x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

■ স্বপন পাল / তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
স্বপন পাল / তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে

জগতে যখন এসেছিস, তখন একটা দাগ রেখে যা। স্বামী বিবেকানন্দের এই উক্তিটুকু আমরা বেশীরভাগ সক্ষম মানুষেরা আত্ম ও আত্মজন পরিপোষণে বেশ বিবেচনার সাথে কাজে লাগাই। সক্ষম বলতে সেই সব ভাগ্যবান মানুষের কথা বলছি যাঁরা স্বোপার্জনের দ্বারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। অর্থাৎ চাকরি হোক বা ব্যবসা করে তিনি স্বনির্ভর। এখন তাঁর জন্মদাতা বাবা-মা অথবা সমতুল্য কিছু আত্মজন থাকবেন আবার স্বনির্ভর হওয়ার পরবর্তীকালে প্রথানুসারে তাঁর সংসার জীবনে অনুপ্রবেশ ও অবিকল্প ভাবে সংসার বৃদ্ধি পাবে সন্তানাদি উৎপাদনে।

এটুকুর মধ্যে বিশেষ আর কিই বা বলার আছে। এরপরই আসল খেল শুরু হয়।

সন্তানাদির মধ্যে কন্যা জন্মে থাকলে তার বিবাহাদির জন্য আগামী পঁচিশ বছর পর বাজারদর কোথায় যেতে পারে ভেবে অনেক হিসেব নিকেষ করে তিনি নানা সেভিংস স্কিমের দ্বারস্থ হবেন। এ ব্যাপারে তাঁকে যুক্তি ও পরামর্শ দেবার মানুষ ও কোম্পানির অভাব হবে না। এবার আছে শিক্ষা। আধুনিক শিক্ষা যে কোন বাঁকে সে
কি দেখাবে, ভুক্তভোগীরাই জানেন। তারপরও একটা যেমন তেমন কাজ জোটাতে গলদঘর্ম, না পারলে ব্যবস্থাকে গাল পেড়ে হীনমন্যতায় ভুগে মানসিক ভাবে
অসুস্থ হয়ে পড়া ছাড়া প্রায়শ করার কিছু থাকে না। এরপর আছে সুস্থ থাকার খরচ। ভোগ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে উপভোক্তাকে অসুস্থ করে আর এক বিজ্ঞাপনের
দিকে ঠেলে দেওয়া, যেখানে বিজ্ঞাপিত হচ্ছে নেতাজির ভঙ্গিতে, সারা দেশ যখন ঘুমোয় তখন তাঁরা জেগে থাকেন আপনার বিকল হৃদয়টির অপেক্ষায়। শুধু বিজ্ঞাপনে বলা নিষেধ, কত লক্ষ টাকা ক্যাশ ডাউন না করলে গেটের বাইরে খাবি খেয়ে ইহলীলা সংবরণ করতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য খরচ চালাবার ক্ষমতা সারা দেশের জনসমষ্টির কত শতাংশের আছে তা হিসাব করলেই বোঝা যাবে দুধে জল না জলে দুধ।

আর আছে বার্ধক্যে যখন সক্ষমতা লুপ্ত হবে তখনকার সময়ে জীবনধারণে যে পরনির্ভরশীলতা তা ক্রয়ের খরচ। কারণ কার পরম-আয়ুটি যে কবে টা-টা করবে সে কেউ জানে না। নবতিপর বৃদ্ধও ডাক্তারবাবুর হাত ধরে বলছেন, ডাক্তারবাবু এ যাত্রায় বেঁচে যাবো তো ? ফ্রান্স থেকে নাতনি আসছে, বাড়ি ফিরবো তো ? তাই এই শেষের চক্রটির জন্য কোথায় কতো ইনভেস্ট করে রাখতে হবে সে এক জটিল অঙ্ক।

​এতো গেল একটা তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষের জীবন-ভাবনা ও তার ফলভোগ।

