x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

করোনা ভাইরাস ! গুজব প্রতিরোধ এবং আমাদের করনীয় কি?

sobdermichil | মার্চ ২৭, ২০২০ |
করোনা ভাইরাস ! গুজব প্রতিরোধ এবং আমাদের করনীয় কি?
বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন  রাজ্য থেকে আসা আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এখনো  প্রচুর আনটেস্টেড মানুষ কমিউনিটিতে আছেন বলেই একটা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দাবীর স্বপক্ষে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন ভয়েস ক্লিপিং পেয়েওছেন আমরা অবগত। আজ থেকে রাজ্য সরকারের নির্দেশে সাইবার ক্রাইম সেলের সক্রিয়তা্য এই ধরনের অবাঞ্ছিত গুজব নিশ্চিহ্ন হবে বলেই  আমরা আশাবাদী। সেই সাথে  গুজব রটানো ধারীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হবে, ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। 

ভয়ঙ্কর এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে – পেশায় চিকিৎসক এবং অবশ্যই এই সময়ের একজন সুপরিচিত ঔপন্যাসিক ডাঃ পুজা মৈত্রর  সাথে করোনা ভাইরাস এবং তার বর্তমান চিকিৎসা এবং  সকল নাগরিকের  এই মুহূর্তে ঠিক কি কি  করনীয় - এই বিষয়গুলো নিয়েই সরাসরি ফোন আলাপে  আমি দেবজিত।  
  • কর্ম বা শিক্ষাক্ষেত্র থেকে  বিভিন্ন দেশ এবং রাজ্য থেকে বিভিন্ন স্বদেশীয় নাগরিকরা তাদের গৃহে ফিরছেন - এই বিষয়টি আপনারা কিভাবে দেখেছেন ?  অথবা, করোনা ভাইরাস ! গুজব প্রতিরোধ এবং আমাদের করনীয় কি?
ডাঃ পূজা মৈত্র -  দেখুন এই বিষয়টি রাজ্য বা দেশের প্রশাসনের কাজ। কর্মক্ষেত্র থেকেই অবগত প্রতি জেলার প্রশাসন স্পেসিফিক্যালি জানে বাইরে থেকে কজন তাঁদের জেলায় এসেছেন। সেই তালিকা  গত ২০ দিন ধরে আমরা পাচ্ছি এবং তাদের ঠিকানা আর ফোন নাম্বারও। প্রাইভেট কারে এলেও প্রতিবেশীরাই দায়িত্ব নিয়ে খবর দিচ্ছেন থানা বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।জনগনের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের মিডিয়া বিজ্ঞাপন, মাইকিং -এর একটি সুফল। যারা গুজব ছড়াচ্ছেন তারা অবশ্যই শিক্ষিত মানুষ -  আর শিক্ষিত মানুষের এমন কাজ জেনেই খারাপ লাগছে। কোথায় আছি আমরা এই ২০২০ সালে!

লক ডাউনের আগের ৪ দিন সমস্ত বাস আর ট্রেন স্টেশনে বা বাসস্টপে ইন্টারসেপ্ট করে, তাদের পরীক্ষা করেছে স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত ২৪ ঘন্টা। এর পরেও তাদের বাড়িতে আশার কর্মীদের ( সরকারি সংস্থা ) পাঠিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন এনশিওর করা হচ্ছে এবং সিম্পটম নেওয়া হচ্ছে। সিম্পটম থাকলে তাকে হয় হাসপাতালের ফ্লু ক্নিনিকে স্যোশাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে পরীক্ষা করা হচ্ছে, নাহয় তার বাড়িতেই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের টিম যাচ্ছে। এবার ডাক্তারদের মনে হলে তাদের রেফার করা হচ্ছে সাবডিভিশনে। বা তেমন না মনে হলে ওষুধ দিয়ে বাড়িতে রাখা হচ্ছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে। 
  • সব নাগরিকদের কি আপনারা সঠিক ভাবে বোঝাতে পারছেন বা সেই সব সন্দেহমূলক নাগরিকদের চিহ্নিত করতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
ডাঃ পূজা মৈত্র - চিহ্নিত  পরীক্ষা করা মানুষের বাড়িতে স্টিকার পড়ে যাচ্ছে। সন্দেহমূলক মানুষদের স্বাস্থ্য কর্মীরা সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার যেমন অনুরোধ করছেন তেমনি সেই অনুরোধে সাড়া নাদিলে তখন পুলিশ প্রশাসন বিডিও গিয়ে বোঝাচ্ছেন। সেটাও ফেল হলে লাঠ্যৌষধি। যা কাজে দিচ্ছে ।
  • চিকিৎসা কেন্দ্রে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ? 
ডাঃ পূজা মৈত্র - চিকিৎসাকেন্দ্রের  স্পেশালিস্ট  দেখে মনে করলে আইসোলেশনে, অন্যথায় হোম কোয়ারেন্টাইন ।আইসোলেশন থেকে সবার স্যাম্পেল আইডি বা পিজি বা বাঙুরে যাচ্ছে। 

