x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০২০ |

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত


 [পূর্ব কথন-মুগা এক সাহসী বালক। তাদের বাছুরকে খেয়েছে এক অজগর। তাকে সে শিকার করার সুযোগ পেলেও করে না। কিরি খুব ভালো ছবি আঁকে।সাবুক বলে এক মন্ত্রী আছে।তার রাজার কাছে এক ওঝা আসে। রাজার শেষ উত্তরাধিকারী নেকড়ের আক্রমণে মারা যায়। মুগা সাপ ধরবার জাল বানায়। তার গ্রামে সাবুক আসে। তবু তারা মুগাকে তারা ধরে নিয়ে যায়। জাকুদের দল কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গুহার মানুষদের ধরে নিয়ে আসার জন্যে।সেখানে সে একটি মেয়ে কে দেখে অবাক হয়। যার নাম খুয়া। তাকে বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়ে আসে। কিরি ঘুম ভেঙ্গে বুঝতে পারে তার পরিবারের কেউ কোথাও নেই। কেবল থিয়াম্মা উপুর হয়ে পরে আছে। মুগা কে হাত পা বেঁধে ঘোড়ায় করে সাবুকের দল নদী পার করে নিয়ে এসেছে। জাকুর দল চলে গেলে খুয়া গুহায় ফিরে দেখে ভাই কিরি থিয়াম্মার মৃতদেহ থেকে শকুন তাড়াচ্ছে। সাবুকের দল মুগা কে একটি নদীর ধারে নিয়ে আসে। ‘এক চোখ লুলু’ তার ছোট ছেলে জাকুজাকু , একটা লোভী লোক আর নিজেদের গ্রামের বুড়ো লিয়ামের হাঁদা ছেলে কে দেখতে পায় মুগা।সেই হাঁদা ছেলে মুগা কে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিরি আর খুয়া দুজনে মিলে দূর থেকে দেখতে থাকে তাদের মা ক্ষেমা, পূষন, বারিক, আর অন্যদের এক সাথে লাইন করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন আসন্ন প্রসবা আছেন। খুয়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি ​ হয়। তাদের সবাই কে ফিরিয়ে আনতে হবে। ​ জাকুর চিন্তা আদোয়া যাওয়ার পথে প্রসব হলে অসুবিধা হবে। ]

■ ১২

ঝিমুনি ভাঙতেই সাবুক দেখল, জাকুজাকু একটা পাথরে বসে ঝিমোচ্ছে বাকীরা নানান ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে। ‘এক চোখ লুলু’ নদীর ধারে ঘোড়াগুলোর যত্ন করছে।সাবুক কে দেখে জাকুজাকু উঠে দাঁড়াল।​ সাবুক নির্দেশ দিল , তাড়াতাড়ি সবাই কে তৈরি হয়ে যেতে হবে। আদোয়া দুপুরের আগে পৌছাতে পারলে সুবিধা হবে। মুগা আর লিয়ানের হাঁদা ছেলেকে ঘুমের মধ্যে পা বেঁধে রাখাছিল। সকলে উঠলেও ওরা উঠতে পারল না। আকাশের রঙ ফিকে লাল। মুগার হাতে পায়ে বড্ড ব্যাথা ।‘এক চোখ লুলু’ এগিয়ে আসে তার দিকে । অসহ্য লাগে । মুগা কে ঘোড়ার ওপর উঠিয়ে বসায় লুলু। মুগার কেবল মনে হয় , “বাবা আসবে না ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে।এরা আরও কত দূরে নিয়ে যাবে।” ভালো লাগে না মুগার । সব কটা ঘোড়া দৌড় শুরু করে। ঘন বনের রাস্তা ধরে। এবার দ্রুত চলতে পারে না ঘোড়া। পাতার গন্ধ, অদ্ভুত আকৃতির ফল ,ফুল দেখে অবাক হয় সে। এখানেও কি অজগর সাপ আছে,কিংবা বাঘ।

বনের মধ্যে আকাশ দেখা যায় না।একটা ঢালু অঞ্চল শুরু হলে অবাক হয়ে যায় মুগা । দলের অন্য সবাইও অবাক হয়ে গেছে, মেঘের মতো ফড়িং। এতো ফড়িং একসাথে কখনো দেখেনি মুগা। ফড়িংএর মেঘের মধ্যে যেতে গিয়ে ঘোড়াগুলো অস্থির হয়ে গেল। ছটপট করতে লাগলো, কিছুতেই এই ফড়িংদের মধ্যে দিয়ে এগোবে না। লুলু তাল সামলাতে পারে না। মুগা আর লুলু দুজনেই ঘোড়া থেকে পড়ে যায়।ঘোড়া বিপরীত দিকে দৌড় লাগায়। পায়ের বাঁধন খুলে ফেলে মুগা।মাটির এক হাঁটু ওপর থেকে ,লম্বা গাছ গুলোর ওপরের ঘন অংশ পর্যন্ত শুধু ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে। মুগা কি নদীর দিকে দৌড় লাগাবে। পেছন ফিরে দেখার আগেই একটা লোক তাকে দু হাতে চেপে ধরে। মুগা কে টানতে টানতে দলের অন্যরা যে দিকে যাচ্ছে সেদিকে যেতে থাকে। লোকটাকে চেনা চেনা মনে হয়। কিন্তু মনে করতে পারে না মুগা। লুলু খুঁজে নিয়ে আসে ঘোড়া।মুগা আর ঘোড়া কে জোর করে পার করে নিয়ে আসে ফড়িঙের মেঘের মধ্যে দিয়ে।​সাবুক খুব বিরক্ত দেখাচ্ছে । জাকুজাকু আর তার বন্ধুরা আমোদ পেয়েছে। ওদের মধ্যে একজন বেশ কিছু ফড়িং চিবিয়ে খেয়ে দেখেছে, খাওয়া যায় কিনা। খেতে ভালো নয় তাই থুঃ থুঃ করে ফেলছে। এই নিয়ে বিস্তর হাসাহাসি। এলাকা পার হয়ে এসে আবার ঘোড়ার ওপর মুগা কে উঠিয়ে দিল লুলু। নিজে উঠল না। পড়ে গিয়ে তার লেগেছে। ঘোড়াটা তে ঐ লোকটা উঠে বসল। লোকটা কেন চেনা লাগছে, মুগা মনে করবার চেষ্টা করে। এবার পাথুরে অঞ্চল। কিন্তু ঘোড়া ছুটতে শুরু করল। দূরে মানুষের বসতি দেখা যায়।আদোয়ার মানুষ জন একটা উৎসবের জন্যে তৈরি হচ্ছে।ফসল উঠেছে ,ফসল রাখার বড় বড় আধারগুলো ভর্তি করা হয়েছে। ভালো মদ তৈরি করা হয়েছে। মেয়েরা খুব আনন্দ করে কাপড় বুনে চলেছে। উৎসবের সময় সকলেই নতুন কাপড় পরবে।এই সব প্রস্তুতি যখন ​ চলছিল তখন সাবুক মুগাদের নিয়ে আসার জন্যে যাত্রা করেছিল। তার কন্যাটি খুব কান্নাকাটি করেছে যখন সাবুক ঘোড়া তে চাপে। আগে এইসব নিয়ে মন খারাপ হত না। এখন হয়। কনিষ্ঠ কন্যাটিকে সাবুক বড় ভালোবাসে। উঁচু জায়গা থেকে সাবুকের দল দ্রুত নামতে থাকে। মুগা দেখল ওর হাতে একটা ফড়িং বসে আছে। তার ডানায় চিক চিক করছে দুপুরের আলো।

■ ১৩

ক্ষেমার হাত নিশপিশ করছে। একটা কোন অস্ত্র থাকলেই এই অবস্থাতে কিছুতেই পড়ত না। মনে মনে সে কেবল চাইছে একটা কোন ভাবে হাত খুলে একটা অস্ত্র অধিকার করতে। পূষন ধীরে হাঁটে , কিন্তু এতো ধীরে হাঁটে না। কিছু মতলব তারও মাথায় আছে কিনা সেটা বুঝতে পারছে না। ক্ষেমা নদীর বালিয়ারি মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে অন্যে পাড়ের দিকে তাকাচ্ছে। ঐ সবুজ পাহাড়ের গুহা, ওখান কার গাছ, জন্তু, পাখি, সব কিছু তার চেনা। খুয়া আর কিরি কি ভালো থাকবে?বুকের মধ্যে আগুন জ্বলে ওঠে ক্ষেমার। একবার হাত খুলে দিক। আচমকা নদীর অন্য দিকে কাউকে দেখল ক্ষেমা। এখানে নদী বিরাট চওড়া নয়, তবে তারা যে দিক দিয়ে হাঁটছে সে দিকে জল নেই, কিন্তু অন্যপারে দিকে নদী বেশ গতির সাথে বইছে। অন্য দিকে পাথরের আড়ালে ওটা কে ।ক্ষেমা বুঝতে পারল, খুয়া আর তার পাশে কিরি। দুজনেই গায়ে সবুজ ঘাস পাতা বেটে মেখেছে। মাথায় ঝুঁটি বেঁধেছে। পেছন ফিরে পূষনের দিকে তাকায় খুয়া। পূষন একটা অদ্ভুত ভাবে হাসে। তার মানে সে দেখেছে। ক্ষেমা শান্ত হয়। পেছনের আসন্নপ্রসবা খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। সে ছাড়া অন্য মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে খুয়া কে তারাও দেখেছে। যে দিক দিয়ে খুয়া আর কিরি এগোচ্ছে সেদিকে নদীর স্রোত বেশী। পাথর কেটে কেটে জল বয়ে যাচ্ছে।খুয়া এই জায়গা গুলো চেনে। বেশ কিছু জায়গা আছে যেখানে পাথরের ওপর পা দিয়ে দিয়ে এই দিকে চলে আসা যাবে।জলে ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। ক্ষেমার খুব বিশ্বাস খুয়ার ওপর। মুস্কিল কিরি কে নিয়ে। সে কারো কষ্ট দুঃখ দেখতে পারে না। একেবারে পূষনের মত। ক্ষেমার বুকের মধ্যে গুমগুম করে আওয়াজ হয়। মন শান্ত থাকে না আজকাল। মুখ লাল হয়ে ওঠে। পেছনে মৃদু স্বরে আওয়াজ শুনে ক্ষেমা ঘুরে তাকিয়ে দেখে আসন্ন প্রসবা মেয়েটি বসে গোঁ গোঁ আওয়াজ করছে। সবাই এক সাথে বাঁধা থাকায় টানাটানিতে বেসামাল হল সবাই। মেয়েটি বসে গেছে। তার গর্ভের জল ভাঙছে। ক্ষেমা প্রমাদ গুনলো।এতো বড় সুযোগ সব নষ্ট হয়ে গেল।

