x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২০

শনির বচন

sobdermichil | আগস্ট ২৯, ২০২০ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
মগজে কারফিউ , শব্দের মিছিল
মগজে কারফিউ জারি হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের হর্তা কর্তা বিধাতারা যা বলবেন, যখন বলবেন, যেভাবে বলবেন, ঠিক তেমনভাবেই ভাবতে হবে ও ভাবাতে হবে আমাদেরকে। অন্য কোন ভাবে ভাবলেই আপনি দেশপ্রেমী নন। অন্য কোন ভাবে ভাবালেই আপনি অবশ্যই দেশদ্রোহী। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদেরই মদতদাতা। অতএব আপনার ভাগ্য ঘ্যাচাং-ফু হয়ে যেতে পারে যেকোন সময়েই। এখন রাষ্ট্রযন্ত্র তো একটি বিমূর্ত সত্ত্বা। রাষ্ট্রযন্ত্রের হর্তা কর্তা বিধাতারা, সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু ক্ষমতা দখল করেই তাঁরা যখন রাষ্ট্রীয় শীলমোহর লাগিয়ে কিংবা পেইড মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে মগজে কারফিউ জারি করে দেন, মুশকিল হয় তখনই। আর তখনই আপনাকে বাঁদর নাচ নাচতে হবে। নাচতে না চাইলেই আপনি রাষ্ট্রের শত্রুর তকমায় ভূষিত হয়ে যেতে পারেন। 

আর ঠিক এই ভয়টাই সকলের থেকে বেশি করে পেয়ে থাকেন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষজন। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে, কোনভাবেই যেন সরকারী দলের গুডবুক থেকে নিজের নামটা কাটা না যায়। তাই তারাই মগজে কারফিউ জারি হয়ে গেলে, নিজেদের মগজগুলি যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে দেন। এর আরও একটি দিক রয়েছে, একবার নিজের মগজ জারি করা কারফিউয়ে বন্ধক রাখতে পারলেই, সরকারী উপঢৌকন নিশ্চিত। কারণ সরকার এইসব বন্ধকী মগজগুলিকে কাজে লাগিয়েই সাধারণ জনগণের মগজের উপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে তার জন্য অমূল্য পুরস্কারের বন্দোবস্ত তো রাখতেই হবে।

তাই পুরো এক বছর হয়ে গেলেও, ৩৭০ ধারা বিলোপ কতটা সাংবিধানিক আর কতটা অসাংবিধানিক ভাবে সংঘটিত হয়েছিল গত বছরের আগস্টে, সেসব নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই বিপদ। গত বছর এই আগস্ট মাসেই কাশ্মীর উপত্যাকায় কারফিউ জারির সাথে সাথেই দেশবাসীর মগজেও সেই কারফিউ বলবৎ হয়ে গিয়েছে। ফলে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে ধর্ষিত মানবাধিকার নিয়ে আলোচনার সব পরিসরই এখন বন্ধ। এখন মিডিয়া নিয়ন্ত্রীত খবর হজম করতে দুইবেলা ওঠবোস করতে হবে। নাহলেই বিপদ। কে আর সাধ করে সেই বিপদে পা দিতে চায়। চায় না বলেই সারা দেশ জুড়ে কাশ্মীর নিয়ে উল্লসিত নাচানাচি পর্বের পর এখন আর কোন উচ্চবাচ্চো নাই। মিডিয়ার ঢোলের সাথে সংগত করাই বুদ্ধিমান মানুষের পক্ষে সঙ্গত কাজ এখন। সকলে সেটাই করছে। দণ্ডমূর্তের কর্তাদের বচন মুখস্থ করা ও সেই অনুসারে তোতাপাখির বুলি আউরানোই দেশপ্রেম এখন। এখন শুধু দেখার বিষয় একটাই কে কত বড়ো দেশপ্রেমিক। 

এখন মগজে এই কারফিউ জারির বিষয়ে সরকার বা প্রশাসন সবসমেয়ই যে একে বারে সরাসরি তালিবানি ফরমান জারি করে বসে থাকে, তেমনটা নয়। প্রশাসন নড়েচড়ে বসে তখনই, যখন সাধারণ মানুষ ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিবাদের মুখগুলিকে স্তব্ধ করে দিতে, ও সমাজের বৃহত্তর অংশের সাথে বিচ্ছিন্ন করতে প্রশাসনের হাতে আইনের অভাব নাই। আইনের আইনি প্রয়োগের মাধ্যমেই, বেআইনি ভাবে মানুষের প্রতিবাদের মোকাবিলা করা সম্ভব। যদি একবার নির্বাচনে জিতে সরকারী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয় যায়। প্রতিবাদী কন্ঠগুলিকে লকআপে বন্দী করে ফেলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বোতল বন্দী করে ফেলতে পারলেই, প্রশাসনের কাজ হাসিল। শেষ বিচারের রায় কি হবে সেটা ভবিষ্যতের প্রসঙ্গ। কিন্তু বর্তমানে প্রতিবাদী কন্ঠগুলিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো আইনি পরিসর প্রশাসনের হাতে মজুত থাকে সবসময়েই। কিন্তু কোন প্রশাসনই চায় না, প্রথমেই এই পথে এগোতে। তার একটা প্রধান কারণ, প্রথমে এই পথ যতটা সুবিধা দেয়, একবার এই পথই প্রধান পথ হয়ে গেলে, আশু ভবিষ্যতেই এই পথ প্রশাসনের পক্ষে সামাল দেওয়া শক্ত হয়ে উঠতে পারে। যদি জনসাধারণের বৃহত্তর অংশই শাসক বিরোধী শক্তিতে দানা বেঁধে ওঠে। তখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাই প্রশ্নচিহ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়তে পারে। 

