শর্মিষ্ঠা সেন

শব্দের মিছিল

বাড়ি সরগরম আজ।
পরিমল বাবুর দুই ছেলে, বৌমারা, নাতি-নাতনি সবাই একসাথে বহুবছর পর। দিল্লী থেকে মেয়ে সপরিবারে। অথচ যে মানুষটা সবচেয়ে খুশি হতো সে-ই নেই!​

পরিমল বাবু মুখচোরা, নিরীহ মানুষ, তার ওপর ওনার ইদানীং ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে! এই যে ঘর ভর্তি আপনজন, আত্মীয়-স্বজন এদের দেখাশোনা খাওয়া দাওয়ার খেয়াল কে রাখছে পরিমল জানেন না। এসব নখদর্পণে থাকত ওঁর স্ত্রীর, রমলাবালার। আর রমলাই কিনা ফুটুস করে একবেলার নোটিশে পাড়ি দিলেন! ওই সাধনচিত ধাম না কি যেন বলে! সকালে বুকে মৃদু ব্যথা ব্যথা শুরু হলো তারপর অনিল কে খবর দিয়ে নার্সিংহোমে নেওয়ার পথেই আর একটা জোর ধাক্কা, সব শেষ!

তারপর ফোনাফুনি করা থেকে শুরু করে পারলৌকিক কাজ কর্মের যাবতীয় ব্যবস্থা এই অনিল। মাস মাইনে নেয় বটে তবে অনিল কর্ম-সহায়ক নয়, যেন পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিল ক'বছরে। একজন তালঢ্যাঙা ছেলে এসেছে, মাথাজোড়া টাক, অনিল বড়দা বলে ডাকছে, সে বেশ শুকনো মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরো আছে কারা কারা, পরিমল বাবু চেনেন না, একেক বার একেক জন আসছে আর চোখ মুছে ঘর থেকে চলে যাচ্ছে। পরিমল বাবু উসখুস করেন শুধু। রমলা থাকলে…

ছেলেমেয়েরা আলোচনা করে। দিল্লী, পুণে, পন্ডিচেরী কোথাও বাবাকে নিয়ে যাওয়া ঠিক মনে হয়না ওদের। নিজের পরিচিত জায়গা ছেড়ে এই মুহূর্তে পরিমল বাবু যেতে চাইবেন বলেও মনে হয়না! ছেলেমেয়েদের​ চিনতেও পারছেন না। অতঃপর অনিল ভরসা। পরিমল বাবুর সমস্ত দায়িত্ব নিতে স্বীকৃত হয় সে।​

সন্ধ্যায় পরিমল বাবু বসার ঘরে আসেন। উনি চা খান এসময়। দেখেন, টিভির ঠিক ওপরে রমলার এনলার্জ করা একটি ছবি। কে যেন মালা দিয়েছে ছবিতে। কি ভীষণ প্রাণবন্ত মুখ! রমলা একদৃষ্টে চেয়ে আছেন পরিমলের দিকে, যেন বলছেন, আমি আছি! আমি আছি!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন