x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২১

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০২১ | | | মিছিলে স্বাগত

 

শব্দের মিছিল

পূর্ব কথন- জাকুদের দল কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গুহার মানুষদের ধরে নিয়ে আসার জন্যে।সেখানে সে একটি মেয়ে কে দেখে অবাক হয়। যার নাম খুয়া। মুগা কে হাত পা বেঁধে ঘোড়ায় করে সাবুকের দল নদী পার করে নিয়ে এসেছে। জাকুর দল চলে গেলে খুয়া গুহায় ফিরে দেখে ভাই কিরি থিয়াম্মার মৃতদেহ থেকে শকুন তাড়াচ্ছে। সাবুকের দল মুগা কে একটি নদীর ধারে নিয়ে আসে। ‘এক চোখ লুলু’ তার ছোট ছেলে জাকুজাকু , একটা লোভী লোক আর নিজেদের গ্রামের বুড়ো লিয়ামের হাঁদা ছেলে কে দেখতে পায় মুগা।সেই হাঁদা ছেলে মুগা কে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিরি আর খুয়া দুজনে মিলে দূর থেকে দেখতে থাকে তাদের মা ক্ষেমা, পূষন, বারিক, আর অন্যদের এক সাথে লাইন করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন আসন্ন প্রসবা আছেন। খুয়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি হয়।মুগাদের আদোয়ার দিকে ঘোড়ায় করে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। খুয়া আর কিরি খুব বুদ্ধি করে যুদ্ধের জন্যে তৈরি হয়। খুয়ার মা ক্ষেমা দেখতে পায়, কিরি আর খুয়া পাথরের আড়ালে যুদ্ধের জন্যে তৈরি হয়ে আছে.। খুয়াদের সাথে জাকুদের যুদ্ধ হয়। জাকু কে খুয়া আহত করে।সে আহত অবস্থায় জলে পরে যায় । জাকুর দেহ ভেসে যেতে লাগলে। পূষন সবাই কে অবাক করে তার জন্যে জলে ঝাঁপ দেয়। জাকুর জ্ঞান ফিরলে সে বুঝতে পারে পূষন তাকে সাহায্য করে। মুগা বন্দী অবস্থায় সারা রাস্তা মন খারাপ। ]

◆ ১৯

পূষন ডুব সাঁতার কেটে নদীর জলের নীচ অবধি ডুব দিল।গোল গোল অপূর্ব সব পাথর। জলের তলা অবধি রোদ ঢুকছে। হলুদ রোদ জলের মধ্যে অনেক গুলো রঙ তৈরি করছে। আকাশের রঙ ভাসছে তার মধ্যে।এই যে অদ্ভুত আকাশের মতো রঙ দেখে মন প্রফুল্ল হয়, তাতে অবাক হয় পূষন। তার অকারণ প্রফুল্লতার কারণ জানতে ইচ্ছা করে। ছোট ছোট মাছ পূষনের গায়ের পাশ দিয়ে চলে যায়। কিরি কে শিখিয়ে দিতে হবে জলের তলার বহুক্ষণ সাঁতরে থাকার বিদ্যা। খুব আনন্দ পাবে সে। আরও দ্রুত হাত চালায় পূষন। গুহাতে ফিরতে হবে। আর এক বেলার মধ্যে নদীর পাথুরে এলাকায় পৌছাতে পারবে সে। তখন জলের গতি বেড়ে যাবে। কিন্তু তখন আকাশের আলো থাকবে না। ঠাণ্ডাও লাগবে। জলের স্রোতের বিপরীতে এত দ্রুত কেউ সাঁতরাতে পারে না । কিন্তু পূষন পারে।তার শরীরের শক্তি আর ক্ষমতা এই যুদ্ধ সাংঘাতিক ভাবে করতে পারে। সকলে অবাক হয়। কিন্তু সে বুঝতে পারে সে এবার অত ভালো করে পারছে তীরের কাছে গিয়ে হেঁটে যাওয়ায় বোধ হয় ভালো। তবে এতো দুর্গম রাস্তা।কিছু নুড়ি পাথর জোগাড় করে নিতে হবে। রোদে ঝলমল করছে নদী। ভিজে গায়ে নদীর ধারে একটা মাঝারি পাথরে বসে পাথরের উত্তাপ বুঝতে পারে পূষন। তার বিরাট চুল, দাড়ি, লোমশ শরীর নদীর জলকণায় সিক্ত। নদীর বসে যাবার নিরন্তর আওয়াজ। বড্ড অলস করে তুলছে তাকে। আচমকা সেই ভয়াবহ গন্ধ। বুকের মধ্যে শিহরণ হয়ে গেল। শিশুকালের সেই ভয়ানক স্মৃতি। সেই শ্বাপদ ভয়ানক জন্তুর গায়ের গন্ধ। খুব কাছে আছে। পূষনের শিশুকালে মায়ের ভয়াবহ মৃত্যু আর এই গন্ধ। সব অলসতা ঝেড়ে ফেলে সোজা হয়ে দাঁড়াল পূষন। সিংহী টির এক থাবার ঘায়ে মায়ের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়।পূষন চোখ ঢাকে। আজো বুকের মধ্যে হুহু করে ওঠে। মা মরে গেলে জীবন হঠাৎ অন্য রকম হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকে বড় একা হয়ে যায় পূষন। তার রাত জেগে আকাশ দ্যাখার অভ্যাস হয়। আকাশেই কোথাও একটা শক্তিশালী কেউ থাকে বুঝতে পারে সে। কাউকে আঘাত করার কথা সে কিছুতেই ভাবতে পারে না। নিজের ব্যাথার তীব্র স্মৃতি তাকে ভীত করে রাখে। অন্য কেউ কোন কষ্ট পাক পূষন চায় না। কিন্তু জন্তুটার গায়ের তীব্র গন্ধ তাকে উত্তেজিত করে। আবার কি তবে জলে নেমে যাবে! জঙ্গল সম্ভবত সুবিধা জনক হবে না! পূষন জলে নামে। সাঁতার কাটা শুরু করে। আগের মত আর শক্তি নেই পূষনের। বুকে চাপ ধরে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি। তবু সে চেষ্টা করে। একটা বাঁক পার করে খুব ক্লান্ত হয়ে যায় সে। আবার উঠে পাড়ে বিশ্রাম নিতে বসে গেল পুসন।নাহ্ ,কিছুক্ষন মুখ খুলে শ্বাস নিতে থাকে পূষন।লম্বা পাথর দেখে শুয়ে পরে । জলের ঠান্ডা,পাথরের ঠাণ্ডা সব মিলিয়ে মিশিয়ে একটা ক্লান্ত শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। দুচোখ জুড়ে ঘুম নামে।

