x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

জয়া চৌধুরী / কিছু মানুষ অন্যকে দোষী না করে কিছুতেই নিজে ভাল হতে পারেন না।

sobdermichil | মার্চ ২৯, ২০২০ |

জয়া চৌধুরী কিছু মানুষ অন্যকে দোষী না করে কিছুতেই নিজে ভাল হতে পারেন না।কিছু বন্ধুকে দেখছি রান্নার ছবি দিচ্ছেন। ব্যাস শুরু হয়ে গেল লেকচার। কী নিষ্ঠুর! কী নির্মম! গরীব মানুষ এরকম কষ্ট পাচ্ছে আর এরা রান্নার ছবি পোষ্ট করছে...।

বিরক্তিকর। রান্না অনেকের কাছেই শিল্প মানে সৃষ্টির একটি পথ। ভাল করে খেয়াল করলে দেখা যাবে নতুন পোষ্ট করা রান্না গুলি সবই সামান্য আয়োজনে সুন্দর পরিবেশনের নিপুণতা দেখাচ্ছে। এ তো ভাল কথা। সমাজে নানান কিসিমের মানুষ। এই বিশ্রী ঘ্যানঘ্যানে সংকটে নিজের মত করে লড়াই করছেন সবাই। কেউ তথ্য পরিবেশন করছে ঘন্টানন্দের মত কতজন রোগী, কতজন সেরেছে কতজন নতুন , কেউ গান গাইছে, কেউ লিখছে, কেউ ছবি দিচ্ছে ...মোদ্দা কথা হল যার যা খুশি করে নিজেকে ভোলাতে চাইছে। তাতে দোষ কোথায়?

ইউনিভার্সাল বলে কিছু কী আদৌ বলে দেওয়া যায়? আগে আপনারা রান্না গুলি দেখুন উদ্দেশ্য কী! আমি তো ইদানীং বেশ কটি রান্না দেখে নোট ডাউন করে নিলাম। নিজে রেঁধেও ফেলেছি। সামান্য আয়োজনে রেঁধে পরিবারের মুখে তুলে দেওয়া কী কম দায়িত্বের কাজ??? রান্নায় নুন মিষ্টির ব্যালেন্স টুকু জানলে যৎসামান্য পদে এক থালা ভাত খাওয়া হয়ে যায়। আলুর খোসা যে বাটার মধ্যে পোস্ত মিশিয়ে কড়াইতে নাড়লে সুস্বাদু বাটা হয় কিংবা খোসা পেস্ট করে পোষ্ট ছড়িয়ে সামান্য তেলে বড়া ভাজলে ডালের সঙ্গে দারুণ খাওয়া হয় এগুলো জানতে পারা কী কম জরুরী? কী খেতে দেব তিনবেলা এখন, আমাদের রাঁধুনিদের এটা তো একটা সমস্যা এখন। বাড়ির পুরুষেরা বহু বাড়িতে নবাব পুত্তুর। ছোট্রা তো সব আবদারের জন্য বাড়ির রাঁধুনিটির আঁচল ধরে ঝুলোঝুলি করে চিরকাল। সে রাঁধুনি মা হোক বউ হোক বা কাজের দিদি হোক, তাদের কাজটি জরুরী অত্যাবশ্যকীয় বলেই ভাবি। দুটো ডাল ভাত স্বাদ মত রেঁধে মুখে তোলা যে কতবড় চ্যালেঞ্জ তা যারা রাঁধে তারাই জানে। আর আমার বন্ধু তালিকায় অনেক বিশিষ্ট রাঁধুনি আছেন বা লেখক বা অন্য কিছু পেশা তাদের, তারা এ বিপদে কত নিপুণ রান্না উপায় বলে দিচ্ছেন। তাতে তাদের স্ট্রেস ও কমছে। কেননা রান্না তাঁদের কাছে উল্লাস নয় প্রাণের আহ্লাদ। দেখুন সব কিছুকে জাতির শত্রু বানাবেন না। রিপাবলিক চ্যানেলে সেদিন দেখাচ্ছিল যারা লক ডাউনে রাস্তায় নেমেছে তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে দিয়েছে "আমরা দেশের শত্রু"। এ যে কত বড় বদমাইশি ভাবা যায় না। হঠাত করে লক ডাউন করার ফলে কত বাড়িতে কত জরুরী প্রয়োজনে মানুষ বাজারে গেছে। অমনি তাঁদের পাকড়াও করে দেশদ্রোহী দাগিয়ে দিল? আপনারাও কী তাই করছেন না? টিভি আর ফেসবুকে লেকচার দিয়ে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব? দেশের শত্রু আসলে কারা আপনারাই ঠিক করুন।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.