x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

■ চিন্ময় ঘোষ / করোনা আতঙ্কের আবহে আগামী দিনগুলি ও অনিবার্য কিছু ভাবনা

sobdermichil | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

করোনা আতঙ্কের আবহে আগামী দিনগুলি  ও অনিবার্য কিছু ভাবনা

সমাজমনস্ক মানুষ একা থাকতে ভালোবাসে না, বিশেষ কোনো প্রেক্ষিতই তাকে একা থাকতে বাধ্য করায়। সেই প্রেক্ষিতে মানুষের স্বাস্থ্যজনিত নিরাপত্তা সম্পর্কিত কিছু নিয়ম বিধির নির্দেশ দেশের সরকার বলবত করে এবং সহজাত প্রবৃত্তির কারণই মানুষকে বার বার সেই বিধিনিষেধের শৃঙ্খল ভাঙতে তাড়িত করে।​ মরবে জেনেও পতঙ্গ যেমন আগুনের মধ্যে ঝাঁপ দেয় এটা যেন অনেকটা ঠিক সেরকমই। কখনো কখনো স্বল্পবোধের বা স্বল্পচেতনাসম্পন্ন কিছু মানুষ অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মাধ্যমে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত​ নিয়ম-বিধির যে শৃঙ্খল তাকে বুড়ো আঙুল দেখায়, নয়তো রুটিরুজির লড়াইয়ে দিনাতিপাত করা সদা ব্যস্ত কিছু পোড়খাওয়া মানুষ তাদের পোষ্য ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে সেই শৃঙ্খল ভাঙতে বাধ্য হয়।​

​উপরোক্ত ঘটনাগুলি একটি দিক। কিন্তু যে দিকটি ভাববার অর্থাৎ​ সুস্থচেতনাসম্পন্ন মানুষকে যা ভাবতে বাধ্য করায়, তা একটি ভয়ংকর দিক। দেশের মানুষের মঙ্গলচিন্তায় সদাব্যস্ত যে মানুষগুলির ঘুম নেই, আলোচনার এই অবকাশে তাদের আচরণে সেই ধরনের অবজ্ঞা ও অবহেলার দিকটিই এখানে উল্লেখ্য। কোনো ক্ষেত্রে তাদের এই শৃঙ্খল ভাঙবার তাগিদ সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে। আবার কখনো ধর্মীয় উন্মাদনার​ মোড়কে, প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক​ উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করতে, এই বিশেষ অসময়ে বলবত বিধিবন্দোবস্তের সমস্তরকম শৃঙ্খলাকে তারা​ ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়।​ আর এই সমস্ত অনুষ্ঠানে যে পরিমাণ জনসমাগম ঘটে তার সেই জলতরঙ্গ রুখবে কে! সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার দিকটিই সেখানে প্রবল ও প্রধান হয়ে ওঠে এমনটিই দেখা যায়। বৃহত্তর সমাজের তাতে কি রইল বা গেল এই বিষয়টি তাদের ভাবনা ও মানসিকতায় একেবারেই গৌন হয়ে যায়।​

​বিগত প্রায় সাতমাস বা তারও বেশি সময় ধরে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস আক্রমণের প্রাদুর্ভাবে সার্বিক যে ভয়াবহ চিত্র গড়ে উঠেছে এবং এর কারণে সমগ্র জনজীবনে যে বিস্তর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে​ ​ তারফলে সমস্তরকম সরকারি ও বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত কাজকর্ম, ব্যবসাবাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাক্ষেত্রের সর্বস্তরে, দেশীয় আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রকমের পরিবহণ ব্যবস্থার উপর কী ভয়ানক প্রভাব পড়েছে তাতে দেশের কমবেশি প্রায় সবমানুষই ভুক্তভোগী।

পাশাপাশি এই ভয়াল পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কী বেসামাল অবস্থা এবং পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমুহের যে নাজেহাল দশা, তা প্রতিদিনই পরিলক্ষিত হচ্ছে। তা সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রচারযন্ত্রের বা কিছু বেসরকারি প্রচারযন্ত্রের মাপজোখ করা প্রচারই হোক অথবা অন্যান্য আর কোনো​ মিডিয়ার​ প্রচারই হোক, কোনোভাবেই আসল সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যাচ্ছেনা। সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এবং যেভাবে তার বিস্তার ঘটে চলেছে, অদূর ভবিষ্যতে একে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, এ পর্যন্ত কেউ তার কোন দিশা দেখাতে পারছেননা। না আমাদের সরকার ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্ণধারেরা না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত বৃহৎ প্রতিষ্ঠান।

