x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১ | | | মিছিলে স্বাগত
শব্দের মিছিল

■ ২২

ক্ষেমা আর খুয়া দুজনেই অত্যন্ত চিন্তা গ্রস্ত হয়ে ওঠে। ওদের দলের দুজন কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিরি কে দেখা যাচ্ছে না। কিরি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? মা আর মেয়ে দুজনে দুজনের দিকে আকায়। পূষন এই সময় তাদের ফেলে কেন শত্রু পক্ষের ছেলেটার পেছনে দৌড় দিল বুঝে উঠতে পারছে না ক্ষেমা। শিষ দিয়ে বারিক আর অন্য মেয়েদের সতর্ক করে ক্ষেমা। কিরিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেটা জানায়। আদোয়ার আহত লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে খুয়া চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে তাদের অন্য দুজন কোথায় পালিয়ে গেছে।তারা খুয়ার কথার উত্তর দেয় না। ওদের কথা কি বুঝতে পারছে না লোকগুলো ,নাকি বলবে না। ক্ষেমা স্থির চোখে তাকায়। হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। উঠে যায় লোকগুলোর দিকে তাদের খুব মারতে থাকে। একজনের গা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ভাসিয়ে দেয় নদীর গোল গোল সাদা পাথর গুলো। বারিক এগিয়ে আসে। ক্ষেমার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে। ক্ষেমা যেন এত রেগে না যায় তার জন্যে প্রার্থনা করে।পরাজিত বন্দী কে অকারণ প্রহারে আকাশের গুম গুম করা দেবতা রুষ্ট হতে পারে। অস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে ক্ষেমা। চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। থু থু করে নিষ্ঠীবন নিক্ষেপ করে লোক গুলোর ওপর। খুয়া আর অন্য যারা তখনও ক্লান্ত হয়ে যায়নি তারা ডাক দেয় কিরির নামে। নদীর দুই পাড়েই খুঁজতে থাকে। ​ তারা জানতে পারলো না। খুব অদ্ভুত ভাবে একটা বড় পাথরের পাশের বালির ভেতরের গভীর গর্তে কিরি কে দুটো লোক মুখে ছোট নুড়িপাথর ঢুকিয়ে দিয়ে হাত বেঁধে লুকিয়ে রয়েছে। অসহ্য ব্যাথায় কিরির দুই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। রাত অবধি কেউ কিরির খোঁজ পেল না। কিরির মা ক্ষেমা,বালিতে গড়িয়ে কেঁদে ফেলল। পূষনের যে কোন কাণ্ড জ্ঞান নেই তাই বলে বিলাপ করল। খুয়া চোখ মুছতে মুছতে ,মাকে সামলাবার চেষ্টা করে। বারিক আর মেয়েরা বন্দীদের যাতে দ্রুত মৃত্যু হয় সেই ভাবে হত্যা করে। সকলেই ধীর পদক্ষেপে গুহায় ফিরবার পথ ধরে। খুয়ার বুকের মধ্যে খুব কষ্ট হয়। কিরি যদি মরে গিয়ে না থাকে তাহলে কোথায় গেল। সেখানে খুব কষ্টে নেই তো। বুকে মোচর দিতে থাকে তার। পূষন সাথে থাকলে ঠিক খুঁজে বার করা যেত। চোখের জল কিছুতেই থামছে না খুয়ার।
কিরি ব্যাথায় আর ভয়ে জ্ঞান হারাল। বালির অন্ধকার গর্ত থেকে বার হয়ে এলো আদোয়ার যোদ্ধাদের একজন। সে খুব সতর্ক হয়ে তাদের মৃত সহযোদ্ধাদের দেহ গুলোর কাছে গেল। পরীক্ষা করে দেখল তারা সবাই মৃত। 
অজ্ঞান কিরি কে রেখে অন্যজন বার হয়ে এল। আকাশে মরা জ্যোৎস্না। সাদা বালি, নদীর ওপরের সাদা সাদা পাথর অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে। তারা খুব ভালো করে চারপাশ দেখে চলেছে। কিরিকে মেরে ফেলবে নাকি নিয়ে যাবে দুজন বিস্তর আলোচনা করল। খালি হাতে ফিরে গেলে শাস্তি হয় যদি। কারণ তাদের সর্দার জাকু কে সাবুক বড় পছন্দ করে। আর জাকু ভাই জাকুজাকু খুব সাংঘাতিক। চড় থাপ্পড় তো কপালে আছেই। কিরিকে নিয়ে যাওয়াও ঝামেলা। কাঁধে তুলে নেয় একজন। জ্ঞান ফিরলে তখন হাঁটালেই হবে। রাস্তা গুলিয়ে যাতে না যায় তার জন্যে নদীর তীর ধরে তারা দ্রুত হাঁটতে লাগলো। কিরির মুখের পাথর টা দ্রুত চলার জন্যে আওয়াজ করে পাথুরে জমিতে পড়ল। পেছনে মৃতদেহ গুলো কতগুলো বুনো জন্তুর খাদ্যের উৎসবে পরিণত হল।

■২৩

মুগাকে একটা জল ভর্তি একটা বিরাট পাত্রের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হল। কোমরের ঘুন্সি থেকে ঘাস আর বাকলের টুকরো টা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিল মেয়ে গুলো। একজন মহিলা এসে ঘষে ঘষে সারা শরীর পরিস্কার করে দিতে লাগল। এটা খুব অপছন্দের মুগার। মা মাঝে মাঝে এটা করে দেয়।তখন ছুটে ছুটে পালায় মুগা।​ কিন্তু একজন সম্পূর্ণ অচেনা মানুষ এই ভাবে তার গাঁয়ে হাত দিয়ে জোর করে এটা করবে, সেটা যে তার পছন্দ হচ্ছে না সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সে। জাকুজাকু একটা ভোঁতা লাঠি দিয়ে তাকে মৃদু আঘাত করে। পাত্র টি থেকে বার হয়ে আসে মুগা। আর খুব ঠাণ্ডা লাগে। সে ভিজে গায়ে হু হু করে আওয়াজ করতে করতে থাকে তাকে দেওয়ালের পাশে বসিয়ে দেওয়া হয়। লিয়ামের হাঁদা ছেলেকে,খুব যত্ন করে দুজন ছোট মেয়ে মিলে পরিস্কার করতে লাগল। ছেলেটা হাসি হাসি মুখে ব্যাপারটা সহ্য করছিল। ওর গলায় একটা পাথরের মালা ছিল। সেটা যেই খুলে নেওয়া হল, অমনি চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।মেয়েগুলো হেসে কুটোপাটি। জাকুজাকু এগিয়ে এসে তাকে আশ্বাস দিতে লাগলো তাকে আবার ফেরত দেওয়া হবে পাথরের মালা। কিন্তু ছেলেটা চিৎকার করে কেঁদেই চলল।মুগার খুব রাগ হচ্ছে। সে উঠে দাঁড়াল। খুব রাগের সাথে জাকুজাকু কে বলতে লাগল ফিরিয়ে দেবার কথা। জাকুজাকু তার দিকে তাকায় না। কান্নার আওয়াজে অনেক মানুষ সেখানে চলে এল। সাবুক এসে দাঁড়ায়। খুব দৃঢ় স্বরে জাকুজাকু কে কিছু একটা নির্দেশ দেয়। জাকুজাকু পাথরের মালা ফিরিয়ে দেয়।তাকে মেয়েদুটো খুব যত্ন করে লিয়ামের হাঁদা ছেলেকে গা মুছিয়ে দেয়। একটা ধবধবে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে দেয় শরীর। মুগা কে ডাকে এই মহিলা। মুগার গায়েরজল শুকিয়ে গেলেও মাথা থেকে জল গড়িয়ে ঘাড়ে পড়ছে। শীত করছে তার। মুগা আর লিয়ামের হাঁদা ছেলে কে হাত ধরে সবাই মিলে এবার নিয়ে চলে একটা ঘরের মধ্যে জাকুজাকু আর সাবুক আর তাদের সাথে থাকে না। সিঁড়ি দিয়ে নেবে যায়। মুগা দেখতে পায়

জাকুজাকু তার অস্ত্র অন্য কারো হাতে দিয়েদিল। মুগা সুযোগ খুঁজছে। এখান থেকে সে পালাবেই।তাকে বাবা আর মার কাছে সে ফিরে যাবেই।

