x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

কৃষ্ণা কর্মকার

sobdermichil | অক্টোবর ২১, ২০২০ | | | মিছিলে স্বাগত
কৃষ্ণা কর্মকার


পরম ভাতের পাতে থ্যাবড়ানো সজনে শাকের দলাটা দেখেই ঝাঁঝিয়ে উঠলো,​

---- তু এই বুড়ো সইনে শাগের ডেলা বাদে সব আন্নাবান্না ভুলে যেইচিস নিকি? ভর আশিনেও পেত্যেক দিনিই সইনে শাগ সেদ্দ করচিস যে?​

​কথার ঝাঁঝে ভরা চোখজোড়া নবমীর দিকে তাক করতেই নবমীর তামাটে মুখে ঝুপ করে এক পরত আঁধার নামলো। দেখে পরমের চোপসানো বুকটা খাঁখাঁ মাঠের মতো হাহা করে উঠলো। আর - বছরে এমন দিনে, নিতে পারার অভাবে বায়না ফিরিয়ে দিচ্ছিল পরম। আর এবারে এই করোনার চক্করে পড়ে বায়না তো দুরস্ত, এখনো ঢাকের চামড়া সারাইটাও করা হয় নাই। সেই চড়কের আগে থেকে ঢাকটা চালের কাঁড়িতে ঝুলছে। ঘরের ভেতর চোখ চালিয়ে ঢাকটার দিকে তাকাতেই পরমের বুকে কেউ যেন গরম শিক ঢুকিয়ে দিল। লোকে বলে "পরমের কাঠিতে ঢাক কতা কয়"। সেই পরম ঢাকি এখন ঢাক ফেলে একশো দিনের কাজের জন্যে হন্যে হচ্ছে। তাও কি আর মেলে! একটা জব কার্ডের তিনটে ভাগিদার, সাকুল্যে মাসের সাতটা দিনও কাজ জোটে না। তার ওপর আছে কাজের ফড়ে, তাকে 'তুষ্টি' না জোগালে পরের মাসে ওই সাতটা দিনের রোজগারও গেল।​

​বৌটার মুখের দিকে চেয়ে আর কথা কয় না পরম। মেয়েটার চ্যাপ্টা নাকটার দুপাশে খুদে খুদে গোল চোখ দুটো থেকে কেমন জানি মায়া গড়িয়ে পড়ে। চাইতে গেলেই পরমের চোখ ভিজে যায়। শুধুমুদু ঝাঁঝকি মারলো মেয়েটাকে। বেচারা কী করে যে দুবেলা পরম আর তার বুড়ো বাপটার মুখের কাছে ভাত ধরছে হাসিমুখে, তা কি পরম জানে না! কণ্ট্রোলের চাল গমটুকু দিয়ে তো মানুষের সবটুকু মেটে না, গম ভাঙাতেও কাঁচা টাকা লাগে। আনাজের গায়ে হাত ঠেকালেই ফোসকা ধরছে। আজকাল গাঁ ঘরে আগের মতো শাকপাতাটা, ছাতুটা, গুগলিটা, শামুকটা কোনো কিছুই মাগনা মেলে না --- সবই দুটো পয়সার টানে শহরের বাজারে বিকোয় সোনার দামে। ভাগ্যিস চিলতে উঠোনটার একধারে সজনে গাছটা নবমীই জেদ করে পুঁতেছিল বছরদেড়েক আগে, তাই রক্ষে ! নইলে এমন আকালের দিনে....​ হঠাৎ ঘরের ভিতরে কুলুঙ্গিতে রাখা বোতাম ফোনটা চেঁচিয়ে উঠলো।​ নবমী উঠে ফোনটা ধরতে গেল। পরমের কুঁচকে ওঠা মুখটা ভাতের থালার দিকে ঝুঁকে পড়লো।​

#

নবমী মুড়ি চানাচুরের পোঁটলাটা পরমের থলেতে ভরে হাতে ধরিয়ে দিল। পরম কাপড়ে মোড়া ঢাকটা কাঁধে নিয়ে রওনা দেবার মুখে দেখলো, ভোরের আলো আঁধারি মেখে ডাক্তারকাকা হেঁটে আসছে। ভয়ে পরমের বুক ঢিপঢিপ করে উঠলো। মানুষটা এই ঘোষপুর গাঁয়ের একমাত্তর বলভরসা। সব্বাইকার ডাক্তারকাকা। পরমকে বড্ড ভালোবাসে। বলে, "তুই তো আমাদের গাঁয়ের গর্ব রে পরম। শিল্পী মানুষ তুই। তোর ভালোমন্দ দেখা আমাদের দায়িত্ব বুঝলি!"​ কিন্তু এই আকালে পরমকে পইপই করে মানা করেছে শহরে যেতে। দিনতিনেক আগেই তাকে ডেকেছিল ঘরে। বুঝিয়েছিল,​

----- এই ঘোষপুর গাঁয়ে এখনো রোগটা ছড়ায় নাই। খেটে খাওয়া শরীরগুলোয় হয়তো ছড়াবেও না, যদি বাইরে থেকে কেউ না আনে। পরম তুই ওই সব্বোনেশে রোগটাকে টেনে আনার কাজটা নাই বা করলি।​

----- উ তুমি ভেইবো না কাকা। আমাদের রোদজল সওয়া শরীলে বড়লোকি রোগ ঢুইকবে নাই।​

---- ওরে তোর ঘরে বুড়ো বাপটা আছে, কচি বউটা আছে। এসব ছোঁয়াচে জিনিস সুযোগ পেলে কাউকে রেয়াত করে না।​

---- উদের লেগেই যাওয়া গো কাকা। পাঁচটা দিনের ওজগারে বচ্চরকার কাপড়জামা বাদেও মাসদুয়েকের খোরাকিটা তো উঠবে।​

---- জানি রে, সব জানি। অন্য বছরে আমিই তো তোকে উৎসাহ দিই কোলকাতায় বেশি বেশি বায়না ধরার জন্যে।​ কিন্তু কোলকাতাটা এবারে যমপুরী হয়ে গেছে রে বাপ। ডাক্তার নার্স হাসপাতালের লোকেরা করোনা রোগীর দেখভাল করতে গিয়ে কত যে মারা যাচ্ছে, তার ঠিকঠাক হিসেব কেউ জানে না। এরপর ডাক্তার নার্স আর হাসপাতালে বিছানার অভাবে রাস্তায় মৃতদেহ না গড়াগড়ি যায়!​

----- তাইলে কেলাবগুলো পুজো করচে কেনে?​

----- এই প্রশ্নটা আমিও তোর মতোই নিজেকে করছি, বুঝলি। মানুষ বড়ো অবুঝ রে পরম। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বারবার সাবধান করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণে বুঝলে তো! এদিকে, কেউকেটাদের কেউ বুঝছে ভোট আর কেউ বুঝছে নোট। যারা বিপদটা আঁচ করতে পারছে, তারাও সুবিধাভোগের তাগিদে ঠোঁটে কুলুপ এঁটেছে। তবু ভাবছি, যদি একটা মিরাকেল ঘটে, মানুষ মণ্ডপে না যায়, সবাই বয়কট করে পুজো!​ সেইজন্যই তোকে বলছি, যাস না --- যাস না পরম।​ কষ্টেসৃষ্টে এ বছরটা পার করে দে, উপায় একটা হবে, দেখিস, ঠিক হবে।​

​না,​ পরম পারে নি ডাক্তারকাকার পরামর্শ মানতে। অভাবের রুক্ষ - তিরিক্ষে চেহারাটার সামনে তেলজলের মতো, বায়নার টাকা কটা মুঠোয় ধরে পরম স্বপ্ন দেখেছে, নবমীর তেলচুকচুক গায়ে, নতুন লাল শাড়িটা ফিকফিকিয়ে হাসছে। হাতে পাঁউরুটি আর রসগোল্লা ধরে বাপের ভাঙাচোরা মুখটা পাকাদাড়ির ফাঁক দিয়ে কেমন ঝিকিয়ে উঠছে। তাই সে দ্বিতীয়ার দিন ঝুঁঝকিবেলায় কাকপক্ষী জাগার আগেই রওনা দিয়েছে। হরিপুরের বাসস্ট্যাণ্ডে আশপাশের গাঁ থেকে তাদের দলের আরো ক'জনা এসে জুটবে। ওদের চোদ্দজনের দল ছোট হয়ে এবারে সাকুল্যে সাতজনের হয়েছে। তাতে অবশ্য টাকাটা মাথাপিছু বেশি হবে। নবমী আর বাপকে পইপই করে শিখিয়েছে, "পাড়ায় কেউ জিগুলে যেন কয়ে দিবি, হরিপুর যেইচে বুনাইয়ের শরীলখারাপ বইলে।"​

​কিন্তু কথায় বলে না, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধে হয়। এই সময়েই ডাক্তারকাকাকে হাঁটতে বেরোতে হলো। পরম গামছা কাটা রুমালটা মুখের ওপর বেশ করে জড়িয়ে নিয়ে, পাশের ঝোপটার আড়ালে গিয়ে লুকলো। ঢাকচাপানো পিঠটা​ ঘুরিয়ে ঠেসিয়ে দিল গাছের গায়ে। ডাক্তারকাকা পেরিয়ে যাচ্ছে মাথা হেঁটিয়ে। আড়চোখে কি পরমকে দেখে গেল! পরম জানে, ডাক্তারকাকা মানুষের ভেতর দেখতে পায়!​

#

বাসের ভিড় সামলে, রাস্তায় গায়ে-পড়া লোক সামলে, দোকানপাতির মেলা সামলে 'গোষ্ঠপাল স্পোর্টিং ক্লাব' এর মণ্ডপে এসে পৌঁছোলো পরমের দল। এবারে তেমন এলাহি কাণ্ড চোখে পড়ছে না, মণ্ডপও বেশ ছোট।​

---- "ও বাবা, কাণ্ড দেকো জুলেদাদা, মা ঠাকরুণ, তার ছেলেপুলে মায় অসুর আর সিংহের মুখেও মাসকো পইরেচে । ইদিকে আসল মাসকোগুনো বাবুদের থুতনিতে ঝুইলচে গ" --- পরম চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে পাশের ঢাকিকে বললো।​

​মনে মনে ভাবলো, তার মানে, ডাক্তারকাকা যতটা ভয়ের কথা বলেছিল, ততটা ভয়ের কিছু নয়। নইলে রাস্তাঘাটে, বাজারহাটে এতো ভিড় হয়!ভাগ্যিস এলো, নইলে রোজগারটা মাঠে মারা যেতো। ও হৃষ্টমনে কর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা সেরে, কাজে ঝাঁপালো।​ পুজোর সময়গুলো যেমন বাজায় তেমনি বাজাবে। তবে এবারে তো দশমীর বিসর্জনের মিছিল হচ্ছে না, তাই পুজোর কটা দিন, সকাল আর সন্ধে ঢাক বাজিয়ে পাড়া ঘুরতে হবে। পাড়ার মানুষ অন্যবারের মতো প্যাণ্ডেলে সারাক্ষণ থাকবে না বলে, পুজোর গন্ধটাই যাবে পাড়ার ঘরে ঘরে। তা ভালো। পয়সা যখন দিচ্ছে তখন করবে না কেন!​

​তবে নয় নয় করে লোকজন কম হবে না।​ নমো নমো করে হলেও, মেলা, খেলা, গানবাজনা, খাওয়াদাওয়া, পুলিশ, স্বাস্থ্যশিবির, কোনোকিছুরই, আয়োজনে খামতি নাই। পরমের দলও ঠিক করলো পুজোর দিনকটা সব্বাইকে মাত করে রাখবে। পাড়ার ছেলে ছোকরারা আগের বারের মতোই পরমের হাত থেকে ঢাকের কাঠি নিয়ে আবোল তাবোল বোলে এলোপাথাড়ি নাচের মহড়া দিতে শুরু করলো। আর এতকাল পরে মনের সুখে ঢাক বাজাতে লাগলো পরমও। ঢাকের বোলে হারিয়ে গেল ঘোষপুর, হারিয়ে গেল ডাক্তারকাকা, এমনকি ঝাপসা হলো নবমীর পানপাতা মুখ আর মায়াগড়ানো চোখ, ঝাপসা হলো বুড়ো বাপের ভাঙাচোরা হাসিমুখ। ঠিক ছিল দশমীর সিঁদুরখেলা শেষ করে, টাকাপয়সার হিসেব মিটিয়ে, একাদশীর সকালে বাজার করে গাঁয়ে ফেরার পথ ধরবে পরম আর তার দল । সেইমতোই সব এগোচ্ছিল।

​#

নওমীর সন্ধেতে ধুম জ্বর এলো পরমের। একলহমায় বদলে গেল চারপাশের ছবিটা। আশেপাশে যারা ঘুরছিল সব উধাও। একটু রাতের দিকে আচ্ছন্ন পরম দেখলো, বাঁশি বাজাতে বাজাতে যমরাজার রথে চাপিয়ে তাকে কৈলাস নিয়ে যাচ্ছে 'মাসকো' পরা অসুরটা। কী অন্ধকার ভেতরে, কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। চারপাশ বন্ধ। দম নেবার বাতাসটুকুও নাই। তার চোপসানো বুকটা ফুটো হাপর হয়ে গেছে। হাজারবার টেনেও হাওয়া নিচ্ছে না। ও শরীর আর মনের সব শক্তিটুকু একজায়গায় করে চেঁচিয়ে উঠলো,​

---- অ মা দুগ্গি, তুমার অসুর আমাকে কুতায় নিয়ে যাচ্ছে দেকো। আমি কৈলেসে যাবো না গ মা। ইকেনে আমার বাপ রইচে, আমার নবমী রইচে।​

​পরম দেখলো, দুগ্গিমা তখন দশহাত সিকেয় তুলে টিভিতে বক্তিমে করচে। ঘামতেল মাখা সুন্দরপারা মুখটা চাপা দিয়ে একটা শেয়ালের মুখ বসেছে আর সেটা 'হুক্কা হুক্কা' রা কাড়ছে। পেছনে সারসার কার্তিক গনেশ লক্ষ্মী সরস্বতী সব শেয়াল মুখো হয়ে ধুয়ো দিচ্ছে। এদিকে সিংহ, মোষ, ময়ূর, হাঁস, পেঁচা, ইঁদুর দূর থেকে হাসতে হাসতে পরমের ছবি তুলছে মোবাইল দিয়ে। তারা বলাবলি করছে "এসব ওরা কী জানবে। আমরা হলাম আদি। পৌরাণিক ব্যাপার স্যাপার আমরা সব জানি। এমনটা যে হবে, সে তো পুরাণেই বলা আছে!" পরম গড়াগড়ি যাচ্ছে মাটিতে ---- গোঙাচ্ছে ---- হাঁফাচ্ছে ---- হিক্কা তুলছে, কারো হুঁশ নাই। ডাক্তারকাকা থাকলে পরমকে ঠিক মাটি থেকে তুলে নিতো। ওই তো ডাক্তারকাকা,​

------ অ ডাক্তারকাকা, আমি যাবো নাই কৈলেসে, আমাকে গাঁয়ে নিয়ে যাও । তুমি কয়েচিলে, গাজনের বাজনা নিকি আমি না বাজালে তুমার বুক ভরে না। আমি গাজনে বাজাবো গ ডাক্তারকাকা......​

​এ কী, ডাক্তারকাকা পরমের মুখটা ছাতার বাঁট দিয়ে ঘুরিয়ে দিতেই অন্ধকার রথটার এক চিলতে জানলা খুলে গেল। পরম দেখলো, সারসার দিয়ে পড়ে আছে শ'য়ে শ'য়ে পরম। সব্বাই প্লাস্টিকে মোড়া। আশপাশ ফাঁকা। ডাক্তারকাকা ঘাড় নাড়তে নাড়তে সরে যাচ্ছে --- মিলিয়ে যাচ্ছে ! ওই তো পরমের বাপ --- ভাঙাচোরা মুখটা আরো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। বাপের হাতে কী? ওই তো রসগোল্লা ! রস চেপে চেপে সবকটা পড়ে থাকা পরমের মুখের ওপর ফোঁটা ফোঁটা করে ঢেলে দিচ্ছে, কিন্তু মুখে যাচ্ছে না, প্লাস্টিকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। নবমী নাই!

----- নবমী.....তু কুতায় অইচিস বৌ? তুর লিগে মনটা হাঁকুড়চে...... আমি কৈলেসে যাবো নাই.... তুর কাছে যাবো..... তু আমাকে গভ্ভো পেইতে দিবি কইছিলি, সেই গভ্ভে আমি ছুটো হইয়ে তুর কাচে যাবো.... আমাকে নিয়ে যা নবমী....​

​ওই তো নবমী! নতুন লাল শাড়ি গায়ে পরমকে ঘিরে গোল হয়ে ঘুরছে। পরমের ঢাক ওর কাঁধে। এ কী! কী বাজাচ্ছে ও! দশমীর বোল উঠেছে ওর ঢাকে! "ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন ".... ও নাচছে.....উন্মত্ত হয়ে নাচছে। ওর লাল শাড়ি খসে যাচ্ছে গা থেকে। সিঁথির সিঁদুর রক্ত হয়ে গড়িয়ে পড়ছে ওর পানপাতা মুখ বেয়ে। মায়াগড়ানো খুদে চোখদুটো ধুনুচির মতো জ্বলছে। ওকে ঘিরে দৈত্যি দানোর দল এলোপাথাড়ি লাফাচ্ছে। চারদিকে বিসর্জনের বোল..... "তোরা থাকবি কতক্ষণ, তোরা যাবি বিসর্জন....

■ পরিচিতি
​ ​ ​ ​ ​ ​
Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.