​ ​এরই মধ্যে সামনে আর কয়েক মাস বাদেই​ আমাদের রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন এসে পড়ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা যে বেশ হৈ হৈ করেই শুরু হতে চলেছে তার লক্ষণও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে এবং সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যবারের থেকে এবারের পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম তার​ জন্য মিটিং সমাবেশ ও প্রচার প্রক্রিয়ায় সদর্থক কিছু পরিবর্তন​ আনতে হবে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো কতখানি যত্নবান ভূমিকা পালন করবে এ বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, সব দলের রাজনৈতিক কর্ম তৎপরতা তত বাড়বে। মানুষের একজায়গায় জমায়েত হবার প্রয়োজনীয়তাও ততবেশি করে দেখা​ দেবে এবং এখানেই ভাইরাস বা রোগ ছড়িয়ে পড়ার মত আদর্শ পরিবেশ বেশি বেশি করে তৈরি হবে। এমনিতেই মানুষের অবহেলা ও সচেতন হবার অভাবে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট ঘোরালো হয়ে পড়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। তার উপর ভিড় জমায়েতের মাধ্যমে এই সংক্রমণ যে আরও অনেকবেশি ছড়িয়ে পড়তেই পারে এমন সম্ভাবনা ও আশঙ্কাকে একেবারেই অস্বীকার করা যায়না। সুতরাং কিভাবে সংক্রমণের আরও বেশি ছড়িয়ে পড়াকে রোধ করা যায়,​ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মানুষ বা রাজনৈতিক​ দলগুলি অনেকবেশি দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন এমন আশা করা কি অন্যায় হবে? রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনের সুরক্ষার দিকটি দেখার দায়িত্বও​ তাদেরই উপরে বর্তায় একথা বলা হয়তো অত্যুক্তি হবেনা।​

বতর্মানের এই আবহে ' ওয়ার্ক ফ্রম হোম ' এই পদ্ধতি সরকারি-বেসরকারি অনেক ক্ষেত্রে চালু হয়ে গেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সফ্টওয়্যারে চাকরি করা​ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু ছিল, করোনার পরিস্থিতিতে এখন তা একদম পুরোপুরিই লাগু হয়ে গেছে। এইসমস্ত ক্ষেত্রের চাকুরীজীবিদের বর্তমানে কর্মক্ষেত্র বা অফিসে যেতেই হয়না, তাদের উপর ন্যাস্ত সমস্ত কাজ তারা ঘরে বসেই করতে পারছেন। চাকরির অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া বেশ সফলভাবেই চলছে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে কর্মীদের একসঙ্গে অফিসে না এসে অল্পসংখ্যায় আলাদা আলাদা দিনে ভাগ ভাগ করে অফিসে এসে কাজ করতে হচ্ছে। এই ধরনের ব্যবস্থা অবশ্যই চিরকালীন হবে না, শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই তা গ্রহণ করা হয়েছে একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। স্কুল কলেজের ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল ক্লাস বা অনলাইন পঠনপাঠন পদ্ধতি এবং পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাইরাস সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণে এই সমস্ত বন্দোবস্ত যথেষ্ট সফলতা লাভ করেছে এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সর্বস্তরে আশা জেগে আছে যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার হয়তো​ আগের মতোই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে -​ কি শিক্ষাক্ষেত্র কি ব্যবসা-বাণিজ্য-কর্মক্ষেত্র, জনজীবনের প্রতিটি স্তরে পুরোনো​ অবস্থা ফিরে আসবে।​

​সুতরাং রাজনীতির ক্ষেত্রেও, বলা ভাল, নির্বাচনী রাজনীতির পরিমণ্ডলেও কেন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রচার, আলোচনা, বিতর্কসভা ইত্যাদি সংঘটিত করা যাবেনা? অবশ্যই যাবে এবং সরকারি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ও আলোচনা​ বর্তমানে নিয়মিতই চলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচীতেও দিব্যি ভার্চুয়াল প্রক্রিয়াকে গ্রহণ করা হয়েছে এমন উদাহরণ বিরল নয়। বিশ্বের অন্য দেশেও নির্বাচনী বিতর্ক ও প্রচার পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়, দলে দলে সভায় গিয়ে ভিড় জমানোতে তারা অভ্যস্ত নয়। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব, বিশেষ করে আজকের মতো অবস্থায় এই প্রক্রিয়াই একমাত্র পদ্ধতি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। এই ব্যবস্থা সুস্থ-চিন্তাশীল, তথ্য ও যুক্তিনির্ভর বিতর্ক-আলোচনা সমাজকাঠামোয় এক উন্নততর ও সদূরপ্রসারী প্রভাব আনতে পারে। এরফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অহেতুক হিংসা-বিদ্বেষ-জীবনহানির মতো অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে অনায়াসেই এড়িয়ে চলা যাবে। অশিক্ষিত ও যুক্তিহীন, অশ্রাব্য ও কুরুচিকর ভাষার অকারণ প্রয়োগ এবং ব্যক্তি আক্রমণ তাতে অনেক কমে যাবে​ এ কথাও হলফ করে বলা যায়।

​ ​© চিন্ময় ঘোষ


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.