x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | জুলাই ১২, ২০২০ |
 ভ্রমণ ডায়েরির পাতা থেকে / রুমকি রায় দত্ত

বিশাখাপত্তনমে বিপত্তিঃ

একটা ছেঁড়া ছেঁড়া আধো-অন্ধকারে চোখ রাখলাম ট্রেনের কামরা থেকেই। আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা,আমরা পা রাখব একটা অপরিচিত শহরে।এসব শহরের নাম ছোট থেকেই বইয়ের পাতায় দেখেছি। বিশাখাপত্তনম। হালকা ভোরের আলোর ছোঁয়া মেখে ট্রেন প্রবেশ করল বিশাখাপত্তনম স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমেই নতুন জায়গায় পৌঁছানোর পর অবাক হয়ে তাকিয়ে চারিদিক দেখতে বেশ ভালো লাগে। কেমন যেন আবিষ্কারের নেশায় ভরে ওঠে মন! স্টেশনের বাইরে এসে ফোন করা হল গণেশভাইকে। কত্তার এক কলিগ একদা বিশাখাপত্তনমে চাকরির সূত্রে থাকতেন।এই গণেশভাই সেই ভদ্রলোকের ড্রাইভার ছিলেন। গাড়ি বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। স্টেশন থেকে ৩৫ মিনিট মতো সময় লাগল হোটেলে পৌঁছাতে। একেবারে রাস্তার উপরেই জনবহুল জায়গায়। সুন্দর পরিচ্ছন্ন রুমরের সাদা বিছানার চাদর দেখেই মনে হল, একঘুম দিয়ে নিই। কিন্তু তার থেকেও বেশি প্রয়োজন তখন খাবারের। টিফিন করা হয়নি। একটি ছেলে আমাদের রুমে পৌঁছে দেয়। তাকেই বলেছিলাম একটা দু’লিটারের জলের বোতল দেওয়ার জন্য। আর টিফিন ওরা জানিয়েছিল,অর্ডার দিলে পুরি-সবজি বা অন্য কিছু এনে দেবে। হোটেলের মধ্যে কোনও খাবার ব্যবস্থা নেই।পাশেই ওদের রেস্ট্রুরেন্টে সব খাবার পাওয়া যাবে,তবে বেলা বেড়ে গেলে আর টিফিন কিছু জুটবে না। দু-প্লেট পুরি-সবজি আর একটা বাটারটোস্ট ও ডিম সিদ্ধ অর্ডার দেওয়ার পর একে একে স্নান সেরে ফ্রেশ হতে শুরু করলাম আমরা।এর মধ্যে একজন এসে খাবার দিয়ে গিয়েছে, কিন্তু জলটা দেয়নি দেখে আবার ঐ খাবার দিতে আসা ছেলেটিকে বললাম, দু-লিটারের একটা জল দেওয়ার কথা, ওটা দিলেন না তো! ছেলেটি কেমন বিস্ময়ে তাকালো মুখের দিকে, যেন আমি কোনও অদ্ভুত কিছু বলেছি। কথার কোনও উত্তর না দিয়েই সে চলে গেল। বেশ রাগ হল মনে মনে। কত্তাকে বললাম, সার্ভিস খুব ভালো না মনে হচ্ছে। বিভিন্ন কথার মাঝেই সঙ্গে আনা জলের সাথে ব্রেকফাস্ট ভক্ষণ চলছে,এমন সময় দরজায় বেল বাজল। খেতে খেতেই বাঁ-হাতে দরজা খুলতেই একটি ছেলে হেসে বলল, ‘ আপ লোগোনে অউর কুছ বোলা থা?’

একটু বিরক্ত হয়েই হিন্দিতেই বললাম, ‘ অনেক্ষণ আগেই দু-লিটারের একটা জলের বোতল আনতে বলেছিলাম। দু’জন এলো, কিন্তু জলটা কেউ এনে দিল না। জল কি আমাদেরই কিনে আনতে হবে?’

ছেলেটি ইতিস্তত করে হেসে বলল, ‘সরি ম্যাম।আমি এখনই জল আনিয়ে দিচ্ছি।আসলে ওরা আপনার ভাষা বুঝতে পারেনি’। 

অবাক হয়ে গেলাম!এরা হিন্দিও বোঝে না! জানতাম এঁরা হিন্দি ভাষাকে পছন্দ করে না। কিন্তু বুঝতেও যে পারে না,সেটা জানতাম না।মনে মনে ভাবলাম ‘আরও কত রঙ্গ বাকি আছে কে জানে?’

