x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

অর্ণব সাহা

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | | মিছিলে স্বাগত



শীতকাল, সুপর্ণা ইত্যাদি

১।

স্টেডি বয়ফ্রেন্ড। তবু স্ট্যাটাস 'সিংগল' লেখে
যেসব মেয়েরা
আমি তাদের ঘেন্না করি
নিয়মমাফিক খাওয়া-চোদা-ডিস্ক-রেস্তোঁরায়
বিকল্প সঙ্গীর খোঁজে উৎকীর্ণ খরগোশের গ্রীবা
আত্মায় মিশে থাকা পয়মন্ত বেড়াল
আর কালশিটে আকাশ থেকে গলায় দড়ি
লটকে-পড়া চাঁদ
ওরা জ্যোৎস্নার দিকে আড়চোখে জিভ ভ্যাঙায়
ডাইনে-বাঁয়ে দোল খায় মায়াবী লাশ...

গড়ফা স্টেট ব্যাংক মোড় পেরোতেই শহিদবেদি
১৯৭১। ঘাতক পুলিশের হাতে খুন হয়েছিল
তিন যুবক
টেক-স্যাভি ছেলেমেয়েরা ক্রিসমাসের উচ্ছল
রাতে বেরিয়ে পড়েছে 'ডিজে-নাইট'
কভার করবে বলে
'শীতের সনেটগুচ্ছ' নেই। স্পর্ধা উধাও। একাকী
চিলেকোঠায় দুয়েকটা নির্বোধ আরেকবার
ছুঁতে চাইছে বন্দুক। তাদের কাটা আস্তিন
ভাসে হাওয়ায়!

২।

একলা মানুষ জলের কিনারে হাঁটে
মৃত জল শুধু কালপুরুষের ছায়া

হরতুকি বনে পাতা ঝরে যায় রোজ
তারা খসে পড়ে ব্যথাতুর ভোররাতে

কার যেন এসে দাঁড়াবার কথা ছিল
ত্রিফলার আলো মাথা হেঁট করে রাখে

গতজন্মের ঠিকানা বদলে গেছে
ভুল দরজায় কড়া-নেড়ে-যাওয়া লোক

বোঝেনি, কপাট খুলবে না কোনো দিন
জং-ধরা তালা, ভাঙা নেমপ্লেট আজও

অপরূপ এক পলাতক রূপকথা
এই পৃথিবীতে ফিরে আসবে না আর!

৩।

তোমার কবিতা পাঠ শুনিনি কখনও
আধঘন্টা দেরি করে ঢুকেছি সভায়

তোমার কথা-বলায় দিগন্তের তারা-খসা আলো
আমি সে আলোয় পুড়ে গেছি
কবে তুমি হাত ধরবে? অসুখের দিন
কবে তুমি মেলে দেবে ঠান্ডা জলপটি!


ঠিকানা আমার, মুছে গেছে :
আজ সেই ঘরহারা ক্লান্ত পথিকের দরবারে
তুমি এসো শান্ত ঝড়, লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাও...

৪।

তোমার হৃদয় এক প্লাস্টিকের খোল
"মেড ইন চায়না" লেখা। ভিতরে সার্কিট
ভরা আছে!

এসেছে শীতকাল। ফাটা তোশকের নীচে
কুঁকড়ে শুয়ে আছে আত্মা...যে আমায়
কার্নিশের ধারে
ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিতে চেয়েছিল,

সে কোথাও নেই, ছেঁড়া পতাকা দিগন্তে দোল খায়!

আমি অন্ধকারের সন্তান
আমরা নিঃস্বতার ছেলেমেয়ে...

৫।

ভেসে-যাওয়া মুখবন্দী বোতলে হাতচিঠি রাখা ছিল
যে-রংমশাল, তার আগুনের ফুলকি নিভে গেছে
মুহূর্ত, অপেক্ষা থেকে খসে-পড়া দুয়েকটা তারা
উল্কা হয়ে জ্বলে যায়। ঘটে-যাওয়া মুহূর্তের ভুল

আবার তারই কথা ছাইয়ের স্তূপের নীচ থেকে
তুলে আনতে চায়। ওই চুল-ত্বক, অপার্থিব হাসি
স্বপ্নে হাতড়াই। দম-আটকে মরে যাবার আগে
আমার শেষরাতের ঘুম ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়...




■ লেখক পরিচিতি

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.