x

প্রকাশিত

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

কাজী রুনালায়লা খানম

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ |

কাজ দে ...

কবি রফিক আজাদ বলেছেন "ভাত দে হারামজাদা তা না হলে মানচিত্র​ ছিঁড়ে খাবো "...এক অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে কবি অনুভব করেছিলেন এক সর্বগ্রাসী ক্ষুধা ক্রমশ গ্রাস করছে সমগ্র বাংলাদেশেকে । ঠিক তখনই রফিক আজাদের কলম ঝলসে উঠেছিলো এই শাণিত কবিতায়। ক্ষুধাতাড়িত দেশবাসীর অন্নের দায়িত্ব প্রতিটি জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের ।নাগরিকগণ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শাসক নির্বাচন করেন এবং কর দেন সেজন্যই যাতে সকল নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরিত হয়। রাষ্ট্র​ যখন তার দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয় তখন তাকে প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড়াতে হয় বৈকি। ক্ষুধার কোনো দেশ কাল নেই ।নেই কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ড ।করোনা পরবর্তী আবহে আবিশ্ববাসী ক্রমশ সেই​ ক্ষুধার শিকার।আমার দেশ ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়।

ভারতবর্ষের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মানুষের ক্ষুধা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এ কথা এখন শিশুও জানে ।একটি সফল রাষ্ট্র তার নাগরিককে স্বাবলম্বী করবে, স্বয়ম্ভর করবে এটাই কাম্য।মানবসম্পদে ঋদ্ধ ভারতবর্ষও পারতো স্বয়ম্ভর হতে।যদি না রাষ্ট্র এই মানবসম্পদের সুচারু ব্যবহার করতে পারতো।জনমুখী পরিকল্পনা নিতে পারতো ।কিন্তু ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য এখানে মেধার অপচয় হচ্ছে পরিকল্পনার অভাবে , সদিচ্ছার অভাবে।

স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষ এতোটা অন্ধকার আগে কখনো দেখেনি ।

ডিমানিটেইজেশনের নামে সাধারণের সাথে প্রতারণা করে কালো টাকা ফেরত তো আনতে পারলোই না বরং কালোবাজদের হাত আরো মজবুত করলো। জি এসটির নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মেরুদন্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে কর্পোরেট সেক্টরকে তোল্লাই দিয়ে একটা মুষ্টিমেয় সংখ্যক মানুষের আস্থাভাজন হতে গিয়ে দেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিলো । তখনও ভারতবাসী সহনশীল । আস্থা রাখলো গণতন্ত্রের পবিত্রতায় । কিন্তু এই অযোগ্য ও বিশ্বাসঘাতক সরকার দেশবাসীর সঙ্গে শুরু করলো নতুন খেলা। যখন লাখে লাখে শিক্ষিত যুবক যুবতী কাজের সংস্থান করে তাদের মেধা ও কর্মকুশলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা তখন রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন সরকার দেশবাসীকে জাতের নামে লড়িয়ে দিয়ে গোপনে কর্পোরেটদের হাতে বেচে দিচ্ছে একটার পর এক রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এই করোনা পরিস্থিতিতেও প্যানডেমিক রোধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার গোপনে কুড়িটি সংস্থাকে বেচে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে। স্বাধীনতাপূর্ব ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসকের চেয়েও ভয়ানক ধূর্ততায় মেধার চর্চা নয় ,নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের উদ্ভাবন নয় যুবশক্তিকে লড়িয়ে দিয়ে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষের চাষ করছে ,ভাত নয় জাতের আফিং হাতে ধরিয়ে দিয়ে।যখন বিশ্বের নিরিখে করোনা আক্রান্তের স্থান একনম্বরে পৌঁছোচ্ছে তখন​ প্রতিরোধের উপায় না খুঁজে ভোট রাজনীতির গেম খেলছে নির্লজ্জ উদাসীনতায়।রেলওয়ের চাকরীর নামে ফর্ম ফিল আপ করিয়ে লক্ষ লক্ষ বেকারের সাথে প্রতারণা করছে​ প্রায় দুইবছর ধরে। প্রায় কুড়ি হাজার রেলওয়েকর্মী ছাটাই করার পরিকল্পনা নিয়ে,​ ​ ত্রিপুরায় দশহাজার শিক্ষক ছাটাই এর অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অস্তিত্বকে বিপন্ন করেছে।

আর আশ্চর্যজনকভাবে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ নিশ্চুপ।বিচারব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করতেও দ্বিধান্বিত নয় এই সরকার ।ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির জোরে কিনে নিয়েছে বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলোকে ।সাধারণের প্রশ্ন করার অধিকারকে খর্ব করছে যেনতেন প্রকারেণ। প্রশ্ন করলে লিঞ্চিং! প্রশ্ন করলে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দাও। প্রশ্ন করলে স্তব্ধ করে দাও গলার স্বর।এই তো চলছে! যে মিডিয়া হাউসগুলো দেশের করোনা সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা,যাদের চব্বিশ শতাংশ জিডিপি কমে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করার কথা ,প্রশ্ন করার কথা ব্রেনড্রেন রোখার বিষয়ে সরকারী প্রকল্প নিয়ে, কৃষকের আত্মহত্যা নিয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অগ্নিমূল্য নিয়ে ।তারা আজ টি আর বাড়াচ্ছে রিয়া চক্রবর্তী আর সুশান্ত সিং রাজপুত নিয়ে ! কঙ্গনা রানাওয়াত নিয়ে! সরকার বেপথুমান হলে বিচারবিভাগ ,সংবাদমাধ্যম জনস্বার্থে প্রশ্ন করবে, পথ দেখাবে এটাই তো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দস্তুর! বেকারত্বে ভারত বিশ্বে চতুর্থ এ নিয়ে প্রশ্ন করার মতো মেরুদন্ড নেই কোনো তাবড় মিডিয়া হাউসের।শুধু মিডিয়া নয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকেও কিনে রেখেছে এই ধরিবাজরা।এক একটা টুইট পিছু চল্লিশলক্ষ থেকে কোটি টাকার খেল।অভিনেতা অভিনেত্রীরাও বিকিয়ে যায় কী অনায়াসে।

আলোকিত নেতৃত্বের অভাব নেই এ দেশে ।কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে এভাবেই তলিয়ে যাবে দেশ ।দেউলিয়া অর্থনীতি ভ্রষ্ট রাজনীতির আবাদ করে দেশটাকে জাহান্নামে পাঠানোর চেষ্টা এই সময় রুখে দিতে না পারলে ভারতবাসীর এটাই হবে সবচেয়ে বড় ভুল।যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ।ঠিকভুল বেছে নিয়ে প্রশ্ন করার মেরুদন্ড সোজা রুখে দাঁড়াতে হবে । 

ভিক্ষা নয় ছিনিয়ে নিতে হবে অধিকার। 

শাসকের চোখে চোখ রেখে বলতে হবে কাজ দে ...তা না হলে মানচিত্র ছিঁড়ে খাবো ।


◆ লেখক পরিচিতি

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.