মুসলমানের হলে, সে পাকিস্তানী। মাথাটা দলিতের হলে সে মাওবাদী। মাথাটা কম্যুইনিস্টদের হলে সে চীনের দালাল। আর যদি মাথায় পাগড়ি থাকে, তবে তো কথাই নাই সে খালিস্তানী। তাই পঁচানব্বই হাজার ট্র্যাক্টর নিয়ে বারো লক্ষ কৃষকের দিল্লী অভিযান আসলেই খালিস্তানী আন্দোলন। এমনটাই বলা হচ্ছে সকাল সন্ধ্া জয়শ্রীরাম জপতে জপতে। 

এদিকে সরকারের নতুন কৃষি আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য থেকে ইতিমধ্যেই বাদ পড়ে গিয়েছে চাল, ডাল, আটা, আলু, চিনি, পিয়াঁজ, ভোজ্য তেল সহ মোট ২০ টির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য। এতদিন যে পণ্যগুলি এই আইনের আওতায় থাকায় দেশে দুর্ভিক্ষ লাগেনি বিগত ছয় দশকে। এর কিন্তু একটা মস্ত সুবিধা রয়েছে। সেটা কি? না সরকার বাহাদুর, এবার সরাসরি মজুতদারদের স্বার্থরক্ষায় আইন এনেছেন। আপনি মজুতদারী কারবারে ফুলে ফেঁপে উঠলেও আইন আপনার টিকি ছুঁতে পারবে না। এই সরকারকে ভোট দিয়ে সমর্থন না করে থাকা যায়? সম্ভব? সরকারের মাথাদেরকে যারা নির্বাচনে জিততে কোটি কোটি টাকা সরবরাহ করে থাকে। সেই কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা এখন থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ইচ্ছে মতো দামে কৃষিপণ্য ক্রয় করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গুদামজাত করে রেখে বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে অগ্নিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় করতে পারবে। কোন সরকারী বিধিনিষেধ থাকবে না। এই তো অচ্ছে দিন। এবং আমি আপনি সানন্দে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে এক ব্যাগ টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে এক ঠোঙা সবজি কিনে আনতে পারবো। দেশের জন্য না হোক দেশের সরকারের জন্য এইটুকু মাশুল দেবো না? তাহলে আর কিসের দেশপ্রেম বলুন তো?

ব্রিটিশ চলে যাওয়ার পর এই প্রথম আবার সেই নীলকর সাহেবদের আমলের মতো চুক্তিচাষ প্রথা ফিরে এলো। বড়ো বড়ো কর্পোরেট সংস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের চুক্তিচাষে বাধ্য করতে পারবে। তাও আবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে, সেই ক্ষতির দায় কিন্তু কর্পোরেট সংস্থাগুলি নিতে বাধ্য থাকবে না। আর থাকবেই বা কেন? কোটি কোটি টাকা লগ্নী করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সরকারী গদিতে বসিয়েছে কি আর এমনি এমনি? লগ্নীর চুক্তিমত একের পর এক আইন না করে সরকারের উপায় আছে কোন? ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে একটু দেখে নিতে পারলে মন্দ হতো কি? নীলকর সাহেবদের দাপট আর অত্যাচারের গল্পগুলি কিন্তু সেদিন হাজার হাজার নীলচাষীদের জীবনে কোন কল্পকাহিনী ছিল না। আগামী দিনেও থাকবে কিনা সন্দেহ। সন্দেহ করছে বলেই পঁচানব্বই হাজার ট্র্যাক্টর আর বারো লক্ষ কৃষকের এই দিল্লী অভিযান।

না গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কৃষিপণ্য ক্রয়ের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যূনতম সহায় মূল্য দিয়ে কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি এই আইনে সম্পূর্ণ বাতিলও হয়ে গেল। জয়শ্রীরাম। এখন থেকে কর্পোরেট সংস্থাগুলির স্বার্থে নির্ধারিত মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় করতে বাধ্য হবে কৃষকরা। তাতে তাদের যতই আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হোক না কেন। দেশপ্রেমের প্রমাণ নয়তো তারা আর দেবেনই বা কিভাবে? অথচ দেখুন। এই দেশবিরোধী কৃষকরা আজ একজোট হয়ে দিল্লী অভিযানের নামে কার্যত দিল্লী অবরুদ্ধ করে রেখে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের চুড়ান্ত ভোগান্তি চলছে। আর এরা সরকারকে কার্যত ব্ল্যাকমেল করতে মাস ছয়েকের খাদ্য নিয়েই দিল্লী অভিযানে নেমে পড়েছে। এবং আরও কৃষকদের প্ররোচিত করে চলেছে দেশবিরোধী এই আন্দোলনে সামিল হতে। ভাবুন একবার!

না, সেদিক দিয়ে দেখলে আমাদের বাংলার কৃষকরা কিন্তু সত্যিই প্রকৃত দেশপ্রেমী। তারা কিন্তু দেশবিরোধী এই কৃষক বিদ্রোহ থেকে শত যোজন দূরে। যখন উড়িষ্যা মধ্যপ্রদেশ মহারাষ্ট্রের কৃষকরাও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পথে নামছে। বরং গ্রাম বাংলার খেতে খামারে কান পাতলেই জয়শ্রীরাম ধ্বনির বিস্তার ও সরগম দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়ছে কাকদ্বীপ থেকে কার্শিয়াং। আলিপুরদূয়ার থেকে আদ্রা। এই বাংলায় এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সব আইনই স্বাগতম। না, রাজ্য সরকার বা সরকারী ভাবে নির্বাচিত দল যতই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা করুক না কেন। রাজ্যবাসী তাতে কান না দিলেই তো হলো। তাই রাজ্যের কৃষকরাও দিল্লীর কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। বরং সব মাথা ধীরে ধীরে সমবেত হচ্ছে জয়শ্রীরাম ধ্বনির চারপাশেই। একটু গ্রাম বাংলায় ঘুরে আসলেই বিষয়টি চাক্ষুশ করে আসা যেতে পারে কিন্তু। কেন্দ্র সরকারের নতুন কৃষি আইন কিন্তু সারা ভারতেই একই প্রভাব ফেলবে। পাঞ্জাবের কৃষকরা যদি বিপদে পড়ে। বাংলার কৃষকদের বিপদ তার থেকে কম হবে না আদৌ। নতুন কৃষি আইনে কৃষিকাজে বিদ্যুতমাশুলের উপরে সরকারী ভর্তুকি তুলে নেওয়াই হবে না শুধু। বিদ্যুৎ কিনতে হবে বেসরকরী সংস্থাগুলি থেকে উচ্চমূল্য। তাতে উচ্চমানের ফসল হবে কিনা বলা না গেলেও, কৃষকের হাড়পাঁজরা যে এক হয়ে যেতে পারে, সেকথা আন্দাজ করেই পাঞ্জাব হরিয়ানা উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা লাখে লাখে এই কৃষক বিদ্রোহে সামিল হয়েছে। কিন্তু আমাদের বাংলায়? না, কোন রাজনৈতিক দলই এই কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে পথে নামে নি এখনো। সব দলই জল মাপতে ব্যস্ত। আমাদের বাংলায় এই একটি সংস্কৃতি তৈরী হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলের স্বার্থের বাইরে কোন আন্দোলন সংগঠিত হয় না। পথেঘাটে মিটিং মিছিল গণআন্দোলন হরতাল ধর্মঘট সব কিছুই রাজনৈতিক দলগুলির স্বার্থে ও নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে থাকে। ব্যাতিক্রম ঘটলেও রাজনৈতিক দলের স্বার্থে দলের হাতে নিরপেক্ষ গণআন্দোলনও হাইজ্যাক হয়ে যায়। ঠিক যেমনটি হয়েছিল সিঙ্গুরের কৃষিজমিরক্ষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে। কিন্তু পাঞ্জাব হরিয়ানা উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা এমন ভাবে রাজনৈতিক দল নির্ভর নয়। তাদের নিজস্ব কন্ঠ রয়েছে। কথায় বলে নিজের ভালো পাগলেও বোঝে। কিন্তু সেটি বোধহয় আর আমাদের বাঙালিদের ক্ষেত্রে খাটে না। বাংলার কৃষক তাই আজও দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের সপক্ষে পাশে দাঁড়ায়নি। হ্যাঁ অবশ্যই দঁড়াতো। বা দাঁড়াবে যদি কোন রাজনৈতিক দল তাদের সংগঠিত করে রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলগুলি সবই সামনের বছরের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এখনো জল মাপতেই ব্যস্ত। 

