x

প্রকাশিত

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

■ রাহুল ঘোষ / রাতের ইনবক্স

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | |

রাতের ইনবক্স

উঁহু, শিরোনাম পড়েই চমকে যাওয়ার কিছু নেই। রাতের ইনবক্স মানে যে রাতেরই কথোপকথন, তাও সর্বদা জরুরি নয়। আসলে, 'ইনবক্স' শব্দটার গায়েই একটা রাতের গন্ধ আছে। একটা নীলাভ মায়া। কিছুটা গোপন। কিন্তু দিনদুপুরেও এই গোপনীয়তার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন, ফেসবুক-পোস্টে কোনো কথার পিঠে একজন আরেকজনকে আচমকা বলতে পারে, ইনবক্সে আসুন / এসো / আয়; ইত্যাদি-প্রভৃতি। অর্থাৎ, এবার এমন কিছু কথা হবে, যা প্রকাশ্যে বলা যাচ্ছে না। অথবা, অন্তত একজন বলতে চাইছে না। এছাড়াও ব্যক্তিগত পরিচিতির স্তরে থাকা মানুষজন ইনবক্সে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সে-সব নেহাতই কেজো কথা হতে পারে। অকাজেরও। আর হৃদয়ঘটিত কথাও যে বিলক্ষণ হতে পারে, তারও কি আলাদা উল্লেখ দরকার? এই প্রসঙ্গে 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' হয়ে, অশালীন রকমের বাড়াবাড়ি করে, স্ক্রিনশট-কেস খেয়ে যাওয়া পাবলিকদের আনছি না।

যাইহোক, মানুষের জীবনে ইনবক্সের গুরুত্ব অপরিসীম! এই 'গোপেন' (এমনিতে গোপন, কিন্তু চাইলেই যাকে ওপেন করা যায়) বাক্সটি যে জীবনে আমাকে চেনা-অচেনা-চিরচেনা-আধচেনা-অল্প চেনা-স্বল্প চেনা, সবরকম মানুষের কতরকম রূপের সামনে দাঁড় করিয়েছে; সেকথা লিখে শেষ করা যাবে না! তবুও ইনবক্সের সাম্প্রতিক যে-ঘটনায় বিস্তর আমোদ লাভ করিয়াছিলাম, আপাতত সেই ঘটনাটির উল্লেখ করিতে ইচ্ছা করি।

মাসদুয়েক আগের একদিন। এক অচেনা ভদ্রলোক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন। দেখলাম, উনি একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ইদানীং বন্ধুতা গ্রহণে আমি ইতস্তত করি খুব। আমার পাবলিক রিলেশন অত্যন্ত খারাপ। যথেষ্ট ভালো না-লাগলে, কোনো লেখার ঢালাও প্রশংসা করতে পারি না। সত্যিকারের হাসি না-পেলে মন খুলে হাসতে পারি না। প্রিয়তার অন্যতম আধুনিক যে-শর্ত, কোনো লবিতে সাফল্যের সঙ্গে জুড়ে থাকা; তাতেও আমার অপারগতা সর্বজনবিদিত। অতএব ইহাতে কিছুমাত্র আশ্চর্য নাই যে, তাহারা আমাকে ইগনোর‍্যান্ট এবং / অথবা ইগোয়িস্টিক বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকে। ঠিক একই কারণে সাধারণত কাউকে বন্ধুতার প্রস্তাব পাঠানোও বন্ধ করেছি। বরং কোনোভাবে যদি জানতে পারি, কোনোকালে কাউকে সে-প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম এবং তিনি এখনও তা গ্রহণ করে উঠতে পারেননি; শশব্যস্ত হইয়া তাহা বাতিল করিয়া থাকি।     

