x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শর্মিষ্ঠা সেন

sobdermichil | মে ০৯, ২০২১ |
শব্দের মিছিল

বাড়ি সরগরম আজ।
পরিমল বাবুর দুই ছেলে, বৌমারা, নাতি-নাতনি সবাই একসাথে বহুবছর পর। দিল্লী থেকে মেয়ে সপরিবারে। অথচ যে মানুষটা সবচেয়ে খুশি হতো সে-ই নেই!​

পরিমল বাবু মুখচোরা, নিরীহ মানুষ, তার ওপর ওনার ইদানীং ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে! এই যে ঘর ভর্তি আপনজন, আত্মীয়-স্বজন এদের দেখাশোনা খাওয়া দাওয়ার খেয়াল কে রাখছে পরিমল জানেন না। এসব নখদর্পণে থাকত ওঁর স্ত্রীর, রমলাবালার। আর রমলাই কিনা ফুটুস করে একবেলার নোটিশে পাড়ি দিলেন! ওই সাধনচিত ধাম না কি যেন বলে! সকালে বুকে মৃদু ব্যথা ব্যথা শুরু হলো তারপর অনিল কে খবর দিয়ে নার্সিংহোমে নেওয়ার পথেই আর একটা জোর ধাক্কা, সব শেষ!

তারপর ফোনাফুনি করা থেকে শুরু করে পারলৌকিক কাজ কর্মের যাবতীয় ব্যবস্থা এই অনিল। মাস মাইনে নেয় বটে তবে অনিল কর্ম-সহায়ক নয়, যেন পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিল ক'বছরে। একজন তালঢ্যাঙা ছেলে এসেছে, মাথাজোড়া টাক, অনিল বড়দা বলে ডাকছে, সে বেশ শুকনো মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরো আছে কারা কারা, পরিমল বাবু চেনেন না, একেক বার একেক জন আসছে আর চোখ মুছে ঘর থেকে চলে যাচ্ছে। পরিমল বাবু উসখুস করেন শুধু। রমলা থাকলে…

ছেলেমেয়েরা আলোচনা করে। দিল্লী, পুণে, পন্ডিচেরী কোথাও বাবাকে নিয়ে যাওয়া ঠিক মনে হয়না ওদের। নিজের পরিচিত জায়গা ছেড়ে এই মুহূর্তে পরিমল বাবু যেতে চাইবেন বলেও মনে হয়না! ছেলেমেয়েদের​ চিনতেও পারছেন না। অতঃপর অনিল ভরসা। পরিমল বাবুর সমস্ত দায়িত্ব নিতে স্বীকৃত হয় সে।​

সন্ধ্যায় পরিমল বাবু বসার ঘরে আসেন। উনি চা খান এসময়। দেখেন, টিভির ঠিক ওপরে রমলার এনলার্জ করা একটি ছবি। কে যেন মালা দিয়েছে ছবিতে। কি ভীষণ প্রাণবন্ত মুখ! রমলা একদৃষ্টে চেয়ে আছেন পরিমলের দিকে, যেন বলছেন, আমি আছি! আমি আছি!


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.