x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২০

শনির বচন | সময়ের দর্পণে কলকাতা চলচিত্র উৎসব

sobdermichil | নভেম্বর ১৪, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

সময়ের দর্পণে কলকাতা চলচিত্র উৎসব

■ পরিবর্তনের হাত ধরে কলকাতা চলচিত্র উৎসব, চলচিত্র উৎসব থেকে সরকারী দলের প্রযত্নে টলিউড বলিউড মোচ্ছোবে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কলকাতা চলচিত্র উৎসব যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সেই উদ্দেশের সাথে এই উৎসবের আদৌ কোন সংশ্রব রয়েছে কিনা, সেটাই গবেষণার বিষয়। চলচিত্রচর্চা আর সিনেমা বানানো কিন্তু এক বিষয় নয়। পুঁজি লগ্নি করে যে কেউ একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলতে পারে। ফ্লপ হোক আর হিট হোক। সিনেমায় অর্থ লগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাবসা হলেও তাতে মুনাফার সম্ভাবনাও প্রচুর থাকে। ফলে সিনেমায় অর্থ ঢালার মতো এলেমদার ব্যবসায়ীর অভাব নাই। কিন্তু চলচিত্রচর্চা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। সাহিত্যচর্চা বা যেকোন ধরণের শিল্পসংস্কৃতি চর্চার মতোই চলচিত্রচর্চাও একটা সাধনা। সকলেই সাধক হয়ে উঠতে পারে না। চলচিত্রচর্চা নিয়ে সাধনা করতে গেলে অবশ্যই পুঁজির প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কেবল মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে আর যাই হোক সুস্থ চলচিত্রচর্চা সম্ভব নয়। যেকোন দেশের চলচিত্র উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সুস্থ চলচিত্রচর্চার পরিসরটিকে মজবুত করে তোলা ও আরও বিস্তৃত করে নেওয়া। কোন দেশেই চলচিত্র উৎসবের মূল লক্ষ্য সিনেমা শিল্পের মুনাফা বৃদ্ধি করা নয়। বাণিজ্যিক সিনেমার বিনোদন শিল্পের সাথে চলচিত্রচর্চার মূলগত পার্থক্য বর্তমান। একটি হলো বাণিজ্য। আর অপরটি হলো সাধনা। 

কলকাতা চলচিত্র উৎসব চলচিত্রচর্চার সেই সাধনাকেই একটা মজবুত ভিতের উপরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। যেখানে সৃষ্টিশীল শিল্পী ও কলাকুশলীরা বিশ্ব চলচিত্রচর্চার সাধনার সাথে পরিচিত হতে পারবেন। নিজের সাধনার সাথে একটা তুলামূলক অবস্থান নির্ণয় করতে সক্ষম হবেন। এবং পরবর্তী সৃষ্টিকর্মের অনুপ্রেরণা লাভ করবেন। সক্ষম হবেন নিজেদের শিল্পকর্মকেও বিশ্বে সিনেমার অঙ্গনে তুলে ধরতে। সরাসরি বিশ্বের নানান দেশের শিল্পী কলাকুশলীদের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। চিন্তা ভাবনা প্রোকৌশল বিদ্যার একটা আদান প্রদানের মাধ্যম হয়ে উঠবে চলচিত্র উৎসব। এমনটাই হওয়ার কথা। গোটা বিশ্বেই তেমনটিই হয়ে আসছে। আমাদের কলকাতাতেও সেইরকম ভাবেই এগিয়ে চলছিল কলকাতা চলচিত্র উৎসব। একটি চলচিত্র উৎসব নানান ধরণের শিল্পকর্ম ভাবনাচিন্তা মতবাদ দর্শনের সাথে পরিচিত হওয়ার যোগসূত্র গড়ে দেয়। শিল্পীর স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়। নানান ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার কর্ম ও প্রয়াসকে বহুজনের সমানে তুলে ধরে। আমাদের চিন্তাভাবনার সকল দরজা জানলাগুলি খুলে দিয়ে আবিশ্ব চলচিত্রচর্চার দিগন্তকে উন্মুক্ত করে দেওয়াই একটা চলচিত্র উৎসবের প্রধান দায়িত্ব। 

