x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শঙ্খসাথি পাল

5 | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ |

আত্মসম্মান

লকডাউনের সময়ে বাড়ি ফিরেছিল পায়ে হেঁটে। সাতদিন সমানে হেঁটে তবে গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছিল আফিফা। ভাবে নি কখনও আবার আম্মু -ভাইয়ার মুখগুলো দেখতে পাবে। আসলে তখন কী করছে কেন করছে কিছুই ঠিকঠাক বুঝতে পারে নি। লকডাউনের ক'দিন পরই ওদের কারখানার মালিক বলে দিল, কবে আবার কাজ শুরু হবে তার ঠিক নেই — ততদিন মাইনাও জুটবে না। সবাই তখন পাগলের মত করতে লাগল। আফিফাও তো ঘর বাড়ি, আম্মু - ভাইজানকে ছেড়ে কাজে গিয়েছিল — বেশি টাকা পাবে বলে। এখন যদি মাইনা না পায়, থেকে কী হবে? আর চলবে বা কী করে?

তাই আফিফাও সবার সাথে বাড়ির পথ ধরল পায়ে হেঁটেই। সে যে কি কষ্ট — বলে বোঝানো যাবে না। কতজন অসুস্থ হয়ে পড়ল, কয়েক জন তো মরেও গেল রাস্তাতেই। আফিফা তো তাও ঘর অবধি আসতে পেরেছিল ।

কিন্তু এখন কী করবে? আম্মুর রান্নার বাড়িতে কাজে নিচ্ছে না। এক পয়সা রোজগার নেই — কী করে দিন তিনজনার চালাতে পারবে!

মাধব মন্ডলের কাছে এসেছে আজ তাই আফিফা। ওঁর তো অনেকরকম ব্যবসা — যদি কোনো কাজ জুটে যায়।

মাধব মন্ডলের আড়ত থেকে বেরিয়ে ইস্তক গা ঘিনঘিন করছে আফিফার। ছি! ছি! কি নোংরা — যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল ওকে। আজ রাতে আবার অফিসে দেখা করতে বলেছে। না খেতে পেয়ে মরে গেলেও অমন লোকের কাছে নিজেকে বিকোতে পারবে না আফিফা — কিছুতেই না।

মাঝে একটা সপ্তাহ কেটে গেছে। কোনো কাজ জোটে নি। সরকারের রেশন আর ঘরের সামনের এক চিলতে জায়গায় হওয়া সব্জি দিয়ে কোনো মতে দিন চলছে।আম্মুর বুকের ব্যথাটা বেড়েছে — কী যে করব এখন? তবে কী মাধব মন্ডলের কাছেই শরীর বেচতে হবে এবার!

"আপা, আপা — এই নাও" — 

একটা কুড়ি টাকার নোট এগিয়ে দেয় আফিফাকে ওর ভাই।

"কোথায় পেলে তুমি এই টাকা?"

"ঐ তো নারান-দা, আকাশ-দা, ফইজুল-ভাইয়া আছে না? ওরাই দিল"

"দিল, আর তুমি নিয়ে নিলে? লজ্জা করল না ভিক্ষা নিতে?", আফিফা চিৎকার করে রাগে-দুঃখে ।

"আমি তো এমনি এমনি টাকা নিই নি আপা। দুটো ফেলাট-বাড়িতে মাসকাবারি মাল পৌঁছে দিয়ে এসেছি দোকান থেকে। দাদারা বলেছে, এমন অনেক কাজ আছে — করলে পয়সা দেবে। আমি তোমার কথাও বলেছি আপা। তোমাকেও কাজের ব্যবস্থা করে দেবে বলেছে ওরা। ।" সজল চোখে উত্তর দেয় আফিফার ভাই।

ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে আফিফা। ছোট্ট ভাইটা বড় হয়ে গেছে।আত্মসম্মান খুইয়ে হাত পেতে না — খেটে রোজগার করতে শিখেছে।

নাহ, আর কোনো দ্বিধা নেই, সংশয় নেই — ঠিক রাত পেরিয়ে দিন আসবে।​


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.