তবুও যে উপরোক্ত সম্পাদক মহাশয়ের প্রস্তাবটি গ্রহণ করলাম, তার একটা বিশেষ কারণ তো নিশ্চয় ছিল। আমার এক চিরচেনার সঙ্গে তাঁর সখ্য। কিন্তু তার কথা এখানে আলোচ্য নয়। আলোচ্য হলো, মাননীয় সম্পাদক এবং আমি 'বন্ধু' হয়ে গেলাম। তবে কোনো কথাবার্তা হলো না। হওয়ার কথাও অবশ্য ছিল না। দিন-পনেরো পরে, উনি নিজের পত্রিকার একটি বিজ্ঞপ্তির ছবি-সহ ইনবক্সে আবির্ভূত হলেন। কিন্তু একটিও শব্দ খরচ করলেন না। বিজ্ঞপ্তিটি ইনবক্সে গুঁজে দিয়ে অন্তর্হিত হলেন। এতে ঠিক কী বোঝা গেল? তিনি কি আমাকে লেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন? তাহলে তো দুই-একটি কথাও লিখতেন! সেটাই দস্তুর। সেটাই সৌজন্য। আমন্ত্রিত লেখকদের সঙ্গে এইটুকু তো করাই হয়ে থাকে! আমরা লিখতে এসে, এভাবেই পেয়ে এসেছি। পত্রিকা সম্পাদনা করতে গিয়ে, নিজেরাও বরাবর করে এসেছি। আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে ইহার অধিক কুলাইলো না। শুধু বুঝিলাম, কমলবনে আরও একটি মত্ত হস্তী ঢুকিয়া পড়িয়াছে। অতঃপর আমিও কোনোরূপ বাক্যব্যয় না-করিয়া একটি জোড়হস্ত ইমোজি দিয়ে তাঁহাকে নমস্কার জানাইলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ উদিত হইয়া একটি বিশালাকৃতি থাম্বস-আপ দেখাইয়া পুনরায় অন্তর্হিত হইলেন।

ব্যাপারটা এরপরে মনেই ছিল না আর। একে তো তিনি একটিও শব্দ উচ্চারণ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। তাছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি কবিতা, পাঁচটি অণুকবিতা ইত্যাদি লম্বা ফরমাইশ ছিল। খুব আন্তরিকভাবে কোনো সম্পাদক একটি মাত্র কবিতা বা গদ্য লিখতে বললেও, আমি হামেশাই নির্ধারিত সময়ে সে-সব পাঠিয়ে উঠতে পারি না। সে আমার আলস্য। এবং একান্তই নিজস্ব ব্যর্থতা। সুতরাং এই আমি, অণু বা পরমাণু যে-কবিতাই হোক, তিনটি বা পাঁচটি একসঙ্গে পাবো কোথায়! অতএব বিষয়টা ভুলে মেরে দেওয়াই ছিল স্বস্তির। কিন্তু ফেসবুক অনেকটা সমুদ্রের মতো। সমুদ্রের জলে ভেসে যাওয়া জিনিস ফিরিয়ে দেওয়ার মতো, সবকিছু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সামনে এনে দেয়। তাই অন্যত্র ওই মাননীয় সম্পাদকের উপস্থিতি দেখে, তাঁর সেই ইনবক্স-আচরণের কথা মনে পড়ে গেল। অতঃপর কিঞ্চিৎ কৌতুকবশত তাঁহার প্রোফাইলে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রবেশ করিলাম। কিন্তু হায়, এ কী দেখিলাম! তিনি যে ইতিমধ্যে আমাকে অবন্ধু করিয়াছেন! 

এখন প্রশ্ন হলো, ওই মাননীয়টি আমাকে বন্ধুতার প্রস্তাব পাঠাইয়াছিলেন কেন? পাঠাইয়াছিলেন যদি, তবে আমার একটি আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ নমস্কার সত্ত্বেও অবন্ধু করিলেন কেন? অন আ সিরিয়াস নোট, তাহলে কি তিনি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন? 'ফ্রেন্ডস অনলি' করে রাখা বিশেষ কোনো লেখা বা ছবি বা তথ্যের সন্ধানে? নেওয়া হয়ে গেছে, তাই চলে গেছেন? তাহলে কি এবার থেকে সম্পাদকদের বন্ধুতা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে?

(ভাষার গুরুচণ্ডালী পাঠকের নিজগুণে মার্জনীয়)

■ পরিচিতি

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.