x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০২১ |
Sobdermichil


■২৮
পূষন ভোর রাতে উঠে দাঁড়িয়েছে। সকলেই কিছুক্ষন আগেও জেগেছিল। পুব দিকে ফ্যাকাসে আকাশে লাল রঙ ধরেছে।ঠাণ্ডা হাওয়া তে শরীরে কাঁপুনি দিচ্ছে।

খুয়া মুখ হাঁ করে সাট পাট হয়ে ঘুমাচ্ছে। পূষনের মনে খুব আনন্দ । সে কল্পনা করতে পারছে খুয়া এই চারপেয়ে জন্তুর ওপর চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশে অন্য মেয়েরা ধারালো অস্ত্র হাতে। আদোয়ার লোকজন ভয়ে কাঁপে খুয়ার নামে। খুয়ার বাহন বিকট জোরে গর্জন করবে। পূষন গুহার সামনের পাথরে বসে থাকে । চারপেয়ে টা একটা ছোট পাখী শিকার করার চেষ্টায় আছে। পারছে না। মজা লাগছে দেখে। খুয়ার আচমকা ঘুম ভাঙে। সে তাকিয়ে দেখে পূষন গুহার বাইরে বসে রয়েছে। সে দ্রুত উঠে পূষনের কাছে যায়। পূষন ইঙ্গিত করে চারপেয়ে কে দেখায়। মা ও ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসে। “তুই বেশী করে খেয়ে গায়ে খুব জোর করে নে ! আদোয়ার লোক জন আবার আসবে। তখন সামলাতে হবে।”পূষন খুয়ার মাথায় হাত দিয়ে বলে। “তুমি যুদ্ধের সময় কোথায় গিয়েছিলে পূষন? তুমি থাকলে কিরি হারিয়ে যেত না।” “তোর সন্তানের জনক হবার উপযুক্ত একজন কে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে…” বলে খুব​ হো হো করে হাসতে থাকে পূষন। মা পূষনের পাশে এসে বসেছে।সে অবাক হয়। খুয়ার চোখ কপালে ওঠে।কাকে বাঁচাতে গিয়েছিল পূষন? জলে তো বকের পালক পরা আদোয়ার সেই সর্দার ছেলে টা পড়ে গিয়েছিল! তাকেই। পূষন কি পাগল হয়ে গেছে। “ তোমার কি বোধ বুদ্ধি সব খারাপ হয়ে গিয়েছে পূষন?” মা খুব দৃঢ়টার সাথে পূষন কে বলে।“খুয়া একজন শত্রু কে তার সন্তানের জনক করবে?”পূষন খুয়ার হাত ধরে কাছে নিয়ে আসে।

উৎফুল্ল মুখে বলে, “আমি তার চোখ দেখেছি। সে খুয়া কে দেখে অবাক হয়েছে। খুয়াকে ভুলতে পারবে না।” শুকনো ঠোঁট জিব দিয়ে মুছে নিয়ে খুব স্নেহের সাথে খুয়া কে বলে, “খুব উপযুক্ত পুরুষ।সে তোমার কাছে এলে ফিরিয়ে দিও না।”খুয়ার রাগে শরীর থরথর করতে থাকে। গলার কাছে খুব ব্যাথা এসে জন্মায়। ভালো লাগে না। “আমি সামনে পেলে তার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করব” খুয়া চিৎকার করে বলে ওঠে।যারা ঘুমাচ্ছিল তারা সকলেই জেগে ওঠে। পূষন চোখ বন্ধ করে থাকে। মুখে চিরকালীন মৃদু হাসি। মা পূষন কে হাত ধরে উঠিয়ে নিয়ে চলে। নরম করে তৈরি পশু চামড়ার বিছানায় শুয়িয়ে দেয়।ফোঁটায় ফোঁটায় জল দেয় তার শুকনো ঠোঁটে।সকলেই আজ বড় ক্লান্ত। অন্যদিন যে সব কাজ সবাই মিলে করে তাতে খুব কম গুহাবাসী মন দিয়ে করছে। বাতাসে একটা বিমর্ষ অবস্থা। সন্ধ্যা নেমে আসার সময় পূষন আবার চোখ খুলল। বিষবাণ যত তাড়াতাড়ি তৈরি করা যায় তার চেষ্টা করতে বলল। আদোয়ার লোকগুলো আবার আসবে ,তাই তৈরি হয়ে থাকতে হবে। খাবার মজুত করে রাখতে হবে। খুয়া মুখ শুকনো করে সব শুনল। আজকাল তার কিরির জন্যে বড্ড ভয় করে ।চোখ দিয়ে জল বার হয়ে আসে। তার শরীরের উজ্বল রূপ আর নেই।

