Header Ads

Breaking News
recent

সুমনা সাহা | অমৃতসদনে চল যাই

Michil

পর্ব- ৩

পুরনো কথা কিছু মনে পড়ছে? যা মনে পড়ে, বলবে আমায়?... ছেলেবেলাকার কথা, মা-বাবা-ভাই-বোন...

বোন আর আমি একসঙ্গে তাঁবু বানিয়েছি ... আবছা মনে পরে। আমি মায়ের গর্ভে বিশেষ উদ্দেশ্যে রক্ষিত হয়েছিলাম, প্রভুর কাজের জন্য। সে-সময় দেশ অপেক্ষার প্রহর গুণছে, তাদের উদ্ধারকর্তা আসবেন। তখন এমন এক সময়, এক মায়ের কাছে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়াই ছিল বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম গৌরবের কাজ। আমি বেঞ্জামিনের গোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ। লোকে বলত, এমনকি মোজেসও ভবিষ্যৎবাণী করেছিল যে, বেঞ্জামিন গোষ্ঠী টিঁকে থাকবে। ওরকম ১২ টা উপজাতি গোষ্ঠী ছিল ইজরায়েলে। ভয়ানক দুর্ভিক্ষের সময় ১০ টা গোষ্ঠী লোপ পেয়ে যায়। দুটো টিঁকে ছিল। তাদের মধ্যে একটা এই আমাদের বেঞ্জামিন গোষ্ঠী। একটা প্রবাদ ছিল যে, এই গোষ্ঠীর মধ্যে ঈশ্বর আবির্ভূত হবেন। তিনি তাঁর সন্তানদের প্রথমে অত্যাচার করবেন, পরে তাদের পালন করবেন। আমার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে কথাটা। প্রথম জীবনে খ্রিস্ট বিশ্বাসীদের কী অত্যাচারটাই না করেছি! অথচ পরে সেই আমিই কীভাবে পালটে গেলাম!

তোমার মায়ের কথা বল না? তোমার জন্মের পর তিনি নিশ্চয় সুখী হয়েছিলেন? পল এড়িয়ে গেল প্রশ্নটা। সে বলতে লাগল, নবজাতক পুত্র প্রত্যেক পরিবারেই অগাধ আনন্দের সমাচার। আমাদের সেই উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো জমির পাহাড়িয়া গ্রামে নবজাতক শিশুর নামকরণ এক আনন্দের উৎসব। বাবাকে যখন জিজ্ঞেস করা হল, “ছেলের নাম কী রাখবেন?” তিনি বেঞ্জামিন গোষ্ঠীর প্রথম রাজার নামে নাম রাখলেন, সল।

আটদিন বয়সে নামকরণ হল এবং আমাকে ইহুদী ধর্মের নিয়ম অনুসারে সুন্নৎ করানো হল। আমার শৈশব কেটেছে বেঞ্জামিন গোষ্ঠীর প্রাচীন ঐতিহ্যময় কাহিনী শুনে। কল্পনায় ঐগুলি প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করতাম—লেখাপড়া শিখতে আমাকে পাঠানো হল বিখ্যাত রাব্বি আচার্য গ্যালান্টিয়া-র কাছে। অ-ইহুদীদের ঘৃণা করতে শিখলাম। যারা যিশুর মত প্রচার করত, তাদের বিরুদ্ধে মন বিদ্রোহ করত। আমাদের যৌবনকালে সন্ত স্টিফেন শহীদের মৃত্যু বরণ করেছিলেন। যিশুর পুনরুত্থানের কথা বলতেন তিনি। আমার সেসব ভাল লাগত না। বিশ্বাসও হত না। যিশু কবর থেকে উঠে এসেছিলেন, সে না হয় মেনে নিলাম, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকেই অসময়ে কবর থেকে তুলে দিলেন, জাজমেন্ট ডে-র আগেই—এটা অবিশ্বাস্য লাগত। তিনি কিসের জন্য এত বিশেষ, সেটা বোধগম্য হত না। স্টিফেনকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। লোকে বলত, তিনি মোজেসকে অমান্য করেন। তাঁর মতবিরোধী কথা বলেন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে শুনেছি যিশুর মত তিনিও বলেছিলেন, “যারা জানে না, সেই সমস্ত অজ্ঞদের ক্ষমা কর।” স্টিফেনই প্রথম খ্রিস্টীয় শহীদ।

লুক বলে, “তারপর, কিভাবে তুমি খ্রিস্ট মতে বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলে?”

“সেসব কি তোমাকে বলিনি?”

