x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

সুশান্ত কুমার রায়

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০ | | | | | মিছিলে স্বাগত
‘অমর ভাষার অবিনাশী গান’
ভাষার মাসে শাশ্বত সুরে অমর একুশের অমর গান। আমরা বাঙালি-বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। বাংলা ভাষা-সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। ভাষা হলো ধ্বনি সৃষ্টি যা ভাব বিনিময়ের নিমিত্তে মানুষের বাগযন্ত্র থেকে উৎপন্ন-অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যম। আর মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ স্বরূপ। প্রতিটি মানুষের কাছেই তাঁর মায়ের ভাষা অতি সম্মান আর গর্বের । নিজের মায়ের ভাষায় যতটা অতি সহজ-সরল ও সাবলীলভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা যায় তা অন্য কোনো ভাষায় সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। আর ফেব্রুয়ারি হচ্ছে শোক আর শ্রদ্ধার মাস। ফেব্রুয়ারি আমাদের অহংকার আর গৌরবের মাস। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল রফিক,বরকত, শফিক, সালাম ও জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ- যাঁদের অবদানে মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। 

জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ( ইউনেস্কো ) অমর একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করছে। তারই ফলশ্রুতিতে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আজ সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।  ভাষার মাসে শোক আর শ্রদ্ধার গান -‘সালাম সালাম হাজার সালাম/ সকল শহীদ স্মরণে/ আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই/ তাদের স্মৃতির চরণে’...। গীতিকবি ফজল-এ-খোদা রচিত অমর ভাষার অবিনাশী গান ।

মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে হৃদয়মথিত-করা অসংখ্য গান প্রচারিত হয়েছে। অতুলনীয় সব গান। হায়েনা কবলিত ভয়ঙ্কর সেই দিনগুলোতে অবরুদ্ধ স্বদেশে অগ্নিঝরা এইসব গান একদিকে যেমন নিরন্তর ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেরণা সঞ্চারের মাধ্যমে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভাষাশহীদদের স্মরণে ১৯৬৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি গানটি রচনা করেন । 

গীতিকবি ফজলে-এ-খোদা বহু প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। তিনি একাধারে কবি, ছড়াকার, শিশু সাহিত্যিক, সম্পাদক এবং শিশু সংগঠক। তিনি গীতিকার হিসেবেই বহুল পরিচিত। গীতিকবি ফজল-এ-খোদা রচিত আব্দুল জব্বার কর্তৃক সুরারোপিত একটি জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গান।‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে বহুল প্রচারিত একটি গান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে গানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। গানটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাতে প্রেরণাদায়ী গান হয়ে উঠে। বিবিসি কর্তৃক ২০০৬ সালে গানটি শ্রোতা জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান হিসেবে মনোনীত হয়।

আরও লক্ষণীয় যে এটাকে কবিতা বা গান যাই বলা হোক না কেন, তার উপস্থাপনা সরল কিন্তু কোনোভাবেই সাধারণ নয়। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে তো নয়ই। প্রথম দুটি পঙ্ক্তি একেবারেই সাধারণ‘সালাম সালাম হাজার সালাম/সকল শহীদ স্মরণে’, কিন্তু পরবর্তী দুটি পঙ্ক্তিতে এসে থমকে দাঁড়াতে হয় যখন অবলীলায় কবি বলেন, ‘আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই/তাদের স্মৃতির চরণে॥’ এ দুটি পঙ্ক্তির যে-ব্যঞ্জনা তা কখনো ফুরাবে বলে মনে হয় না।

প্রায় অর্ধশতকের দীর্ঘ পথযাত্রায় ফজল-এ-খোদার কলম কখনো ক্লান্ত হয়নি। বিপুল বিচিত্র তার সৃষ্টিসম্ভার। অসংখ্য গান তিনি লিখেছেন। তার মধ্যে আমার প্রিয় গানের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। দেশ যখন অন্ধকারকবলিত তখন গানের আলো দিয়ে সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। নিরাপদ চাকরি ছেড়ে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশের প্রতি এ ভালোবাসার জন্যে উপযুক্ত মূল্যও দিতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তিনি তাঁর স্বধর্ম ত্যাগ করেননি কখনোই। ভাবতে গ্নানি বোধ করি যে স্বাধীনতার পর চার দশক চলে গেছে। কতো বামনের গলায় ঝুলেছে চন্দ্রহার। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলাতেও ফজল-এ-খোদার প্রাপ্তির খাতা শূন্যই রয়ে গেছে।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.