মহাপুরুষ যখন বলেই গেছেন, একটা দাগ রেখে যাওয়ার কথা, সংসারে জড়িয়ে মড়িয়ে থাকা গোলা পাবলিকটির কানে সেটা একরকম ব্যাখ্যা নিয়ে অনুপ্রবেশ করলো। সে
বুঝলো আমি মরে গেলে, আমার বাড়িটা তো থাকবে, ছেলেপুলেরা থাকবে, জানবে বাবা ছাদের ব্যবস্থা করে গেছে। ব্যাঙ্কে থাকা টাকার অবশিষ্টাংশ ছেলে-মেয়েরা
তাদের ছেলে মেয়ের অর্থাৎ নাতি-নাতনির পড়াশোনায় ব্যয় করবে আর ভাববে বাবা রেখে গিয়েছিল তাই অসময়ে উপকারে এলো। ধন্য আশা। কুহকিনিই হবে, কারণ শ্রাদ্ধকর্ম হবার আগেই বাড়ির দরোজা বা গেটে লাগানো নেমপ্লেট বদলে গিয়েছে।

তারপর কয়েক বছর কাটতেই ঘরের দেয়ালে ঝোলানো শুকনো মালা সমেত ফ্যাকাশে হয়ে আসা ছবিটা কাত হয়ে ঝুলতে দেখা যাবে। কোনদিন অসতর্কতায় বা দু’টি টিকটিকির ঝগড়া সমলাতে না পেরে মেঝেয় সশব্দে নেমে আসা ও ছড়িয়ে পড়া কাচের জন্য অসাব্যস্ত হয়ে পড়া আর যাই হোক শ্রদ্ধার সঙ্গে সে আচরণের সুদূরতম সম্পর্কও নেই এ কথা হলফ করে বলা যায়। তবে হ্যাঁ, এতকাল দেয়ালে থাকার কারণে একটা দাগ তো থেকেই যায় দেয়ালে, তা সে যত হাল্কাই হোক না কেন। পরলোক গত আত্মাটির এতকাল পর হয়তো সম্বিত হয়েছে, (অবশ্য আত্মার সম্বিত হয় কি না এবিষয়ে আমার প্রণম্য সাহিত্যিক শ্রী পরশুরাম কিঞ্চিৎ আলোকপাত করতে পারতেন, কিন্তু দূর্ভাগ্য, তাঁর পাদদেশ অব্দি পৌঁছাতে পারিনি) যে, তিনিও তো এমনটিই করেছিলেন তাঁর পিতা-মাতৃগণের দেহান্তের পর।

​সাধারণ মানুষ নিজেদের ছা-পোষা বলে বিনয় নাকি অক্ষমতা প্রকাশ করে বোঝা যায়না, হয়তো চতুর ভাবে পালিয়ে বেড়ানোর ফিকির এটা। নিজের সংসার ও
ছানাপোনাদের দেখভাল করতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থাকেই হয়তো অগ্রাধিকার দিয়ে অগ্নিবলয়ের বাইরে থাকা ও দুর্যোগ প্রশমিত হলে সবার আগে নোলা বাড়িয়ে
মধু খাবার দলে আমরা অধিকাংশই। তাই বৃত্তের, আসলে কুয়োর বাইরে গিয়ে আর দাগ রেখে আসা হয়না কখনোই। তবে যে কাজটা কুয়োর ভিতরে থেকেও করা যায় তাও তো করে উঠতে পারিনা। কি সেটা ? সেটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। একটু ত্যাগ স্বীকার করা। কেমন ত্যাগ ? অসত্য ত্যাগ। মিথ্যা বলতে পারতাম অসত্যকে।