ঘর টা বেশ অন্ধকার ঘরে বেশ কয়েকজন দশাসই লোক। হাতে পাতলা পাতলা ধাতব পাত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটা খুব বুড়ো লোক লিয়ামের হাঁদা ছেলেকে টিপে টিপে দেখে। হাঁ করিয়ে দাঁত পরীক্ষা করে। তারপর তাকে নিয়ে মেয়েগুলো ঘরের অন্য রাস্তা দিয়ে চলে যায়। মুগা কে এক ধাক্কা দিয়ে একটা লোক ঠেলে পাঠায় বুড়োর কাছে। মুগা রেগে গিয়ে চিৎকার করে। লোকগুলো হাসে। বুড়ো তার সারা শরীর টিপে টিপে দেখতে থাকে। বুড়োর গাঁয়ে ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধ। বুড়ো তার বুকে লাল রঙ দিয়ে কাটাকুটি একে দেয়। তাতে আঁশটে গন্ধ পায় মুগা। কোন পশুর রক্ত হবে। তাকে হাতে সুতোর দড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। লোকগুলো টানতে টানতে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসে।বাইরে অনেক লোক। সাবুক, জাকুজাকু আরও যারা ছিল তাদের কেউ নেই। লিয়ামের হাঁদা ছেলেও নেই। কাউকে চেনে না মুগা। সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে এরা বেশ খানিকটা হাঁটিয়ে নিয়ে গেল। পাথরের চাতাল পার হয়ে একটা ছায়া ছায়া রাস্তা পার হয়ে, দুর্গন্ধময় ছোট পুকুর পার হয়ে, মুগা কে ওরা মাঝারি অন্ধকার ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।একটা মাত্র জানালা আছে সেই ঘরে। ছাদ টা অনেক উঁচু। মুগা বুঝল সেখানে সে একা নয় আরও অনেকজন আছে।একটি ছেলে এগিয়ে এল হাসিমুখে। অজানা ভাষায় মুগাকে কি যেন বলল। মুগা খুব জোরে দরজায় আঘাত করতে শুরু করে। চিৎকার করে বলতে থাকে। সে এবার কেঁদে ফেলে। তাকে বাবা মার কাছে যেতেই হবে। আরও ছোট ছোট ছেলে গুলো তার দিকে এগিয়ে আসে। একজন তার মাথায় বুকে হাত বুলিয়ে দেয়। অন্ধকার সয়ে এলে মুগা বুঝতে পারে বেশ দশ বারো জন তার বয়সি কিংবা তার চেয়ে ছোট ছেলে এখানে আছে।একজন তো মেঝেতে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় শুয়ে রয়েছে। এই লোকগুলো এত বাচ্চাদের ধরে রেখেছে কেন? মুগার মা গল্প করত একটা দানবের, যে ছোট ছোট ছেলেদের কপকপ করে দানব খেয়ে নেয়। এখানে কি সেই দানব টা থাকে। বুকে খুব ভয় হল মুগার। ​ এবার কি করবে মুগা। আগে পালাতে পারলো না কিছুতেই। আবার কাঁদতে বসল মুগা। বাচ্চাগুলো গোল হয়ে তার চারপাশে বসে রইল কিছুক্ষন। তারপর তারা উঠে নিজেদের মধ্যে খেলা করতে লাগল।এরমধ্যে মুগার চেয়ে লম্বা একজন পাখীর শিস্ দিয়ে গান করছে।মুগার অবাক লাগলো। দানব এসে খেয়ে নেবে এরা কি জানে না!
মুগা ঠিক কি করবে জানে না। দরজা আঁকড়ে পড়ে রইল অনেকক্ষন। যে ছেলেটা মাটিতে শুয়ে আছে তার কাছে মাঝে মাঝে একটা খুব ছোট ছেলে এসে বসছে।সে মুগার দিকে তাকাল। মুগাকে ইশারায় ডাকে। মুগা চোখ মুছে উঠে এগিয়ে যায়। 
আকারে ইঙ্গিতে ছোট ছেলেটি বলে ছেলেটির পা ধরে ওকে একটু সরিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে। অন্য আরও কয়েকজন এগিয়ে আসে। অসুস্থ ছেলেটি ওদের চেয়ে বয়সে বড়। প্রস্রাব করে ফেলেছে। মাটি ভিজে আছে। তাকে ধরে শুকনো জায়গায় নিয়ে যায়। তার গা খুব গরম। মায়ের গা মাঝে মাঝে গরম হয়।মা ঘরে শুয়ে থাকে। মুগার তখন খুব ভয় করত।‘যদি মা মরে যায়’ এই ভয়ে সে বেশী দূরে খেলতে যেত না। মা আবার উঠে বসলে তখন খুব আনন্দ হত মুগার।এ ছেলেটা চোখ খুলতে পারছে না। ওদের মধ্যে কে একজন জল এনে মুখে দিল। মুগার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে। সে জলের পাত্র থেকে জলপান করতে গেল। আচমকা যে ছোট ছেলেটা তাকে ডেকেছিল সে মুগা কে বারণ করল। মুগা অবাক হল। জলের পাত্র তার হাত থেকে নিয়ে নিল ছোট ছেলেটা। কি ভাষায় বলছে মুগা বুঝতে পারছে না। অন্য আর একজন এগিয়ে এসে নানাভাবে বোঝাবার চেষ্টা করল। বেশ কিছুক্ষন পরে মুগা বুঝল। জল খুব কম আছে। এই অসুস্থ ছেলেটিকে জল দিতে হবে। তাই সন্ধ্যের আগে কেউ জল পাবে না। মুগা শুকনো জিব চেটে নিয়ে শান্ত হয়ে বসে। যে শিস্ দিয়ে গান করছিল সে হঠাৎ উচ্ছসিত হয়ে লাফালাফি করতে থাকে। অন্যরাও পাগলের মত নাচানাচি করতে থাকে। মুগা অবাক হয়। মুগা অবাক হয়ে যায়। দরজা খুলে যায়। চারজন দশাসই লোক প্রচুর খাবার নিয়ে ভেতরে আসে। মুগা এতক্ষনে বুঝতে পারে এরা খাবারের জন্যে অপেক্ষা করছিল। সবাই হুড়মুড় করে খাবার খেতে থাকে। এসব খাবার মুগা কোনদিন দেখেনি। খুব খিদে ছিল মুগার, দুহাতে মুখে দিতে লাগল। অসুস্থ ছেলেটিকে একটা লোক কাঁধে নিয়ে চলে গেল। কেউ তাকিয়েও দেখল না। মুগার এবার ঘুম পাচ্ছে। খুব ঘুম। ​