■২৯

‘এক চোখ লুলু’ দুহাতে জড়িয়ে ধরে বসে আছে জাকু কে। জাকুর সব কথা শুনে তার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। ছেলে কে যে এক গুহা মানব আবার ফেরত দিয়েছে তার জন্যে আকাশের ঐ দেবতার কাছে বারংবার কৃতজ্ঞটা জানায়। প্রতিবেশিরা ভিড় করে এসেছে। জাকুর মা সেবা করছে জাকুর। হঠাৎ ঘোড়ার খুড়ের আওয়াজ। সাবুকের লোকেরা খবর পেয়েছে জাকুর ঘরে ফিরে আসার। লুলু অবাক হয়ে দেখে মুহূর্তের মধ্যে তার ছোট উঠান একগাদা সৈনিক এসে ভর্তি করে দেয়। সাবুক উপস্থিত হয়েছে। মাথা নিচু করে লুলু। সাবুকের পেছনে পেছনে জাকুজাকু এসে পৌঁছেছে। জাকু শয্যা ত্যাগ করার চেষ্টা করে কিন্তু অপারক হয়। সাবুক ইঙ্গিতে তাকে বারণ করে।জাকুর খুব কাছে এসে বসে সাবুক। লুলুর দুর্বল অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে ধমক লাগায় সাবুক।সাবুক সমস্ত কথা শুনতে লাগলো জাকুর কাছে। তার মুখ কঠিন হল। “যে তোমাকে বাঁচিয়ে রাখল, তাকে আমাদের দরকার ছিল জাকু। খুব দরকার। তার মত জ্ঞানী খুব কম জন আছে। কত বার চেষ্টা করা হল। কিছুতেই এলো না।যে মেয়েদের কথা বলছ এরা কিছুতেই কারো বশ হয় না। আজ অবধি কাউকে ধরে রাখতে পারা গেল না।” সাবুক জোরের সাথে বলে। জাকু অবাক হয়ে গেল। এদের আগে থেকে চেনে সাবুক! লুলু তাকে আগেই বলেছিল যে এই মেয়েরা বশ করতে জানে। কিন্তু এমন যোদ্ধা আর ক্ষিপ্র সেটা সত্যি বুঝতে পারেনি। জাকু খুব লজ্জা পেয়ে জানায় তার খুব ভুল হয়ে গেছে।“তুমি কি ভুল করলে তুমি জান ​ না। ঐ দীর্ঘকায় গুহা মানব কে আমাদের দরকার ছিল।তুমি পারবে না জানলে আমি তোমার ভাই জাকুজাকু কে পাঠাতাম।সে তোমার চাইতে বেশী সক্ষম।” জাকুর বুকের মধ্যে ধক করে ওঠে। কোনদিন এই কথা তাকে শুনতে হবে সে ভাবেনি। সে চিরকাল তাদের গোষ্ঠীর সবচেয়ে যোগ্য যোদ্ধা। জাকুজাকু চালাক বটে কিন্তু, দায়িত্ব নিতে পারে না।ভাইকে খুব ভালো জানে সে।জাকু কোন উত্তর দিতে পারে না। রাত বাড়ে, সাবুক পরেরদিন রাজার সাথে দেখা করবার কথা বলে। বিশ্রাম নিতে বলে জাকু কে। আর যাবার সময় জাকুজাকু কে সাথে নিয়ে যায়। কি ব্যাপারে তার সাথে বিশেষ আলোচনা আছে। জাকুর শরীর এর ক্ষতস্থানের রক্তপাত বন্ধ হলেও, মনের মধ্যে প্রবল ব্যাথা শুরু হল। সে বিমর্ষ হয়ে শুয়ে পড়ল। লুলু বুঝতে পারল তার কষ্ট।

