প্রিয়দীপ । শততম সম্পাদকীয়

প্রিয়দীপ । শততম সম্পাদকীয়

পূর্বের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ্য, মানবিকতা আর সততাই যেখানে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠার মূল মন্ত্র। যে পথ উত্তরণে মূলত কোনো শর্টকার্ট নেই। সেই মূলধারার চড়াই উৎরাই পথই যেখানে আদতে জীবন উদযাপনের স্বাদ। সেই মানব সরণিতে, আমরা সকলেই কি সেই পথের উজ্জ্বল এক ভাস্বর শিখা? আমাদের প্রভূত কর্মধারা আদৌ কি সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য?

আমরা কতটা উদ্যমী। মানবিক উদ্যোগে মানসিক ভাবেই বা কতটা অভিলাষী? এমন বিক্ষিপ্ত অথচ সুস্পষ্ট প্রশ্ন আজ সকলের দোরগোড়ায়।

অথচ এই সময় প্রবাহে, অগণিত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সফল পদচারণায়, বুদ্ধিজীবির মোড়কে অসংখ্য দুর্বুদ্ধিজীবীর মুহুর্মুহু উত্থান এবং অবশ্যই বোধ সম্পন্ন মানুষের নির্জীবতার পাশাপাশি বিকিয়ে দেওয়া লোভ সম্পন্ন গরিষ্ঠ মানুষের নির্লজ্জতা, এই সময়ের অশনি এক সংকেত। এই দায় কার?

দায় আমাদের। হ্যাঁ আমাদের। কেননা আমরা অবগত, চলমান রাজনৈতিক পটচিত্রে যেমন প্রচুর সম্ভার তেমনই স্বার্থান্বেষী ভেক সেবায়েতদের  অর্থ, সম্পদ, ঐশ্বর্য  মজুতের বিপুল সম্ভাবনা। মূলত রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং জনগণের অধিকার আত্মসাৎ বা তছরুপের সুবিশাল এই মহাযজ্ঞে খুব সাধারণের ভূমিকা বা অবস্থান যেখানে একদমই শূন্য, সেখানে জনগণের সেবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠা  দুঃসাহসিক 
ভেক সেবায়তরাই যে একমাত্র এই মহাযজ্ঞের চালিকাশক্তি একথা আজ অনস্বীকার্য ।

স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষমতার রণাঙ্গনে বলীয়ান, এই শক্তির প্রতিই আজ অধিকাংশ মানুষের মোহ।  মানুষের লোভ। মানুষের প্রীতি। মানুষের সুখ্যাতি। তাই, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে - মূলতঃ এটাই এখন সর্ব পেশার নীতি।  
 
অধিকাংশ মানুষ যেখানে দুর্নীতি প্রেমী সেখানে সেইসব গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষই যে মূলত মেধাহীন, অযোগ্য, অমানবিক, অসৎ, অশিক্ষিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না । যাদের সমর্থন, উচ্ছাসে আলোর ভেতর আজ বিকট কালোর যন্ত্রণা।

যৎসামান্য শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এই পথ, এই নীতি - দুর্গম, দুর্ভেদ্য হলেও মূলত পথেই থাকতে হবে। লিখতে হবে। বলতে হবে। চলতে হবে, নেপথ্যে হোক অথবা প্রকাশ্যে। অন্তত নিজের বিবেক, নিজের বোধ এবং অবশ্যই আগামীর প্রজন্মর জন্য।

পরিশেষে, মিছিলের শততম সংকলন কে সাহসী অক্ষর / বাক্যে যাঁরা সংঘবদ্ধ করলেন, তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। প্রণাম। ভালোবাসা। 


- প্রিয়দীপ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন