Header Ads

Breaking News
recent

রিংকু কর্মকার চৌধুরী

রিংকু কর্মকার চৌধুরী

শালা! মাঝরাত থেকে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে পেটের ভেতরটা। ফেটে যেন আগ্নেয়গিরির লাভা নিঃসৃত হয়ে বেরোতে চাইছে ভেতর থেকে। অসহ্য উফফ। কাল পার্টিতে কিমার চপ বেশী খেয়ে ফেলেছিলাম বলে নাকি কে জানে?  মনে হচ্ছে লিভার আর কিডনির গুঁতোগুঁতি প্রতিযোগিতা চলছে। তার সাথে যকৃত ব্যালে নাচছে। উফ! মা গো মা। জোনাথন তুমি একটা হাগুরে কুকুর। কেন খেতে গেলে এত। নিজেকে নিজেই গালি দিচ্ছি এখন।মর তুমি,পেট পচে। পেটের মধ্যেকার মোচর যা বাপ-বাপান্ত করছে আমি শাপ-শাপান্ত করতে বাধ্য হয়ে পড়ছি।তাছাড়া নিজেকে গালি দেওয়া আমাদের পারিবারিক স্বভাবের অন্তর্গত। আমার বাবাও করতেন একই কাজ।লোকটা এমনি শান্ত ছিল,কিন্তু বড়সড় সমস্যায় পড়লে নিজেকে নিজেই খিস্তি করতো।আমার বাবার স্বভাব আমি পেয়েছি। মাও বলতো, তুই বাপের মত হবি, তোর সব চালচলন তার সাথেই মেলে।কারণ  তুইও মিচকে শয়তান, তারপর ধান্ধাবাজ এবং লম্পট। ঠিক যেমন তিনি ছিলেন। আমি শুধু মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কীইবা বলতে পারতাম তাঁর মুখের উপর। তাঁর চোখ কে আমরা তিন ভাই বোন প্রচুর ভয় পেতাম।রাগলে মনে হতো ভদ্রমহিলা ভস্ম করে দেবেন পুরো পৃথিবীটাকে।তবে সুখের কথা ছিল কোনদিন গায়ে হাত তোলেননি। আমাদের তিন ভাইবোনের মধ্যে আমাকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। কারণটা অবশ্য আমি নিজেই তৈরী করেছিলাম । আমি খানিকটা স্বার্থপর,আত্মকেন্দ্রিক।আমার পছন্দের জিনিষে হাত পড়লে আমি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠি।ঠিক যেমন লোলিটার বেলায়, ক্রিস কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিলাম কুড়ি তলা থেকে। তখন মাত্র আঠেরো।গরম রক্ত তার উপর লোলিতার অমন চাঙ্গা রূপ।উফফ! লোলিটার কথা মনে পড়লে আজও এই পঞ্চান্নতেও পেশীতে টান ধরে, ক্ষুধার্ত বাঘটা জেগে ওঠে।কিন্তু এই মুহুর্তে লোলিটার ভাবনার চেয়েও বেশী ভোগাচ্ছে পেটের ব্যথাটা। একটা অ্যান্টাসিড খাই বরং।কিন্তু এমন আলস্য চেপে ধরেছে উঠতেই পারছিনা। মার্থা কে ডেকে দিতে বলি ট্যাব।এখন মাগীটা হয়তো ঘুমোচ্ছে কিম্বা ভাণ করছে ঘুমোনোর। সারারাত ঘরের ভেতর ফিসফিস চলে।ভাবে কিছুই জানি না। বুড়ো বয়সের বৌ  বলে খাতির করি,নইলে কবে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়াতাম। কচি বৌ বলে যে তাড়াচ্ছি না তাও নয়। মার্থারও বেদম একখানা শরীর আছে।মার্থা আমার দু'নম্বর বৌ। আগের বৌ ইলিয়ানা ন্যাতানো মার্কা, অকেজো মাগী।বিলের জন্মের পর একেবারে চিপ্সে গেছিল। তারপর একদিন পড়ে গেল বাথরুমে। ডাক্তার বলল,কোনদিন আর হেঁটে চলে বেড়াবে না। মার্থা এল আয়া সেন্টার থেকে। ইলিয়ানা কে আর দরকার পড়ল না আমার। ও বরং সেমিট্রিইতেই ভালো আছে। সেমিট্রি আমার ভীষণ প্রিয় জায়গা। কেমন একটা গন্ধ আছে বেশ। ভেজা-ভেজা,তীব্র।ফুল-পারফিউম মেশানো। সে গন্ধের নাম নেই শুধু অনুভব আছে। ইলিয়ানার কবরে আমি ওর ভেজা যোনীর সিক্তরসের গন্ধ পেয়েছিলাম। আহ!বেঁচে থাকতে পাইনি কেন কে জানে। 

আমি মানুষটাই কেমন যেন খাপছাড়া। গ্লাসের ইয়ার-দোস্ত অবশ্যি আমাকে হারামী, দো-আঁজলা,চুুউউ... উহ মা গো আবার, আবার পেটের যন্ত্রনাটা।মনে হচ্ছে আজ রাতে আমাকে নিয়েই যাবে। কিন্তু শালা আজ যদি মরে যাই, আমার সব সম্পত্তি তো ওই কুত্তি মার্থাটা খাবে। একবার জানতে পারি ওর ইয়ারের নাম ওকেও জায়গা মতন পাঠিয়ে দেবো। আমি কালকেই স্পাই এজেন্সিতে খবর দেবো। অনেকগুলো টাকা মার্থার বেকার বাপটাকে দিয়েছিলাম ওকে পাবার জন্য।আর অন্য কেউ এসে আমার কবুতরী কে ওড়াবে? আবদার পেয়েছে। তাও এই জোনাথনের সাথে। কিন্তু শালা এই পেটের যন্ত্রনায় যদি মরে যাই কী হবে।অনেক বুদ্ধি খরচ করে সম্পত্তি পেয়েছি।ইয়ার্কি নাকী। ইলিয়ানার বাপ নিজের রোগা-ভোগা মেয়েটার জন্য আমাকেই ঠিকঠাক ভেবেছিল।আমি তখন সদ্য ক্রিশ কে খুন করে তল্লাট ছেড়ে ভোঁভাঁ। চাকরী নিলাম এই বাড়ির কেয়ারটেকারের। ইলিয়ানার চোখে আমি প্রথম দিনেই পড়ে গেছিলাম।আমিও শিকারী বিড়ালের মত ঘাপটি দিয়ে পড়েছিলাম। বুড়ো যা বলে তাই করি। শেষমেশ ইলিয়ানাই ওর বাপ কে বলল,সেও এককথায় রাজী।বিয়ে মিটে গেল।

ব্যস! আমি রাস্তার ভিখিরি থেকে রাজার আসনে।  বুড়ো যেদিন মরলো আমিও বুঝলাম ভাগ্য এবার আমার হাতে। এই সমস্ত সম্পত্তি, জমি-জমা সব আমার। জমিয়ে ফেললাম নিজেকে। ইলিয়ানা যেদিন বুঝলো আমি আসলে কী। দেরী হয়ে গেছিল। শান্তিতে ঘুমাও ইলি, আর আমি তোমার পয়সায় দিব্য আরাম করি। উফফফফ!আবার সেই অসহ্য ব্যথাটা। আচ্ছা আমার মত হারামীরা কীএভাবেই মরে? এই যন্ত্রনা,যেন পেটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কেউ।

আচ্ছা!লোলিটা কেমন আছে? মাঝেমধ্যে জানতে ইচ্ছে করে। শুনেছিলাম তো অ্যাসাইলামে,বেঁচে আছে নাকি খরচ হয়ে গেছে এতদিনে। মেঘের মত চুল,আর চোরাগোপ্তার মত হাসি ছিল ও মেয়ের। মনে হত খুন করে দেবে চোখ দিয়েই। কতবার বলেছিলাম আমাকে ভালোবাসো,তোমাকে সব দেবো।সে নাছোড় বড় লোকের ছেলে ক্রিশের প্রেমে। আমি তখন ভিখিরি,গলা অব্দি দেনা,মদের ঠেকগুলো মুখের উপর ক্লোসড ঝুলিয়ে দিতো। হাড়-হাভাতে অবস্থায় ছোট বোনটাকেই বিক্রি করে দিলাম একদিন। সেই থেকে মা আমাকে দু-চোখে দেখতে পারেনা।কত অভিশাপ যে দিয়েছিল।আমি তাও বলিনি কত টাকায় বেচেছিলাম বোন কে।সেই সম্পর্ক বেচা  টাকা নিয়ে গেছিলাম লোলিটার কাছে,ও লোক দিয়ে তাড়িয়ে দিল। ব্যস আমিও ক্ষেপে গেলাম, বাচ্চাদের স্কুলে দু'টাকার চাকরী করা মাগীর এত দেমাক, দিলাম সর্বনাশ করে,খবর রটার আগে খুন করে পালালাম ক্রিশ কে। আজ এত পুরোনো কথা কেন মনে পড়ে যাচ্ছে কে জানে। আজ বোধহয় আমার ফাইনাল ডে। ভগবান সুন্দরী নারীদের পাঠাবেন আমার জন্য।নিয়ে যাবে তারা এসে স্বর্গের সেই অপূর্ব স্বাদ গ্রহণ করাতে, যা মিল্টন তুলে ধরেছিলেন তাঁর 'প্যারাডাইস লস্টে'।তবে আমার কাছে আমার মৃত্যু প্যারাডাইস রিগেইন সমতুল। বেহস্তের হুর নাহোক দোজখের লিলিথ চলবে।আমি তো হিরো নই,হতেও চাইনি। আমি জোনাথন অ্যা সেল্ফ মেড ম্যান।আই প্লে  গ্যাম্বল  উইথ গডস ভারচু।পরোয়া করিনা কোন পাপ-পুণ্যের।জীবন যেন  উন্মাদনা, ভরপুর নেশায় ভরা পেয়ালা।যত ইচ্ছে খরচ কর, নেশা কাটবে না।শুধু পেয়ালাটা ঠিকমত ধরতে জানতে হবে।সো-কল্ড নায়কদের মত প্যাশন না আমার ভেতর খেলা করে ভয়ংকর আশ্লেষ।যা কারণে-অকারণে জাগিয়ে তোলে গোপন আলোড়ন। আমি দিকভ্রষ্ট চাঁদ কে খুঁজতে খুঁড়ে ফেলি মাটি,আছড়ে ধরি জলের টান।নদীর বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে ছুটে যাই ঢেউয়ের দিকে।আমি একজন অ্যান্টি-হিরো যার ভেতর খেলা করে গণগণে রাগ। যা কিছু আমি পাইনি তা অন্যে পেলে ছিঁড়েখুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। মা বলতো তোর মত ছেলে কীভাবে পেটে ধরলাম কে জানে। ঘৃণ্য, কীটের তুলনায় তুই নোংরা। আই ডিন্ট কেয়ার। আমি...  আমি যা করেছি বেশ করেছি। আহ!ঈশ্বর আমি যে আর সহ্য করতে পারছিনা যন্ত্রনাটা। উফফ। কিল মি ইউ ড্যামন।কিল মি।মা...র...থা....


