প্রিয়দীপ

Michil মিছিল

পলাশ গাঙের জোয়ার

প্রি য় দী প –


আবারো একটি সূর্যোদয়, ঘুম ভাঙ্গা 
নীলাম্বরী আকাশ।
আকাশ জুড়ে, গমবর্ণ উষ্ণ আবরণের ছটায় -
অদূরে শস্য পল্লবিত মাঠ!
রৌদ্র স্নানে, কুঞ্জে কুঞ্জে গুঞ্জরিত ভ্রমরে -
সুখী সে সবুজায়ন।

সবুজায়নের আল বেঁয়ে, রাঙ্গা লালমাটি পথ।
পথ ঘেঁষা শোভন দুরত্মে , মজে আসা 
সুন্দরী গাঙ -
গাঙের বুক চিড়ে -
শহরমুখী বহুদর্শী শীর্ণ সাঁকো।

সাঁকোর চিলতে উঠোনের ধারে, আমি কিংশুক -
আজও ঠায় দাঁড়িয়ে অকাল বার্ধক্যতায়,
বাঁকলে বাঁকলে পঞ্জিভুত সঞ্চিত স্মৃতিগাঁথায়!

হেথায়, উজানে -
স্তুপাকৃত ইট পাঁথরে্র সামিয়ানায়, যুগ পরিবর্তিত সেতু।
অবরুদ্ধে, বিমুখ তোমার জলস্ফীতি!
ছলাৎ ছলাৎ মনোহারি উন্মত্ত যৌবন -
বাড়ন্ত কল্লোলিত বসন্ত।

এহেন! বৈপরীত্যে, বড়ই শূন্যগামী আমার পথ।
বিদ্দ্রুপ অবহেলায়,
মুছে যাওয়া সাবেকিয়ানায় -
ধুধু প্রান্তরে আমি একা মহীরুহ।

তবুও -
নীরবে কান পেতে রই।
তুমি আসবে ভেবেই, অনুসারী দাবাদহে -
ঝলসে নেই ডালপালা।

তুমি এলে -
প্রাচুর্য্যে আত্মহারা হবে লালমাটি পথ।
পথে বাঁকে সমূহে অরণ্যে -
উজ্জীবিত হবে দখিনা মলয় বাতাস।

তুমি এলে –
উন্মীলনে, অনাবৃত হোক তোমার 
নিপুণ মনোহর বুক -
উজ্জীবনে, অরণ্যের বিনীত তৃষিত মুখ -
উদ্দীপনে, প্রসারিত বৃন্তে বৃন্তে পরিপূর্ণে -
হোক,সজ্জিত মধুঋতু ।

হে অরণ্য সজনী!
এহেন , অলীক মাদকতায় -
স্তম্ভের মেরুদণ্ড আজ বড়ই সপ্রতিভ।
পাঁজরের ক্ষয়ে যাওয়া ছাল বাঁকলে,
তপ্ত হয় আমার দেহ -
কামনায় ছেয়ে যায় ... পল্লবিত শাখা প্রশাখা।
জুড়ানো‘য় হাল ছেড়ে দেয় মজে যাওয়া অবলা গাঙ।

তেমনি ,
শিকড় বাকড় জড়ানো তোমাকে লেখা -
হাজারো ঠিকানাহীন চিঠি, বয়ে বেড়ায় না কোন রানার।
খণ্ড এই দ্বীপে শুধু ভাসে নিঃস্পৃহ 
কোকিলের ডাক,
নিঃসাড় এই বুকে ক্রমশঃ বিলীন হয়ে যায় 
জলবিম্বের স্ফীতকনা।

ভাবনার ঐশ্বর্যতায়, 
ভেতরে ভেতরে হুটোপুটি করে নীরব অভিমান।

হে অরণ্য স্রোতস্বিনী ! দোহাই -
এহেনু উলঙ্গতায় আমাকে পাগল ভেবো না।
হয়তো আমি অবাধ্য, বীজে বাড়ন্ত অবিনশ্বর।
শুক পাখীর ঠোটের ন্যায় জন্মান্তর 
পিপাসী রক্তবর্ণ আমি ...
গাঢ় কমলার ঘন মুঞ্জুরিতে আমার 
সঞ্চিত সোহাগ।
অনাদরে ডাকনাম কিংশুক –
আদরে বসন্তে পলাশ ... !


(১ম প্রকাশ মে ২০১২, সংশোধনী মার্চ ২০১৭ )

1 মন্তব্যসমূহ

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন