x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২০

► মৌমিতা ঘোষ

sobdermichil | মে ১৯, ২০২০ | | মিছিলে স্বাগত
যার গায়ে সব ব্যথা বাজে / মৌমিতা ঘোষ
একটা ঝড় আসছে। প্রলয়ের মতো একটা অন্ধকার ঢেকে ফেলছে আনাচকানাচ।একটা সাইক্লোন, সব স্পর্ধাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার। কিন্তু আমার আর ভয় করছে না। ভয়ের সঙ্গে দিব্য বসত করছি বেশ অনেকদিন হল।প্রথমে মৃত্যু মিছিল চেতনাকে ভয়ঙ্কর কালো ছায়ায় ঢেকে ফেলতো।এখন আর ফেলছেনা। যে দেশে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন পথ আমার কাছে থাকেনা, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী এই এক ই দাওয়াই ছাড়া দিতে পারেন না, সে দেশে ধীরে ধীরে বোবা এক অনুভূতি নিয়ে ঘরের কোণে বসে থাকি।খবর আসে, মায়ের বাড়ির আশেপাশে মানুষের মৃত্যুর, মাকে আমি অভয়বাণী দিই। ওইটুকু ছাড়া আসলে কিচ্ছু দেওয়ার নেই।অবসাদের চাদরে মুড়ে রাখা কিছু সাদা হয়ে যাওয়া মধ্যবিত্ত মুখ চেতনার মধ্যে একশোবার নিজেকে মারে। মধ্যবিত্ত সবচেয়ে বেশি নিয়ম মেনে চলে। পয়সার একটা নিজস্ব গরম হয়, তা তার নেই। দরিদ্রের ডেসপারেশন তার নেই। সে ভাবতে জানে, কাঁদতে জানে তাই। সে জীবন থেকে শুধুই টাকাপয়সা চায়নি, উৎকর্ষ চেয়েছে, তাই সে ধোবি কা কুত্তা,না ঘর কা,না ঘাটকা। প্রতিদিন জেগে থাকা সেই চেতনার চাবুক , খিদের মতো ঠিক না হলেও, বেশ তীব্র। 

একটা অন্যরকম ভারতবর্ষ হেঁটে চলেছে রেললাইন ধরে। পাশাপাশি চলছে শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর বুলেট ট্রেন? কোথায় চলছে? এরা সবাই এত বোকা কেন? ট্রেনের বন্দোবস্ত থাকা সত্ত্বেও হেঁটে চলেছে। ওরা ছাপ্পান্ন দিনের খিদের পরে নিজের পেশিকে ছাড়া আর কোন প্রতিশ্রুতি কে বিশ্বাস করে না। ওরা হাঁটছে। পায়ের তলায় পুড়ে গিয়ে ভারতবর্ষের এবড়োখেবড়ো মানচিত্র। রাস্তায় এক্ষুণি জন্ম নিল যে বাচ্চা টা সে হয়তো কাল মরবে ভেবে আমি চুপ করে থাকি, প্রাণপণে গান গাই, " ক্ষমিতে পারিলাম না হে, ক্ষম হে মম দীনতা" । যাদের লজ্জা করার কথা তারা লজ্জা পাচ্ছে না।তারা ভাত দেয়নি, রোজগার দেয়নি, সাহায্য যা কিছু আসছে তা করছি আমরা, মধ্যবিত্তরা। যাদেরকে বড়সড় বাঁশ কবেই দিয়ে রেখেছেন আপনি/আপনারা গদিবাবু। আমাদের জন্য মিথ্যে প্যাকেজের জুমলাবাজিও হয়না। আমাদের চাকরির কোন গ্যারান্টি তো আপনারা নেন ই না, উপরন্তু নির্লজ্জের মতো ঘোষণা করেন কোন কর্পোরেট চাইলে এই অবস্থায় মাইনে কমাতে পারে। মানে ভাত দেবার জোগান নেই, কিল মারার গোঁসাই। আপনি চান, আমারাই ছাড়বো গ্যাসের সাবসিডি, আমরাই পয়সা দেবো ; নাম হবে' পি এম কেয়ারস' ফান্ড। আমরা সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দিই, আর আপনি মহাচোরেদের আনপেইড লোনে ছাড় দেন।আমরা সবার আগে বন্যাত্রাণ থেকে সব রকম ডিসাস্টারে পয়সা বের করে দিই কষ্টের সংসার থেকে।‌

ভয়ঙ্কর একটা সাইক্লোন আসছে। কিন্তু আমার, আমাদের ভয় করছে না।‌আমরা এতগুলো মানুষ কে পথে দেখতে দেখতে শিখে গেছি, অত সহজে হাল ছাড়লে চলেনা।

শিখে গেছি বেঁচে থাকাটাই এক আশ্চর্য ম্যাজিক।শিখে গেছি নিজের উপর আস্থা হারানো পাপ। শিখে গেছি "কে ভাই, কে দুশমন।" আমাদের কাল কোন কাজ থাকবে কিনা জানিনা, ভাত থাকবে কিনা জানিনা।‌তবু জানি আমরা ধনী, অন্তত আপনাদের চেয়ে। আমাদের চোখে এখনো জল আসে। মানুষের দুর্দশায় আরো শতগুণ বাড়িয়ে তোলার ফন্দি মেশানো নেই সেই জলে।

গায়ের জোরে রাখতে পারো, মারতে পারো, কিন্তু "তোমার টানাটানি টিকবে না ভাই, রবার যেটা সেটাই রবে।"
আমরা মধ্যবিত্ত। ক্রোধ লিখে রাখি মনের পাতায়।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.