x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০

◆ শুভশ্রী সাহা / আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০২০ | |

শুভশ্রী সাহা

আষাঢ়- শ্রাবণের মাঝে  একটা হাইফেনের  সুক্ষ পার্থক্য থেকেই যায় আকাশের রঙে। আষাঢ় যেন স্বরগমের আলাপ  আরোহণ, শ্রাবণ যেন তার বিস্তার। অনেক গভীরে তার ওঠানামা।  নীল নয়, ঘন ধূসর বর্ণ। বিষাদ আর বিষণ্ণতার মাঝামাঝি। আষাঢ় নরম, শ্রাবণ দামাল। আষাঢ় প্রেমের  আলিঙ্গন, শ্রাবণ  আশ্লেষের চুম্বন।

আষাঢ়ের টুপটাপ বৃষ্টিতে জৈষ্ঠ্যতে শুকিয়ে যাওয়া চড়চড়ে বিবর্ণ  দেওয়ালের গায়ের রঙ ভিজে ওঠে। কার্ণিশের ফালিতে লেগে থাকে  কুচি কুচি জল। শ্যাওলা সবুজে লেগে থাকে থমকে যাওয়া জীবনের উপর। টুপটাপ বৃষ্টির ছাঁটে ভিজতে থাকে ব্যালকনিতে রাখা সারিসারি ফুলগাছের টব। টুংটাং মেসেজ ঢুকতে থাকে সারা দুপুর জুড়ে নতুন আলাপের। 

আকাশের রঙ নীল থেকে হতে থাকে ঘন। ঘন বৃষ্টির মতো  ফোন উপচে পরে মেসেজের পর মেসেজ। বাজতে থাকে গুলাম আলির হাঙ্গামা কিঁউ করতি হো--থোড়িসি যো পি হ্যায়!

আষাঢ়ের মল্লারে কচি কচি পাতায় বেড়ে ওঠে, ঘর কোণে  লতানো পুঁই গাছ। আষাঢ়ের নতুন বারিশে বহুদিন পরে ম্যারিনেট করা বোল ফ্রিজে তুলে রেখে সেতার টেনে বসে পড়ে মধ্যচল্লিশা। দুপুরের লাঞ্চবক্সের জমা গল্পে মন পুড়তে থাকে তার নতুন করে। সন্ধ্যার ছপছপে জমা জল গায়ে মেখেই সে বেরিয়ে পরে রেলেগেটের ধারে। ঘন অন্ধকারে কাঁপতে থাকা ঠোঁট জুড়তে জুড়তে ভাবে,  -এমন দিনে তারে বলা যায়---

শ্রাবণের গায়ে সে আলসেমি নেই। জড়ানো ওমের তাকিয়ায় সে আরামসে  পা তুলে দিয়ে টুপটাপ বা চড়বড়ে বৃষ্টি দেখেনা,সারাদিন ঝমঝমে বৃষ্টিতে ভেসে যায় উঠোন, রান্নাঘরের দালান  গাড়িবারান্দা, বহুতলার মিহি শরীরের ব্যালকনি। ওয়াইনের কাট গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা বুদবুদ জীবন ভেজে না, ডুবতে থাকে গভীরে। আশাবরী পেরিয়ে মধ্যরাতের মালকোষে জারিত হতে থাকে মধ্যচল্লিশার শরীর। আরো একবার শ্রাবণ ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে,আর সে যায়ও।

কি আসে যায়ে,ভেজার বদলে ডুবলে! পাবার কি আছে আর তার। তবুও প্রেম আসুক, নষ্ট সম্পর্কগুলো আবাদ হোক আষাঢ় শ্রাবণের ভরা জোয়ারে। 

ওদিকে দুলতে থাকে প্রবল বৃষ্টিতে পুঁই লতাটা! মন তার উচাটন। জল বাড়ছে।  ডুবছে সে গভীরে, জাগছে সে আরো একবার। ভোর রাতের তিলক কামোদের মত। আহ! বৃষ্টি নামুক ভেতরে বাইরে!

"কিন্তু তুমি নেই বাহিরে অন্তরে মেঘ করে,
ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে"

1 টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.