x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

শঙ্খসাথি পাল

5 | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

আত্মসম্মান

লকডাউনের সময়ে বাড়ি ফিরেছিল পায়ে হেঁটে। সাতদিন সমানে হেঁটে তবে গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছিল আফিফা। ভাবে নি কখনও আবার আম্মু -ভাইয়ার মুখগুলো দেখতে পাবে। আসলে তখন কী করছে কেন করছে কিছুই ঠিকঠাক বুঝতে পারে নি। লকডাউনের ক'দিন পরই ওদের কারখানার মালিক বলে দিল, কবে আবার কাজ শুরু হবে তার ঠিক নেই — ততদিন মাইনাও জুটবে না। সবাই তখন পাগলের মত করতে লাগল। আফিফাও তো ঘর বাড়ি, আম্মু - ভাইজানকে ছেড়ে কাজে গিয়েছিল — বেশি টাকা পাবে বলে। এখন যদি মাইনা না পায়, থেকে কী হবে? আর চলবে বা কী করে?

তাই আফিফাও সবার সাথে বাড়ির পথ ধরল পায়ে হেঁটেই। সে যে কি কষ্ট — বলে বোঝানো যাবে না। কতজন অসুস্থ হয়ে পড়ল, কয়েক জন তো মরেও গেল রাস্তাতেই। আফিফা তো তাও ঘর অবধি আসতে পেরেছিল ।

কিন্তু এখন কী করবে? আম্মুর রান্নার বাড়িতে কাজে নিচ্ছে না। এক পয়সা রোজগার নেই — কী করে দিন তিনজনার চালাতে পারবে!

মাধব মন্ডলের কাছে এসেছে আজ তাই আফিফা। ওঁর তো অনেকরকম ব্যবসা — যদি কোনো কাজ জুটে যায়।

মাধব মন্ডলের আড়ত থেকে বেরিয়ে ইস্তক গা ঘিনঘিন করছে আফিফার। ছি! ছি! কি নোংরা — যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল ওকে। আজ রাতে আবার অফিসে দেখা করতে বলেছে। না খেতে পেয়ে মরে গেলেও অমন লোকের কাছে নিজেকে বিকোতে পারবে না আফিফা — কিছুতেই না।

মাঝে একটা সপ্তাহ কেটে গেছে। কোনো কাজ জোটে নি। সরকারের রেশন আর ঘরের সামনের এক চিলতে জায়গায় হওয়া সব্জি দিয়ে কোনো মতে দিন চলছে।আম্মুর বুকের ব্যথাটা বেড়েছে — কী যে করব এখন? তবে কী মাধব মন্ডলের কাছেই শরীর বেচতে হবে এবার!

"আপা, আপা — এই নাও" — 

একটা কুড়ি টাকার নোট এগিয়ে দেয় আফিফাকে ওর ভাই।

"কোথায় পেলে তুমি এই টাকা?"

"ঐ তো নারান-দা, আকাশ-দা, ফইজুল-ভাইয়া আছে না? ওরাই দিল"

"দিল, আর তুমি নিয়ে নিলে? লজ্জা করল না ভিক্ষা নিতে?", আফিফা চিৎকার করে রাগে-দুঃখে ।

"আমি তো এমনি এমনি টাকা নিই নি আপা। দুটো ফেলাট-বাড়িতে মাসকাবারি মাল পৌঁছে দিয়ে এসেছি দোকান থেকে। দাদারা বলেছে, এমন অনেক কাজ আছে — করলে পয়সা দেবে। আমি তোমার কথাও বলেছি আপা। তোমাকেও কাজের ব্যবস্থা করে দেবে বলেছে ওরা। ।" সজল চোখে উত্তর দেয় আফিফার ভাই।

ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে আফিফা। ছোট্ট ভাইটা বড় হয়ে গেছে।আত্মসম্মান খুইয়ে হাত পেতে না — খেটে রোজগার করতে শিখেছে।

নাহ, আর কোনো দ্বিধা নেই, সংশয় নেই — ঠিক রাত পেরিয়ে দিন আসবে।​


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.