■৩০
খেলাটা জমে উঠেছে। প্রথম পর্বে একটা মড়া শুয়োর কে সবাই মিলে একটা বাঁশের বেড়ার ওপারে নিয়ে গিয়ে ফেলতে হবে। পেছনে চার পাঁচদিন না খেতে পাওয়া কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিন্নো , মুগা সকলকে নির্দেশদেয় যত তাড়াতাড়ি বেড়া টপকে সবাই যেন ওদের দুজনের অপেক্ষা করে। মুগা আর বিন্নো কাঁধে করে শুয়োর টাকে নিয়ে দৌড় লাগায়। কিন্তু এতো ভারী যে নিয়ে চলায় দায়। আরও দুজন এসে ধরে খুব দ্রুত না হলেও কুকুর গুলো আক্রমণ করার আগে সেই কাজ করে উঠতে পারে মুগারা। একজনের পায়ে কামড় বসিয়েছে কুকুর ,মুগা জোড়া পায়ে লাথি দিয়ে সেটা কে দূরে ছিটকে দিয়েছে। তারপর কি ভাবে যে ঐ উঁচু বাঁশের বেড়ার ওপারে চলে যেতে পারল কে জানে। ওরা যখন বেড়ার ওপাশে চলে গেল কুকুর গুলো অন্যদিকে ভয়ানক ভাবে ঘেউঘেউ করে যাচ্ছিল ,তখন যারা খেলা দেখছিল তারা খুব আনন্দ করে চিৎকার করছিল। মুগারাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ করেছে।​

এবার খেলাটা ভয়ের নয়। দুটো দল করে দেওয়া হয়েছে ,কে তাড়াতাড়ি মাটির তাল দিয়ে উঁচু স্তম্ভ বানাতে পারে। পিছল মাটি নিয়ে কাজ করতে করতে পড়ে যাচ্ছে বার বার সবাই। এখান কার মাটি মুগার দেশের মাটির মত কালো নয়। সাদা সাদা। কিন্তু পেছল খুব। মুগা আর বিন্নো আগের বারের মত অত কাজ করছে না। কিন্তু নজর রাখছে কাজ কত তাড়াতাড়ি হয়। ঘণ্টা বাজলে যাদের টা বড় হবে তারা পরের দিনের খেলায় যাবে। অন্যদের মাটির পাত্র তৈরির কাজে লাগানো হবে। বেশ উঁচু হয়েছে তাদের স্তম্ভ। বিন্নো কুকুরে কামড়ে দেওয়া ছেলে টির পায়ের যত্ন করছে। রক্ত পড়ছে না, কিন্তু গভীর ক্ষত। সে যেন হেঁটে তাদের সাথে ঘরে ফিরতে পারে এই চেষ্টা। কারণ তা না হলে একে কোথায় ফেলে দেবে তা কে জানে। আগের অসুস্থ বাচ্চাটির খবর কেউ জানে না। কানাঘুষোই শুনতে পায় ,মানে প্রহরীরা গল্প করছিল একটা নেকড়ে বাঘ কে নাকি মানুষ খেতে দেওয়া হয়। ঘণ্টা বাজতেই কাজ থামাতে বলা হল। দড়ি ফেলে মেপে নেওয়া হল। মুগা আর বিন্নোর দল জিতে গেছে। আজ রাতে তারা সবাই ভালো খেতে পাবে।

