x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

■ বিদিশা সরকার / শীতের ডাইরি ৪​

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | |

বিদিশা সরকার /  শীতের ডাইরি ৪​

এই চারপাশ,শুকিয়ে যাওয়া খানাখন্দ – কোনও মড়ক নয়।ভোরের মতই সত্য। আমরা ঘুমের মধ্যেও যেমন টের পাই,অন্ধও।তবে তার চোখ বোধে।সেখানে বোধই​ প্রথম বোধই শেষ কথা।স্পর্শের মধ্যেই লালন।স্পর্শই আধিদৈবিক।অন্বেষণের উড়ানের বিকল্প গানই তাকে পথে নামায়।পথ দেখিয়ে দেয়,উপার্জনও।

উপার্জনের ফলনে পেস্টিসাইড ফলনকে জারি রেখেছে। অথচ সেই অনন্ত মাঠ,যেখানে অপু’র বিস্ময়! সংহারের প্রয়োজনীয়তাকে স্ববশে আনাও তো স্বশিক্ষার বিষয়।তাই পাঠ্য-পুস্তক থেকে বেরিয়ে এসেছে স্বাধিকারে। আর্তের কাছে পরিবেদনা নিরাময় নয়।আসল বিষয় ঈশ্বর প্রদত্ত দুটি হাত, যা কখনও কখনও দশভুজার কাজ করে।

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও​কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ!সেই আপ্তবাক্য​

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।​

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল? আসলে মানুষ আদপে শান্তিপ্রিয়।পিঠ বাঁচান পলায়নবৃত্তি সুশীল সমাজকে যতটা পঙ্গুত্ব দিয়েছে তার অধিক দিয়েছে বিনোদনের টোপ।দর্শকের কাজ হাততালি দেওয়া।আরেকটু উচ্চকিত হলে দু’একটা সিটি-ও।শীত আকাঙ্খিত, শীত গুহাভিমুখী।শীত সত্যিকে মিথ্যের জ্যাকেট পরিয়ে দিয়ে ব্র্যান্ড ম্যানিয়াক কফি মগ।​

তুমি আমি’র মাঝখানে যে ফায়ার-প্লেস সেটা সৌখিনতার মনোগ্রাম।এই বৈকল্যের কাছে অসহায় মানুষ অগ্নি-নির্বাপক আপোষ।অন্যথা হলে প্রতিবাদের মাশুল ট্র্যান্সফারের চিঠি ধরিয়ে দেবে।গণধর্ষণের সরেজমিন তদন্ত আর্তকে চিরুনিতল্লাশ করবে,ঘটনার অনুপুঙ্খ নগ্ন করবে জনআদালতে।মনোবিদ চ্যানেলে সমাজের এই ব্যধি বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত রাখবেন।অন্ধকারে পিছন ফিরে বসে থাকা ভিক্টিম এক খপ্পর থেকে আরেক খপ্পরে।তারপর ফিরে এসে পায়ের তলার অবলম্বনটাকে সরিয়ে দিয়ে হ্যাং।আবার পোস্টমর্টম।​

একটা ঝোরার মুখে কয়েকটা বোল্ডার গড়িয়ে দিয়ে শাসন করছে গতিপথ।যদিও বিস্মিত নই।দাবী দাওয়ার সংসারে অবুঝ অনটন বুঝে সুখদা বরদা হয়ে বিসর্জনের পরবর্তী অধ্যায়।প্রতিদিন ভাসানের পরই একটা স্তব্ধতা ঘাটের অন্ধকারে পরিমিত হয়।চলাচল থেমে গেলে বাস্তুভিটে দরজা খুলে দেয়।ঘর ও বাসা সেখানে তুলনামূলক। দু’পক্ষের দোলাচলে যে নীরবতা – তাদের ঘুম পাড়িয়ে সিন্দুক খোলার আয়োজন। সদ্যজাতরা মুখ গুঁজে অভিমানে। সমস্ত রসদ ফুরিয়ে গেছে বলেই তো বেবিফুড।মাপা সময় থেকে মাপা কথারা বাকি রাত একটা জানলাকেই জেনেছে জেরুজালেম।একটা নির্দিষ্ট তারাকেই ধ্রুবক।ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় প্রতিবেশী ছাদে হারিয়ে যায় চাঁদ।​

জোড়া লাগাবার কিছু পদ্ধতি থাকে। অনুশোচনা বা বিবেক পরমুখাপেক্ষী।সামনে রাখা রয়েছে অ্যাডেসিভ,সেলোটেপ আরও সব বাজার চলতি জোড়া লাগা।ক্রোধ নাস্তিক অথবা আস্তিককে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রমান করেছে অস্তিত্ববাদের পরাকাষ্ঠাকে।আসলে অস্তিত্বের আস্তিক অথবা নাস্তিক হিসেবে আলাদা কোনও ফুট নোট নেই। একটা ইমারত ভেঙে যাচ্ছে দেখে ক্যামেরার ভূমিকায় অবাক হওয়ার কিছু নেই।সম্পর্কের ফয়সলার দিনে আদালতে পাড়া প্রতিবেশীর ভিড়ে কনুই সক্রিয়। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা সন্দেহ,বিশ্বাস,কনডোম, ডুপ্লিকেট চাবি বা সিসি টিভি, আপাতত তারা ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের এক্তিয়ারে।​

এই এক্তিয়ার অথবা চিহ্নিত এলাকার বাইরে যে দ্বিতীয় পৃথিবী বা ভুবন- কৌতূহল সেখানেই।পরিশ্রমের বিকল্প পন্থা হিসেবে যা নির্ধারিত তার তাগিদকে শাসন করছে একনায়কতন্ত্র।সেক্ষেত্রে একার পক্ষে কতটুকু সম্ভব ? বিপণনযোগ্য স্তুতি খোলা বাজারের বাম্পার অফার।মানুষ ভীত মানুষের থেকেই,গৃহপালিতের কাছে নিশ্চিন্ত।

◆ লেখক পরিচিতি


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.