যাদের বাড়িতে আলাদা থাকার ঘর নেই, গাদাগাদি, বা পাড়ার লোক টিকতে দিচ্ছে না বাইরে থেকে এসেছে বলে,তাদের জন্যও আলাদা জায়গা আছে। সাবডিভিশনাল কোয়ারেন্টাইন।থাকা খাওয়া কোয়ারেন্টাইন সব দায়িত্বই আমাদের।
  • একজন চিকিৎসক হিসাবে নাগরিকদের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য এই মুহূর্তে ঠিক কি বলবেন? 
ডাঃ পূজা মৈত্র -  
  • ১।লক ডাউনে প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকুন।ঘরে মানে ঘরে।আড্ডায় নয়।
  • ২।১০ এর নীচে আর ৬৫ র উপরের মানুষরা একেবারেই বেরোবেন না।
  • ৩।সবজি,মুদী,দুধ,গ্যাস,ওষুধের দোকান খোলা থাকবে।বাজারে ভিড় করার কোন দরকার নেই। ভিড় এড়িয়ে চলুন।
  • ৪।হাত সাবান দিয়ে ধোওয়ার অভ্যাস করুন।স্যোশাল ডিস্টান্সিং বজায় রাখুন,অন্তত ১ মিটার দূর থেকে কথা বলুন।
  • ৫।পাড়ায় বাইরের দেশ বা বাইরের রাজ্য থেকে কেউ এলে,সবাই মিলে তাকে ১৪ দিন বাড়িতেই থাকতে বলুন,বুঝিয়ে।না মানলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানান।তারপরেও না মানলে প্রশাসনকে জানান।বাড়িতে এসে স্বাস্থ্যকর্মীরা দেখে যাবেন কাউকে জোর করে হাসপাতালে পাঠাবেন না।কারণ সে সংক্রামিত হয়ে থাকলে হাসপাতালে উপস্থিত কম ইমিউনিটির প্রচুর মানুষ সংক্রামিত হয়ে পড়বেন।
  • ৬।আক্রান্ত দেশ এবং রাজ্য থেকে আসা মানুষ, তাদের ক্লোজ কন্ট্যাক্ট-এ থাকা বাড়ির লোক আর স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
  • ৭।খুব ইমার্জেন্সি ছাড়া হাসপাতালে না যাওয়াই উচিত। ভিড় এড়িয়ে চলাই মূল উদ্দেশ্য।
এই সময়ে অনেকেরই একটা ফিয়ার সাইকোসিস হচ্ছে।ভয় লাগছে।ঘরে থাকুন।বই পড়ুন।ভালো সিনেমা দেখুন।গেম খেললে খেলুন।পজিটিভ ভাবুন।রক বা চায়ের দোকান নাই বা গেলেন।বাড়িতে সময় বহুদিন দিতে পারেননি,তাই এইটাকে সঠিক সময় ভাবুন।হবিগুলোকে আবার ফিরে দেখুন।না বলা কথাগুলো বলুন।ভুল হয়ে থাকলে শুধরে নিন।বন্ধ দরজায় টোকা দিয়ে দেখুন,হয়তো এখনো খিল পড়েনি। খুব অল্প সময় নিউজচ্যানেল দেখুন। শুধু দেখুন - বেশি ভাবার কারণ নেই। যতটা পাড়ুন এড়িয়ে চলুন।পারলে স্মার্টফোনও। বদলে স্মতিবিজরিত নস্টালজিয়া আসুক ক'দিন ফিরে। সব্বাই খুব সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চলুন - আপনি ভাল থাকবেন, দেশ ভাল থাকবে। 

  • শব্দের মিছিলের আহবানে পেশাগত ব্যস্ত সময়েও সাড়া দেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই - ডাঃ পুজা মৈত্র কে। 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.