রত্নদীপা দে ঘোষ | তিনটি কবিতা

রত্নদীপা দে ঘোষ | তিনটি কবিতা

■ দরবারি মশালার কিনারা


সকাল থেকে প্রকৃতির বারোটি জুঁই খোলা। আপনিও মন খুলে আঁকা করুন আইভরির গঠন। সাথে থাক অমোঘ ধনেশের অনুভব। অনুভূতির তেজপাতা আর ধ্যানের লবঙ্গ-বাটা ছাড়া কি ভালো রান্না হয় বলুন?

প্রধান সমুদ্রটিকে ভাসিয়ে দিন প্রাচীন নৌকোর অভিমুখে। খেয়াল রাখবেন, এখন আষাঢ় তিথি। রোয়াক ডুবে যাওয়ার প্রকৃষ্ট সময়। মাঝেমাঝে বুলিয়ে দেবেন লোকালয়। কোলাহলের তেপান্তরে যেন মরচে না ধরে। গেরস্থ আয়নায় বোঝাই দর্পণ।

আহ্বান, তা সে যে কোন রঙেরই হোক, হাতছানি দেবেই।

একটু এদিক ওদিক হলেই, জোড়াপাতাল এবং ঘূর্ণি। খুব সাবধান।

পঞ্চমুখী তামসে না জানি কতো দর্পের হুঙ্কার! যদি চান মনের মতো পাকঘর তাহলে পরমায়ুর তালুতে, জমতে দেবেন না অহঙ্কার।



■ মনোহরা মুগদানা

স্বর্ণবকুলের রশ্মি। দেবীদৃষ্টি। এই রান্নার প্রধান উপকরণ।

তবে আপনি মন্দিরের বদলে প্রাচীন কোন দেবালয়ও ব্যবহার করতে পারেন।

অড়হরের ফাটলকে সামলে রাখুন। মুখ যেন মুখোশ না জড়ায়।

অনিবার্য সাধনার তেজ, এই মুহূর্তে খুব জরুরী। ঠাণ্ডা হতে দিন শ্বেতবস্ত্র পরা গোধূলি।

নিসর্গরমণীর অতীত থেকে আলাদা করে রাখুন ভবিষ্যতের মরিচ-শৃঙ্খল। ফলন্ত বরফের দিকবদলটিকে একটু আচমকার আঁচ দিন।

হঠাৎ পাহাড়, গোলাকার পার্বত্য পার্বণ। ছিটেফোঁটার লঙ্কাসবুজ। ঝাল কেটে গেলেই, আপনার সামনে প্রস্তুত ভোরসকালের দূরবীন। পরিবেশনের আগে অন্তরে ধারণ করুন সুরঞ্জনা ধরাচূড়া।


■ পাটপাতায় পাটরানী

বিহুবৃক্ষের মেখলাটিকে অন্ততপক্ষে পাঁচ/ছ ঘণ্টা মুসুর-গীতিকায় ভিজিয়ে রাখুন। আড়ালে থাক ওড়নার নহর। উঠুক ফুটে গেরিমাটির চিত্রকল্প। আহুতির অপরায় মুখরিত লোধ্ররেণু।

অই বিন্দুটিকে রক্ষা কিন্তু করতেই হবে। পুঁই-মেটুলি নিভে গেলে কিন্তু কিছুতেই জমবে না মাঘদানার লাট। মাপমতো মিশিয়ে দিতে হবে বরুণমালার নামকরণ।

কিনারায় বেঁধে দিন ক্ষমাপুষ্পের আবরণ। ভুলেও কিন্তু তাকে গহনা গড়াবেন না।

মনে রাখবেন, গহনা অলঙ্কারকে ভারি করে।

ভারি হলেই অলকানন্দাটি, নোনতার টানে মিলিয়ে যায়। বরং তাকে হাল্কা ঘরানার কলস-কুম্ভ পরিয়ে রাখুন, যতক্ষণ না সে তিনমাত্রার গাভীন হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন