x

আসন্ন সঙ্কলন


যারা নাকি অনন্তকাল মিছিলে হাঁটে, তাদের পা বলে আর বাকি কিছু নেই। নেই বলেই তো পালাতে পারেনা। পারেনা বলেই তারা মাটির কাছাকাছি। মাটি দ্যাখে, মাটি শোনে, গণনা করে মৃৎসুমারী। কেরলের মাটি কতটা কৃষ্ণগৌড়, বাংলার কতটা তুঁতে! কোন শ্মশানে ওরা পুঁতে পালালো কাটা মাসুদের লাশ, কোন গোরেতে ছাই হয়ে গেলো ব্রহ্মচারী বৃন্দাবন। কোথায় বৃষ্টি টা জরুরী এখন, কোথায় জলরাক্ষুসী গিলে খাচ্ছে দুধেগাভিনের ঢাউস পেট। মিছিলে হাঁটা বুর্বক মানুষ সেসবই দেখতে থাকে যেগুলো নাকি দেখা মানা, যেগুলো নাকি শোনা নিষেধ, যেগুলো নাকি বলা পাপ। দেশে পর্ণ ব্যন্ড হল মোটে এইতো ক'টা মাস, সত্য নিষিদ্ধ হয়েছে সেই সত্যযুগ থেকে। ভুখা মিছিল, নাঙ্গা মিছিল, শান্তি মিছিল, উগ্র মিছিল, ধর্ম মিছিল, ভেড়ুয়া মিছিল যাই করি না কেন এই জুলাইয়ের বর্ষা দেখতে দেখতে প্রেমিকের পুংবৃন্ত কিছুতেই আসবে না হে কবিতায়, কল্পনায়... আসতে পারে পৃথিবীর শেষতম মানুষগন্ধ নাকে লাগার ভালোলাগা। mail- submit@sobdermichil.com

ভালোবাসার  আষাঢ় শ্রাবণ

অতিথি সম্পাদনায়

সৌমিতা চট্টরাজ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২০

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

sobdermichil | এপ্রিল ১৪, ২০২০ |
নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত  / খোলাম কুচি দর্শন

‘মানবতা’র স্তম্ভ হিসাবে যে সব বিষয় গুলো কে মনে করা হয় – প্রেম, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা,দানশীলতা,সেবা, পরোপকার...সব কেমন শেষ করেক দশক গুলিয়ে গেল। এসব গুণ গুলো আদৌ গুণ না বোকার ভালোথাকার যুক্তি জানি না। বিজ্ঞান তার কাজ শুরু করে ছিল এই মানব জাতির কল্যাণ কামনায়। অনেক দোষ ত্রুটি নিশ্চয় আছে। বিজ্ঞানের প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যাথা দিয়েছে মানুষ কে। তবু তার সাহায্যেই মানবতা এগিয়ে যায়। মানবতা একটা আবেগ। ‘মনুষ্যত্ব’ নিয়ে প্রচুর আলোচনা।তবু একটু ভেবে দেখা।

প্রেম- এই শব্দ টা কেবল মাত্র সেক্সের সাথে জড়িত হয়ে গেছে। শারীরিক সুখ... তাতে সুসম্পর্ক না থাকলেও চলবে। অনেকে এটা শো-অফ করে তাদের ‘প্রেম’ ব্যাপার গুলো কে। যাতে তার বন্ধু, প্রতিবেশি রা হিংসে করে।নিজেরা নিজেদের কে কত টা জানল সেটা প্রয়োজনীয় নয়। অথচ যার শব্দ তার গভীর অর্থ ছিল একে অপরের প্রতি দ্বিধাহীন অবিরাম ভালোবাসা।নারী পুরুষ পশু পাখি পাহাড় নদী ...সকলের প্রতি অকারণ ভালোবাসা। প্রাচীন পৃথিবীর যে কোন সমাজ এই প্রেম কেই ঈশ্বর বলে মনে করে।

ভ্রাতৃত্ব- ভাই...। এক উদরজাত। প্লিজ এখানে জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশান ভাববেন না। সহোদর কিংবা সহোদরা র প্রতি প্রশ্নাতীত বিশ্বাস আর বিশ্বস্ত থাকার অভ্যাস। যদি সেটা না থাকে তাহলে মহাকাব্য হয়। সাধারণ জীবনে দুটোই সত্যি। ভাই বোনের ভালোবাসা এবং ভালো না বাসা। সেই ভালোবাসার অভ্যাস পরিবার পার হয়ে বৃহত্তর হয়ে যায়, স্কুল, কলেজ, পাড়া, শহর, গ্রাম,জেলা,দেশ...। সেই বিশ্বাস আর বিশ্বস্ততা ছড়িয়ে পরে… বেঁধে রাখে। খুব দরকার আছে। ছোট সংসার, ব্যক্তি পরিসরের স্বাছন্দ্যময় পৃথিবীর ঠিক উল্টো দিকে এটার বাস। ঠিক উল্টো দিকে বলা ঠিক কি। ঐ দল বেঁধে বিশ্বস্ত না রইলে ব্যক্তির স্বাভাবিক বাঁচা কিন্তু সমস্যার মুখে পরে।