কলকাতা চলচিত্র উৎসবও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু শিল্প ও সাধনা যখনই কোন প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়ে যায়। মুশকিল শুরু হয় তখন থেকেই। বাম আমলের শেষের দিক থেকেই কলকাতার এই চলচিত্র উৎসবের উপরে সরকারী খবরদারী শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রচ্ছন্ন ভাবে। রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থ ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তারও শুরু করছিল এই উৎসবের উপরে। অনেকেই সেই বিষয় নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিলেন দিনে দিনে। রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য চলচিত্র উৎসবের উপরে ছায়াপাত করতে শুরুও করছিল তলায় তলায়। শিল্প ও সাধনার মতো বিষয়ে সরকারী খবরদারী শুরু হয়ে গেলে এই বিষয়গুলি অবধারিত সত্য হয়েই দেখা দিতে থাকে। বাম আমলের শেষ দিকে কলকাতা চলচিত্র উৎসবের উপরেও অশনিসংকেতের ছায়া পড়তে শুরু করে দিয়েছিল সেই কারণেই। 

কিন্তু ২০১১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাত ধরে কলকাতা চলচিত্র উৎসবের মূল প্রকৃতিই যেন আমূল পাল্টিয়ে গেল। যেটি ছিল শিল্প ও সাধনার সাথে পরস্পরের সংযোগসূত্র গোড়ে তোলার ক্ষেত্র। সেটি হঠাতই রাতারাতি হয়ে গেল টলিউড আর বলিউড বিনোদন বাণিজ্যের বাৎসরিক সমারোহের মতো একটি বাৎসরিক সরকারী মোচ্ছোব। বিশাল বিশাল সুপার স্টার, যাদের সাথে বিনোদন বাণিজ্য ছাড়া চলচিত্রের সাথে সামান্যতমও যোগসূত্র ছিল না, তারাই ভিড় করতে শুরু করলেন কলকাতা চলচিত্র উৎসবে। সরকারী অতিথি হয়ে। সাধারণ দর্শক জনতার ফোকাস বিশ্ব চলচিত্র থেকে সরে গেল টলিউড বলিউডের স্টারদেরকে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার উন্মাদনায়। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও নন্দন থেকে সরিয়ে নেতাজী ইনডোরের মতো বড়ো জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হলো। যেখানে সুপারস্টার ফিল্ম-আর্টিস্টদের প্যারেড শো দেখতে ভিড় উপচিয়ে পড়তে শুরু করে দিল। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল সুকৌশলে রাজ্যরাজনীতিতে তাদের দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে এই উৎসবকেও হাতিয়ার করে তুলতে শুরু করে দিল। এবং প্রকট ভাবেই। যাদের সাথে বিশ্ব চলচিত্রচর্চার বিন্দুমাত্র সংযোগ ছিল না। তারাই এই উৎসবের কেষ্টবিষ্টু হয়ে উঠলেন। চলচিত্রচর্চার সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন আম জনতাও এই উৎসবের লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। বিষবৃক্ষের বীজ পোঁতা হয়েছিল ভুতপূর্ব শাসকগোষ্ঠীর বদান্যতা। সেই বীজে জল সিঞ্চন করে তাকে মহীরুহ বিষবৃক্ষে পরিণত করে তুলল বর্তমান শাসক গোষ্ঠী। জানা নাই, ২০২১-এর নির্বাচনে অন্য যে ফুল ফুটি ফুটি করছে। সেই ফুল ফুটলে কোন হুল ফুটাবে পরবর্তী বছরগুলির কলকাতা চলচিত্র উৎসবে। জানা নাই চলচিত্র উৎসব অদূর ভবিষ্যতে রামলীলা উৎসব কিংবা হনুমান চালিশা উৎসবে পরিণত হয়ে যাবে কিনা। 

কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার। একুশ শতকের তৃতীয় দশকের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে, কলকাতা চলিচত্র উৎসবকে তার আপন স্বমহীমায় আর ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। চলচিত্র উৎসবের উপরে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের লাগামহীন খবরদারী ও দলীয় স্বার্থে উৎসবকে ব্যবহার করার এই যে নতুন একটি প্রবণতা। এইটি কিন্তু চলতেই থাকবে। সরকারী ক্ষমতায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সিঁড়ি বেয়ে যে দল বা শিবিরই উঠে আসুক না কেন। অবস্থার বিশেষ কোন পরিবর্তন আশা করা বৃথা। অন্যদিকে এই শতকে চলচিত্র আন্দোলনেও চলছে ভাটার টান। সেই টান বিশ্বজুড়েই একটা প্রভাব বিস্তার করেছে। নানান ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা যে হচ্ছে না তাও নয়। কিন্তু বিগত শতকের মতো জীবন জিজ্ঞাসা ও জগৎ বীক্ষার সাধনায় আজকের চলচিত্র চর্চা নতুন কোন পথনির্দেশ দিতে পারছে বলে মনে হয় না। 

ঠিক যে অসুস্থ প্রবণতাটি গত এক দশক ব্যাপী সময় সীমায় জাঁকিয়ে বসেছে কলকাতা চলচিত্র উৎসবের উপরে, এর প্রভাব কিন্তু মারাত্মক। সবচেয়ে বড়ো প্রভাব চলচিত্র শিল্পের উপরেই। সরকারী নেক নজরে থাকা ছাড়া সুস্থ চলচিত্রচর্চার স্বাধীন কোন পরিসর আর সম্ভব নয়। বিশেষ করে সরকারী উপঢৌকোনের সংস্কৃতি এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের সাথে সখ্যতামূলক অধীনতার যে সংস্কৃতি আজ প্রচলিত হয়ে গিয়েছে। সেই সংস্কৃতি আমাদের চলচিত্রচর্চার সামগ্রিক পরিসরটিকেই নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে নিরন্তর। সেই নিয়ন্ত্রের মাত্রা ও তীব্রতা সময়ের সাথে বৃদ্ধি পাবে বই কমবে না। চলচিত্রচর্চার সাধনা ছেড়ে চলচিত্র ব্যবসাতেই শিল্পী কলাকুশলীরা নিজেদের মাথা গলিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। সময়ের অসুখের দিকে আঙুল তোলার সৎসাহস হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে সময়ের পটভুমিতে মানুষের প্রকৃত অবস্থান নির্ণয়ের শৈল্পিক প্রকাশের প্রতিভাও। 

আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কি এই শতকে সত্যজিৎ রায় ঋত্বিক ঘটক মৃণাল সেন গৌতম ঘোষ বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত উৎপলেন্দু চৌধুরী অপর্ণা সেন তপন সিংহের মতো চলচিত্র পরিচালক আর পাবো? না, একথা ঠিক। এঁদের প্রতিভার বিকাশের পিছনে কলকাতা চলচিত্র উৎসবের কোন অবদান ছিল না। সময় ও কালের দাবিতেই এঁদের প্রতিভার স্ফূরণ ও বিকাশ হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা চলচিত্র উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল নতুন নতুন প্রতিভার স্ফূরণের ও বিকাশের একটা সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা। কিন্তু সেই উৎসবের মূল চরিত্রই যদি পাল্টিয়ে যায়, তাহলে আমাদের চলচিত্রচর্চার ভবিষ্যতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য বই কি। 

ফলত কলকাতা চলচিত্র উৎসবের সরকারী বাৎসরিক মোচ্ছবে, মানুষ এখন অপেক্ষায় থাকে। টলিউড বলিউডের ফিল্মস্টারদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে দেশ বিদেশের কিছু এডাল্ট মার্কা ছবি দেখে ঘরে ফিরে সোশ্যাল সাইটে ওয়াল পোস্ট দেওয়ার জন্য। এবং তারাই দলে ভারী। সুস্থ চলচিত্রচর্চার অবরুদ্ধ এই পরিসরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ তুর্কিরা নতুন কোন পথ কাটতে পারবে কিনা, জানি না আমরা। আশা করার জানলা দরজাগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঝপ ঝপ করে। 



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.