দুটো দিন যাবার পর মুগা বুঝতে পারে রোজ একবার খাবার দেওয়া হয়। খাবার খুব সুস্বাদু, আর পরিমাণে প্রচুর।খুব কম জল দেওয়া হয়। ছোট যে ছেলেটা তাকে জল খেতে দেয়নি তাকে সবাই খুব মান্য করে তার নাম বিন্নো। সব ছেলেগুলো কেই অনেক দূর দেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। বিন্নো এসেছে ঘন জঙ্গল থেকে। সে একটা নেকড়ে বাঘ কে বল্লম ছুঁড়ে মেরেছে। এখানে যারা এসেছে সবাই কিছু না কিছু বিশেষ কাজ করেছে। এই জায়গাটার নাম আদোয়া।একটা খেলা হবে। সেই খেলার জন্যে সব ছেলেদের এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। সাবুক এসে মুগার সাথে দেখা করে গেছে। সাথে সেই অদ্ভুত লোক ডিগা এসেছিল। সে সব বাচ্চাদের ভালো করে দেখে গেল। আজ চাঁদের রাত হবে। ছাদ খুব উঁচু হলেও ওপরের ছোট জানালা দিয়ে আলো আসবে তাই জানালো ওদের একটি ছেলে। ছেলেটি বলে দিতে পারে কখন সূর্য অস্ত যাবে। ও নাকি বৃষ্টির গন্ধ পায়। লিয়ামের হাঁদা ছেলেটা কে কোথায় নিয়ে গেল কে জানে! আজ ঠিক টার মা কাঁদবে। আলোতে নদীর ধার ভেসে যাবে। তাই দেখে মুগার দুষ্টুমির কথা ভেবে মা খুব কাঁদবে। ​ ​