৫ই ডিসেম্বর’ ২০২০


Read More »

সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

■ অর্ণব সাহা | সে আর সপ্তমী তিথি : চাঁদ

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
■ অর্ণব সাহা | সে আর সপ্তমী তিথি : চাঁদ

দেয়ালগুলোর গায়ে মরা বিকেলের আলো
চুঁইয়ে নামছে। এই বৃষ্টিতে

ধুয়ে যাওয়া পলেস্তারা, ভোটের প্রচারছবি সবাই ম্লান

“এই চিহ্নে বোতাম টিপুন” লিখনও ফ্যাকাশে
ডিশ অ্যান্টেনায় কাটা ঘুড়ি, অন্যের নিয়তি হয়েই
ধীর পায়ে ঘনিয়ে উঠছে ভবিতব্য, জলঢোঁড়া
সাপের মতোই মুহূর্ত তোমার পা বেয়ে উঠে আসবে,
পিছল, নির্বিষ, গন্তব্যবিহীন

একটা এস.এম.এস ঢোকার কথা ছিল,
যেন কারও মনে পড়ল তোমায়, সে কতো দূর ?
কোন মহল্লা ? কোন শহরের নিঃসঙ্গ সাইবার কাফেতে বসে
কেউ ছুঁতে চাইবে তোমায় ? স্কাইপের কানেকশন
হঠাৎ ছিঁড়ে যাবার পর যেরকম ভরশূন্য লাগে,
তেমনই একদলা ব্যথা, কী যেন বিঁধছে,
ঢোঁক গিলতে গেলে কান্না বমি করতে পারো 


না, কেউ তোমার জন্য অপেক্ষায় নেই…

একটা দম-আটকে-যাওয়া শূন্যতা নিয়ে ঘুরে বেড়াই । পথ থেকে পথে দেখি হাইরাইজ, দামি বিদেশি গাড়ির নির্লজ্জ পশরা । এই রাস্তা, এই ফুটপাথ, এই বারিস্তা-সিসিডি, এই আইনক্স জানে আমাদের সেইসব তুমুল মুহূর্তযাপন । যেদিন হাত ধরেছিলাম, যেদিন নৌকোর ছইয়ের ভিতর অন্ধকারকে অস্বীকার করে চুমু খেয়েছিলাম তীব্র আশ্লেষে, যেদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেদিন ওর খোলা চুল উড়ে গিয়েছিল ট্যাক্সির জানলায়, যেদিন ও খুলে দিয়েছিল বুকের দু’জোড়া করুণ শঙ্খের মতো আর্দ্র স্তনযুগল, যেদিন গোটা কলকাতা জুড়ে প্রবল বৃষ্টি আর মুহূর্মুহু বিদ্যুতের আলোয় ঝলসে গিয়েছিল আকাশ, যেদিন ছুটন্ত অটোর ভিতর চেপে ধরেছিলাম হাত চোখ থেকে চোখে ছুটে গিয়েছিল এক অদৃশ্য কসমিক রেখা, সেদিনও আমরা কেউই জানতাম না নক্ষত্রেরও আয়ু শেষ হবে, ফুরিয়ে যাবে এই তীব্র মুহূর্তগুলোর ভেতর লুকোনো সন্ত্রাস । তবু সেই অমোঘ দিনটা এল অবশেষে। যেদিন ও নিজেকে ছিঁড়ে নিয়ে বেরিয়ে গেল আমার কাছ থেকে । মনে হয়েছিল একটা কালো আকাশের গায়ে হাত বুলিয়ে নক্ষত্রের পাঠ নিচ্ছি আমি । এতোটাই আকস্মিক আর নির্মম ছিলা সেই অভিজ্ঞতা । এটা এমন এক লিমিট-এক্সপিরিয়েন্স, যা ভাঙা যায় না । যার রেশ হয়তো টিকে থাকে বছরের পর বছর পেরিয়েও ।

ভাষা, আজ আমরা জানি, সিগনিফায়ার আর সিগনিফায়েডের এক অমোঘ আর জটিল খেলা । যাকে আমরা তৈরি করেছি ‘ভাষা’-র নিজস্ব ‘সিস্টেম’-এর সাপেক্ষে । বস্তুত, কোনো শব্দেরই কোনো স্থির ও অনড় অর্থ নেই । 

যাকে আমরা বলি ‘প্রেম’, যাকে আমরা বলি ‘শূন্যতা’, তারও কোনো ‘স্থির’, ‘গিভেন’ অর্থ নির্দিষ্ট নেই কোনোকালেই । তবু আমরা কেন ভাবি, ‘প্রেম’ সেই মিডাসের লাঠি, যা, ছুঁয়ে দিলে যেকোনো বস্তুর অন্তর্নিহিত অর্থ বদলে যায় ? কারণ, ইতিহাসগত ভাবে এই ‘অর্থ’ নির্মিত হয়েছে । হোক ‘আর্বিট্রারি’, তবু আমরা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছি একে । তাই, এই একটি শব্দের সামনে নতজানু হতে হতে আমরা ধারণা করে নিয়েছি, ওই শব্দের অনুষঙ্গে আরও বহু কিছু জড়িয়ে আছে, যা খুব স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই আসবে । একটা ‘গাছ’-কে যে আমরা ‘গাছ’ বলে চিনি, ‘জলাশয়’ বা ‘রাস্তা’ বলে চিনি না, তার পিছনে আমাদের বহুযুগলালিত সংস্কার আর অভ্যাস লুকিয়ে আছে মাত্র । সত্যিই ‘গাছ’ শব্দটির ভেতরে আজ আর কোনো স্থিরীকৃত অর্থ লুকিয়ে নেই, যা থেকে তাকে ‘বৃক্ষ’ বলে চিনে নেওয়া যায় । ‘প্রেম’ শব্দটিও ঠিক সেরকমই এক আশ্চর্য বিভ্রম মাত্র । যার কোনো সিগনিফিকেন্স নেই আজ আর । 

