x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

ইন্দ্রাণী সমাদ্দার

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০ | | | |
 বাংলা ও বাঙালি
এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে দুপুর দুটো তিপ্পান্নর এসি রেকে উঠলাম। উঠেই বসার জায়গা পেয়ে যাই। ট্রেনের দুলুনিতে একটা ঘুমঘুম ভাব। ঠিক ঘুম নয়। মাথার ভিতর বাইরের সব শব্দ অথবা শব্দ সমষ্টির প্রবেশ অর্থাৎ অনুপ্রবেশ চলছে। কিন্তু মাথার ভিতর যেন অঘোষিত বনধ।। পার্কস্ট্রীট তারপর ময়দান মেট্রো স্টেশনে আশেপাশের কিছু মানুষের আলাপচারিতা কানে যাচ্ছিল। রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশণে সব ঘুম পালিয়ে যায়, একসঙ্গে বহু খুদে থেকে মাঝারি বয়সের স্কুল পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবিকাদের আগমনে। বাচ্চারা ট্রেনের ভিতরে হুটোপুটি করছে। অভিভাবিকারা পিঠে ব্যগের বোঝা নিয়ে অধিকাংশই দাঁড়িয়ে। কেউ কেউ বসার জন্য সিট পেয়েছেন। অভিভাবিকারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্থায় ব্যস্ত। যদিও আলোচনার বিষয় বাচ্চার পাড়াশুনো। তাদের আলোচনা হচ্ছে স্কুলে বাচ্চাদের দ্বিতীয় ভাষা বাংলা নাকি হিন্দি হওয়া উচিৎ। স্কুলে দ্বিতীয় ভাষা শেখার ক্ষেত্রে অধিকাংশ অভিভাবক হিন্দী নেওয়ার পক্ষপাতী। তাদের বক্তব্য কী হবে বাংলা শিখে! পড়াশুনো শিখে অধিকাংশ ছেলে- মেয়ে বড় হয়ে কলকাতা বা পশ্চিম বাংলার বাইরেই থাকবে। সেখানে বাংলা কোন কাজে আসবে? আমি অবাক হলাম যারা এই বক্তব্য পেশ করলেন তাঁরা সবাই বাঙালি। হিন্দী জানা থাকলেই বাচ্চাদের নাকি বেশী সুবিধা হবে। বাংলা ভাষা নাকি বাচ্চারা বাড়িতে শুনেই শিখে যাবে। যে ভাষার নাকি ভবিষ্যৎ নেই সে ভাষা শিখে কী হবে।

সবাই নিশ্চয়ই নন কিন্তু অধিকাংশ বাঙালি বোধ হয় একমাত্র জাতি যে জাতি নিজের মাতৃভাষার অমর্যাদা করেন। সদা অন্য ভাষা, অন্য জাতির আদব -কায়দা, রীতিনীতি কে গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত। মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে বাংলা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তর ভাষা। সেই ভাষার ঐতিহ্য, ইতিহাস না জেনেই সেই ভাষা নিয়ে নানা মন্তব্যে বাঙালি আজ ব্যস্ত। কলকাতার মধ্যেই বাংলা ভাষা-ভাষি মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। বাঙালি হয়েও অন্য ভাষায় কথা বলার প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। আবার বাংলায় কথা বললেও এক অদ্ভুত বাংলা -হিন্দী -ইংরেজীর এক জগাখিচুড়ি বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে। যে ভাষা প্রকৃত বাংলা ভাষার থেকে বিচ্যুত হয়েছে। রাস্তা- ঘাট থেকে স্কুল কলেজ, মেট্রো স্টেশণ থেকে এফেম রেডিও সর্বত্র এই খিচুরি বাংলা ভাষা শোনা যায় যার শব্দ ভাণ্ডারে নতুন নতুন শব্দের আমদানি ঘটেছে। বাঙালি জাতি তার স্বকীয়তা থেকে দিনে দিনে বিচ্যুত হচ্ছে। তাকে যেমন শেখানো হচ্ছে বাঙালি তেমন শিখে নিচ্ছে। যেন মগজে কারফিউ হয়েছে।

প্রত্যেক বাড়িতে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা এমনকি মাঝবয়সী মানুষজন যে বাংলা ধারাবাহিক দেখেন সেটা কী আদৌ দেখার যোগ্য? দেখার যোগ্য কিনা জানিনা তবে সুস্থ রুচি-বিরুদ্ধ। যা দেখানো হচ্ছে সেটা কী কোনওভাবে বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ। বাংলা সিরিয়াল ‘তেরোপার্বন’ আজ ইতিহাস। আমি বয়স্ক মানুষজনকে জিজ্ঞেস করেছি তাঁরা এই সব ধারাবাহিক দেখেন কি করে? উত্তর আসে সময় কাটাতে হবে তাই ভালো না লাগলেও দেখা। ভালো না লাগলেও দেখতে হবে। নিজের অজান্তে মনের কোনে জমা হচ্ছে কত কিছু। নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। নতুন ধারাবাদিক নতুন ভাবনায় ভাবাচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম আছে। ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েগুলো বইমেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাঁরা বাংলা বই কিনছে, বাংলায় লিখছে। এদের হাত ধরে বাংলা ভাষা এগিয়ে চলবে। 

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.