সহনশীলতা- সহ্য করে নেওয়া ভালো… এই কথাটা না বলে বলা যায় সহ্য না করলে অসুবিধা হবে। ‘সহ্য’ ঠিক কোন বিষয় গুলো কে করার বা করার নয়।মানুষের ঘটনা বহুল জীবনে প্রচুর পরিস্থিতি সহ্য করে নিতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় ‘অন্যের মত’ আর ‘অন্যের জীবন যাপন পদ্ধতি’। ধরে নেওয়া যাক আমরা যে ভাবে উৎসব বাঁ উল্লাস করে আনন্দ পাই/ যেভাবে শোক যাপন কে ঠিক মনে করি... এমন কেও এলো যে সে ওভাবে করে না... ব্যাস ‘অসহ্য’ হয়ে যায়। অথচ তার কিংবা তাদের কাছে তার আনন্দ করার অধিকারে কোথায় বাধা দেবার ইচ্ছে চলে আসে। 

দানশীলতা- নিজের কাছে যদি বেশী থাকে তাহলে টা ভাগ করে নেওয়া ভালো। ভাগ করে নিতে হয়। অন্যকে দিলে নষ্ট হয় না- নিজের কম হয় না। বরং এমন একটা সুমধুর অভ্যাস তৈরি হয় যা গোটা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উপচে নষ্ট হবার চেয়ে কাজে লাগা ভালো। আর নিজে যদি কখনো বিপদে পরি আমাকেও কেও হেলা করবে... দেবে। তবে দান করার প্রধান পদ্ধতি হল গোপনীয়তা। বাম হাত জানবে না, ডান হাত দিল।তাই ক্যামেরার সামনে দানের যে প্লাবন সে টা বন্ধ হোক। যিনি হাত পেতে গ্রহণ করেন তার বড্ড অবমাননা হয়। 

সেবা- রামকৃষ্ণদেব ‘জীবে দয়া’ শব্দটিতে ঘৃণা করতেন, বলতেন জীবে সেবা। মানুষ সেবা করে শ্রদ্ধার সাথে। অন্যের কষ্টের সময় তাকে আরাম দেওয়া, আরোগ্য পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এটা এমন একটা কাজ যা শারীরিক আর মানসিক পরিশ্রম সাধ্য। সেই আলোর পথে তাকালে...কত মানুষ যে সেই পথে মানুষ কে, আর এই কলহ পরায়ণ সভ্যতা কে বাঁচিয়ে গেছেন। ফ্লোরেন্স নাইটএঙ্গেল, হেনরি ডুনান্ট , ডেনিস মুকওয়েজ, Doctors Without Borders , রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম এর মতো অজস্র সংস্থা কাজ করছে। তবু একটা কথা কোথায় কাঁচের টুকরোর মত বিঁধে থাকে… আমি যে মানুষ টা সে কি কারো সেবা করি?

পরোপকার- অন্যের ভালো। এমনি এমনি ভালো কিছু করা । এই বিষয়টির ব্যাপ্তি বাসে সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো থেকে কিডনি দান করে দেওয়া অবধি। খুব ছোট বয়সে বেশিভাগ মানুষ ঐ ছোট ছোট উপকার করতে থাকে। তারপর কোন তিক্ততার জন্যে কিংবা উদাসীন হয়ে যাবার জন্যে কেন কি জানি ভুলে যায়। 

আমি দেখেছি একটু কিছু করতে পারলে বেশ ভালোই লাগে।  সংযম- আধুনিক মানবিকতার যে বিশ্লেষন সেখানে আদৌ সংযম বলে কিছু আছে কি না জানি না।

তবে যে কোন মানুষ সফল হতে গেলে এই গুণ টা আয়ত্ত করে।সে অমিতাভ বচ্চন বলুন কিংবা অভিজিৎ বিনায়ক। কিন্তু মানবিকতার ক্ষেত্রে যেটা মনে হয়... অন্যের কষ্টের কথা জেনে নিজের আনন্দ কম প্রকাশ করা। নিজের কোন প্রবল কষ্ট ,অন্য কে দেখিয়ে অন্যের কাজ থেকে মনোযোগ আকর্ষণ করা কিংবা সুযোগ নেওয়া। পাশে প্রচুর মানুষ যখন খেতে পাচ্ছে না, তখন নিজের পঞ্চব্যঞ্জন কে দেখানোর কিছু নেই। 

আরও অনেক কিছু আছে যা দিয়ে এই মানব ধর্ম গড়ে উঠেছে এগিয়ে যাবে। আমরা আবার সব কিছু দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরবো। মানবিক হব। সব আপনারা জানেন । আমি নতুন কিছু বলছি না। বলবার ক্ষমতাও রাখি না। বিজ্ঞান নানা ভাবে সে মানবতার পাশে এসে দাঁড়ায়। কেবল তারমধ্যে আমার মনে কাটার মত বিঁধে থাকছে অন্য একটা প্রশ্ন। আমরা বিজ্ঞানের কাছ থেকে স্বাছন্দ্য ছাড়া আর কিছু চেয়েছি কি?

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.