x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

ঝর্না চট্টোপাধ্যায়

sobdermichil | অক্টোবর ২১, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

ঝর্না চট্টোপাধ্যায়

পত্থম​ দেখা​ হঁইছিল কবিগানের পালায়। সিধু আর পারুলবালা। না, মানে ​ ঠিক কবি গান লয়,​ তবে ওইধরনেরই বটে। মেঁয়্যা-পুরুষ সবাই এক আসরে। একজন এক ট গান ​ বইলছে আর সঙে সঙে​ উয়ার উত্তর ট দিছে আর একজন।​ ভারি মজার খেলা বটে। দলের মধ্যে খেলা...সিধুই মূল গায়েন।

সিধু গান দেয়,পারুলবালাও টপাটপ উত্তর ​ বলে আর পাঁচজনের সঙে। পারুলবালা গান দিলে সিধুও উত্তর দিছে ​ টপাটপ। ​ আরো অনেক লক আছে, গাদাগাদি কইর্যে বসেছ্যে সব্বাই। কিন্তু পারুলবালা আজকে​ লতুন আস্যেছে, সিধুর লজর উদিকেই আছে। সবই হিন্দি-বাংলা ​ সিনিমার গান। তা হল্যেকই বা, গান ত বটে! দুজনেই দুজনকে দেখে লিছে। ই ভাল্ছ্যে উয়ার দিকে,উ ভাল্ছ্যে ইয়ার​ দিকে...—বাঃ, ইয়ার গানের জোর আছে ত, দমে গান জানে!’ মুগ্ধ হয় সিধু। গান​ ছাড়া উ লক ট আর কিছু নাই বুঝে। গান জাইনলেই উয়ার সঙে ভাব করব্যেক, গান সুনাবেক, সুনবেক। পারুলবালার সঙেও এমনি কর্যেই ভাব।​ ​

তারপর? ​ ​

তারপর আবার কি, যা হয়...একজনের সঙ্গে আর একজনের বন্ধুত্ব হল। ভাব হল।

সিধু শুধাল —ঘর কুনদিকে গ, তুমার?’ ​

পারুলবালা উত্তর দিল্যেক—কুলতলি

সিধু অবাক। তাইলে তো একই জায়গার বটে!

--কুন পাড়ায় থাক?’

--উ তুমার ডাঙ্গার মাঠের দিকে ...’পারুলবালা বইল্যেক। সিধু আরও ​ অবাক। ই বাব্বা, ই ​ জায়গা ট আমাদের ঘরের কাছেই বটে গ।‘

এখন মোবাইল ঘরে ঘরে। এদিক-সেদিক গান গাইতে যেতে হয়,না থাকলে চলবে কি করে? সুতরাং ফোন নম্বরও দেওয়া-নেওয়া হল। ​ তারপর?

তারপর কখন যে তারা একে অপরের ভালোলাগা-ভালোবাসায় ডুবল...তারা ​ নিজেরাই বুঝল না, কিংবা বলা ভালো বুঝতে চাইল না।​

তারা ভালোবাসার কথা বলে আড়ালে-ইঙ্গিতে, ভালোবাসার গান শোনায় একে অপরকে। ঠিক আর পাঁচজনের মত করে ভালোবাসার প্রখর রূপটি তাদের কেউ দেখল না, জানল না...কিন্তু তারা নিজেরা ডুবে রইল।

২)

পারুলবালা যুবতী লয়, কিন্তু মনে-মনে যুবতী বটে।​ মনে দেদার ফুর্তি, কথায় ​ কথায় হাইস্ত্যে পারে, গাইত্যে পারে,পইদ্য জানে, কথা বইলত্যে পারে। সিধুর ​ দেখ্যে ভালই লাগল্যেক। মেঁয়া ছিলা এমনই ভাল,অমন গোবরের ঝুড়ির মতন মুখ লটকায়েঁ থাকল্যে নাই ভাল লাগে। দেখ ন পারুলবালা কেমন হাইস্ত্যে পারে!

সিধু ও হাসায় তাকে। গান সুনায়।​ কত গান যে জানে! কত মজার মজার কথা বলে। মানুষট’র মনে কেউ বুঝব্যেক নাই দুখ আছে ন নাই...কাউকেই উসব কথা বলে নাই...শুধু গান সুনে, সুনায় আর ফুর্ত্তি করে। দুখ নাই দেখায় কাউকে।​ ​ পারুলবালার মন টনটন করে। লোক ট কে দেখত্যে মন করে। সিধুরও মন যায় পারুলবালাকে দেখত্যে। একদিন পারুলবালা বলল্যেক---অনেকদিন নাই যাই কুলতলি, যাত্যে মন করে’

সিধু খুশি হয়।

--আস্যো কেনে, দেখা হবেক। কি কাজ আছে তুমার? আমাকে বল, দরকার হল্যে আমিও কর্যে দিতে পারি।‘

বলল পারুলবালা। কিছু কাজ ছিল, কিন্তু তার সিধুর সঙ্গে দেখা করাও একটি বড় ​ কাজ। ভালবাসার মান্ষের কাছে যাত্যে ইচ্ছা করে যে! ​

ঠিক হল একটি দিন, পারুলবালা যাবেক কুলতলি। কিন্তু যার কাছে যাব্যেক তার ঘর জানা নাই, কুথায় এখন থাকে জানা নাই, শুধু ঠিকানা টি জানা আছে, সিধু যদি খুঁজে দেয়। সিধু রাজি।

৩)

আশ্বিন মাস, পূজার সময় বটে, দমে ভিড়। বাস থেক্যে ঠ্যালাঠেলি কর্যে নামত্যেই ​ সময় লিল ​ দেদার। পারুলবালা হাঁসফাঁসায়ে নামলেক বাস থেক্যে। ইদিক-উদিক ভাইল্ত্যে ​ লাগল্যেক। সিধু বল্যেছিল আসব্যেক। উয়াকে নাই দেখত্যে পেছে। ​ হঁ,লজরে আল্যেক সিধু। হু দেখ, বাস থেক্যে এল্প দূরে ভটভটি লিয়ে দাঁড়াই আছে। বাবা গ, খুব আওয়াজ মাইকের। গান হছে ...পূজার সময় এমন ত হবেকেই! কাছকে না আল্যে কথা সুনা নাই যেছে। কাছেই কুনো জায়গায় পূজা হছে মএ লয়...। ​ মাথার উপর মেঘ নাই, রোদ আছে, কিন্তু গা চড়চড়ায় নাই। পারুলবালার মন ট খুশিতে ছলক্যে উঠল্য। ​ সিধুকে দেখতে পাবেক ভাবে নাই। মনে করছিল্যি , কে জানে...আসবেক ন না... কিন্তু আল্যেক শ্যাষ পর্যন্ত! সিধুকে দেখ্যে পারুলবালা মুখ টিপে হাসল্যেক। সিধুও মুখ হাস্যে উত্তর দিল। ​

শুধালেক সিধু, কুন দিকে যাবে?’

--আমি কি জানি? কতদিন আগে আস্যেছিলি, এখন সব লতুন পারা হইছে, চিনা ​ ​ নাই যেছে...চিনতেই লারছি।’ হাতে ধরা কাগজ ট বাড়াই দিল্যেক সিধুর দিকে। ঠিকানা ​ লিখা আছে। সিধু দেখে লিয়ে ভটভটিতে চাপ্যে পারুলবালাকে বলল্যেক—উ​ ​ রিকশ ট লিয়ে লাও,আমার সঙে সঙে আস্য...’

পারুলবালা রিকশ লিয়ে সিধুর পিছন পিছন একজনের ঘরের দরজায় আস্যে দাঁড়ালেক। এক ট বুড়া মতন লক, বেরাই আল্যেন। সিধু দুকথা বল্যে পারুলবালাকে বলল্যেক, তুমি তাহলে কথা বল...আমি যাই...’

পারুলবালার হায় হায় করে উঠল মন।​

সিধু চল্যে গেলে কথা কি হবেক নাই? পারুলবালা যে সিধুর লেগেই আস্যেছ্যে। সিধু বুঝদার লক। বলল্যেক—এখন ইবেলা ​ তুমি কথা বল। বিকালে আমার ঘরকে​ আস্য, সবাইয়ের সঙে দেখা হবেক, গল্প-স্বল্প হবেক...আমি এখন গেলম...বিকালে আসব্যে তবে, কেমন? আমিও ঘরকে বল্যে রাখি’

৪)

বিকালে সিধুর ঘর যাঁইয়ে উয়ার ঘরে দেখা হলেক। সিধু, সিধুর বৌ-বাচ্চা সবকে দেখা হল্যেক...মনট ভর্যে গেল। এমন ভাল মানুস দেখে​ নাই কুনোদিন ​ ​ পারুলবালা। যত দেখছ্যে, তত খালি বুক ভরতি হছে।

--কি ভাইগ্য আমার, এমন মানুস আল্য আমার জীবনে...!’ রেতে যখন ফিরে আল্য উয়ার ঘর থেক্যে, বুকের ভিতর আর কুথাও খালি নাই...সব ভরতি...সব! ​

সিধু যে কি দিল্যেক সেদিন উ কেবল ভগবানই জানে...হেই মা দুগ্গা, তুমি কত দিলে মা গ,আমার বুক ট ভর্যে গেল.....’

পারুলবালার সেই একদিনের পাওয়া সারাজীবনের সঞ্চয় হয়ে রইল।

ভালবাসা বেশি নয়, একটুখানি পেলেই...সারাজীবন চলে যায় ওই পাওয়াতেই যদি তা পাওয়ার মত হয়। ​ ​ ​

পারুলবালার​ দুই নয়নের মধ্যে ধরা আছে সিধু। সেখানে আর কারো ছায়া পড়েনি কখনো। ​

■ পরিচয়

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.