x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

■ সঞ্জীব সেন / মন না মতি

sobdermichil | অক্টোবর ২১, ২০২০ | | মিছিলে স্বাগত
■ সঞ্জীব সেন / মন না মতি

“ঘুমের দরজা ঠেলে” এমন কোটেশনে মন সত্যিই ভালো হয়ে যায়, চিন্ময় গুহর উদ্ধৃতি এটি, ঋণস্বীকার করেই বলছি এখন তো মানুষের মন না মতিই সব । 

ঘুমের দরজা ঠেলে ​ শপিং মলের ভিতরে এসে দাঁড়িয়েছি। দেখছি হদ্দ গ্রাম থেকে শহরে এসেছে দুজন। শপিং মলে কসমেটিক গয়না কিনছে। কানে গলায় দিয়ে দেখছে, আর বরকে বলছে কেমন লাগছে, বর ইশারায় জানাচ্ছে লা জবাব, আমি ভাল করে দেখলাম জোৎস্নারানিকে। পেটাই শরীর কথাবার্তায় পূর্ববঙ্গীয় ​ ছাপ, বলছে গ্রামে ফিরে যাবে না আর এই শহরেই ঝা ঝকঝকে একটা ফ্লাটে থাকবে ভাবলাম এখন তো মন না সব মতিভ্রম, বর বলছে সম্ভব নয়, তার ব্যবসা সব গ্রামে, শহরে এলে হালে পানি পাবে না, এবার ওরা হোটেলে খেতে যাবে। সারাদিন ঘুরবে, কেনাকাটা করবে । কথাগুলো জোড়ে জোড়ে বলছে, আশেপাশে কেউ শুনছে কিনা কুছু পরোয়া নেই । ওরা চলে যেতে আমি আরাকদিকে মন দিলাম, একজন বলছে বালক ভোলানাথ এসেছে, গায়ে ছাই ভস্ম মেখে ​ আর একজন বলছে ওরা তো বহুরুপি!

আমি ভাবছি অন্য কথা এতদিন যা শুনেছি সব ভুল ! কিভাবে আকুল গাঙ হয় কথামালা, কি ভাবে শব্দ গুলো, দুঃখ হয়ে যায়, এগুলোর কোন ব্যাখ্যা হয় না কবিতায়, জানি না আমি, আপনি কি জানেন! 

আমি তো এতদিন জানতাম, প্রতিটি গৃহস্থ সন্ধ্যায় শঙ্খ বাজলে ঘর মন্দির ​ হয়ে যায়, আর ঘরণী হয়ে যায় লক্ষী পয়মন্ত। এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন মন না মতি মেগা সিরিয়াল গিলে নিচ্ছে প্রতিটি সন্ধ্যা, ৩৬৫টি গ্রাম ২৫৮শহর ঘুরে এসে আমার এই সিদ্ধান্ত, হবেই না কেন, নাইট্রোজেন সারে হাইব্রিড খেয়ে বড় হচ্ছি প্রতিদিন, রঙের গ্যারান্টি দিতে পারবো না দাদা, তবে জিনিসটা ভাল, সপিং মলে সারা বছর ধরে সেল ঠেলা গাড়িতে ফুলছাপ ব্রা শোকেসে সাজালেই হয়ে ওঠে ​ জকি, গ্রামের মেয়েদের পর্যন্তও বোঝাতে হয় না আর।

শপিং মল থেকে বেরিয়ে দেখি, সামনে এক সেই বালক বহুরূপী। ​ ​সবাই বলল , কেদুলীর মেলা ছেড়ে শহরে এসেছে ,সামান্য বেশী রোজগার হয় যদি, আর কেউ না চিনুক আমি তো চিনেছি, আপনিই তো, ​ সেই শিশু ভোলানাথ, স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন , মর্তের মাটি নিয়ে স্বর্গ স্বর্গ খেলবেন বলে, আপনারও কি মন না মতিভ্রম ।

এবার যদি ধর্মের ষাঁড় লেলিয়ে দিই পালাবার পথ পাবেন না আপনি, ধর্মের ষাঁড়ে দেশের গণতন্ত্র কাঁপছে  এখন। গোটা দেশে একই ছবি, ভেবেছিলাম ষাঁড়ের ​ চোখে লাল কাপড় বেধে দৌড় করবো আর বলবো , খাড় কাচতে সাবানের দরকার পরে , বুঝবে তখন , ঠিক তখনই কেউ যেন বললো কোন সময়ে দাঁড়িয়ে আছো দেখেছো,এখন মানুষের মন না মতিই সব যেমন রঙের কোন গ্যারান্টি নেই, বেশী কাচলে কিন্তু কিছুই থাকবে না।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.