x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০

◆ শুভশ্রী সাহা / আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন

sobdermichil | আগস্ট ১৫, ২০২০ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।

শুভশ্রী সাহা

আষাঢ়- শ্রাবণের মাঝে  একটা হাইফেনের  সুক্ষ পার্থক্য থেকেই যায় আকাশের রঙে। আষাঢ় যেন স্বরগমের আলাপ  আরোহণ, শ্রাবণ যেন তার বিস্তার। অনেক গভীরে তার ওঠানামা।  নীল নয়, ঘন ধূসর বর্ণ। বিষাদ আর বিষণ্ণতার মাঝামাঝি। আষাঢ় নরম, শ্রাবণ দামাল। আষাঢ় প্রেমের  আলিঙ্গন, শ্রাবণ  আশ্লেষের চুম্বন।

আষাঢ়ের টুপটাপ বৃষ্টিতে জৈষ্ঠ্যতে শুকিয়ে যাওয়া চড়চড়ে বিবর্ণ  দেওয়ালের গায়ের রঙ ভিজে ওঠে। কার্ণিশের ফালিতে লেগে থাকে  কুচি কুচি জল। শ্যাওলা সবুজে লেগে থাকে থমকে যাওয়া জীবনের উপর। টুপটাপ বৃষ্টির ছাঁটে ভিজতে থাকে ব্যালকনিতে রাখা সারিসারি ফুলগাছের টব। টুংটাং মেসেজ ঢুকতে থাকে সারা দুপুর জুড়ে নতুন আলাপের। 

আকাশের রঙ নীল থেকে হতে থাকে ঘন। ঘন বৃষ্টির মতো  ফোন উপচে পরে মেসেজের পর মেসেজ। বাজতে থাকে গুলাম আলির হাঙ্গামা কিঁউ করতি হো--থোড়িসি যো পি হ্যায়!

আষাঢ়ের মল্লারে কচি কচি পাতায় বেড়ে ওঠে, ঘর কোণে  লতানো পুঁই গাছ। আষাঢ়ের নতুন বারিশে বহুদিন পরে ম্যারিনেট করা বোল ফ্রিজে তুলে রেখে সেতার টেনে বসে পড়ে মধ্যচল্লিশা। দুপুরের লাঞ্চবক্সের জমা গল্পে মন পুড়তে থাকে তার নতুন করে। সন্ধ্যার ছপছপে জমা জল গায়ে মেখেই সে বেরিয়ে পরে রেলেগেটের ধারে। ঘন অন্ধকারে কাঁপতে থাকা ঠোঁট জুড়তে জুড়তে ভাবে,  -এমন দিনে তারে বলা যায়---

শ্রাবণের গায়ে সে আলসেমি নেই। জড়ানো ওমের তাকিয়ায় সে আরামসে  পা তুলে দিয়ে টুপটাপ বা চড়বড়ে বৃষ্টি দেখেনা,সারাদিন ঝমঝমে বৃষ্টিতে ভেসে যায় উঠোন, রান্নাঘরের দালান  গাড়িবারান্দা, বহুতলার মিহি শরীরের ব্যালকনি। ওয়াইনের কাট গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা বুদবুদ জীবন ভেজে না, ডুবতে থাকে গভীরে। আশাবরী পেরিয়ে মধ্যরাতের মালকোষে জারিত হতে থাকে মধ্যচল্লিশার শরীর। আরো একবার শ্রাবণ ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে,আর সে যায়ও।

কি আসে যায়ে,ভেজার বদলে ডুবলে! পাবার কি আছে আর তার। তবুও প্রেম আসুক, নষ্ট সম্পর্কগুলো আবাদ হোক আষাঢ় শ্রাবণের ভরা জোয়ারে। 

ওদিকে দুলতে থাকে প্রবল বৃষ্টিতে পুঁই লতাটা! মন তার উচাটন। জল বাড়ছে।  ডুবছে সে গভীরে, জাগছে সে আরো একবার। ভোর রাতের তিলক কামোদের মত। আহ! বৃষ্টি নামুক ভেতরে বাইরে!

"কিন্তু তুমি নেই বাহিরে অন্তরে মেঘ করে,
ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে"

Comments
1 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.