কিন্তু মিথ্যাকে ত্যাগ করতে বললে অনেকের অন্তর আহত হতে পারে। সগর্বে অনেকে বলবেন, তিনি মিথ্যা বলেন না। না, আমি মিথ্যা বলার কথা আলোচনায় আনছি না। আর আমার আলোচ্য বিষয়টি কোন হিতোপদেশ নয়। অসত্য কথাটির যেমন ব্যাপকতা
আছে, আমার মনে হয়েছে মিথ্যার তা নেই। আচরণ যদি অসত্য হয় তবে মিথ্যা তার একটা ক্ষুদ্র অংশ অধিকার করে। আমরা নিজেদের কোন এক নির্জন মূহুর্তে অহংশূন্য হয়ে যদি বিচার করি, যেন আমার বিবেক বিচারক, আর আমার ভাবনা, কাজ, বক্তব্য সব মিলিয়ে যে আমি সে দাঁড়িয়ে কাঠগড়ায়, তখন স্পষ্ট হবে আমি কতটা ভান করি অর্থাৎ অসত্য আচরণ করে থাকি। এমনকি পরিবেশ ও পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে যে আড়াল খুঁজি তাও কতটা পলায়নপর মনোভাবের কারণে, যার অর্থ অসততা। অসততা নিজের সাথে, পরিবারের সাথে, পরিপার্শ্বের সাথে এবং দেশের সাথে।

অনেকেই এখানে ভয়কে আশ্রয় করেন। কারণ ভয় এমন একটা ব্যাপক বস্তু যা মেরুদণ্ডীকে অমেরুদণ্ডী বানিয়ে দিতে পারে। আর এ কথাটা ক্ষুদ্র থেকে প্রচণ্ড ক্ষমতাবান সকলেই জানে ও যে যার মতো প্রয়োগ করে। ভয় পেয়ে যাওয়া মানুষ তার বিক্ষুব্ধ বিবেককেও বাঁকিয়ে চুরিয়ে একটা খাপে ভ’রে ফেলে, ভাবে এই বেশ, কি কাজ বাপু বৃহতের বিরুদ্ধাচরণ করার, ওরা তো ঝড়ের মুখে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নিয়ে যাবে। সেও তো মিথ্যে নয়। কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে ? অতএব খোঁড়াখুড়ি বন্ধ করো এবং খেয়ে পরে বেঁচে-বর্তে থাকো। ব্যস জন্ম নিলো সমঝোতা বা compromise, যা কিনা সর্ব রোগের আদি। এতে মেরুদণ্ড একটু একটু করে ঝুঁকতে ঝুঁকতে বংশবাহিত হয়ে একসময় শুধুই সরিসৃপ প্রসব করবে। যার ফণাটাও থাকবেনা। মসৃণ তুলতুলে সরিসৃপ। আর এটাই চায় সমাজের ক্ষমতালোভী, সর্বাধিক সুবিধাভোগী কতিপয় মানুষ। রাজনীতি আর অন্যায্য ব্যবসা করা যাদের জীবিকা। এরা গিলে ফেলবে দেশ ও আস্ত ধরিত্রী। কেউ বলবেনা কিছু, রুখে দাঁড়াবেনা। কারণ ওই সমঝোতা। এক মতবাদ যাবে, জন্ম নেবে আর এক মতবাদ। ভিতরের শোষণনীতি বদলাবে না।

আবার শিবের গাজন। আসলে জীবকুলের বংশগতি বোঝাতে চেয়েছিলাম। আমরা যেযে অন্যায্য বিষয়ে সমঝোতা করছি, মুখবন্ধ রাখছি নিরাপত্তার অভাবের কথা ভেবে কিম্বা আপাত প্রাপ্তিটুকুর স্রোতে লকগেট নেমে আসার দুশ্চিন্তায়, তখন আসলে আমাদের মেরুদণ্ডের কশেরুকা থেকে এক এক টুকরো হাড় খুলে ফেলছি, বিক্রি করছি, বিনিময় করছি। নিজের অজান্তে এই খবর পাড়া প্রতিবেশী নয়, খবর পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের শরীরের কোষের অন্তর্নিহিত জিনে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সেখানে প্রোটিন অনু কপি করে রাখছে code-এর মাধ্যমে ডিএনএ তে। বংশগতিতে তা বইয়ে দেবে, বংশপরম্পরায় তা ছড়িয়ে পড়বে পরের প্রজন্মে। ঠিক যেমন বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে আমাদের প্রাকৃত জীবন, বদলেছে আহার-আবাস-আচ্ছাদনের অভ্যাস। এসেছে রুচি, এসেছে জানবার আগ্রহ ও জ্ঞান।

