x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

বাবলু কাজি

sobdermichil | অক্টোবর ২১, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

মহত্ব

হাসপাতালে​ নাইট ডিউটি​ সেরে​ ডাঃ বোস হাসপাতালের গেটে এসে দেখেন​ একটাও টোটো নেই।​ গতরাতে দেওয়ালি ছিলো,নিশ্চয় সব​ রাত জেগে ভাগ্যপরীক্ষা ও খানা পিনা করে আজ বিশ্রাম নিচ্ছে। হঠাৎ দেখেন একমুখ দাড়িওয়ালা এক​ টোটো চালক দুজন যাত্রী সহ গেটের মুখে গাড়ি থামালো।

ডাঃ বোস নিজের গন্তব্যের উল্লেখ করে টোটোয় উঠতে যাবেন, টোটোওয়ালা সবিনয়ে বলল " ডাঃ সাহেব,আজ প্যাসেঞ্জার তেমন নেই,তাই দশ টাকার জায়গায় কুড়ি টাকা দিয়্যান, অনেকটা পথ যেতে হবে আপনাকে পৌঁছাতে।"

ডাঃ বোস " বেশ তাই পাবে" বলে আসনে বসলেন।

ভাঁড়শালা মোড়ের আগে কবরস্থানের কাছে কিসের ভিড় যেন,টোটোওয়ালা গাড়ি থামালো। " আরে এ তো মহিউদ্দিন,মাড়গ্রামে আমারই পাড়ারই লোক।"টোটো চালককের কথা শুনে তাকে দেখে যেন আহত লোকটির ধড়ে প্রাণ এলো। জানা গেল​ আহত মহিউদ্দিনকে দ্রুতগামী বাইকের কোনো ছোকরা ধাক্কা মেরে তুরন্ত পালিয়ে​ গেছে।​ ডাঃ বোস নেমে দেখেন হাঁটুর কাছে চরম আঘাত,হাড় ভেঙে গেছে বলে মনে হচ্ছে।এতক্ষণ লোকটার ক্ষতস্থানেই নজর ছিলো তাঁর।মুখের দিকে তাকিয়ে​ চমকে উঠলেন।লোকটিও ডাঃ বাবুর মুখের দিকে​ তাকিয়ে যেন বিদ্যুতের শক খেলো। ভিড়ের লোকগুলো একে একে কেটে পড়েছে এখন শুধু তিনজন। ডাঃ বোস টোটোওয়ালাকে বললেন​ শোনো আগে একে ইমারজেন্সি​ বিভাগে নিয়ে গিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করি।তারপর তুমি আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিও।তোমাকে আমি আরো কিছু টাকা বাড়তি দেবো।

দুজনে ধরাধরি করে লোকটিকে টোটোয় উঠাতেই​ সে বহু কষ্টে সিটে কাত হয়ে বসে​ ডুকরে কেঁদে উঠলো। টোটোওয়ালা ওকে সান্ত্বনা​ দিতে বলল" এত চিন্তা কিসের​ মহি,তুমি জলদি সেরে উঠবে।"

এবার মহিউদ্দিন​ কাঁন্না থামিয়ে বলল " আমি নিজের জন্যি কাঁদিনি​ ইশাক ভাই, মুনের খ্যাদে কান্দছি। এই ডাঃ বাবুকে আমি হাসপাতালে​ একদিন খামোকা অপমান করে বড় গুনাহ করেছি।"

ডাঃ বোস বললেন " বাদ দাও ওসব কথা,এই যে তোমার চোখের জল এলো এতেই​ সব গুনাহ ধুয়ে গেল।"

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.