x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | ডিসেম্বর ২৫, ২০২০ | | | মিছিলে স্বাগত

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত


 [পূর্ব কথন-মুগা এক সাহসী বালক। তাদের বাছুরকে খেয়েছে এক অজগর। তাকে সে শিকার করার সুযোগ পেলেও করে না। কিরি খুব ভালো ছবি আঁকে।সাবুক বলে এক মন্ত্রী আছে।তার রাজার কাছে এক ওঝা আসে। রাজার শেষ উত্তরাধিকারী নেকড়ের আক্রমণে মারা যায়। মুগা সাপ ধরবার জাল বানায়। তার গ্রামে সাবুক আসে। তবু তারা মুগাকে তারা ধরে নিয়ে যায়। জাকুদের দল কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গুহার মানুষদের ধরে নিয়ে আসার জন্যে।সেখানে সে একটি মেয়ে কে দেখে অবাক হয়। যার নাম খুয়া। মুগা কে হাত পা বেঁধে ঘোড়ায় করে সাবুকের দল নদী পার করে নিয়ে এসেছে। জাকুর দল চলে গেলে খুয়া গুহায় ফিরে দেখে ভাই কিরি থিয়াম্মার মৃতদেহ থেকে শকুন তাড়াচ্ছে। সাবুকের দল মুগা কে একটি নদীর ধারে নিয়ে আসে। ‘এক চোখ লুলু’ তার ছোট ছেলে জাকুজাকু , একটা লোভী লোক আর নিজেদের গ্রামের বুড়ো লিয়ামের হাঁদা ছেলে কে দেখতে পায় মুগা।সেই হাঁদা ছেলে মুগা কে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিরি আর খুয়া দুজনে মিলে দূর থেকে দেখতে থাকে তাদের মা ক্ষেমা, পূষন, বারিক, আর অন্যদের এক সাথে লাইন করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন আসন্ন প্রসবা আছেন। খুয়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি ​ হয়।মুগাদের আদোয়ার দিকে ঘোড়ায় করে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। খুয়া আর কিরি খুব বুদ্ধি করে যুদ্ধের জন্যে তৈরি হয়। খুয়ার মা ক্ষেমা দেখতে পায়, কিরি আর খুয়া পাথরের আড়ালে যুদ্ধের জন্যে তৈরি হয়ে আছে]

​■১৫

এর আগে বহুবার প্রসব দেখেছে জাকু। তার ভালো লাগে না। বাচ্চাগুলো জন্মের পর কি বিচ্ছিরি হয়। এই দলনেত্রী মেয়েটা এতো চিৎকার করছিল। এখন চুপ করে আছে কেন!ক্ষেমার দিকে তাকিয়ে ভাবে জাকু। কেমন সন্দেহ হচ্ছে তার। এরা খুব বুদ্ধিমান সেটা বাবা তাকে বলে দিয়েছে। একজন যোদ্ধার জলের প্রয়োজন। সে দৌড় লাগাল স্রোতের দিকে । জাকু এই দলনেত্রী মেয়েটির দিকে তাকায়। এর হাতের আঙুল বেশ লম্বা লম্বা, কিন্তু বড় ​ বড় ধারাল নখ নেই। জাকুর আত্মীয় পরিজনদের সকলের নখ ধারাল। তবু এদের ভয় পেতে বলেছে বাবা, এখনো অবধি তেমন কিছু বুঝতে পারেনি সে।

আচমকা আওয়াজ পেল জাকু,একটি শিশুকণ্ঠের।ওকি যোদ্ধা মুখ থুবড়ে জলের মধ্যে পড়ে আছে কেন। দৌড় লাগায় জাকু। বড় বড় পাথরের ফাঁকে কিছু আছে! জাকুর পেছনে আরও কয়েক জন যোদ্ধা দৌড়ায়।জাকুর কানের পাস দিয়ে সাঁ করে কিছু একটা চলে গেল। জাকু একটু হতবাক হল। তার হাতের অস্ত্র সামনা সামনি খুব দ্রুত আঘাত করতে পারে কিছু দূর থেকে এভাবে আক্রমণের জন্যে প্রস্তুত ছিল না জাকু। নিজের এই ভাবে প্রস্তুত না হয়ে আসাটা অনুচিত হয়েছে সে বুঝতে পারলো। সে গতি কমিয়ে,একটু কোনাকুনি ভাবে দৌড় লাগাল।ঠিক কোন দিক থেকে আক্রমণ আসছে সেটা নিশ্চিত হতে হবে। যে যোদ্ধাটি জলে পড়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে জাকু বুঝতে পারছে না সে জীবিত আছে কি না। সে খুব ধীরে চারিদিকে নজর রেখে এগোতে থাকে। আচমকা পায়ে তীব্র যন্ত্রণা হয় । চোখের সামনে হঠাৎ সেই আলোর মত মেয়েটা, বড় পাথরের ওপর উঠে দাঁড়ানো । জাকু যন্ত্রণা নিয়েই দ্রুত অগ্রসর হয়।একে ধরতেই হবে পাশে একটা ছোট ছেলে তার হাতে একটা বাঁশির মত কি আছে। ফুঁ দিচ্ছে সে। আবার গলায় যন্ত্রণা হল জাকুর। কি যেন একটা বিঁধে গেল। জলের ওপর পা দিয়ে​ আর টাল সামলাতে পারে না জাকু। জলের মধ্যে পড়ে যায়। তীব্র স্রোতে সে ভেসে যেতে যেতে দেখতে পায়, সেই ​ সারা গায়ে আলো নিয়ে থাকা সেই মেয়েটির জানুতে একটি বিরাট ক্ষত। সেই ক্ষত দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে।জাকু জ্ঞান হারায়। ​ ​ ​ ​ ​ ​

■১৬

খুয়া উল্লসিত হয় । জাকুর দেহ জলে ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু ওদের অন্য যোদ্ধারা দ্রুত আসছে। কিরি ফুঁ দিয়ে সরু বাঁশের মধ্যে বিষ বাণ মারতে পারে । কিন্তু এবার কি পারবে! খুয়া একটু ভারী পাথর নিল। বড় গুলতি তুলে নিল। সে এটা ভালো চালাতে পারে। এবার কাছে চলে আসছে ,আর সংখ্যাতেও এরা অনেক জন। খুয়া অবাক হয়ে দেখল। লম্বা লম্বা পা ফেলে পূষন ওদের ঠিক পেছন পেছন আসছে। খুয়া বুকে বল পেল। পূষন খুব দ্রুত হাঁটছে। এত জোরে পূষন হাঁটে না। পূষন এই যোদ্ধাদের একবার যদি তুলে ধরে ছুঁড়ে দেয় তাহলে ভয়ে অন্যরা পালিয়ে যাবে। খুয়ার বুকের মধ্যে আনন্দ গুম গুম করে ওঠে। পূষন যোদ্ধাদের পাস দিয়ে খুব জোরে দৌড়াল। খুয়া , কিরি আর যোদ্ধারা অবাক হয়ে দেখল, নদীর স্রোতে পূষন ঝাঁপ দিল। হতচকিত হলেও​ কিরি ফুঁ দিয়ে দ্রুত বিষবাণ ছুঁড়তে লাগলো। যোদ্ধারা দুজন আহত হয়ে গতি কমিয়ে দিল। বাকীরা আরও দ্রুত ছুটছে। খুয়া আক্রমণ শানায়। কিন্তু ঠিক করে যেন লাগছে না। সে বুঝতে পারছে এরা ধরে ফেলবে। কিরি কে নির্দেশ দেয় তাড়াতাড়ি নদীর পাড়ে গাছে উঠে যেতে। বিষ বাণ নষ্ট না করতে। এবার হাতাহাতি করতেই হবে। কিরি থাকলে সেটা হবে না। খুয়ার চুলে তিনটে সজারুর কাঁটা আছে। বড়টাতে বিষ দেওয়া। তার ক্ষত স্থান বেয়ে রক্ত বার হয়ে শুকিয়ে গেছে। যোদ্ধারা নদীর ধারে পরে থাকা পাথর ছুঁড়ে মারতে শুরু করেছে। কিন্তু খুয়া দুটো পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে গেল।ওদের পাথরগুলো বড় পাথরের গায়ে লাগছে। ​

ওরা কাছে চলে এসেছে। এবার লাফ দিয়ে বড় পাথরের ওপর উঠে দাঁড়ায় খুয়া গুলতি দিয়ে দ্রুত মাথায় আঘাত করে। ওদের একজন দ্রুত পাথরের ওপরে উঠে আসে।হাতের ধারাল হাতিয়ার দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে তাকে খুয়া বেসামাল করে দেয়।সেই যোদ্ধা পরে যায় কিন্তু অন্যে আর দুজন খুয়া কে চেপে ধরে।খুয়া সারা শরীরের শক্তি দিয়ে তাদের থেকে বাম হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মাথার সজারুর বিষ মাখানো কাঁটা দিয়ে একজন কে আঘাত করে আর একজন তাকে পাথরের ওপর থেকে নামিয়ে নিয়ে আনে। মাথা ঠুকে যায় খুয়ার। চোখে অন্ধকার দেখে। আবার প্রতিরোধ করবার সময় দেখে অন্য মেয়েরা,বারিক আর মা অন্য যোদ্ধাদের আহত করে ফেলে ছুটে আসছে তার দিকে। এতো কিছুর মধ্যেও খুয়ার কেবল পূষনের কথা মনে হল ,পূষন নদীতে ঝাঁপ দিল কেন?

■১৭

জাকুর জ্ঞান ফিরল। সে নদীর ধারের বালির মধ্যে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। খুব ঠাণ্ডা লাগছে জাকুর।এখন সন্ধ্যা না ভোর? কাঁপুনি দিচ্ছে সমানে। খুব কষ্ট করে পাশ ফিরবার চেষ্টা করল জাকু। তার শেষ মুহূর্তের স্মৃতি মনে আসছে। সেই সারা গায়ে আলো মাখা মেয়েটা। গলার কাছে ব্যাথাটা আছে। গলায় হাত দিল জাকু। বিষ ছিল ঐ বাণে। সেই জন্যেই এত দুর্বল লাগছে। আচমকা পাশে সেই লম্বা বিরাট লোক টা কে দেখে চমকে গেল জাকু। তারমানে কি ওরা হারিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘকায় পূষন লম্বা লম্বা ভেজা চুল মাথায় নিয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। মুখে স্মিত হাসি।ভালো করে চারপাশ তাকিয়ে দেখল জাকু কেউ কোথাও নেই। কেবল পূষন আর সে। জাকু নড়তে পারছে না। পূষন এগিয়ে এসে তাকে অনায়াসে কোলে নিয়ে নিল। নদীর ধারে ছোট ছোট গাছের ঝোপ। তার নীচে জাকু কে শোয়াল। জাকুর শরীরে জোর নেই। কিন্তু খুব অবাক হচ্ছে এই মানুষটার জন্যে।পূষন কম আলোর মধ্যেও বোধহয় অনেক কিছু দেখতে পায়। সে মাটি খুঁড়ছে। কিছু খুঁজছে। জাকু ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। সে বুঝতে পারে পায়ে যেখানে বাণ লেগেছিল সেখানে স্পর্শ করলে অনুভব হচ্ছে না।

জাকু কে তার বাবা ‘এক চোখ লুলু’ বার বার বলে ছিল এই মেয়েদের থেকে খুব সাবধান। তার ভাই জাকুজাকু সাথে থাকলে এতো টা বিপত্তি হত না। নদীর স্রোতে সে অনেকটা দূরে চলে এসেছে বুঝতে পারছে।বিরাট শরীরের লোকটা দু হাতে কি যেন নিয়ে আসছে। একটা মোটা পাথর হাতে। জাকুর কোমরের অস্ত্রটা নেই। অভ্যাস বশত অতি কষ্টের মধ্যেও সেটার জন্যে কোমরে হাত দিল জাকু। সেখানে সেটা নেই। লোকটা হাঁটু মুড়ে বসে হাতে করে আনা কি এক গাদা সরু সরু পাতা পাথর দিয়ে থেঁতো করে।মুখে চিবিয়ে নেয়। তারপর জাকুর পায়ের বিষে আক্রান্ত জায়গায় চেপে ধরে। অনুভব হীন জায়গায়, প্রবল যন্ত্রণা শুরু হয়। চিৎকার করে ওঠে জাকু। পূষন শান্ত হতে বলে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। অবাক হয়ে যায় জাকু। সে বুঝতে পারে না ঠিক কি করতে চায় এই লোকটা। আরও অনেক বার তার পা আর গলার বিষের জায়গায় সেই পাতার রস ঘসতে থাকে। জাকুর খুব ঘুম পায়। ছোট ছোট ঝোপ গাছের মধ্যে দিয়ে সে আকাশের তারা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যায়। পূষন আজ আবার তারা দেখবে।

■১৮

ভোর বেলার আগেই ঘুম ভাঙে জাকুর। পূষন তার দিকে তাকিয়ে আছে। জাকুর গায়ে ব্যাথা নেই। সে অবাক হয়। জাকুর দিকে পূষন একটা কন্দ জাতীয় কিছু এগিয়ে দেয়। ইঙ্গিতে খেতে বলে। জাকু আর পূষন কাছাকাছি বসে থাকে । পূষনের ভাষা জাকু বুঝতে পারে কিন্তু বলতে পারে না। কারণ জাকুর বাবা কিছুটা পূষনদের ভাষা শিখেছিল। জাকুর বেশী কথা বলে না।

তার গায়ে জোর ফিরে এসেছে। সে উঠে দাঁড়ায়। পূষন উঠে দাঁড়ায়। দীর্ঘকায় বিশাল লোমশ দেহ পূষনের তার পাশে জাকুর শরীরটা খুব ছোট লাগে। জাকু বারংবার অবাক হয়, মানুষ টা অনায়াসে তাকে দু হাতে ছুঁড়ে দিতে পারে কিন্তু টা করল না।স্নেহময় চোখে পূষন তাকিয়ে থাকে। পূষন এবার বলে, “সূর্য যেদিকে উঠেছে, নদীর পাড় ধরে সেইদিকে চলে যাও। তোমার সাথে তোমার বাবার দেখা হবে। আমি এবার ফিরে যাই।”কথা বলে এক মুহূর্ত দাঁড়াল না পূষন। এতো ধীরে সেদিন হাঁটছিল সে অতি দ্রুত নদীর স্রোতে ঝাঁপ দিল।নদীর স্রোতের বিপরীতে কেউ সাঁতার কাটে এই ভাবে প্রথম দেখল জাকু। লোকটা কে খুব ভালোবাসল।

আবার যদি দেখা হয়। আর সেই মেয়েটা। অমন গায়ের মধ্যে থেকে আলো বার হওয়া মেয়ে সে আগে দেখেনি। ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​

আগের পর্ব পড়ুন

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.