“না, তুমি বলোনি। তবে অন্য সকলের মত আমিও সেকথা জানি। তবু তোমার মুখ থেকেই শুনতে চাই।”

“ওহ! সে এক অভূতপূর্ব ব্যাপার! ভাবলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয়! এই অবিশ্বাসী তুচ্ছ পাপীর কাছে তিনি এলেন! আরও তো কত ভক্ত ছিল তাঁর। তারা প্রভুর জন্য বিনা বাক্যব্যয়ে প্রাণ দিতে প্রস্তুত। অথচ তিনি আমাকে বেছে নিলেন তাঁর কাজের জন্য যন্ত্রস্বরূপ।”

“ঘটনাটা বল। ঠিক কী হয়েছিল?”

“আমি দামাস্কাস যাচ্ছিলাম। সত্যি বলতে কি, আমাদের গির্জার আদেশে। দামাস্কাসে অনেক মানুষ মোজেসের বিরুদ্ধে কথা বলছিল। তারা ঐ যিশুর মত সমর্থন করে উদ্ভট সব বিশ্বাস ছড়াচ্ছিল। আমার উপর নির্দেশ ছিল, কোথাও জমায়েত দেখলে, তাদের ধরে ধরে, এবং ঘরে ঘরে গিয়ে তরুণ যুবকদের মেরেধরে বলপূর্বক ঘর থেকে বের করে এনে জেলে ভরে দেওয়া। সে কাজেই আমি যাত্রা করেছিলাম। বিশ্বাস কর, পথে চলতে চলতে একসময়, অর্ধেক পথ পৌঁছেছি হয়তো, একেবারে হঠাৎ করেই, মানে, আমি কিছুই ভেবেচিন্তে ওঠার সময় বা সুযোগ পাইনি, আকাশ থেকে এক তীব্র আলো এসে আমার চোখ ধাঁধিয়ে দিল! ওহ! আমি বোঝাতে পারব না, কেমন সে আলো! বিদ্যুতের ঝলকের মত! তার তীব্রতায়, আকস্মিকতায় আমি হতচকিত হয়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেলাম। আর ঠিক তখনই শুনলাম সেই কণ্ঠস্বর! কোমল, করুণ, মৃদু অথচ একেবারে হৃদয়ভেদী সেই স্বর! সে আমায় বলল, “সল! সল! তুমি কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ?” আমি এত অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে আমার মুখে কোন ভাষা জোগায়নি। আর কথা বলবার মত অবস্থাও ছিল না আমার। দেহে মনে আমি যেন কী রকম বিবশ হয়ে শুধু শুনছিলাম। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে যেন আমার হয়ে কে বলে উঠল, “আমি? আমি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছি? কিন্তু কেন? কী ভাবে? আপনি কে?” “হ্যাঁ, তুমিই তো প্রার্থনামন্দিরে আর উপাসনালয়ে গিয়ে সেইসব মানুষের উপর অত্যাচার করছ, যারা আমার কথা বলছে! এভাবে তুমি আমাকেই তো কষ্ট দিচ্ছ। আমিই সেই, মানবের পরিত্রাতা নাজারেথের যিশু! আমিই কবর থেকে উঠে এসেছিলাম আমার শিষ্যদের কাছে। তেমন ভাবেই আমি তোমার কাছেও এসেছি। সল, আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে আমার করে নেব। তুমি আমায় তোমার মনে জায়গা দেবে না?”

ঠিক এই কথাগুলোই বলেছিলেন কি না, কিম্বা এভাবেই সেগুলো উচ্চারিত হয়েছিল কি না, সেসব আজ আর আমার মনে পড়ে না। কেবল মনে পড়ে অপার্থিব সেই স্বরে কী এক সম্মোহনী ছিল, আমি তাঁর কোনও শব্দের একবিন্দু প্রতিবাদ করতে পারিনি। আমার শরীর-মন অননুভূত এক বেদনায় ভরে যাচ্ছিল। মনের মধ্যে অদ্ভুত এক অপরাধবোধ জেগে উঠছিল আমার পূর্বকৃত কর্মের বিষয়ে স্মরণ করে, নিঃশব্দ উচ্চারণে সর্বশক্তি দিয়ে আমি বলতে চাইছিলাম, “প্রভু! আমি চিরতরে তোমার দাস! আমাকে তোমার করে নাও! আমি তোমার। আজ থেকে আমি কেবল তোমারই নির্দেশে চলব, যেমন যন্ত্র চলে যন্ত্রীর ইশারায়!”

