x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২০

মৌমিতা ঘোষ

sobdermichil | এপ্রিল ১৪, ২০২০ |
লকডাউন

সত্তর দিনের লকডাউন ভাঙবে পরশু। সুধী ভালোমানুষ টি জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়েছেন এ কথা। বারবার শৃঙ্খলা রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একশো তিশ করোর কা আবাদি মে আটকোটি জনসংখ্যা কে প্রায় ধরাই হয়না, তাতে বড় ছোট মাঝারি সব বিত্ত মিলিয়ে কমেও একশো তিশ করোর উনি বলতে পারছেন বলে ওনার বাহান্ন ইঞ্চি ফুলে ফুলে উঠছিলো।সেই দেখে ঘিলুদা আনন্দে আজ লুকিয়ে গোমূত্র পার্টি রেখেছেন। রাম মিশিয়ে দেওয়া হবে। এতদিনের লকডাউনে আর ওসব খাবেনা ক্যাডাররা। তাই রামের ব্যবস্থা আছে। আর রামনামে তো ঘিলুদার পেটেন্ট নেওয়া আছে। ক্যাডাররা রামনামে সকাল থেকে ফ্যান্টাসাইজ করেই দুলে উঠছে। সত্তর দিন মদ না পেয়ে , এখন মদের কথাতেই খানিক কাজ হচ্ছে। ঘিলুদার এক নম্বর ফ্যান রামেশ্বরজি তো বৌদির গোঁফ দাড়ি গজানো মুখে চার পাঁচ খান হামিই খেয়ে ফেললেন। তারপর খাড়া খাড়া গোঁফের খোঁচা খেয়ে বোরোলিন লাগাতে লাগাতে বললেন "ইয়ে পার্লার ভি খুল যায়েগা, কোই চিন্তা নেহি। "

এতদিন ধরে তৃষিত ছিলেন ভাবিজি।তিনি প্রায় ঝাঁপিয়ে কয়েকটা পাপ্পি নিতে যাচ্ছিলেন, রামেশ্বর জি বোরোলিন হাতে পাক্কা উইকেট কিপারের মতো গার্ড করলেন মুখ, আর বললেন," দো দিন সহ্ লে, মুন্নাকা ভাই লায়েঙ্গে ,মা কসম।" 

এদিকে পিসিমণি ঘোষণা করেছেন, সাবুদানা আর কলা খেয়ে তিনি লকডাউন ভাঙবেন। বিরোধিরা চেঁচামেচি শুরু করেছে। "সাবুদানা খেয়ে লকডাউন ভাঙবেন মানে? উনি কি উপোস করে ছিলেন?" 