যাইহোক, টিফিন সেরে সারাদিন পুরো ফাঁকা।চাইলেই কোথাও বেরিয়ে পড়া যেত, কিন্তু রাতে ট্রেনে ভালো করে ঘুম হয়নি। ভাবলাম, একটু গড়িয়ে নিয়ে বিকালে আসেপাশে ঘুরে আসব।

ভ্রমণ ডায়েরির পাতা থেকে / রুমকি রায় ডটফ


একটার দিকে দুপুরের খাবার খেতে রেস্টুরেন্টে গেলাম। ছেলের বয়স চার। খুব বেশি এটা-ওটা খাওয়া যাবে না।ফ্রাইড রাইস হলেই ছেলের মোটামুটি আর কিছু দরকার হবে না। আমাদের জন্য ডিমেরকারি আর রায়তা। মিনিট পনেরো পর দেখলাম একটা ট্রে হাতে একটি ছেলে আমাদের দিকেই আসছে। অনাগত খাবারের কল্পনায় জিভে জল জমতে শুরু করেছে। ছেলেটি এগিয়ে আসছে।উদ্গ্রীব আমাদের টেবিলে আসতে করে নামিয়ে রাখল ট্রে-টা। খাবারের পাত্রগুলো ঢাকনা দেওয়া। সার্ভ করার জন্য একে একে খুলতে লাগল, আর আমরা চমকে উঠতে লাগলাম। একি! এগুলো কী! ছেলেটি ফ্রাইড রাইস বলে যে খাদ্য আমাদের প্লেটে বিতরণ করতে লাগল, সেগুলির রং লাল! ডিমের পাত্রের ঢাকনা খুলতেই চক্ষু ছানাবড়া। লাল তৈলাক্ত তরলের মধ্যে দুটি ডিমের ন্যায় লাল বল ভেসে ভেসে খেলা করছে। দু-প্লেটে চারটি ডিম। ছেলেটি চলে যেতেই গালে হাত দিয়ে বসলাম, দু-মিনিট। চিন্তা ছেলেকে নিয়ে,কিন্তু কোনও উপায় নেই। অদ্ভুত দর্শন আর অদ্ভুত স্বাদের ফ্রাইড্রাইস রায়তা সহযোগে কোনও রকমে গিলে উদর পূর্ণ করে যখন বেরলাম তখন আড়াইটে প্রায়। হোটেলের যে ছেলেটি আগে হিন্দিতে আমাদের সঙ্গে কঠা বলেছিল, তারকাছে জানতে পারলাম,হোটেলের সামনেই রাস্তার ওপাশ থেকে সরকারি বাসে রামকৃষ্ণবিচ ঘুরে আসা যাবে। মিনিট পনেরো-কুড়ির রাস্তা। বিকেলে কি আর করব,সেখানেই যাব ঠিক করলাম। আমাদের হোটেলটি একটি তিনমাথার মোড়ের সামনেই।প্রথমে একটা রাস্তা পেরিয়ে রাস্তার সংযোগস্থলে,সেখান থেকে রাস্তার অপরপ্রান্তে পৌঁছালাম। রাস্তার বাঁ-দিক ধরে একটু হেঁটে যেতেই দেখলাম পরপর তিনটি বাস দাঁড়িয়ে। আমরা রামকৃষ্ণ বিচে যাব বলাতে একজন একটি বাস দেখিয়ে দিল। বাসে উঠতে যাব, হঠাৎ দেখলাম বাসের দু’জন স্টাফ আমাদের দিকে তাকিয়ে নিজেদের ভাষাতে কিসব বলতে বলতে হাসতে লাগল। যদিও বুঝতে পারলাম না কি বলছে,তবে মনে মনে খুব রাগ হল।মিনিট কুড়ির মধ্যেই বাস রামকৃষ্ণ বিচের সামনে দাঁড়াতেই সব লোক নেমে গেল। বাসের রুট ঐ পর্যন্তই। রাস্তার ডানদিকে পাথুরে সমুদ্র হাতছানি দিচ্ছে। সুন্দর বাতাস বইছে। বিচে নামার আগেই দেখলাম রাস্তার ধারে বিভিন্ন স্ট্রিটফুডের দোকান। এক জায়গায় লাল গনগনে আঁচে ভুট্টা পুড়াচ্ছে একটি লোক। সুন্দর লোভনীয় ঘ্রাণে মনের মধ্যে