কারণ, যেকোনো সত্তার ভেতরেই রয়ে গেছে এক স্থির শূন্যতা । এক চিরন্তন ‘ভয়েড’। অনড়, স্থানু সত্তার অস্তিত্ব আজ অর্থহীন । সেই কবে, জাঁ পল সার্ত্র তাঁর যুগান্তকারী ‘বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস’-এ বস্তুর অন্তর্নিহিত এই ভয়েডকে চিহ্নিত করেছিলেন । আমাদের ‘নেচার অফ বিয়িং’-কে  আমরা বলতে পারি ‘অন্টোলজি’ । ১৯২৭-এ প্রকাশিত ‘বিয়িং অ্যান্ড টাইম’ বইতে মার্টিন হাইডেগার দেখিয়েছিলেন অস্তিত্ব আসলে একধরনের আপতিক অবস্থা, যার ভিতর আমাদের ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে । ‘বিয়িং’ আসলে এক অযৌক্তিক অবস্থা যা এক চিরকালীন উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তাকে ধারণ করে চলে । সার্ত্র হাইডেগারের এই দার্শনিক প্রত্যয়কেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বললেন, মানুষী অস্তিত্ব আসলে এক প্রতিনিয়ত মুছে-যেতে-থাকা অনস্তিত্বকে ধারণ করে আছে । তাই ‘অস্তিত্ব’ সর্বদাই একধরনের ‘রিস্ক-ফ্যাক্টর’-কে বয়ে নিয়ে চলে । এই আপতিকতার একমাত্র সদর্থক দিক হল, আমরা এই নিয়ত অস্তিত্বহীনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের ‘চয়েস’-এর স্বাধীনতাকে পূর্ণাঙ্গ রূপে উপলব্ধি করতেই পারি, আর এই স্বাধীনতাই আমাদের অস্তিত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে । যেহেতু আমাদের ‘অস্তিত্বের’ কোনো প্রাক্‌-নির্ধারিত প্যাটার্ন নেই । বিষয়টি আরও বিস্তারে বলা প্রয়োজন ।

সার্ত্রের দর্শনে স্বাধীনতাবোধ এবং উদ্বেগের মধ্যে এক যোগসূত্র বিদ্যমান । তিনি চেতনাকে বস্তু থেকে পৃথক করেন এবং বলেন, ‘বস্তু’ সম্পর্কে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলা যায় না । বস্তু একটি অনড় অচলায়তন এবং তার  নিজের কোনো সম্ভাবনা নেই । 

কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা কোনো কিছুর ‘শূন্যতা’ অনুভব করি এবং কোনো কিছু ধ্বংস হয়ে গেলে, আগে কী ছিল তার সাপেক্ষে কোনো কিছু নেই এটা বুঝতে পারি । কিন্তু এই যে শূন্যতা, অনুপস্থিতি, ধ্বংস, এগুলো বস্তুর দ্বারা ব্যাখ্যাত হতে পারে না । কারণ ‘বস্তু’ হল ‘পিওর আইডেনটিটি’ । অতএব, শূন্যতা বা কোনো কিছুই নেই, এমন কিছুর ব্যাখ্যা এমন কোনো সত্তাই  করতে পারে, অস্তিত্বহীনতাই যার অস্তিত্ব, অর্থাৎ, যার অস্তিত্ব কোনো কিছু না-থাকার মধ্যে দিয়েই একমাত্র নিজেকে প্রকাশ করতে পারে । সার্ত্রের মতে, এই ধরনের সত্তা হল ‘চেতনা’, কারণ ‘চেতনা’কেই একমাত্র কী তা নির্ধারণ করা যায় না  এবং অবিরাম পরিবর্তনের মধ্যেই তার জীবন । সার্ত্র বলেছেন, তবু, চেতনা আছে । আছে, আমরা বলতে পারি, যদিও তা এমন কোনো সত্তা হতে পারে, যা তাই, যা তা নয় এবং যা যা নয়, তাই । একমাত্র চেতনাই এই শূন্যতাকে ব্যাখ্যা করতে পারে, কারণ, চেতনা শূন্য । শুধু তাই নয়, চেতনা পৃথিবীতে বস্তুগুলিকে এক অবয়ব সংস্থান দিতে পারে এবং পৃথিবীকে সে অর্থময় করে তুলতে চায়, যদিও তার অর্থ হয়তো জগতের সঙ্গে ঠিক খাপ খায় না । চেতনা অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও শূন্যতাকে প্রত্যক্ষ করে । শূন্যতার উদ্ভব আমাদের প্রত্যাশার ভিত্তিতে হলেও যেকোনো শূন্যতার অভিজ্ঞতাই হল বাস্তব । তাকে  বাস্তব পৃথিবীতেই বাইরের জগতে আমরা প্রত্যক্ষ করি । ধ্বংসের বেলাতেও চেতনায় আগের বস্তু সম্পর্কে  অভিজ্ঞতা ছিল বলেই, যখন সে বস্তুকে দেখতে পাই না, তখনই ধ্বংসের তাৎপর্য বোঝা যায় । কিন্তু এখানেও চেতনার দুই জাগতিক অবস্থাকে তুলনার মধ্য দিয়ে ধ্বংসের নেতিমূলক দিকটি অনুভূত হয় । চেতনা তাই ধ্বংস, শূন্যতা সব কিছুর ধারক, বাহক । এই শূন্যতাই তার ‘না’ বলার ক্ষমতা, তার স্বাধীনতা  ।  

সার্ত্র কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করেন না । আমাদের অতীত আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে না, আর আমাদের ভবিষ্যৎকে আমরা গড়ে তুলি । সম্পুর্ণ স্বাধীন আমাদের অস্তিত্ব এবং নিজের পূর্ণ স্বাধীনতায় জীবনকে গড়ে তোলাই আমাদের অস্তিত্ব । বস্তুজগৎ থেকে স্বতন্ত্র হয়ে নিজের সম্ভাবনাকে পূর্ণ রূপ দেবার মধ্যেই মানুষের অস্তিত্ব নিহিত আছে । আমাদের অস্তিত্বের অর্থ, বস্তুজগতের মধ্যে বাস করেও, আমরা যে বস্তুর সঙ্গে এক নই, তাকে উপলব্ধি করা । তারপর, কীভাবে আমাদের ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলব, তা আমাদের স্বাধীনতার উপর নির্ভর করে । আমরা স্বাধীন হতে দন্ডিত, সার্ত্রের ভাষায় ‘I am condemned to be free’, স্বাধীনতা আমাদের জন্মগত অধিকার । কিন্তু যে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের হাতে, তার অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও আশঙ্কা থেকে আমাদের মুক্তি নেই। এখানেই সার্ত্র কিয়ের্কেগার্দকে অনুসরণ করে ‘ভয়’ এবং ‘উদ্বেগ’-এর মধ্যে একটা পার্থক্য করেছেন । বাইরের বস্তু আমাদের ক্ষতি করতে পারে, এরকম আশঙ্কাকে বলা যায় ‘ভয়’, কিন্তু সমস্ত রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিজেদের স্বাধীন আচরণ এরকম কিছু করে ফেলতে পারে, যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় । এই অবস্থাকে, যেখানে ভয়ের ক্ষতি থেকে নিজেদের  রক্ষার কোনো   উপায়ই যথেষ্ট   মনে হয় না    তাকেই সার্ত্র বলেছেন ‘উদ্বেগ’ । এ যেন এক খুব সরু সুতোর উপর দিয়ে হেঁটে চলা । আমাদের স্বাধীনতা যেখানে একটা নিশ্চিত ব্যবস্থাকে উলটে দিতে পারে, এতেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয় । স্বাধীনতার সঙ্গে তাই রয়েছে দৃঢ় ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং সেই অনুভূতির মধ্য দিয়েই আমরা জানি, আমরা স্বাধীন ।