​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​আহত ছেলেটি সোজা হয়ে হাঁটার চেষ্টা করছে। মুগা আর বিন্নো যে দুটি ছেলের সাহায্যে শুয়োর টিকে বেড়া টপকাতে পেরেছিল তারা সকলে খুব আনন্দে আছে। ছেলে দুটিকে খুব ভালো লাগছে মুগার। এরা পাশে থাকলে কখনো ঠিক পালিয়ে যেতে পারবে সে। মার মুখ আজকাল ঝাপসা হয়ে যায়। ভাই এর মুখ মনে করার চেষ্টা করে। সারিবদ্ধ ভাবে ফিরে যাবার সময় আচমকা রাস্তার পাশের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে অবাক হল। সাদা রঙের কাপড় পরা লিয়ামের হাঁদা ছেলে। মুগাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দিচ্ছিল না চাবুক হাতের যোদ্ধাগুলো।তাই ধীরে হাঁটতে লাগলো সে। পাশে পাশে ​ ‘লিয়ামের হাঁদা ছেলে’। তাকে কুকুরে কামড়ানো ছেলেটিকে চিনিয়ে দিতে বলল সে। কোমরের ভেতর থেকে একটা সাদা রঙের গুঁড়ো বার করে মুগার হাতে লুকিয়ে দিল ‘লিয়ামের হাঁদা ছেলে’। এটা কুকুরে কামড়ানো পায়ে লাগিয়ে দিতে বলল। অবাক হয়ে গেল মুগা। ‘লিয়ামের হাঁদা ছেলে’ আসলে হাঁদা নয়। চোখে জল দুজনের।মুগাদের গায়ে খুব একটা চাবুকের আঘাত নেই। বেশ সমীহ করছে সবাই তাকে। ওদের যে খাঁচার মত ঘরে রাখা হয় সেখানে হাত পা খুলে ঢুকিয়ে দেওয়া মাত্র সব উল্লাসে নাচানাচি শুরু করল। মুগা আহত ছেলেটির পা ধুয়ে দিল , সাদা গুঁড়ো লাগিয়ে দিল। তাতে খুব জ্বালা যন্ত্রণা বেড়ে গেল। কিন্তু ছেলেটি সহ্য করল। ছেলেটি ঘুমিয়ে গেল। সকলের পেটে চুঁইচুঁই। রান্না করে যারা তারাও খেলা দেখতে গেছে। তাই খাবার আসতে দেরী। জল শেষ। কিন্তু বেঁচে ফিরে আসার জন্যে সকলের স্বস্তি। অকারণেই হিহি করে হাসি চলছে। আচমকা দরজা খুলে গেল। একটা ছেলে কাঁধে দুটো লক,সাথে ডিগা। ডিগার দিকে তাকাতে কষ্ট হয় মুগার। চোখ নামিয়ে নেয় সে। ধপাস করে মাটিতে ফেলে দেয় ছেলেটা কে। ছেলেটা অচৈতন্য। বিন্নো সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ছেলেটার মুখে ঘা। কালো হয়ে রক্ত জমে আছে। ডিগা বিন্নো কে নির্দেশ দেয়।বিন্নো কড়া গলায় বলে, “জল নেই। ওকে পরিস্কার করব কি করে। খাবার দাও।” বিন্নোর উদ্ধত আচরণে খুব বিরক্ত হয় ডিগা। তার হাতের লাঠির ভোঁতা অংশ দিয়ে আঘাত করে বিন্নোর পেটে। বিন্নো ধপ করে পড়ে যায়। মুখে সে এক্তাও আওয়াজ করে না। কিন্তু সব ছেলেরায় একটু সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আগের মত ভয় পেয়ে নয়। মুগা এগিয়ে এসে বিন্নো কে তুলে ধরে। ডিগা দাঁত খিঁচিয়ে কিছু বলে এবং চলে যায়। ছেলেরা অচৈতন্য ছেলেটির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়। বেশ ছোট এই ছেলেটি। মাথায় অনেক চুল। গায়ের রঙ একটু অন্যরকম,উজ্বল। চোখের পল্লব বড় বড়। ​ ঠোঁটের চারপাশ কালো হয়ে ফুলে আছে। মুগা ওকে পাশ ফেরাল। পিঠে শিরদাঁড়া তে নীল হয়ে রক্ত জমে আছে। বেশ কিছুক্ষন পর জল এলো। সবাই হুড়োহুড়ি করে জল খেতে যায়। বিন্নো ধমক লাগায়। সবাই ধীরে এক এক জন করে জল খায়। জল নষ্ট কড়া যাবে না। অসুস্থ ছেলেটার কালো হয়ে যাওয়া ঠোঁটে ফোঁটা ফোঁটা করে জল ফেলে বিন্নো। মুগার খুব কষ্ট হয় দেখে। কোথা থেকে এনেছে কে জানে। মুগার চেয়ে ছোট ছেলেটি। কপালে জল দিতেই হাত পা কেঁপে ওঠে ছেলেটির। ব্যাথায় কেঁদে ওঠে চোখ খুলবার চেষ্টা করে। একটা চোখ খুলতে পারে না। অচেনা মানুষ দেখে খুব ভয় পেয়ে আরও কাঁদতে থাকে। প্রচুর খাবার নিয়ে দশাসই লোক গুলো দরজা খোলে। আজ সবার খুব খিদে। বিন্নো জানায়, ‘ খাবার কিছুটা রাখতেও হবে। সব খেয়ে নিলে হবে না।কবে আবার খেলা আমরা জানি না। তখন যদি খেতে না পাওয়া যায়! বিপদ হবে।” সকলে ঘাড় নাড়ল। নতুন আসা আহত ছেলেটার কাছে খাবার নিয়ে মুগা আসে। খুব নরম করে বলে উঠে খেয়ে নিতে। ছেলেটা উঠে বসার চেষ্টা করে কিন্তু পিঠে খুব ব্যাথা। মুগা একবার নিজে খায়,আর একবার তার মুখে খাবার দেয়। ছেলেটি কয়েক বার খাবার পর আর খেতে চায় না। তার চোখ দিয়ে কেবল জল পড়ছে।

মুগা জানায়, “ তোকে যেমন ধরে নিয়ে এসেছে আমাদের সবাই কেও ধরে নিয়ে এসেছে। তুই কাঁদিস না।”​ ​ ​

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.