◆২০

মুগা আর লিয়ামের হাঁদা ছেলে কে নিয়ে দল টা আদোয়া প্রবেশ করে। বাচ্চারা ছুটে আসে দেখতে। মুগার হাত থেকে ফড়িং টা উড়ে গেছিল। সেটা এবার ঘোড়ার মাথায় এসে বসেছে। মুগার বুকের মধ্যে মন খারাপের কষ্ট টা আআবার ফিরে এল। বাবা আর মা কে কোন দিন দেখতে পাবে না। লিয়ামের হাঁদা ছেলে নিশ্চিন্তে যাচ্ছে। এমন শহর কোনদিন দেখেনি মুগা। মেয়েরা গলায় কি সব পরে আছে। সবার বুক ঢাকা। পুরুষদের পা ঢাকা। মাথায় সাবুকের মতন মুকুট আছে অনেকের। সাবুক কে দেখে প্রচুর মানুষ মাথা নোয়াচ্ছে। একটা দৃশ্য দেখে বুকের মধ্যে খানে রক্ত ছলাৎ করে উঠল। একটা লোককে রাস্তার মাঝখানে উঁচু মাচাতে উল্টো করে বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছে। সাবুকের দলের সবাই একটু থামল। রাস্তায় পরে থাকা নুড়ি পাথার ছুঁড়ে মারল একজন। নিখুঁত টিপে লোকটার নাকে লাগল। গলগল করে রক্তপাত শুরু হল। চোখ সরিয়ে নিল মুগা। লিয়ামের হাঁদা ছেলে ভয় পেয়ে অদ্ভুত আওয়াজে কেঁদে ফেলল। সাবুক দলের অন্যদের খুব ধমক লাগাল একবার। সবাই মুখ টিপে হেসে আবার যাত্রা শুরু করল।মুগা মুখ ঘুরিয়ে দেখল সেই অদ্ভুত লোক টা স্থির দৃষ্টিতে লোকটার দিকে দিকে তাকিয়ে আছে। যেন খুব অবাক হয়েছে। ওদের দল টা শহরের আরও ভেতরে ঢুকে গেল। এদিকে বাড়ি গুলো বড় বড় কিন্তু লোক কম। রাস্তা চওড়া হতে হতে একটা গোল মত অংশে এসে দাঁড়াল সব ঘোড়া গুলো। একটা বাজনার আওয়াজ। আগে কখনো শোনেনি মুগা।মুগা কে নামিয়ে হাঁটু মুড়ে বসতে বলল জাকুজাকু। সাবুক সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাঁদা লিয়ামের ছেলের কান্না থেমে গেছে।তাকেও মুগার পাশে হাঁটু মুড়ে বসতে বলা হল। জাকুজাকু,আর এক চক্ষু লুলু দুজনে তাদের পাশে দাঁড়াল। রোদের তাপ এখনো সে ভাবে বোঝা যাচ্ছে না। লাল রঙের ফুল আছে দেওয়ালের ধারে। এখানে কোন গাছ আর নেই । মুগা পালাতে পারবে কি? সেই অদ্ভুত লোকটাকে সাবুক খোঁজ করে। তার নাম ডিগা। ডিগা কে কেবল খুব চেনা চেনা লাগে কিন্তু মনে করতে পারে না মুগা। একজন জানায় ডিগা ঐ শাস্তিমঞ্চের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। আসতে সময় লাগবে। আবার বাজনা বাজে। সকলে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। সামনের বড় বাড়িটা থেকে অস্ত্র হাতে কিছু লোক বার হয়ে আসে। দুজন মেয়ে হাতে কি সব অদ্ভুত পাত্র নিয়ে তাদের পেছন পেছন আসে। এরপর এক বৃদ্ধ মানুষ ,মাথায় বিশেষ মুকুট পরে খুব কষ্ট করে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। একটা উঁচু মত কাঠের চারকোণা তক্তার ওপরে মুকুট পরা বুড়োটা বসল। সকলে মাথা নিচু করল। মুগা তাকিয়ে দেখছিল, তাকে জোর করে মাথা নামিয়ে দিল জাকুজাকু।মুগা বুঝল এই সেই রাজা। রাজার সামনে সাবুক গিয়ে কি সব বলছে। সাবুক জাকুজাকু কে ডাক দিল। জাকুজাকু সলজ্জ ভঙ্গিতে গিয়ে দাঁড়াল রাজার সামনে। মুগা আর হাঁদা লিয়ামের ছেলে দুজন কে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বলল সাবুক। এদের ভাষা একটু একটু বুঝতে পারছে মুগা। হাত বাঁধা থাকায় খুব কষ্ট করে সেটা করতে হল।হাঁদা লিয়ামের ছেলে উঠতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পরে গেল। খুব জোর ধমক দিল জাকুজাকু। সাবুক ধীর গলায় বারণ করল। নিজে হাঁদা লিয়ামের ছেলেকে হাত ধরে তুলে দাঁড় করাল।হাতের বাঁধন খুলে দিল। সাবুক ছেলেটার হাত ধরে রাজার কাছে নিয়ে গেল। হাঁদা লিয়ামের ছেলের গায়ে হাতে আদর করে রাজাকে কি সব বলল। রাজা খুব সন্তুষ্ট হয়ে কথা শুনল। পাশে যে মেয়ে দুটো ছিল তাদের কে কি যেন বলল। মেয়ে দুটো হাঁদা লিয়ামের ছেলে কে নিয়ে চলে গেল সিঁড়ি বেয়ে। মুগার জানা হল না ছেলেটার নাম কি! ছেলেটা একবার ফিরে তাকাল না। মুগার চেনা আর কেউ সাথে রইল না। কি করবে মুগা। বাবা আর তাকে খুঁজে পাবে? মা কি করছে। মা খুব কাঁদবে। মুগা কে টেনে নিয়ে দাঁড় করাল জাকুজাকু । কাছ থেকে রাজাকে দেখে গা গুলিয়ে উঠল মুগার। মুখের নানান জায়গায় ঘা। কেমন যেন পচা গন্ধ তার থেকে বার হচ্ছে। রাজা ঘোলাটে চোখে তাকাল। সাবুক মুগা কে দেখিয়ে কি সব বলছে। রাজা খুব প্রসন্ন চিত্তে সেগুলো শুনছে। সব শেষে মুগার বাবার নাম বলল । অবাক হয়ে তাকাল মুগা। সাবুক মুগার দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর মুগা কে অবাক করে মুগার ভাষায় তাকে বলল , “ রাজা তোমার বাবা কে চেনে। তোমাকে রাজা পছন্দ করছে। মাথা নোয়াও।” অবাক হয়ে মুগা মাথা নিচু করে। হাত দুটো খুলে দেওয়া হয়। একটা মেয়ে এগিয়ে আসে। সাবুক তার সাথে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে উঠবার সময় দেখতে পায় ডিগা নামের সেই অদ্ভুত লোকটা রাজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। খুব বিরক্ত হয়ে সে কি যেন বলছে। সাবুক খুব ক্রুদ্ধ ভাবে তাকে কি যেন বলছে। সিঁড়ির ওপরের দিকে তাকিয়ে সে অবাক হল। একদল খুব সুন্দরী মেয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

