x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

শঙ্খসাথি পাল

5 | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | | মিছিলে স্বাগত

আত্মসম্মান

লকডাউনের সময়ে বাড়ি ফিরেছিল পায়ে হেঁটে। সাতদিন সমানে হেঁটে তবে গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছিল আফিফা। ভাবে নি কখনও আবার আম্মু -ভাইয়ার মুখগুলো দেখতে পাবে। আসলে তখন কী করছে কেন করছে কিছুই ঠিকঠাক বুঝতে পারে নি। লকডাউনের ক'দিন পরই ওদের কারখানার মালিক বলে দিল, কবে আবার কাজ শুরু হবে তার ঠিক নেই — ততদিন মাইনাও জুটবে না। সবাই তখন পাগলের মত করতে লাগল। আফিফাও তো ঘর বাড়ি, আম্মু - ভাইজানকে ছেড়ে কাজে গিয়েছিল — বেশি টাকা পাবে বলে। এখন যদি মাইনা না পায়, থেকে কী হবে? আর চলবে বা কী করে?

তাই আফিফাও সবার সাথে বাড়ির পথ ধরল পায়ে হেঁটেই। সে যে কি কষ্ট — বলে বোঝানো যাবে না। কতজন অসুস্থ হয়ে পড়ল, কয়েক জন তো মরেও গেল রাস্তাতেই। আফিফা তো তাও ঘর অবধি আসতে পেরেছিল ।

কিন্তু এখন কী করবে? আম্মুর রান্নার বাড়িতে কাজে নিচ্ছে না। এক পয়সা রোজগার নেই — কী করে দিন তিনজনার চালাতে পারবে!

মাধব মন্ডলের কাছে এসেছে আজ তাই আফিফা। ওঁর তো অনেকরকম ব্যবসা — যদি কোনো কাজ জুটে যায়।

মাধব মন্ডলের আড়ত থেকে বেরিয়ে ইস্তক গা ঘিনঘিন করছে আফিফার। ছি! ছি! কি নোংরা — যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল ওকে। আজ রাতে আবার অফিসে দেখা করতে বলেছে। না খেতে পেয়ে মরে গেলেও অমন লোকের কাছে নিজেকে বিকোতে পারবে না আফিফা — কিছুতেই না।

মাঝে একটা সপ্তাহ কেটে গেছে। কোনো কাজ জোটে নি। সরকারের রেশন আর ঘরের সামনের এক চিলতে জায়গায় হওয়া সব্জি দিয়ে কোনো মতে দিন চলছে।আম্মুর বুকের ব্যথাটা বেড়েছে — কী যে করব এখন? তবে কী মাধব মন্ডলের কাছেই শরীর বেচতে হবে এবার!

"আপা, আপা — এই নাও" — 

একটা কুড়ি টাকার নোট এগিয়ে দেয় আফিফাকে ওর ভাই।

"কোথায় পেলে তুমি এই টাকা?"

"ঐ তো নারান-দা, আকাশ-দা, ফইজুল-ভাইয়া আছে না? ওরাই দিল"

"দিল, আর তুমি নিয়ে নিলে? লজ্জা করল না ভিক্ষা নিতে?", আফিফা চিৎকার করে রাগে-দুঃখে ।

"আমি তো এমনি এমনি টাকা নিই নি আপা। দুটো ফেলাট-বাড়িতে মাসকাবারি মাল পৌঁছে দিয়ে এসেছি দোকান থেকে। দাদারা বলেছে, এমন অনেক কাজ আছে — করলে পয়সা দেবে। আমি তোমার কথাও বলেছি আপা। তোমাকেও কাজের ব্যবস্থা করে দেবে বলেছে ওরা। ।" সজল চোখে উত্তর দেয় আফিফার ভাই।

ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে আফিফা। ছোট্ট ভাইটা বড় হয়ে গেছে।আত্মসম্মান খুইয়ে হাত পেতে না — খেটে রোজগার করতে শিখেছে।

নাহ, আর কোনো দ্বিধা নেই, সংশয় নেই — ঠিক রাত পেরিয়ে দিন আসবে।​


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.