পলের কণ্ঠ রুদ্ধ-কারাগৃহের অন্ধকার ভেদ করে যেন গ্রহ-তারক-চন্দ্র-তপন ব্যাপ্ত করে ছড়িয়ে পড়ল অসীমে। কতযুগ পরে, প্রাচ্যের কোনও ভক্তিসাধক অশ্রুসজল সুরে ভেসে গিয়ে গাইলেন—“তুঝসে হামনে দিলকো লাগায়া, যো কুছ হ্যায় সো তুহি হ্যায়!” আরও কত শতক পরে আরেক তরুণকে সে-গান গাইতে বললেন এক আপনভোলা ঈশ্বরপ্রেমে গর্গর মাতোয়ারা মানুষ, বললেন, “নরেন, সেই গানটা গা না, ওই যে তুই গাস...যো কুছ হ্যায় সব তুহি হ্যায়?”

লুক বিভোর হয়ে শুনছিলেন। তাঁর সময়ের হিসেব হারিয়ে গেল। হারাতেই এসেছেন তিনি, প্রভুর স্মরণে। তিনি জানেন, পলের মত ঘোর বিরোধীকে যিনি দ্রবীভূত করে হাতের যন্ত্রে পরিণত করেছেন, সেই পলের কাছে এলে তাঁর প্রভুর মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন লুকও। সেটাই তিনি চান। কারণ তিনিও যে রক্তমাংসের প্রভুকে দেখেননি! কিন্তু ভাবীকালের জন্য লিখে রাখতে চান তাঁর কথা, আবেগ ও অবাস্তবতা বর্জিত এক পরিপূর্ণ মানবের কথা, মানবের দুঃখ যাঁকে এমন উতলা করেছিল, তিনি জগতের দুঃখের বোঝা তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। আর তাই পলের কথা শোনার ফাঁকে ফাঁকে নিজের মত করে নোটও নিচ্ছেন লুক।

কিন্তু লুক পলের মায়ের কথা জানতে পারলেন না। বস্তুত নিজের পরিবার সম্পর্কে দু’এক কথা ছাড়া তেমন করে পল কিছুই বলছেন না। এমনটাই হয়। মানুষ যখন দিব্য আবেশে আরেক মানুষ হয়ে যায়, তার জীবনটা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে অন্য খাতে বইতে আরম্ভ করে, তখন তার আর ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিভার বহন করতে ইচ্ছা করে না। তাই পাশ্চাত্যে কিম্বা প্রাচ্যে, কোথাও সন্ত, মহাত্মা, সাধু, ফকির, পীর, দরবেশদের অতীত জীবনের কাহিনী বিস্তারিত জানা যায় না, অনেকখানি ধোঁয়াশায় আবৃত থাকে। যাইহোক, পলের কাছ থেকে যতটুকু জানা যাবে, লুককে এবং ভাবীকালের খ্রিস্ট অনুরাগী, কিম্বা মানবদরদী সাধক কিম্বা ঐতিহাসিকদের সেটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কিন্তু লুক চায় তাঁর গসপেল হোক অন্যরকম। তাতে মায়েদের কথা থাকবে। তাই তিনি তাঁর গসপেল আরম্ভ করতে চলেছেন MAGNIFICATA দিয়ে—মেরী-মাতার ঈশ্বর-স্তুতি বা প্রশস্তি দিয়ে, যাকে চার্চে এখন ‘লিটানি অব মেরী’ হিসেবে গাওয়া হয়। তিনি পলকে এখনও বলেননি, পলের তৃতীয় মিশনারি অভিযানের পর থেকে লুক যে কয়েকবছর বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন, সে এই কারণেই। যাঁরা প্রভুকে চর্মচক্ষে দর্শন করেছেন, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থেকেছেন, ওঠাবসা করেছেন, তাঁর সান্নিধ্যধন্য সেইসব মানুষ, যারা এখনও বেঁচে আছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গে লুক দেখা করেছেন, ব্যক্তিগত ভাবে সংগ্রহ করেছেন নানা তথ্য। আরও অনেকের কাছে যাওয়া বাকি। তথ্যসংগ্রহ সম্পূর্ণ হলে তিনি গসপেল রচনায় হাত দেবেন। তবে তাঁর গসপেলের প্রধান উপাদান পলের মুখ থেকে প্রত্যক্ষভাবে শোনা ঘটনা। তাই সে গৌরবও তিনি পল-এর জন্যই রাখবেন। তাঁর গসপেল ‘উত্তমপুরুষ’-এ লেখা হবে না। যা কিছু তিনি পলের কাছে শুনে লিখবেন, সেইসমস্ত স্থানে ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’ শব্দের উল্লেখ থাকবে। এসমস্ত ভেবেছেন লুক। যদিও প্রভুর কাজ প্রভুই করিয়ে নেন, তবুও ইতিহাস রক্ষার প্রতি লুক একটা দায়বদ্ধতা অনুভব করেন।