দলীয় ছেলেরা পাল্টা জবাব দিয়েছেন যে পিসিমণি গরীব মানুষের কষ্ট দেখে শুধু জুস খেয়েছিলেন, এক আধদিন, মুড়ি আর ঘরে ভাজা চপ। সাবুদানা খেয়ে উনি আরোগ্য কে আহ্বান জানাবেন।এখন কাট আউটে সাবুদানার সৌজন্যে কোন কাউন্সিলর এর নাম যাবে সেই নিয়ে হেব্বি কিচাইন চলছে। হরি মাতাল, এক কেজি সাবু স্টক করে রেখেছিল, সক্কাল বেলা কেউ আসার আগে পিসির দরজায় রেখে , ছবি তুলে টুইট করেছেন। তার জন্য অ্যান্টি লবির রোদন মিত্রর ছেলেরা সকালে তাকে ভার্চুয়ালি চমকেছে। সন্ধেবেলায় ছবি করে দেবে বলেছে। এই এলাকায় থেকে রোদনদার সঙ্গে পাঙ্গা? পরশু লকডাউন শেষ তো কী? দুজন দুজন করে আলাদা আলাদা পৌঁছাতে হবে হরি মাতালের চাতালে। মালটাকে কেলিয়ে ফাটা পিছনের ছবি ট্যুইট না করলে ইজ্জত থাকবেনা রোদনের। এদিকে অপোজিশনের হোয়াটসঅ্যাপ আসতে শুরু করেছে হরির কাছে। ব্যাকুল রায় তার ব্যাকুলতা জানিয়েছেন হরির জন্য। এক পা এগোলেই যে তার করোনামুক্ত বুকটি পাতা আছে তাও জানিয়েছেন। হরি সন্ধে না হতেই লাইট নিভিয়ে পাড়ার চায়ের দোকানে পঞ্চাশটা লোকের ভিড়ে গিয়ে মিশেছে।লকডাউন ভাঙবে বলে আলোচনা য় সবাই উন্মুখ।চা-খাবার পয়সা নেই, এমন লোক ও বাতেলা দিচ্ছে, কেউ যদি একটা সৌজন্যের চা এগিয়ে দেয়। কিন্তু সবার এখন টানাটানি। অর্ধেক লোকের দোকান বন্ধ ছিল, বেশিরভাগ লোক চাকরি খুইয়েছে, তারা এখন বসে হেব্বি সরগরম আলোচনা করছে, কীভাবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এই নিয়ে।এর মধ্যে একটা বাচ্চা এসেছে বাবাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেতে। সবাই রে রে করে উঠল। লকডাউন ভাঙেনি, তবু কী করে একটা বাচ্চা বেরোয় রাস্তায়।সে ও আজকালকার বাচ্চা। পাত্তা না দিয়ে বলল, "বাবা এখন বাড়ি না গেলে মা, বোন আর ঠাম্মাকে নিয়ে এখানে পৌঁছে যাবে।

তখন দিয়েন জ্ঞান ।" সবাই বাচ্চা কে ছেড়ে তার বাবার যে রাস্তায় কোনো ভাবেই বেরোন উচিত হয়নি এই জ্ঞান দিতে শুরু করল। সুব্রত বাড়ি যাওয়াই ঠিক হবে ভেবে পা বাড়াতেই, হরি বলে উঠলো "চলো আমিও একটু চা খেয়ে আসি বৌদির হাতের। হরি কোন আপত্তি শুনবে না এমন মুখ করে পোস্টারের মতো চিপকে গেলো সুব্রতর সঙ্গে।

পিঙ্কিকে বিয়ে করার দুদিনের মধ্যে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় হানিমুন যাওয়া হয়নি রাজুর । কাজ কম্মোও নেই, ঘরে নতুন ডবকা বৌ, রাজুর সোহাগ একটু বেশি ই উছলে পড়েছে। লকডাউনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের সাথে কন্ডোম ও স্টক করবে হারামজাদারা , এটা ভাবতেই পারেনি রাজু।প্রথম দফার পার্সোনাল স্টক ফুরোতে , দোকানে গিয়ে না পেয়ে সামলে ছিল, কিন্তু এই গরমে রাতে স্নান করে পিঙ্কির নাইটির বুকে পাউডার মাখা দেখে সামলাতে পারেনি রাজুদা। শালা , এক সপ্তাহ আগে প্রেগনেন্সি কিট কিনে এনে, পজিটিভ দেখিয়েছে। পিঙ্কি ঘরের দরজায় লকডাউন করেছে, রাজুর এখন সোফায় স্থান। লকডাউন খুললে হানিমুন যাওয়ার প্ল্যানে জল ঢেলে দিয়েছে রাজু। পিঙ্কি খুব আপসেট, "ছি,ছি, হানিমুন স্পেশাল ড্রেসগুলো ইনস্টাতে আপলোড ই করতে পারলোনা, স্ট্রেচ নিল কেনার সময় এসে গেলো। রাক্ষুসে ছেলে একটা। শয়তান।"

রাজু চোরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে আছে , লকডাউন খুললে ওষুধের দোকানদারকেই একটু খিস্তি করে মনের ঝাল মেটাবে।