আচ্ছা!এইটাই কী তবে মৃত্যু যন্ত্রনা? মানুষ মৃত্যুর সময় কী এভাবেই তিলে-তিলে কষ্ট পায়। ভেতরটা এইভাবেই জ্বালাপোড়া করে। কী ভয়ঙ্কর বেগে কাশীর দলা ছুটে আসছে ভেতর থেকে। লালা পড়ছে মুখ থেকে।এই গোটা ঘরে আমি ছাড়া আর কেউ নেই।কাল এসে আমার নিথর দেহটা যখন আবিষ্কার করবে উইল দেয়ার বি এনিবডি হু উইল ক্রাই ফর মি? একজনও আছে যে আমার মৃত শরীর দেখে কাঁদবে? একফোঁটা চোখের জল ফেলে বলবে,'লোকটা আরেকটু বাঁচতো। আমার খাস চাকর জন,যাকে মোটা মাইনে দিয়ে পুষছি।নাহ!ও কেন কাঁদবে ওকে সামান্য ভুলের জন্য জুতোপেটা করেছি কত। আমার রাঁধুনী মিসেস হায়ার।উনি কী কাঁদবেন? নাহ উনিও কাঁদবেন না।তবে কে?  কে  হাহুতাশ করবে আমার মৃত্যু তে। কেউ না।

একজনই আছে যে কাঁদবে আমার মৃত্যুতে। সেই ব্যক্তি আমি নিজে।ইট ইজ মি।অনলি মি। আমি কাঁদবো আমার জন্য। এই যন্ত্রনা আমাকে মৃত্যুর দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।কশ বেয়ে রক্ত পড়ছে আমার। আই উইল ক্রাই ফর মি। যে দু'হাত দিয়ে জীবন কে ফুৎকারে উড়িয়েছি।আজ সেই দুটো হাত দিয়ে মুছবো আমার দু'চোখ। শেষবারের মতন দেখবো নিজেকে আয়নায়। সময় শেষ হয়ে আসছে। চোখের সামনে ঝাপসা সব। আমার হাতির দাঁতের আয়নার সামনে দাঁড়াবো আমি জোনাথন রড্রিগেজ।  জীবনের পেয়ালার শেষ চুমুকটুকু দেওয়ার আগে। 

এই তো আমি। আমি.. আমি....আমি..... জোনাথন রড্রিগেজ।  


I've been a puppet, a pauper, a pirate

A poet, a pawn and a king

I've been up and down and over and out

And I know one thing

Each time I find myself flat on my face

I pick myself up and get back in the race


হ্যালো! আমি মার্থা বলছি। মি.রড্রিগেজ ইস স্লিপিং ইন দি গ্রেভইয়ার্ড। লেটস হ্যাভ পার্টি। তুমি না থাকলে কাজটা এত সহজ হতো না জন।ধন্যবাদ ওষুধটার জন্য।ডাক্তার বলেছেন হার্ট অ্যাটাক। ওনাকে টাকাটা পৌঁছে দিও। আমি অ্যাসাইলামে যাচ্ছি।অনেকদিন পর ভালো আছি। বহুদিন পর আজ মা কে দেখবো।মাই মম মিস লোলিটা বেরে।আই উইল সি ইউ অ্যাট নাইট।

ঘুমাও জোনাথন। Enjoy this final moments of peace,for I have returned to have my vengeance. So ,shall we begin?


কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.