প্রভুর অলৌকিক দর্শন ও বাণী শ্রবণের অপরূপ স্মৃতি উদ্বেলিত নীরব পলকে ধীর স্বরে লুক বলেন, “তাহলে তরবারি নয়, মারধর নয়, বলপূর্বক কোনভাবে বাধ্য করে বা ভয় দেখিয়ে তোমাকে খ্রিস্টমতে আনা হয়নি, তুমি স্বেচ্ছায় প্রভুর মত অনুসরণ করতে আরম্ভ করেছিলে?”

“ঠিক তাই,” পল বলে, “তিনি তাঁর অনুসরণকারীদের কখনোই কোনও আরামের প্রতিশ্রুতি দেননি। মনে নেই? পথ চলতে চলতে একজন শিষ্য যখন প্রভুকে বলেছিলেন, “আই উইল ফলো ইউ হোয়্যার-এভার ইউ গো!” সেকথা শুনে প্রভু কী বলেছিলেন? “ফক্সেস হ্যাভ ডেনস, অ্যান্ড দ্য বার্ড অব দ্য এয়ার হ্যাভ নেস্টস, বাট দ্য সন অব ম্যান হ্যাজ নোহোয়্যার টু লে হিজ হেড!”1 মৃদুস্বরে, কিন্তু এক একটি শব্দ স্পষ্ট উচ্চারণ করে পল বললেন, “সেই অপরূপ দিব্য জ্যোতি দর্শন ও সেই দিব্যবাণী শ্রবণ করবার পরে, তাঁর ইচ্ছা মেনে নেওয়া ছাড়া আমার কিছু করার আছে বলে মনেই ওঠেনি!”

লুক নিঃশ্বাস ফেলে, “ঠিক যেমনটি মেরীর ক্ষেত্রেও হয়েছিল! তাঁকেও গ্যাব্রিয়েলের ইচ্ছা মেনে নিতে হয়েছিল!”

“ওহ! মেরী! মাদার মেরী! আওয়ার লেডি অব সরো!” পল ডুকরে ওঠে।

কারাগারের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে— জগতের পবিত্রতম নারীকে চিন্তা করে, সন্তানের মৃতদেহের বোঝা মনের মধ্যে বহন করে বেঁচে থাকা এক দুখিনী মায়ের জমাট বাঁধা কান্নাকে স্মরণ করে। কথায় বলে, জগতে সব থেকে ভারী হল সন্তানের মৃতদেহের ভার! যে ভার বইতে হয়েছে জগতের আরও কয়েকজন নারীকে। অনেক অনেক কাল পরে যিশুর মতই পুরোহিত তন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন আরেক তরুণ, জগতের সকল দুঃখী মানুষকে ডাক দিয়ে যিনি বলেছিলেন, ‘দুঃখভার-জর্জরিত যে যেখানে আছ, সব এসো, তোমাদের সব বোঝা আমার উপর ফেলে দিয়ে আপন মনে চলতে থাক, আর তোমরা সুখী হও এবং ভুলে যাও যে, আমি একজন কোনকালে ছিলাম...,’2 সেই বিশ্ববিখ্যাত বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবীকেও বইতে হয়েছিল এই ভারী বোঝা, আদরের ‘বিলু’র প্রয়াণের পরেও যাকে এই মরজগতে থেকে যেতে হয়েছিল অনেকগুলো বছর!

পল ও লুক উভয়েই এখন সেই পবিত্রতমা নারী, দুখিনী মাতা মেরীর মননে নিবিষ্ট হয়ে রইল।

(ক্রমশ)


পাদটীকা

(1) As they were walking along the road, someone said to Jesus, “I will follow You wherever You go.”

Jesus replied, “Foxes have dens and birds of the air have nests, but the Son of Man has no place to lay His head.”—Luke 14: 25-33

(2) “Come ye that are heavy laden and lay all your burden on me, and then do whatever you like and be happy and forget that I ever existed”-Letters of Swami Vivekananda; Letter to Nivedita, dated: 6th Dec., 1899 from LOS ANGELES.




কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.