■১৪

কিরি আর খুয়া অবাক হয়ে গেল। ওরা প্রচুর ধারালো পাথর জোগাড় করেছে। পাথর গুলোর গায়ে জল লেগে লেগে সবুজ হয়ে আছে। বড় দুটো পাথরের ​ আড়ালে ওরা নজর রাখছিল মা আর পূষনদের দলটার ওপর। হঠাৎ সবাই থেমে গেল।লাল চুলের মেয়ে উমির বিরাট পেট। উমি বসে গেছে। খুয়া এবার শক্ত হল ভালো করে তাকাল সেই বকের পালক পরে থাকা সর্দার ছেলেটার দিকে। প্রথম আঘাত ওকেই করতে হবে। তারপর ওদের পাতলা অস্ত্র নিয়ে থাকা ছেলেটা। ওর পায়ে মারতে হবে ।ও পরে গেলেই মা আর পূষন ঠিক মুক্ত হয়ে যাবে। তারপর ওরা কিছুতেই পারবে না। গুলতি- পাথর আর বিষবাণের সরঞ্জাম সব ঠিক করে খুয়া। মা খুব চিৎকার করছে। পূষন কে ওরা খুলে দিয়েছে। পূষন মেয়েটির কাছে এসেছে। তার পরনের পাহাড়ি ছাগলের বড় চামড়া টা খুলে মাটিতে পেতে দিয়েছে। পূষন তার বিরাট লোমশ নগ্ন শরীর নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে​ আরও দুজন মেয়ের সাথে প্রসবকালীন সাহায্য করছে। মা বার বার তার হাত খুলে দিতে বলছে। বকের পালক মাথায় দেওয়া ছেলেটি কিছুতেই শুনছে না। গুলতি তৈরি করে খুয়া। একটু সরু পাথর। মাথায় ঠিক মতো লাগলে মরে​ না গেলেও অজ্ঞান হবেই। মা আর পূষন তাদের কে দেখেছে। কিরির আর লুকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না। নদীর জলের মধ্যে একটা পা ডুবে আছে কিরির। ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে শরীর। পূষনের কোলে চাপার ইচ্ছা হচ্ছে কিরির। কতক্ষন এভাবে লুকিয়ে থাকবে। খুয়া মন নিবিষ্ট করে , এবার আঘাত হানবে। বকের পালক মাথায় পরা ছেলেটা মায়ের সামনে। সে প্রসবের দিকে তাকাচ্ছে না। মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।বাকী ছেলেগুলো সবাই প্রসবের ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগী। এর মধ্যে একটা ছেলে হঠাৎ এদিকের দিকে তাকাচ্ছে।খুয়া লুকিয়ে পরে। ছেলেটা এদিকে আসছে। একদম সোজা খুয়ার দিকে। জলধারার তীব্রতা এখানে বেশী। কিরিকে দুটো পাথরের খাঁজে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দেয়। যোদ্ধাটা ছুটে ছুটে আসে। সে যে তাদের দেখতে পায়নি সেটা বুঝেছে খুয়া। ছেলেটা জলের কাছে এসেছে। হাতের আঙুল দিয়ে ঠাণ্ডা জল বুঝবার চেষ্টা করছে। সে হাতের অঞ্জলিতে জল ধরে মুখের কাছে আনার আগেই খুয়া পাথর ছুঁড়ে দিল। জলের মধ্যে মুখ গুঁজে ছেলেটা পড়ে গেল। কিরি আর উল্লাস চেপে রাখতে পারে না। তার মুখ থেকে আওয়াজ বার হল। মায়ের সামনে থেকে সর্দার ছেলেটা এদিকে তাকিয়ে দেখে । অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। অন্য ছেলেদের সতর্ক করে এদিকে ক্ষিপ্র গতিতে আসতে থাকে। কিরি ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। খুয়া গুলতি আর বিষ বাণ নিয়ে তৈরি হয়। এবার সত্যি লড়াই। মা আর অন্য সবাই কে এদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।​

■ আগের পর্বগুলো পড়ুন

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.