অর্থাৎ অস্তিত্ব মিশে রয়েছে অনস্তিত্ব তথা একধরনের ‘মুছে-যাওয়ার’ সঙ্গে । এই মুছে-যাওয়া আসলে একধরনের ‘অনুপস্থিতি’-কে সামনে নিয়ে আসে । এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন জাক দেরিদা । তাঁর ‘স্পেকটারস অফ মার্ক্স অ্যান্ড নিউ ইন্টারন্যাশনাল’ বইতে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এক ‘নন্‌-প্রেজেন্ট প্রেজেন্ট’-এর উপস্থিতি । গ্রন্থিচ্যুত সমকালীনের অন্তঃকেন্দ্রে এক মায়া-অপসৃয়মান অতীতের পুনরাবির্ভাব । এক ‘কনজয়েন্ড সময়’ থেকে উৎসারিত অতীতের ‘ইনজাংশন’ । এই ‘পলিটিক্স অফ মেমরি’-ই হয়ে উঠতে পারে আমাদের অস্তিত্বের এক দুর্মূল্য ‘এথিক্স’ । অতীতের, মুছে-যাওয়া বর্তমানের বিশুদ্ধ নির্দেশ দ্বারা তাড়িত না হলে, ‘হন্টেড’ না হলে সেই ‘মেসায়ানিক প্রতিশ্রুতি’-র আবির্ভাব সম্ভব নয় । ‘হন্ট’ নামক সিগনিফায়ারটির অর্থ, দেরিদার ভাষায়, ‘it is necessary to introduce haunting into the very construction of the concept…’ । আমাদের ‘সত্তা’ থেকে ‘কাল’ সবকিছুর ভিতরেই ঘটে চলে এই ‘হন্টিং’-এর অনুপ্রবেশ । একদা ইউরোপীয় ‘এনলাইটেনমেন্ট’ ও ‘অন্টোলজি’ চেয়েছিল প্রেতের নির্বাসন । কিন্তু দেরিদা দেখান কীভাবে অতীতের ‘মায়া’ ও ‘এথিক্স’ ‘হন্টোলজি’-র মাধ্যমে প্রেতের পুনঃপ্রবেশ ঘটায় । দেরিদা সময়ের এক ‘উভমুখী অনুপস্থিতি’-র কথা বলেন । ‘অনাগত ভবিষ্যৎ’ ও ‘বিলীয়মান অতীত’ যে ‘এনজয়েন্ড স্পেস’ তৈরি করে, সেখান থেকেই উৎসারিত হয় ‘মায়া’, অনুজ্ঞা’ ও ‘প্রতিশ্রুতি’ । 

এখানেই আমি আর একবার ফিরে আসতে চাই এই লেখার শুরুতে বলা আমার ব্যক্তিগত একান্ত সংরক্ত অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে । আমাদের ‘নিও-লিবারাল’, মুক্তপুঁজিতে ভেসে যাওয়া বর্তমান যে নিষ্ঠুর ‘পারপেচুয়াল প্রেসেন্স’-এর কাছে আত্মসমর্পণ করে চলেছে, সেখানে, এক তুচ্ছ মানুষের ততোধিক তুচ্ছ ভেঙে-যাওয়া প্রেমের স্মৃতির অবশেষ আর কোনো তাৎপর্যই হয়তো অবশিষ্ট রাখে না । সে বোঝায়, এই মর্মন্তুদ শূন্যতাই এই সময়ের নিয়তি । কিন্তু যা কিছু হারিয়ে যায়, তা কি চিরকালের মতোই মুছে যায় ? এ এমনই এক সময় যখন ‘পলিটিক্স অফ ভ্যানিশিং’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে একমাত্রিক শিল্পরূপ । যে এই ভ্যানিশিং  প্রসেসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না, আত্মস্থ করতে পারবে না এর অভ্যন্তরীণ রক্তাক্ত বাস্তবতা, এই পৃথিবী তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে অনায়াসেই, এক বাতিল, অপ্রয়োজনীয়, আবর্জনা হিসেবে । সেই মেয়েটিও সেদিন হয়তো সেই চোখেই দেখেছিল আমায় । পরে, সে যখন হয়ে উঠল আমার পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের চরিত্র, আমি, নিজের অজান্তেই তাকে ফিরিয়ে এনেছি সেই ‘পলিটিক্স অফ মেমোরি’-র সাপেক্ষে । অপসৃয়মান বর্তমানের ভিতরেই খুঁজতে চেয়েছি এক ‘মেসায়ানিক রিটার্ন’-কে । এবছর শারদীয় ‘এই সময়’ কাগজে বেরিয়েছে উপন্যাসটির প্রথম দুটি দীর্ঘ অধ্যায় । সেদিন আবার লেখাটি নতুন করে পড়ছিলাম । জানি না কেন

আর  কীভাবে নিজের অজান্তেই স্পর্শ করে ফেলেছি সেই ‘নন্‌-প্রেজেন্ট প্রেজেন্ট’-কে । সে আসলে কোথাও অবলুপ্ত হয়ে যায়নি । বারবার স্মৃতির ভিতরে, বর্তমানের দোলাচল আলোছায়ায়   আমি টের পাই  তার পিছল অস্তিত্ব । এক তীব্র শূন্যতার ভিতরেও সে আসলে প্রবলভাবে জানান দিয়ে চলেছে নিজের ‘উপস্থিতি’ । প্রগাঢ় শূন্যতার ভিতরেও চোখ মেলে তাকালে আমি রিকালেক্ট করতে পারি জীবনানন্দের সেই অমোঘ পঙ্‌ক্তিগুলো :

সে এসেছে—আকাশের শেষ আলো পশ্চিমের মেঘে
সন্ধ্যার গহ্বর খুঁজে পালায়েছে !—রক্তে-রক্তে লাল
হয়ে গেছে বুক তার –আহত চিতার মতো বেগে
পালায়ে গিয়েছে রোদ—সরে গেছে আলোর বৈকাল!
চলে গেছে জীবনের ‘আজ’ এক—আর এক ‘কাল’
আসিত না যদি আর আলো লয়ে—রৌদ্র সঙ্গে লয়ে !
এই রাত্রি—নক্ষত্র সমুদ্র লয়ে এমন বিশাল
আকাশের বুক থেকে পড়িত না যদি আর ক্ষয়ে !
রয়ে যেত—যে-গান শুনিনি আর তাহার স্মৃতির মতো হয়ে!

( জীবন; ধূসর পান্ডুলিপি ) 




Read More »

■ তৃষ্ণা বসাক | হোর্ডিংএ আটকে গেছে মেয়ে

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

■ তৃষ্ণা বসাক | হোর্ডিংএ আটকে গেছে মেয়ে


‘এই ধাবমান শহরে তুমি এক পথচলতি বিনোদন হয়ে চৌকো হোর্ডিং-এ ঢুকেছ। আর কি বেরোতে পারবে? আর কি বেরোন যায়?

(ব্রত চক্রবর্তী)


বোঝা যায় না, সবসময় বোঝা যায় না কীসের বিজ্ঞাপন, সুটকেস থেকে পুরুষের অন্তর্বাস, ট্রাক্টর থেকে ট্রাঞ্জিসটর-আসলে এদের কোনটাই পণ্য নয়। তেমন, ততটা পণ্য নয়, যেমন, যতটা পণ্য ওই মহার্ঘ্য নারীশরীর, ওই হোর্ডিং-এ আটকে যাওয়া মেয়েটা, মেয়েরা। ই এম বাইপাস দিয়ে দুরন্ত গতিতে যেতে যেতে যাকে থমকে দেখে গাড়ির আরোহী ও চালক, আড়চোখে কামনা করে সব পথচারী, স্কুলফেরত কিশোর ছুঁড়ে দ্যায় চুম্বন। ওদের জন্যে কবির মন খারাপ হয়, অসহায়, ক্ষিপ্ত কবি ভাবেন কেমন করে বাঁচাবেন ওই চৌকো হোর্ডিং এবং হোর্ডিংহীন অদৃশ্য চতুষ্কোণে আটকে যাওয়া মেয়েদের? কিন্তু মেয়েটা কি বোঝে? লাস্যে বাঁকানো ধনুকশরীর নিয়ে যেকোন দিকেই ছুটে যেতে তৈরি সে। আর ছুটতে ছুটতেই মুছে যাচ্ছে সদর-অন্দর, নৈতিক-অনৈতিকের সীমারেখা। 

মজার ব্যাপার হল, মেয়েটা ছুটছে না, সে এক জায়গায় অনন্তকাল ধরে দাঁড়িয়ে, তাকে মাথায় নিয়ে ছুটছে খ্যাপা সময়, যার দাবী মিটে গেলে মেয়েটিকে ছুঁড়ে ফেলা হবে অসীম শূন্যতায়। তখনও হাসি-হাসি মুখে যৌনতার বিকিরণ ছড়িয়ে চলবে মেয়েটা, শুধু সময়ের কৃষ্ণগহ্বর তার সব বিকিরণ শুষে নেবে, বাইরে ছড়িয়ে পড়তে দেবে না।

কিন্তু তা বলে খেলা থামবে না, কারণ মার্জারসরণি দিয়ে হেঁটে চলেছে অন্তহীন মেয়েদের সারি, স্তন আর নাভির সম্ভার নিয়ে, আর তাদের ওই হাঁটা নকল করে যাচ্ছে নতুনতর মেয়েরা। আরও যত্নে মাজা ত্বক, আরও ধনুকের মতো বাঁকা ভুরু নিয়ে চটপট উঠে আসছে তারা, লক্ষ্য যেন তেন প্রকারেণ ওই হোর্ডিং -এ ঢুকে পড়া।

সেদিন এমনি এক হোর্ডিং-এ চোখ আটকে গেল। গ্লোসাইনে ঝলমল করছে এক পানপাত্র, দামী কোন সুরা নাকি সোডাওয়াটারের বিজ্ঞাপন সেটা? ভাল করে তাকাতে বোঝা গেল, ওটা আদপে পানপাত্রই নয়, গ্লাস-আওয়ার ফিগারের নিখুঁত একটি নারীশরীর, যার কটিদেশকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে পানপাত্র ধরার জায়গাটুকুর সঙ্গে। ঠিক বোঝা গেল না, নারী কি ওই ঠুনকো পানপাত্র, যে অভিজ্ঞতা ধরা আছে লোকায়ত গানে ‘বাবুরা মদ খাইলি, ভাঁড় ভাঙ্গিলি, পয়সা দিলি না’ নাকি সে ওই পাত্রের অন্তর্গত সুরা, যার উত্তেজক ক্ষমতাকে সহজে ব্যবহার করে ফেলা যায় পণ্যের বিক্রি বাড়াতে?
হোর্ডিং-এ বন্দি ওই মেয়েটিকে যারা ভোগ করতে পারল না, শুধু চোখ দিয়ে লেহন করেই ক্ষান্ত থাকতে হল যাদের, সেই অচরিতার্থ কামই কি ধর্ষণের মুখ্য চালিকাশক্তি? 
এরকম একটা থিওরি খাড়া করতে গেলে তেড়ে আসবেন অনেকেই, ধর্ষণের অনেক অনেক সমাজতাত্বিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, ধর্ষণই যে মেয়েদের জীবনের চরম বিপর্যয় নয় এমন স্বস্তিবচনও শোনা যাবে। কিন্তু পথে-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে নিরন্তর ধ্বস্ত, পিষ্ট হতে হচ্ছে যাদের, ধান ক্ষেতে ক্ষতবিক্ষত পড়ে থাকতে থাকতে তারা যে একবারও অভিমানে তাকাবে না হোর্ডিং -এর ওই মেয়েটার দিকে, তা কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়?

সেই তরুণী মায়ের কথাটা কানে বাজে এখনো। প্রথমে মনে হয়েছিল নিউরোসিসের রুগী। মরণাপন্ন মানুষের খড়কুটো ধরার মতো করে হাত আঁকড়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় সেই চাকুরে মা বলেছিল ‘দিনের শেষে বাড়ি ফিরে শুধু দেখতে চাই ও বেঁচে আছে, আজকের মতো নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে, কিন্তু কাল?’ সেই তরুণী তিন বছরের, হ্যাঁ ভুল শুনছেন না, তিন বছরের এক শিশুকন্যার মা। বাচ্চাটি সদ্য স্কুলে ভরতি হয়েছে। শুধু দুর্ঘটনা নয়, মায়ের মনে সদা ক্রিয়াশীল শিশুকন্যার ধর্ষিত হবার ভয়। স্কুলের দারোয়ান, গাড়ির ড্রাইভার, এমনকি বাবাও বাদ নেই সম্ভাব্য ধর্ষকের তালিকা থেকে। এই ভয় চারিয়ে যায় চারপাশে। হয়তো এই ভয় গিলতে গিলতে আমরা মেয়েকে সুন্দরীতমা করে তোলার সাধনায় মাতব, আমাদের সাধ হবে আকাশছোঁয়া হোর্ডিং- এ মেয়েকে দেখার। এটা তো ঠিক, হোর্ডিং -এর মেয়েটিকে যতই লোভার্ত চুম্বন ছুঁড়ুক পথচারী, সেই চুম্বন কখনোই ছোঁয় না মেয়েটিকে, অনাঘ্রাত যৌনাভাস নিয়ে হোর্ডিং- এ আটকে থাকে মেয়ে, বেরোতে পারে না, বেরোতে চায়ও না।




Read More »

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় | মিডিয়া সন্ত্রাশ

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় | মিডিয়া সন্ত্রাশ

সম্প্রতি একটি ইংরাজি সংবাদ চ্যানেলের সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন মুম্বাই পুলিশের হাতে । তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন একটি অপরাধমূলক কাজের জন্য । কোন কোন মহল এই গ্রেপ্তারকে সাংবাদিক-স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে হৈচৈ করছেন । যদিও তাঁর গ্রেপ্তারির কারণ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ।ভারতে সংবাদপত্রের বা সাংবাদিক-স্বাধীনতার হার কোন তলানিতে পৌছেছে তা আমরা অবহিত ।সাংবাদিকদের কূকীর্তিও এদেশে কম নয় । আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই বাংলার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়ে জেলের ভাত খেয়ে এসেছেন । আবার সাম্প্রতিক অতীতে উগ্র অসহিষ্ণু ধর্মীয় প্রচারকদের হাতে খুন হয়েছেন, গ্রেপ্তার হয়ে কারান্তরালে কিংবা রাষ্ট্রের নির্যাতন সহ্য করেছেন এমন সাংবাদিকের সংখ্যাও অনেক ।দিল্লিস্থিত ‘রাইটস এন্ড রিস্ক এনালিসিস গ্রুপ’এর হিসাব অনুযায়ী ২৫শে মার্চ থেকে ৩১শে মের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার ত্রুটিগুলি তুলে ধরার কারণে ৫৫জন সাংবাদিককে হয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নতুবা এফ আই আর করা হয়েছে, সমন ধরানো হয়েছে, শোকজ করা হয়েছে, শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সাংবাদিক জেলবন্দী রয়েছেন ।