তোলপাড় তুলল। পুত্র আর কত্তা অতটা ভালোবাসে না ভুট্টা খেতে। একটা ভুট্টা নিয়ে পা-বাড়ালাম সমুদ্রসৈকতের দিকে। ঐ ভুট্টাওয়ালার কাছেই জানতে পারলাম,যেখানে নেমেছি বাস থেকে, সেখান থেকেই ফেরার বাস পেয়ে যাব। শুকনো বালি থেকে এগিয়ে চললাম ভেজা বালির পথে। রামকৃষ্ণ সৈকতের মূল সৌন্দর্য ঐ পাথুরে গঠনে। সমুদ্রের পাড় থেকেই শুরু হয়েছে,জমে থাকা পাথরের মাথা তুলে আকাশ পানে চাওয়া। কিছুদূর অন্তর অন্তর কালো কালো শ্যাওলা ধরা পিচ্ছিল পাথরের স্তুপ সমুদ্রে দাহ ডুবিয়ে বসে আছে। ঢেউ এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে তার কঠিন গাল। ফটোগ্রাফির জন্য জায়গাটা বেশ উপযুক্ত। একটা পাথরে চটিখুলে খালি পায়ে উঠে দাঁড়ালাম। পায়ের তলায় টলটলে জলের ছোঁয়া। সমুদ্র থেকে উঠে আসা সাদা ফেনার ঢেউ ভেঙে ভেঙে ছোট হতে হতে হালকা স্পর্শে ভিজিয়ে যাচ্ছে আমার পায়ের পাতা। একটা শিরশিরে শীতল অনুভূতি পা থেকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে শিরায় শিরায়। ভিজে বাতাসের নোনতা স্পর্শ জমে যাচ্ছে জামা-কাপড়ের স্তরে স্তরে। দূর থেকে আগ্রাসী মনভাব নিয়ে ছুটে আসা ঢেউ যখন আছড়ে পড়ছে বড় কোনও পাথরের গায়ে,তখন জলের ছিটে এসে লাগছে চোখে,মুখে। ঠোঁটে জমে যাওয়া নুন,নিজের অজান্তেই কখন যেন মিশে যাচ্ছে জিভের স্বাদকোরকে। ছেলে খেলে করছে বাপির সাথে। ছোট্ট ছোট্ট হাতে জল তুলে ছিটিয়ে দিচ্ছে,আর খিলখিল করে হাসছে। দূরে একদল লোক হল্লা করতে করতে নেমে পড়ল সমুদ্রে। শান্ত সৈকত মাঝে মাঝেই উত্তাল হয়ে উঠছে হল্লাবাজ মানুষের উল্লাসে। বিরক্ত লাগছে মাঝে মাঝে।কিন্তু এটা তো ঠিক, এসমুদ্র আমার একার নয়।প্রকৃতিকে উপভোগ করার রকম মানুষ বিশেষে ভিন্ন হতেই পারে। তিনজনের জুতোই খুলে সমুদ্র থেকে বেশ কিছুটা দূরে এক পাথরের খাঁজে রেখে, পাড় ধরে হাঁটতে লাগলাম। খুব বেশিদূর নয় লাইটহাউস এখান থেকে। কিন্তু অজানা জায়গায় প্রথমদিন, প্রায় সন্ধ্যা আগত। এমনিতেই টের পেয়েছি, বাংলা তো নয়ই, ইংরাজি বা হিন্দি কোনও ভাষাতেই চিৎকার করে ঠিকানা জানতে চাইলেও কেউ উত্তর দেবে না। কপাল গুনে যদি হিন্দি বা ইংরাজি জানা কেউ থাকে,তবেই রক্ষে। আর এগোনোর সাহস করলাম না। সন্ধ্যার জোয়ার আসতে শুরু করেছে।জল ক্রমশ বাড়ছে। আমি সাঁতার জানি না। কাল্পনিক মন অমনি ভাবতে শুরু করল এখনই যদি গলা পর্যন্ত জল চলে আসে,সাঁতার জানা লোকটাকে অসহায়ের মতো আমার হাতটাই ছাড়তে হবে। উফ্‌! কী ভয়ানক ভাবনা। কেন যে এমন সব ভাবনা মাথায় আসে,বুঝতে পারি না। 