◆২১

খুয়া হিসেব মেলাতে পারে না। দুজনের হিসেব মিলছে না। একজন জলে ভেসে গেছে। তার পেছনে পূষন ধাওয়া করল। বাকী গুলোর মধ্যে তিন জন তৎক্ষণাৎ মরে গেছে। বাকী চার জন কাতরাচ্ছে। এদের কে মা আর বারিক দেখে নেবে। আর বাকী দুজন কই। গুহা থেকে আনা সব বিষবাণ শেষ হয়ে গেছে। যে দুটো লুকিয়ে আছে তাদের ছেড়ে দিলে হবে না। খুয়া চাপা গলায় অন্য সব মেয়েদের দুজনের কথা বলে। তারাও চারপাশে চোখ চালাল।উমির অবস্থা খুব খারাপ। তার এখনো রক্তস্রাব হয়েই চলেছে।মা যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে গেছে।আহত চারজন আদোয়ার সৈনিক কে এত তাড়াতাড়ি হারানো যাবে ভাবতে পারেনি খুয়া। খুয়া এতক্ষনে তার জঙ্ঘার ক্ষতটির দিকে তাকিয়ে দেখবার সময় পেল।প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। পায়ের পাতা অবধি খয়েরী হয়ে শুকিয়ে আছে। তবে ব্যাথা এখন নেই।দুই বাহুতে পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে একটা টনটনে অবস্থা হয়েছে। একজন তার হাত চেপে ধরেছিল। মা তাকে একটা মোটা পাথর ছুঁড়ে মেরে দিয়েছে। পাথর টা যদি ঠিক লক্ষ্যে না লাগত তাহলে খুয়ার মুখ থেঁতো হয়ে যেত। মা একটা অস্ত্র হাতে ধরে বসে বসে হাঁপাচ্ছে। বারিক এখনো ক্লান্ত হয়ে যায়নি। সে উমির রক্তস্রাব বন্ধ করার চেষ্টা করছে। উমি এতো কষ্টের মধ্যেও শিশুটি কে বুকে আঁকড়ে আছে।খুব মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে ইচ্ছা করছে খুয়ার। যুদ্ধ ব্যাপার টা মোটেই ভালো না। যে চারজন আহত হয়ে পড়ে আছে, তাদের মধ্যে তিনজনের পায়ে অবস্থা খুব খারাপ। পালাতে পারবে না। একজন খুব চিৎকার করে কি বলছিল, মা তার ঘাড়ে খুব জোরে ডাণ্ডা দিয়ে মেরেছে।বাকী দুজন কে খুঁজে বার করা দরকার। মা ইঙ্গিত করে ডাকল খুয়া কে। খুয়া পাশে গিয়ে বসে। মা তার পায়ের ক্ষত দেখে বিষণ্ণ হয়।“ তুমি খুব ভালো কাজ করেছ খুয়া।থিয়াম্মা কে তোমার এই বুদ্ধিমত্তার আর সাহসের কথা বলব। তিনি তোমায় খুব ভালবাসবেন।”

“থিয়াম্মার নাক দিয়ে আর বাতাস আসছে না মা। আমি আর কিরি দুজনেই দেখেছি। এতক্ষনে শকুন গুলো খেয়ে ফেলেছে বোধহয়।”খুয়া চোখে জল নিয়ে বলে। হতবাক হয়ে খুয়ার মা ক্ষেমা তাকায় তার দিকে। আচমকা দুজনেই একসাথে বলে ওঠে, “ আরে কিরি কোথায় ?”

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.