তাই জনগণের বৃহত্তর অংশকে অন্ধকারে রাখতেই, মগজে কারফিউ জারির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ভয় দেখিয়ে নয়, জুজু দেখিয়ে নয়। জনগণের ভিতরে জাতি বিদ্বেষ আর ধর্মীয় উন্মাদনা এবং একটা যুদ্ধংদেহী মনোভাব জাগিয়ে তুলতে পারলেই, কেল্লাফতে। বৃহত্তর জনমানসের মগজে কারফিউ জারি করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর প্রশাসনের হয়ে এই কাজটিই করে থাকে পেইড মিডিয়াগুলি। কোন খবরটা চাপা হবে। কোন খবরটায় রং চড়ানো হবে। কোন খবরটাকে মিথ্যের ক্যাপসুলে মুড়ে পরিবেশন করা হবে। এই সব বিষয়গুলি ঠিক করা ও সেইমত খবর পরিবেশন করে বৃহত্তর জনমানসের মগজে নিরন্তর কারফিউ জারি করে রাখার দরকারী কাজটিই করে থাকে পেইড মিডিয়া। গত বছর আগস্টে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপকে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন বলে প্রচার করা হলো। যেন এতদিন কাশ্মীর ভারতের অংশ ছিল না। এই প্রথমবার কাশ্মীরের ভারতের সাথে সংযুক্তি ঘটলো। এমন কি এখন থেকে কাশ্মীরে জমি কিনে বাড়ি করে কাশ্মীরী কন্যাকে বিয়ে করার মতো স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যাবে। যেন ভারতীয়দের স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে কাশ্মীরে বাড়ি করার উপরে, আর কাশ্মীরী কন্যাকে বিয়ে করতে পারার উপরে। আসমুদ্রহিমাচল মানুষ নাচানাচি শুরু করে দিল। পূর্ণ স্বাধীনতা প্রাপ্তির এই ছবিতে। এইভাবে বৃহত্তর জনমানসের মগজে কারফিউ জারি করে রাখতে পারলে, প্রশাসন অনেক নিশ্চিন্তে নিজের স্বার্থ পূরণের কাজগুলি করে যেতে পারে। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারার ইতিহাস, সেই ধারার সাংবিধানিক বিধান, ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির সাংবিধানিক পরিসরের তত্ব ও অসাংবিধানিক ভাবে ধারাটি তুলে দেওয়ার আসল সত্য। এই সবগুলি বিষয়ের দিকে যাতে জনমানসের নজর না যায়, তাই তাদের মগজে কারফিই জারি করে রাখা দরকার। এবং দেশজুড়ে মিডিয়া অত্যন্ত সফল ভাবে সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছে। তাই ৩৭০ ধারা নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে প্রশ্ন করাই আজ দেশদ্রোহীতার সামিল। এখানেই মিডিয়ার সাফল্য ও প্রাসঙ্গিকতা। যদি মিডিয়া হয় পেইড মিডিয়া। না। প্রশ্ন করা যাবে না। জানতে চাওয়া যাবে না। মিডিয়া প্রচারিত গল্প ও কাহিনী মুখস্থ করেই দেশপ্রেমের দীক্ষা নিতে হবে। এটাই এখন অলিখিত তালিবানী ফরমান। সরকারকে সরাসরি এই ফরমান জারি করতে হয় নি। দেশজুড়ে মগজে কারফিউ জারির কৌশলী পদক্ষেপ এই অলিখিত ফরমানকে সত্য করে তুলেছে। 

এই যে কাশ্মীর প্রসঙ্গটিকে সফল ভাবে দেশপ্রেমের সাথে জুড়ে দেওয়া সম্ভব হলো। এটাই রাজনৈতিক কূটকৌশলের সবচেয়ে বড়ো জয়। কাশ্মীরের মানুষ আজকে কেমন আছেন। সেটা কোন প্রধান বিষয় নয়। প্রধান বিষয়, কাশ্মীর নিয়ে প্রশাসকের মতের সাথে ঘাড় নাড়াটাই দেশপ্রেম। ঘাড় না নাড়লেই বা উল্টো অভিমুখে ঘাড় নাড়তে গেলেই ঘ্যাচাং ফু। ধর থেকে মুণ্ডু নেমে যেতে পারে দেশপ্রেমিকদের দেশপ্রেমের আতিশয্যে। একটা গোটা সম্প্রদায়ের মগজের নিয়ন্ত্রণ এই ভাবে প্রশাসকের হাতে বাঁধা থাকলে বাকি দেশকে শাসনে রাখা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। আর তখন সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রশাসনিক তৎপরতায় যে কোন কাজে হাত দেওয়া ও সেই কাজকে সফল করে তোলা মাখনের ভিতরে ছুরি চালানোর মতনই সহজ হয়ে যায়। তাই মিডিয়া নিয়ন্ত্রীত প্রচারে বৃহত্তর জনমানসে মগজে কারফিউ জারি করে রাখা এত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের সংবিধানকে কাঁচকলা দেখিয়ে কার্যসিদ্ধির পরিকল্পনাকে সফল করে তুলতে। 


#কপিরাইট লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.