যাইহোক পিছনফিরে ফেলে আসা পথেই আবার হাঁটতে শুরু করলাম। ফিরতি পথ এতদ্রুত শেষ হয়ে গেল,যে মনে হল বেশি দূর তো যায়নি। শুধু শুধু তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম। আসলে অজানা পথ চিরকালই প্রতীক্ষার মতো দীর্ঘ মনে হয়। পাথেরে খাঁজে জুতোগুলো আছে ঠিকই, তবে ভিজে গিয়েছে। আমার তো পাতলা চটি ছিল,সমুদ্রে পা ভেজাব বলেই ওটা পড়ে এসেছিলাম। কিন্তু কত্তা ফান্ডা মেরে জুতো পরে এসেছিল।গিয়েছে সেটা। ভিজে ভারি। ছেলেরটাও। ওদের মুখের অবস্থা দেখে ভীষণ হাসি পেল। হা হা করে হেসে উঠলাম। ছেলে বলল, ‘আমাদের জুতো ভিজে গেল, আর তুমি হাসছো?’

আসলে মন ভালো থাকলে হাসির জন্য বড় কারণ দরকার হয় না। সমুদ্র থেকে একটু দূরে বাঁধানো বসার জায়গা রয়েছে। তখনও পুরোপুরি সন্ধ্যা নামেনি। কত্তা বললেন, চলো ওখানে বসে জুতোটা একটু মেলে রাখি সমুদ্রের হাওয়ায় জল খানিকটা টেনে যাবে।

আচ্ছা বেশ, তাই চলো। একটা ফাঁকা জায়গায় বসে পড়লাম পা ঝুলিয়ে। মিনিট পাঁচেক। দমকা হাওয়ার সাথে ঝলকে ঝলকে নাকে এসে ধাক্কা মারতে লাগল মানুষের পটির গন্ধ। ইস্‌! সামনে এতো সুন্দর প্রকৃতি! ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসছে সমুদ্রের বুকে। ঢেউয়ের গর্জন ক্রমশ বাড়ছে। এখনই তো আসলে সমুদ্রকে উপভোগ করার আদর্শ সময়। কিন্তু মানুষের পটির গন্ধের এতো জোর যে, আমাদের ফিরতে না চাওয়া মনটাকেও জোর করে টেনে নামিয়ে পাঠিয়ে দিল রাস্তার ধারে। দাঁড়িয়ে রইলাম বাসের অপেক্ষায়। মিনিট দশেকের মধ্যেই একটা বাস এসে দাঁড়াল। উঠে পড়লাম। ভাড়া দিতে গিয়ে দেখলাম,যাওয়ার সময় যে ভাড়া দিয়েছিলাম, ফেরার সময় পাঁচটাকা বেশি। মহিলা কন্ডাক্টার ইন্ডলি পিন্ডলি করে কি বলল বুঝতে পারলাম না। কেন টাকা বেশি নিল, মনে প্রশ্ন জাগলেও জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না। কারণ জানি বোঝাতে পারব না,ঠিক কি জানতে চাইছি। বাস থেকে নেমে রাস্তা পেরোতে গিয়ে পড়লাম সমস্যায়। তখন ঐ মোড়ের মাথায় অসম্ভব ট্র্যাফিক। পুলিশ দাঁড়িয়ে সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে। কত্তা ছেলেকে নিয়ে টুক করে ওপারে পৌঁছালেও আমি পারলাম না। দাঁড়িয়ে রইলাম। যতবার পা-বাড়াই, ততবার পিছিয়ে আসি। প্রায় মিনিট দশেক একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটা পুলিশ এগিয়ে এসে ওদের ভাষায় কি যেন জানতে চায়লো। আমি হিন্দি আর ইংলিশ কোনওটাই বলার চেষ্টা না করে গোডা বাংলাতেই বললাম, ‘ওপারে যাব’। কেন অন্য ভাষায় বলব? ওরা নিজের ভাষা ছাড়া কথা বলবে না। আমিই বা বলব কেন? ভাষা না বুঝেও তো বুঝে নিয়েছি পুলিশটা কি জানতে চায়ছে। সেও নিশ্চয় আন্দাজে বুঝে নেবে। হ্যাঁ, সে আমার সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝে নিয়েছে। হাত নেড়ে আমাকে দাঁড়াতে বলল। তারপর এক মহিলা পুলিশকে ডেকে আনল। মহিলা আমার কাছে এসে একইভাবে ইন্ডলি পিন্ডলি কি যে বলল বুঝতে পারলাম না, তবে সে আমার হাত ধরে রাস্তা পার করে দিল।

একটা বেশ বড় রাত বাকি। বাইরে থেকে কিছু চানাচুর আর বিস্কুট কিনে ঢুকে পড়লাম রুমে। পরের দিন আরাকু যাওয়ার টিকিট কাটা আছে। বেশ সকাল সকাল বেরোতে হবে। গনেশভাই ওঁর পরিচিত একজনকে ঠিক করে দিয়েছেন, যিনি আমাদের আরাকু ঘোড়াবেন। কিন্তু আমরা যাব ট্রেনে, তবে গাড়ি কী হবে?

সেগল্প পরের পর্বে...।ক্রমশ..

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.