রাষ্ট্র সর্বকালেই সংবাদমাধ্যমকে তার তাঁবে রাখতে চায়। তার বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের ঐতিহ্য আছে এদেশেও ।ঔপনিবেশিক শাসনে ১৮১৮তে দেশীয় ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশনার পাঁচ বছরের মধ্যেই ইংরাজ শাসক মুদ্রাযন্ত্র বিষয়ক নতুন আইন প্রবর্তন করেছিল, যাতে বলা হয়েছিল প্রকাশের পূর্বে লেখার অনুমোদন নিতে হবে ।ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ রামমোহন রায় তখন ফার্সি ভাষায় ‘মিরাৎ-উল- আখবর’ পত্রিকা প্রকাশ করতেন ।সংবাদপত্রের এই কন্ঠরোধ আইনের প্রতিবাদে মিরাৎ-উল-আখবরের প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছিলেন । পত্রিকার শেষ সংখ্যায় প্রতিবাদি সম্পাদকীয়তে লিখেছিলেন ‘যে সম্মান হৃদয়ের শত রক্তবিন্দুর বিনিময়ে ক্রীত, ওহে মহাশয় তাহাকে দারোয়ানের নিকট বিক্রয় করিও না’ ।শুধু এটুকুই নয়, রামমোহন সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এবং রাজা চতুর্থ জর্জের কাছেও মেমোরান্ডাম পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে এক ঐহাসিক দলিল ।১৮২৫এ এই কালো আইন রদ হয় । কিন্তু ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে । স্বাধীন ভারতে ১৯৭৫এর ২৬শে জুন সরকার আভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি করে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ বা প্রেস সেন্সর আইন জারি করেছিল ।অর্থাৎ রাষ্ট্র যুগে যুগে একই প্রক্রিয়ায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে ।

সংবাদমাধ্যমে বলা হয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ । তো গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং অন্য তিনটি স্তম্ভের পলেস্তারা কতটা খসে পড়েছে তা মানুষ তার নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বুঝতে পারছে । ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রীডম ইন্ডেক্স অনুযায়ী ১৮০ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান এখন ১৩৬ নম্বরে ।সংশয় নেই যে সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস ও আস্থায় বড় রকমের ফাটল ধরেছে গত পঞ্চাশ বছরে, আর সেই ফাটল আরো চওড়া হয়েছে নব্বইয়ের দশক থেকে বৈদ্যুতিন মাধ্যমের আবির্ভাবের পর থেকে । স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে সংবাদপত্রে গৌরব জনক ভুমিকা ছিল । এই পর্বে সংবাদপত্র সম্পাদক তুষারকান্তি ঘোষ, সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ প্রবাদপ্রতীম হয়ে আছেন । পঞ্চাশ ও ষাট দশক জুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত তৈরি হচ্ছিল যার জন্য তখনকার সংবাদপত্রের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রতিবেদন ও নির্ভিক সম্পাদকীয় জনমত গঠনে সহায়তা করেছিল । সংবাদপত্রে সম্পাদকের স্বাধীনতার ওপর সংবাদপত্র মালিকরা দখলদারি করার সাহস পায়নি । বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথা ‘যখন সংপাদক ছিলাম’ গ্রন্থে  একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন । স্বাধীনতার পর বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন অত্যন্ত সৎ ব্যক্তি প্রফুল্লকুমার ঘোষ । এক মারোয়াড়ি ব্যবসায়ীর তেলকলে ভেজাল ধরা পড়ায় তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেন । এহেন মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর জন্য চাপ আসে । স্ব্যং গান্ধিজির মারফত অনুরোধ আসে একজন মারোয়াড়ী প্রতিনিধিকে মন্ত্রীসভায় নেবার জন্য । প্রফুল্ল ঘোষ সম্মত না হওয়ার তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্ব চলে যায় । মুখ্যমন্ত্রী হন বিধানচন্দ্র রায় ।  বিবেকাবন্দ মুখোপাধ্যায় যুগান্তরে সম্পাদকীয় লেখেন ‘উপরতলার চক্রান্ত’ শিরোনামে । সম্পাদকীয়টি পড়ে বিধানচন্দ্র বিবেকানন্দ বাবুকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন যুগান্তর কে দেখাশোনা করেন ? তাঁদের কথোপকথনের অংশটি এইরকম “আমি বললুম, কেন, আমি যতক্ষণ সম্পাদক পদে আছি, ততক্ষণ আমিই দেখাশোনা করি । ডা রায় যেন কিছুটা কর্কশ কন্ঠে বললেন - ও কথা ছেড়ে দাও, অনেক সম্পাদক দেখেছি’ । আমি আহত কন্ঠে কিছু ঝাঁঝালো সুরে জবাব দিলুম – ‘আপনি অনেক সম্পাদক দেখে থাকতে পারেন, কিন্তু আপনি বিবেকানন্দ মুখুজ্জেকে দেখেননি... দেখুন ডা রায়,আমি যখন রোগী হয়ে আপনার কাছে যাব। তখন আপনার কথা নিশ্চয়ই শিরোধার্য করব... আপনি কথা বলছেন যুগান্তর সম্পর্কে, যুগান্তর সম্পাদকের সঙ্গে, অতয়েব সে ভাবেই আপনার কথা বলা উচিত” । তো এমনই নির্ভিক ছিলেন তখনকার সংবাদপত্র সম্পাদক । আর এখন আর্থিক দুর্নীতি ও লুটের ভাগ নেওয়ার দায়ে জেলে যাচ্ছেন সংবাদপত্রে সম্পাদকরা ! গা ঘিনঘিন করবে না ?

‘হৃদয়ের শত রক্তবিন্দু দিয়ে যা কেনা হয়েছে তাকে দারোয়ানের কাছে বিক্রি করো না’ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রথম প্রবক্তা রামমোহন রায় একথা বলতে পেরেছিলেন। তারপর হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় থেকে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় পর্যন্ত বহু মানুষ মেরুদন্ড ঋজু রেখে কাজ করে গেছেন। এখন হলুদ সাংবাদিকতায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম । 