যাদের বলা হয়েছিল, 'সর্বশক্তিমান বাঁচাবেন ঠিক,' তাদের এক ধাক্কায় দশ-বারো হাজার কমে গেছে, তারা এখন অন্য ভগবানের খোঁজ করছে।ডাক্তাররা আর্জি জানিয়েছেন, লকডাউন খুললে তারা হাসপাতাল বন্ধ করতে চান সাতদিন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তারা। এই নিয়ে বাদানুবাদ তুঙ্গে। সরকার এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এখন গোপন বৈঠক চলছে ভোটব্যাঙ্ক কী করলে ঠিক থাকবে, তারপর সিদ্ধান্ত।

এতদিন ধরে ভিডিও কলে সেক্স করা মেয়েটি আজ সকাল থেকে গেস্ট হাউস সার্চ করছে। সাইটগুলো লকডাউনের পরে কাপলদের জন্য নানা অফার দিচ্ছে।

"সোনা, বেবি, আমরা এইখানে যাবো, হ্যা, মুয়া।"

" বেবু, আমরা ওই পজিশন টা এবার ট্রাই করবো, উম্মা।"

" বুক করে নাও, বেবি।"

বুক হয়ে যায় রুম।

এতদিন নানা রেসিপি পোস্ট করা মহিলারা একটা ফেসবুক ইভেন্ট ক্রিয়েট করে ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে। তারা দেখাতে চায় কত প্রতিভা তারা লুকিয়ে রেখেছিল এতদিন।

গান-বাজনা করে খাওয়া লোকেরা একটি আরোগ্য-উৎসবের দাবি জানিয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।তার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।দুর্গাপুজো যাতে একমাসের হয়, সেই প্ল্যান করার জন্য পিসিমণি বিশেষ বডি তৈরি করেছেন।এবছর কোন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কে নূন্যতম ষাটের নিচে দেওয়া যাবেনা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নোটিশ জারি হয়েছে। যাদের বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীরা মারা গেছেন ও আজ ও ইনসিওরেন্সের টাকা পাননি, তারা কালো ব্যাজ ও কালো পতাকা পরে রাস্তায় নামবেন ঠিক করেছেন।'সবই কেন্দ্রের চক্রান্ত' বলে উৎসবের প্ল্যানিঙ এ ব্যস্ত তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ।

গতকাল রাত থেকে হেব্বি কিচাইন এসব নিয়ে। রোদন মিত্রের ছেলেরা হরিকে খুঁজে না পেয়ে চায়ের দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে। বোমাবাজি করেছে। কারফিউ জারি হয়েছে। একগাদা লোক লকডাউন ভাঙাকে সেলিব্রেট করতে ওপেন হেঁচেছে, কেশেছে, তাদের জিহাদি ভেবে কেলিয়েছে সাধারণ মানুষ, আসলে তারা প্রতীকি লকডাউন ভাঙার প্রচেষ্টা করেছিল।

মদ হোম ডেলিভারি তে যারা পায়নি, তারা আজ মোড়ে মোড়ে ধর্ণায় বসেছিল, লকডাউন পরবর্তী পর্যায়ে তাদেরকে বিশেষ ডিসকাউন্ট দেওয়া হোক সরকারের পক্ষ থেকে। পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। 

পিঙ্কি বৌদি রাগে ডোমেস্টিক রেপের অভিযোগ এনেছেন।

সবচেয়ে বড় খবর যেসব চাষিদের নিজেদের প্রাপ্য টাকা ,তার ই অ্যাডভান্স পাইয়ে দেওয়ার ঝুটা করোনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল, তারা সেটাও পায়নি বলে লঙ মার্চের কথা ভেবেছে। "দিল্লি চলো।" 

ওরা আসছে,ওরা হাঁটছে, বাড়ির লোক মরেছে, ওরা আধপেটা, তবু ওরা হাঁটছে।ঢেউ উঠছে।কাদের পুঞ্জীভূত রোষ ফুটছে।

তড়িঘড়ি জাতির উদ্দেশে ভাষণ।সবাই খুশি খুশি টিভির সামনে হাজির।ঘোষণা হল, লকডাউন  অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল। 




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.