তেমনি এসেছে নানাবিধ স্বার্থরক্ষার তাগিদ। ভয় তো তার অনুসঙ্গ মাত্র। ভয় নেই সেই মানুষের, যে অন্যায্য কিছু চায় না। নিয়মের ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে চায় না অপ্রাপনীয় ঘাস খেতে। সেই মানুষেরই ভয়হীন থাকার সুযোগ আছে। যে জানে সে অন্যায় করছে, অপরের প্রাপ্য চুরি করে বা কেড়ে অথবা ভুল বুঝিয়ে ভোগ করছে, তাকে নানা কারণে দেশের আইন হয়তো দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিতে পারলো না কিন্তু অন্যায়কারীর মন জানে নিজের অসততা। ব্যস মগজের নির্দিষ্ট কেন্দ্র তার কাজ শুরু করে দিলো। তবে এমন নয় যে মস্তিষ্কের ওই কেন্দ্রটি শুধু তা অসততার কোড তৈরী করছে, সে তো বিভিন্ন উদ্দীপনের সংকেতের গ্রাহক মাত্র।

মানুষটি যদি কোনদিন এক অসহায় মানুষ কিম্বা পশু-পাখির শুশ্রূষা করেছে স্বার্থহীন ভাবে, কিম্বা আর্তের পাশে দাঁড়িয়েছে, সহায়তা দিয়েছে বাঁচার, অন্ন তুলে দিয়েছে নিরন্নের মুখে এবং সবটাই করেছে ভানহীন অর্থাৎ মিথ্যাকে আশ্রয় করে নয়, তবে সেটার সংকেতও প্রোটিন অনুর সংগঠনে ডিএনএ তে উৎকীর্ণ হবে। সততা ও অসততা সবই বংশগতির মাধ্যমে পরের প্রজন্ম পেতে থাকবে তার নির্দেশ। ঝুঁকে যাওয়া, ভয় পাওয়া, মেরুহাড় বিকিয়ে দেওয়ার সংকেত এভাবেই এক বৃহত্তর নিবীর্য সমাজের জন্ম দেবে। উদাসীনতা, স্বার্থপরতা তৈরী করবে পি-পু-ফি-শু গোছের নব্য মানব সমাজ।

​তবে আশার কথা, মানবজাতির বৃহত্তর অংশ সুবিধাভোগী নয় এখনও। রাজনীতির মাড়াইকল যদিও এদেরই পিষে সুবিধাভোগের কার্যাবলী বজায় রেখেছে আর অতি অল্প অনুদান পাইয়ে দেবার প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বিশেষকে তুলে আনার বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। তবু বৃহত্তর মানবশক্তি এখনও বঞ্চনায় রয়েছে। আর সেটাই গড়বে আগামী পৃথিবীর ভাগ্য। ভয় পাওয়া, মেরুদণ্ডহীন মানুষ কতটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে তা বলা যাবেনা, কিন্তু একটা প্রজন্মকে আসতেই হবে শোধনের জন্য। অসত্য সরিয়ে, ঘোলাটে আলোর পুতিগন্ধময় পরিবেশ সংশোধন করে উজ্জল আকাশে, সুস্থ বাতাসে এক ঝাঁক পায়রা উড়বেই। সেদিন কবির কথা সত্যি হবে, নাইবা মনে রাখলে। সেই দূরের সুদিন আনার কাণ্ডারীরা যদি কবিকে ভুলেও যায় ক্ষতি কি তাতে। সত্য হয়ে তিনি তো বয়ে এসেছেন ওদের প্রাণে এবং কর্মে।

​ ​ ​◆ লেখক পরিচিতি ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​
Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.