হলুদ সাংবাদিকতার উদ্ভব আঠেরো শতকের নব্বইয়ের দশকে আমেরিকায় । স্বাধীনতার আগে তো বটেই স্বাধীনতার পরে অন্তত ষাটের দশক পর্যন্ত এদেশে হলুদ সাংবাদিকতা গেড়ে বসতে পারেনি । হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম হয়েছিল আমেরিকায় দুটি সংবাদপত্রের অসুস্থ্য ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে । জোসেফ পুলিৎজার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত, আবার হলুদ সাংবাদিকতার জনক হিসাবে কুখ্যাতও বটে ।১৮৯৫তে পুলিৎজারের ‘নিউ ইয়র্ক ওইয়ার্ল্ড’ আর রুড্লফ হার্স্টের ‘নিউ ইয়র্ক জার্নাল’এর ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অর্ধসত্য ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কদর্য প্রতিযোগিতা চলেছিল । দুটি পত্রিকার প্রচার সংখ্যা হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল । অতঃপর সাংবাদিকতার এই ধরনটিই আমেরিকার সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছিল । একটি বৃটিশ পত্রিকা ১৮৯৮এ মন্তব্য করেছিল “অল আমেরিকান জার্নালিসম ইস নট ইওলো, দো অল স্ট্রিক্ট আপটুডেট ইওলো জার্নালিসম ইস আমেরিকান”। হলুদ সাংবাদিকতার কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য : নজর কাড়া শিরোনাম, ভিত্তিহীন কিংবা অর্ধসত্য সংবাদ পরিবেশন, সাধারণ হটনার অতিরঞ্জন এবং অনাবশ্যক সেনসেসনালাইজ করা, তথাকথিত বিশেষজ্ঞ সাহিত্যিকদের দিয়ে অবৈজ্ঞানিক ও সুকৌশলে কূশিক্ষামূলক লেখার প্রকাশ, আর্থিক দুর্নীতি কিংবা যৌন কেলেঙ্কারীর অতিরঞ্জিত প্রকাশ ইত্যাদি । এখন সংবাদপত্রগুলির বা টেলিভিশনের সংবাদ চ্যানেলগুলির মালিক ও সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার জীবনবেদ এই হলুদসাংবাদিকতা ।বলেছি, সাংবাদিকতার এই ধরনটি এদেশের সংবাদপত্রগুলি রপ্ত করা শুরু করলো গত শতকের ষাটের দশক থেকে ।প্রবীন সংবাদপত্র পাঠকদের নিশ্চিতভাবেই মনে থাকবে বৃটিশ পার্লামেন্টের মন্ত্রী জন প্রফুমো ও মডের ক্রিষ্টিন কিলারের যৌন কেলেঙ্কারীর ঘটনা যার জেরে হ্যারল্ড ম্যাকমিলানের সররকারের পতন ঘটেছিল ১৯৬৩তে ।মনে পড়বে, তখন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা কৃষ্টিন কিলার- প্রফুমোর যৌন কেলেঙ্কারী নিয়ে রসালো ধারাবাহিক রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ করেছিল কাগজের কাটতি বাড়াতে ।সেই শুরু, তারপর রসালো গল্পতো জলভাত হয়ে গেলো, মূল্যবোধের সাংবাদিকতা বলে আর কিছু রইলো না ।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে সম্পাদকের স্বাধীনতা খর্ব করা শুরু হল, সংবাদপত্র মালিকরাই সম্পাদক হয়ে গেলেন । ১৯৬২তে ভারত-চিন সীমান্ত যুদ্ধের প্রেক্ষিতে যুগান্তরে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখার জন্য বরখাস্ত হয়ে যান । বিভিন্ন সংবাদ পত্রে মালিকরাই সম্পাদক হয়ে যান । হলুদ সাংবাদিকতাও জাঁকিয়ে বসতে শুরু করে।  তথাপি, সংবাদ মাধ্যমের ভুমিকা আজকের মত এতো কদর্য হয়ে ওঠেনি ।  ১৯৭৫এ জরুরী অবস্থা জারি করে অন্য মতের বহু মানুষ কারাবন্দি হন, মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় কন্ঠনালি তাক করা বন্দুকের নলের সামনে ।  সাতাত্তরে জরুরী অবস্থার অবসানের পর কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই । বৃহৎ পুজি নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র কখনোই সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষ থাকতে পারে না সত্য  কিন্তু আজকের মত এমন উলঙ্গ হয়ে ওঠেনি,  সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষের এমন ঘৃণাও জন্মায়নি । মধ্য আশি থেকে বিশ্বায়ন নামক শব্দবন্ধের আড়ালে বাজার অর্থনীতির প্রয়োগ শুরু হল আর এই প্রক্রিয়াতে সংবাদমাধ্যমগুলি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে গেল । ‘তাই সব শিয়ালের এক রা’ । একই উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ সব কটি সংবাদপত্রে প্রায় একই ভাষায় পরিবেশিত হয় । টেলিভিশন চ্যানেল এসে যাওয়াতে সংবাদমাধ্যম এখন আরো বেশি উলঙ্গ বিভ্রান্তি ছড়ানোর লক্ষ্যে । মানুষের দৈনন্দিন যাপনের কথা, পীড়িত মানুষে আশা আকাঙ্খার কথা তারা ভুলেও প্রচার করে না । দুর্গাপূজার সময় প্রায় এক সপ্তাহ জুড়ে প্যান্ডালের জাঁকজমক আর যুবক-যুবতীদের সাজ পোষাক ভিন্ন আর কিছু যেন দেশে নেই বাংলায় নির্বাচন এখনো ছমাস দেরি । অথচ সংবাদের সিংহ ভাগ ভোটযুদ্ধ কেন্দ্রীক, আর কোন খবর নেই ।বৈদ্যুতিন মাধ্যমের অনুষ্ঠানগুলি দেখুন যেন একাধিক হুলো বেড়ালের লড়াই পর্দা জুড়ে । আর কোন সংবাদ নেই এতো বড় দেশে ।ও,

সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষ হতে পারে না ঠিকই, এখনকার সংবাদমাধ্যম সংবাদ বিকৃত করে । ‘পেইড নিউজ’  পরিবেশন করে, আমরা জানি ।কোটি কোটি তাকার বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রকাশ করে এটা আর সংবাদপত্র পাঠকের কাছে অজানা নয় ।

সংবাদপত্র মালিক দের নির্দেশে সংবাদ তৈরি করার ভুরিভুরি নজির আছে । তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডাকঘরের মাধ্যমে স্কুলে আসতো । বামফ্রন্ট সকারকে বদনাম করতে একবার একটি সংবাদপত্রের জনৈক সাংবাদিক পোষ্টম্যানকে কিছু টাকা দিয়ে প্যাকেট থেকে একটা প্রশ্নপত্র বের করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদ করেছিল । আরো একটা ঘটনার কথা বলি, বছর ১৬/১৭ বছর আগেরকথা, মেদিনীপুরের গোঘাট এলাকায় ঘুর্ণি ঝড়ের দাপট বোঝাতে একটি ছবি ছাপিয়েছিল আনন্দবাজার এটা বোঝাতে যে সাইক্লোনের এমন তীব্রতা ছিল যে একটা গরুকে ছিটকে গাছের ওপর তুলে দিয়েছে, তারই ছবি । দুদিন পরে ‘সংবাদ প্রতিদিন’ আসল সত্যটা ফাঁস করে দিয়ে জানিয়েছিল যে দুজন গ্রামীণ লোককে পাঁচশো টাকা দিয়ে মৃত গরুটিকে গাছে তোলা হয়েছিল ।বিকৃত ও অর্ধসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ বিকৃতির আর একটা নমুনা দিই । বানতলায় নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনায় তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা (সংবাদপত্রে ভাষায় ‘বাইট’)। জ্যোতি বসু ইংরাজিতে উত্তর দিয়েছিলেন ‘ইয়েস দিস হ্যাপেনস’ বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘হ্যা, এরকম ঘটে’। পরের দিন সংবাদ শিরোনাম হল জ্যোতি বসু বলেছেন ‘এমন তো কতই হয়’ ।না বলা ‘কতই’ শব্দটা জুড়ে দিয়েছিলেন সাংবাদিক প্রবর। সংবাদমাধ্যম সংবাদ বিকৃত করে, অসত্য অর্ধ সত্য সংবাদ প্রকাশ করে এইসব আমাদের জানা । কিন্তু সবচেয়ে জঘন্য ব্যাপার সংবাদ ‘ব্ল্যাক আউট’ করা ।   এমন অনেক সংবাদ যাতে মানুষের স্বার্থ রয়েছে, যে সংবাদ তার জানা দরকার সেগুলিকে প্রচারযোগ্য সংবাদ মনে না করা, প্রচার না করা । 

সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের এখন ঘৃণা জন্মাচ্ছে ।মূল ধারার সংবাদপত্রগুলির প্রচার সংখ্যা হু হু করে কমছে, তাদের অনেক সংস্করণ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, সাংবাদিক ও সংবাদপত্র কর্মীদের ছাটাই হচ্ছে তারই জেরে । নিউজপ্রিন্টের কোটা বজায় রাখতে তারা নিজেদের প্রচার সংখ্যা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখায়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলি তাদের টি আর পি নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেয় তেমন নজির সম্প্রতি সামনে এসেছে । আসলে সংবাদপত্রে পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার বিন্দুমাত্র অবশেষ আজ আর নেই ।বরং  সোশাল মিডিয়া এখন অনেক শক্তিশালী। সংবাদমাধ্যম যেসব সংবাদ ব্ল্যাক আউট করছে সেগুলি্র অনেকটাই জানতে পারছি সোশাল মিডিয়ার দৌলতে । আর সেই কারণেই এদেশের সরকার সোশ্যাল মিডিয়াকেও সরকারী খবরদারীর আওতায় আনতে চাইছে ।