■২৪

পূষন হাঁপায় আর হাঁপায়। আজ শরীর যেন আর পারছে না। তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। তবে কি এবার শেষ সময় এলো। বেশ কয়েক ঘণ্টা প্রায় নিঃসাড়ে থাকার পর আচমকা সেই বোটকা গন্ধ আর আস্বস্তিতে ঘুম ভাঙল পূষনের। চমকে উঠল। এই গন্ধ কে তো সে অনেক দূর রেখে এসেছিল। চারপেয়ে বড় বিড়াল প্রজাতির জন্তু। এই অঞ্চলের পাহাড়ি তৃনভুমি তাদের সাম্রাজ্য। বিশ্রাম পেয়ে কিছুটা শক্তি ফিরে পেয়েছে সে। পাথরের ওপর উঠে দাঁড়াল সে। গন্ধটা এতো তীব্র।মনে হচ্ছে খুব কাছেই আছে। নিজের আত্মবিশ্বাস আছে পূষনের যুদ্ধ করার। কিন্তু তাকে যে চারপেয়েটা শিকার করার জন্যে ওত পেতে ছিল সেটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার।পূষন দেখতে পেল। সিংহী টা বড় বড় লম্বা ঘাসের মধ্যে স্থির হয়ে বসে পূষন কে দেখছে। কোন পাথর বা লম্বা লাঠি কিছুই নেই পূষনের কাছে। সে বুঝে গেল যদি সিংহীর লাফ দিয়ে পড়ার আগে তার বেশী কাছে চলে যেতে পারে তাহলে পূষনের সুবিধা হবে। পূষন বহু দিন পর আজ যুদ্ধ করবে। সিংহী আড়মোড়া ভাঙে। সেও যুদ্ধের গন্ধ পায়।পূষন দ্রুত দৌড় শুরু করে প্রতিপক্ষের দিকে। আকাশে লাল রঙ।পূষন একবার মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে আকাশে। এমন লাল সেদিন ছিল। মার ছিঁড়ে যাওয়া শরীরের পাশে কাঁদতে কাঁদতে সেদিন লাল আকাশ দেখে ছিল।চোয়াল শক্ত হয় পূষনের। সাধারণ ভাবে তার যুদ্ধ করতে ইচ্ছা করে না। সে দৌড় বন্ধ করে । এবার সিংহীর পা গুলো দেখা যাচ্ছে। গোলাপি জিব, চোখের স্থির দৃষ্টি সব কিছু স্পষ্ট। পূষন স্থির হয়। হাতের মুঠো শক্ত করে। গভীর ভাবে শ্বাস নেয়। দ্রুত দৌড় শুরু করে।যে ভাবে ছোটবেলায় নদীর জলে ঝাঁপ দিত ঠিক সেই ভাবে সিংহীর ওপর ঝাঁপ দেয়। সিংহী গর্জন করে অথে।সামনের দুই থাবা দিয়ে পূষন কে আহত করার চেষ্টা করে কিন্তু পূষন তার পিঠের ওপর অদ্ভুত কায়দায় উঠে যায়। চেপে ধরে কণ্ঠ নালী। ধারাল নখে ক্ষত বিক্ষত হতে থাকে পূষন। কিন্তু বেশ খানিকক্ষণ নাছোড় আক্রমণে সিংহী আর শ্বাস নিতে পারে না। স্থির হয়ে যায় তার দেহ। পূষনের ক্ষতস্থান দিয়ে রক্তস্রোত বয়ে যায়। পূষন জ্ঞান হারায়।

পূষনের জ্ঞান এলো কিছুক্ষনের মধ্যে। তার পাশে বিরাট ​ সিংহী নিঃস্পন্দ শুয়ে আছে।আর চমকে উঠল সেই সিংহীর পেটের দিকে তাকিয়ে। একটি শিশু সিংহ আরাম স্তন্যপান করে করছে।ছ্যাঁত করে উঠল পূষনের সে তো তাহলে একজন মাকে মেরে ফেলেছে। এই শাবকের কি হবে! পূষন হাঁটু মুড়ে বসে কেঁদে ফেলে তার শরীরে শক্তি বড় কম। তার ক্ষত স্থানের ব্যাথা আর কৃতকর্মের দুঃখ তাকে কষ্ট দিচ্ছে। সে কাঁদতে থাকে তার ভাঙা গলায় আওয়াজ করে। শাবকটি স্তন্যপান থামিয়ে অবাক হয়ে তাকে দেখে। কিন্তু ভয় পায় না। সন্ধ্যে নামছে। সারা আকাশ জুড়ে রঙ। পাথুরে ঘাস জমিতে ঠাণ্ডা বাড়ছে। তবে গাছগুলো খুব শিগ্রি ফুল ফোটানোর আয়োজন করছে। এই ঋতু শেষ হলে, বরফের সময়।

তখন আবার পাতা ঝরিয়ে ফেলতে হবে। ​ ​

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.