x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০

সৌমিতা চট্টোরাজ

sobdermichil | অক্টোবর ২৬, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

দ্বিতীয় লিঙ্গ

ছেলেপুলে ট্যাঁকে নিয়ে উমা আসলো বাপের বাড়ি। এলো ​তো এলো মোটে চারদিনের জন্যে। প্রতি বছর এই এক কেস। তাও কি রেহাই আছে! পৌনে চারদিনের মাথাতেই তো ঘ্যানর ঘ্যানর শুরু হয়ে যায়। হ্যাঁ গোওওওওও বাঘছাল টা কেচে কৈলাসের কোন দিক টা তে শুকোতে দিয়েছিলে?​

তিন নম্বর চোখটায় শ্যামাপোকা ঢুকে গেছে, আইড্রপ টা যেন কোথায়?

জানো তো, মেডিকেয়ারের পাউচ গুলো ভৃঙ্গীটা হাতিয়ে নিয়েছে আবার। এত্তো কুটকুটোচ্ছে উকুনে, কি যে করি এখন!

আচ্ছা, গলার সাপটাকে দিনে ক'বার দুধ টুধ খাওয়াও? বলা তো যায়না, কখন খিদে পেয়ে যায় আর সামনে বাটি ফাটি না পেয়ে আমাকেই...

এই হলো গিয়ে স্বর্গলাইভ। বিহাইন্ড দ্য স্ক্রিনের ইন-ফ্রন্ট টেলিকাস্ট। অত্যাধুনিক ফেসবুক লাইভের পৃথিবীতে দশ বারোটা বছর আগেও প্লট, ডায়লগ ছিলো এক্কেবারে এক, এমনকি চরিত্র গুলোও কাস্ট করা হতো হুবহু টুকলি মেরে, ওই যেমন ধরুন হলিউড সিনেমার টলিউড রিমেক। কিন্তু দুগগা তো দুগগাই। অসুর ফসুর মেরে তার র্যালাই আলাদা, জিও বিলকুল ঠাঁট সে। আর এই আরেক মর্ত্যের নারীকুল, যারা নাকি নিজেদের দেবীর অংশরূপে দাবী করছেন, আওয়াজ তুলছেন why should boys have all fun? ​ পিরিয়ড সম্বন্ধিত ছুঁতমার্গ নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা খসখসিয়ে লিখে চলেছেন, দশমীতে ফেস টু ফেস সিঁদুর খেলবো নাকি (বিবাহ পরবর্তী) যুবতী টু থুড়থুড়ি অর্ধেকের বেশী জীবনে এয়োতি চিহ্ন বয়ে বেড়াবো ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে আন্দোলন করছেন, কোর্ট যাচ্ছেন, ধর্ণায় বসছেন তাদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। জয়গুরু বলে শুধিয়ে নিই, কি বলেন!​

আচ্ছা, এই পেটের দুর্গা, পথের দুর্গা, ঘরের দুর্গা, বাজারের দুর্গা আবার কি! এ্যাঁ? মেয়েদের খালি মেয়ে বললে তো আর জিভ টা কে এতোবেশী ওয়ার্ক আউট করতে হয়না।

ছেলেবেলা থেকে সমাজের ঘিষাপিটা কনসেপ্ট গুলো আমার অ্যাবনর্মাল লাগে। মেয়েরা ঘরের লক্ষ্মী। আবার যেকোনো সুলক্ষণা নারীর বর্ণনা মানেই রূপে লক্ষ্মী গুনে সরস্বতী, চলনের তিনরকম ভেদ! হস্তিনী, পদ্মিনী, শঙ্খিনী। বা ধরুন আশীর্বাদের ক্ষেত্রে "সীমন্তিনী হও, রাজরাজার ঘরে বিয়ে হোক"। সবচেয়ে অবাক লাগে সংসারটাও নাকি সুখের হয় একমাত্র রমণীর গুনে! এই নিয়ে তো জি-বাংলা তিনবছর ধরে হ্যাজানো জবরদস্ত একখান সিরিয়াল নামিয়ে দিলো। কিন্তু সংসারের পুরুষ টি? তার ভূমিকা কি নেগেটিভ ইন্ট্রিগারে? আসলে এইসব ধারণার নিয়মিত নিরলস নিরবিচ্ছিন্ন অনুশীলনের কারণেই মেয়েরা নিজেদের দেবীর আসনে উন্নীত করতে চায়। মহত্ত্ব অর্জনের অত্যন্ত দুর্বল অথচ সম্মানীয় পন্থা হলো ত্যাগ। ছিনিয়ে নিলেই তো আবার পাশবিক। মাছের পেল্লাই মাথা ছেলে খাবে, বাড়ির বৌয়েরা খেতে বসবে কর্তাদের মুখশুদ্ধি জোগানোর পর, উপোষ থাপস, ব্রত পাঁচালী এমনকি সঙ্গী বিয়োগের পরে বৈধব্য কে বয়ে নিয়ে চলে তারা নিজেদের একধাপ উঠিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু পারে কি? না, পারে না। এটাও পিতৃতান্ত্রিকতার জয়। সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিয়ে দ্বিতীয় লিঙ্গদের আদি অন্ত দ্বিতীয় স্থানেই ফেলে রাখা। জন্ম নথি, টিকা করণের দস্তাবেজ, স্কুল কলেজের অ্যাডমিশন ফর্ম, চাকরির দরখাস্ত যেকোনো রকম কাগুজে ব্যাপার স্যাপারেই জেন্ডারের অংশ তে দুটো ঘর। প্রথমে মেল, দ্বিতীয় তে ফিমেল। এমনটা না হয়ে যদি একটাই ঘর থাকতো! নিজের নিজের লিঙ্গ সেই ফাঁকা ঘরটাতে উল্লেখ করে দেওয়া গেলেই কে প্রথম কে দ্বিতীয় এই নিয়ে আর বিরোধ বাঁধে না। সামান্য বিস্তারে বলি। খেয়াল করে দেখবেন, ক্লাসের ফার্স্ট এবং সেকেন্ড স্টুডেন্টের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই থাকেই। ফার্স্ট চায় যেনতেন প্রকারে তার ফার্স্ট পজিশন অক্ষুণ্ণ থাকুক। সেকেন্ড চায় জানপ্রাণ খাটিয়ে তাকে ফার্স্ট হতেই হবে। এখানে কিন্তু দুজনের চিন্তাভাবনায় কোনো গলদ নেই। যে যার নিজের জায়গা থেকে ঠিক। ভুল রয়ে গেছে কাঠামো নির্মাণে। যোগ্যতার নিরিখ হিসেবে অ্যাকাডেমিক্সে মেধা দেখা হয় আর সমাজে দেখা হয় লিঙ্গ কে। দীর্ঘদিন সেকেন্ড পজিশনে পড়ে থাকতে কে আর পারবে বলুন! ফার্স্টের গলায় মালা মিস্টির হাঁড়ি, চ্যানেলে চ্যানেলে ইন্টারভিউ, ​ পরিজন প্রিয়জনের পিঠ থাবড়ানি আর সেকেন্ড জন টি কে ধিক্কার! কেন সে ফার্স্ট হয়ে জন্মালো না সেই নিয়ে উঠতে বসতে খোঁটা! দাবড়ানি দিয়ে থামানো! এ-সব তো চলবেনা গুরু। 

এই একই কাস্টমের প্র্যাকটিস চলে আসছে আমাদের সমাজে। সোনার আংটি আবার ব্যাঁকা! এই আমার মতো মুখেমুখে তক্কো করা মেয়েরা কিন্তু মুখের ওপর বলবেই "হোক না সোনার, ব্যাঁকা হলে তার আবার শোভা কি!" একটা কথা কিন্তু টাইড সফেদির মতো ধামাকেদার পরিস্কার... দেবত্বের আছে বলেই অসুর আছে আবার অসুর আছে বলেই দেবতা। আয়ু দেহী, ধনং দেহী, পুত্রং দেহীই তো শুনে যাচ্ছি ঠাকুর দেবতার ধ্যান মন্ত্রে... কই কোত্থাও তো "কন্যাং দেহী" শুনলাম না! নীলষষ্ঠীর উপোষ কেন শুধু ছেলের মায়েরাই করেন? মেয়ের মঙ্গল কামনায় একটা কোনো ব্রতর প্রচলন আছে কি না কেউ বলুক আমাকে। মানুষ কে একবার মানুষ ভেবে দেখলে এসব প্রথম কিংবা দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় লিঙ্গ লেখার প্রয়োজন থাকবেনা। কিন্তু না, আমরা তো "ভাত বাড় বড় বৌ" পড়তে পড়তে বড়ো হয়েছি, এতো সহজে কি ভাতের মাড় টা গড়াতে পারবো? যেখানে নাকি দেশের এক বিশিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় বলছেন " নারীরা স্বাধীনতা ভোগের জন্য উপযুক্ত নয়"। তবে উপযুক্ত টা কে? তুমি, তোমার ভাই, তোমার ছেলে আর তোমার বাপ?

■ পরিচিতি

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.