আমরা জানি, সংবাদ মাধ্যম নিরপেক্ষ হতে পারে না কারণ সারা বিশ্বেই সংবাদ মাধ্যম বৃহৎ পুঁজি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । তারা পক্ষ অবলম্বন করুক, পাঠক এবং দর্শক নিজের মত করে তাদের মতামত তৈরি করে গ্রহণ বা বর্জন করবে । কর্পোরেট মিডিয়া  একটি দেশের মানুষের যায়গাগুলিকে, মানুষের ভাষা তার সাংস্কৃতিক ও মানিবিক মূল্যবোধগুলিকে ধসিয়ে দেবার কাজ করে চলে সুকৌশলে । এও এক সন্ত্রাশ – মিডিয়া সন্ত্রাশ । আর মানুষ এই মিডিয়া সন্ত্রাশকে প্রতিহত করতে পারে এবং করবে এই বিশ্বাসটুকু আমাদের রাখতে হবে ।

                   


Read More »

■ বিদিশা সরকার

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
বিদিশা সরকার , sobdermichil


"প্রকৃত সারস উড়ে যায় "

এই চারপাশ,শুকিয়ে যাওয়া খানাখন্দ – কোনও মড়ক নয়।ভোরের মতই সত্য। আমরা ঘুমের মধ্যেও যেমন টের পাই,অন্ধও।তবে তার চোখ বোধে।সেখানে বোধই

প্রথম বোধই শেষ কথা। স্পর্শের মধ্যেই লালন।স্পর্শই আধিদৈবিক।অন্বেষণের উড়ানের বিকল্প গানই তাকে পথে নামায়।পথ দেখিয়ে দেয়,উপার্জনও।

উপার্জনের ফলনে পেস্টিসাইড ফলনকে জারি রেখেছে। অথচ সেই অনন্ত মাঠ,যেখানে অপু’র বিস্ময়! সংহারের প্রয়োজনীয়তাকে স্ববশে আনাও তো স্বশিক্ষার বিষয়।তাই পাঠ্য-পুস্তক থেকে বেরিয়ে এসেছে স্বাধিকারে। আর্তের কাছে পরিবেদনা নিরাময় নয়।আসল বিষয় ঈশ্বর প্রদত্ত দুটি হাত, যা কখনও কখনও দশভুজার কাজ করে।

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও

কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ!সেই আপ্তবাক্য

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল? আসলে মানুষ আদপে শান্তিপ্রিয়।পিঠ বাঁচান পলায়নবৃত্তি সুশীল সমাজকে যতটা পঙ্গুত্ব দিয়েছে তার অধিক দিয়েছে বিনোদনের টোপ।দর্শকের কাজ হাততালি দেওয়া।আরেকটু উচ্চকিত হলে দু’একটা সিটি-ও।শীত আকাঙ্খিত, শীত গুহাভিমুখী।শীত সত্যিকে মিথ্যের জ্যাকেট পরিয়ে দিয়ে ব্র্যান্ড ম্যানিয়াক কফি মগ।

তুমি আমি’র মাঝখানে যে ফায়ার-প্লেস সেটা সৌখিনতার মনোগ্রাম।এই বৈকল্যের কাছে অসহায় মানুষ অগ্নি-নির্বাপক আপোষ।অন্যথা হলে প্রতিবাদের মাশুল ট্র্যান্সফারের চিঠি ধরিয়ে দেবে।
গণধর্ষণের সরেজমিন তদন্ত আর্তকে চিরুনিতল্লাশ করবে,ঘটনার অনুপুঙ্খ নগ্ন করবে জনআদালতে।মনোবিদ চ্যানেলে সমাজের এই ব্যধি বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত রাখবেন।অন্ধকারে পিছন ফিরে বসে থাকা ভিক্টিম এক খপ্পর থেকে আরেক খপ্পরে।তারপর ফিরে এসে পায়ের তলার অবলম্বনটাকে সরিয়ে দিয়ে হ্যাং।আবার পোস্টমর্টম।

একটা ঝোরার মুখে কয়েকটা বোল্ডার গড়িয়ে দিয়ে শাসন করছে গতিপথ।যদিও বিস্মিত নই।দাবী দাওয়ার সংসারে অবুঝ অনটন বুঝে সুখদা বরদা হয়ে বিসর্জনের পরবর্তী অধ্যায়।প্রতিদিন ভাসানের পরই একটা স্তব্ধতা ঘাটের অন্ধকারে পরিমিত হয়।চলাচল থেমে গেলে বাস্তুভিটে দরজা খুলে দেয়।ঘর ও বাসা সেখানে তুলনামূলক। দু’পক্ষের দোলাচলে যে নীরবতা – তাদের ঘুম পাড়িয়ে সিন্দুক খোলার আয়োজন। সদ্যজাতরা মুখ গুঁজে অভিমানে। সমস্ত রসদ ফুরিয়ে গেছে বলেই তো বেবিফুড।মাপা সময় থেকে মাপা কথারা বাকি রাত একটা জানলাকেই জেনেছে জেরুজালেম।একটা নির্দিষ্ট তারাকেই ধ্রুবক।ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় প্রতিবেশী ছাদে হারিয়ে যায় চাঁদ।

জোড়া লাগাবার কিছু পদ্ধতি থাকে। অনুশোচনা বা বিবেক পরমুখাপেক্ষী।সামনে রাখা রয়েছে অ্যাডেসিভ,সেলোটেপ আরও সব বাজার চলতি জোড়া লাগা।ক্রোধ নাস্তিক অথবা আস্তিককে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রমান করেছে অস্তিত্ববাদের পরাকাষ্ঠাকে।আসলে অস্তিত্বের আস্তিক অথবা নাস্তিক হিসেবে আলাদা কোনও ফুট নোট নেই। একটা ইমারত ভেঙে যাচ্ছে দেখে ক্যামেরার ভূমিকায় অবাক হওয়ার কিছু নেই।সম্পর্কের ফয়সলার দিনে আদালতে পাড়া প্রতিবেশীর ভিড়ে কনুই সক্রিয়। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা সন্দেহ,বিশ্বাস,কনডোম, ডুপ্লিকেট চাবি বা সিসি টিভি, আপাতত তারা ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের এক্তিয়ারে।

এই এক্তিয়ার অথবা চিহ্নিত এলাকার বাইরে যে দ্বিতীয় পৃথিবী বা ভুবন- কৌতূহল সেখানেই।পরিশ্রমের বিকল্প পন্থা হিসেবে যা নির্ধারিত তার তাগিদকে শাসন করছে একনায়কতন্ত্র।সেক্ষেত্রে একার পক্ষে কতটুকু সম্ভব ? বিপণনযোগ্য স্তুতি খোলা বাজারের বাম্পার অফার।মানুষ ভীত মানুষের থেকেই,গৃহপালিতের কাছে নিশ্চিন্ত।

মাঝে মাঝে মনে হয় দেবতা কৃপণই ! সে কারনেই পৃথক পৃথক ঘর গেরস্তি। ক্রমশ সারা দিতে দিতে জিজ্ঞাসা ও উত্তর ক্ষীণ হলেই --- সে তো শব্দেরই আর্তনাদ ! সেই আর্তনাদ যখন রক্তের রঙ নীল প্রমানিত করতে পারে -- তাকে সার্থক না বলে উপায় নেই। আমরা নিরুপায় বলেই ভাঙন কে রুখতে পারিনি, অন্যদিকে সার্থক বিশেষ্য হয়েই নামবাচক । আর অপেক্ষা নিরুত্তরকেই সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক জেনেছে, ব্যাকরণকে নয়।


বিদিশা সরকার
কলকাতা

Read More »
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.