x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০

শব্দের মিছিল

sobdermichil | জুলাই ১২, ২০২০ | | মিছিলে স্বাগত



এই সময়ের বুকে ক্ষত জমে আছে / শহরের বুকে ক্ষত জমে আছে/ কিছু দেখি, কিছু দেখতে পাই না…’ মৌসুমী ভৌমিকের জনপ্রিয় এই গানটি যতবার শুনছি ততবারই নিজের আঙ্গিকে ভাবছি ... শুধুই ভাবছি, সত্যিই তো কত কিছু দেখি, কত কিছু দেখতে পাই না!

এই যেমন, যে বিষয়গুলো তিক্ত হলেও সত্যি --- চলমান মন্ত্রী, আমলা এবং তাদের বিপুল অকর্মণ্য চ্যালাচামুণ্ডাদের এই করোনা-ক্রান্তিলগ্নে যেমন পেটের ভাতের কথা ভাবতে হয় না, তেমনি ভাবতে হয় না সেফ জোনের হাইরাইজে বসে ফেবুপাড়ার কফি লাইভে হঠাৎ বেড়ে ওঠা বিজ্ঞ মানুষদের জীবনযুদ্ধের কথা, কিম্বা এই ধরুন হাতেগোনা এমন জনা ত্রিশ-চল্লিশ বংশপরম্পরায় জ্ঞানপাপী --- যারা পূর্বে এবং বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ, তারাই নাকি ঠিকা নিয়েছেন এই বঙ্গের রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনকানুন, শিক্ষা ,স্বাস্থ্য এমনকি পরকীয়ায় সিক্ত - রিক্ত হৃদয়ের হাল ফেরাতে --- আনন্দের সহিত ২৪ ঘন্টা এনিটাইম অল দ্য টাইম।

জনসমুদ্রের এই দেশে এই রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ অবচেতনে সচেতন বলেই কি বাড়ন্ত আজ যত অশুভ আধিপত্য? প্রশাসন, সে তো যুগ-যুগ ধরেই সরকারে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের আস্থাভাজন। তবে কি, গণতন্ত্রের অনেক স্তম্ভের আরও এক স্তম্ভও আজ সুচারু ব্যাম্বু, বাঁশ? যাকে ভর করেই অনায়াসে সফল করা যায় রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

নচেৎ, রাষ্ট্রনায়কদের অদূরদর্শিতার ফলে শুধুমাত্র হাজার -হাজার মেহনতি মানুষদের পথে ভাসিয়ে পরিযায়ী তকমা কেন? কেনই বা তাঁদের মৃত্যুর মুখে নির্মমভাবে ঠেলে দেওয়া? কেনই বা তাঁদেরই একমাত্র করোনা রোগের উৎসে চিহ্নিত করা হলো? কেন এই বৈষম্য?

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা? বলদ কেনাবেচা?

ভাবতে অবাক হই, দিকপাল বরেণ্যদের এই পুণ্যভূমিতে --- রাজনৈতিক সেবায়েতরা নন, মিডিয়ার গালগপ্প নয়, একমাত্র "কোভিড ১৯" আজ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে জীবনযুদ্ধে একত্রিত করে তুলেছে। চোখ মেলে দেখতে শিখিয়েছে, প্রতিবাদ - প্রতিরোধ করতে শিখিয়েছে।

যার পরিণাম, বিভিন্ন জায়গায় রেশন দুর্নীতি থেকে অসাধু রেশন ডিলার ঘেরাও, নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন দাবিতে সরকারি অফিস ঘেরাও, পথ অবরোধ, রাজনৈতিক নেতানেত্রী মুক্ত অধিকাংশ চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে সামাজিক অবস্থা, বেসরকারি কলেজ, বিদ্যালয়ের অমানবিক এবং তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের ঘেরাও - অবস্থান আজ মুহূর্মুহু।

দিন সমাগত, এটা আর ভাবার প্রয়োজন নেই। যার অনৈতিক পেশীক্ষমতা এবং যার অঢেল অর্থ, সে তেমন বড়ো মান্যিগণ্যি। জেনে রাখা ভালো, কোনো রোগই এই দুইয়ের ধার ধারে না। তাহলে আমরাই বা কেন?

পরিশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে - রোগের সাথে আমাদের লড়াই, রোগীর সাথে নয়। তাই সমাজের সব রোগ নির্মূলে আমাদের সংহতি, অবস্থান, লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে চলতে হবে, রোগ মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যাশায়।

শব্দের মিছিল
১২ই জুলাই / কলকাতা


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.