Friday, January 31, 2020

রিঙ্কি বোস সেন

sobdermichil | January 31, 2020 |
শূন্যস্থান
শীতকালের দুপুর'টা নীরেন্দ্রর বরাবরই খুব পছন্দের।আর কারই বা পছন্দের নয়? আট থেকে আশি প্রায় সবারই প্রিয় এই শীতের দুপুর। ছোটবেলায়, যেখানে এই দুপুরগুলো কাটে শুকনো রোদে মাদুর- শতরঞ্জি পেতে গল্পের বই পড়ে কিংবা হয়তো তারস্বরে ভোকাট্টা বলে রংবেরঙের ঘুড়ি উড়িয়ে সেখানে বুড়োবেলায় এই দুপুরগুলো কাটে ভঙ্গুর হাড়ে রোদের সেঁক নিতে নিতে সেইসব স্মৃতির পাতাগুলো আরেকবার উল্টেপাল্টে দেখে নস্ট্যালজিয়ার জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়ে। কী অদ্ভুত না জীবনের এই চাকা! প্রকৃতি বছর বছর সেই একই রূপ-রঙের পসরা সাজিয়ে আমাদের কাছে আসে কিন্তু আমরা সময়ের স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তাকে ভিন্ন কালে ভিন্ন ভাবে সাড়া দিই।যে শীতের দুপুর'টা একসময় উল্লাসে মুখর ছিল, পরে সেই দুপুর'টাই কীরকম যেন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে যায়...যেন অনেক'টা পথ ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে এসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে।

নীরেন্দ্ররও এখন সেই জিরিয়ে নেওয়ার সময়, বুড়ো হাড়ে সেঁক নিতে নিতে ফেলে আসা দিনগুলোয় উঁকিঝুঁকি দেওয়ার সময়। বয়স ঊনষাট।শরীর অবশ্য বয়স অনুপাতে একটু বেশিই ক্ষয়ে গেছে।এ্যাকিউট আর্থারাইটিস।ছেলেবেলার অভাব আর তার দরুন অপর্যাপ্ত পুষ্টিই এর পিছনের মস্ত বড় কারণ।অভাব অবশ্য নীরেন্দ্রর সঙ্গ এখনো ছাড়েনি।স্ত্রী আর বেকার পুত্রকে নিয়ে ছোট্ট সংসার, সেখানে পেট ভরানোর জন্য খাবার আর অসুস্থ হলে ওষুধ- এইটুকু ব্যবস্থা করা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবাও বিলাসিতা। একমাত্র মেয়েকে কোনরকমে ধার-দেনা করে বিয়ে দিয়ে ঘাড় থেকে নামাতে পেরেছে এই রক্ষে! কিন্তু মেয়ে বিদেয় হলেও ধার-দেনাগুলো এখনো ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে।বছর খানেক চাকরি বাকি, এর মধ্যেই ছেলেটার একটা চাকরি লেগে যাক্ এইটুকুই কামনা নীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলির, পেশায় এই গ্রামেরই পঞ্চায়েত অফিসের পিওন।

'মা আ আ!!!!.... মা আ আ!!!'

উত্তেজিত গলায় ছায়া'কে ডাকতে ডাকতে বাপি রান্নাঘরে ঢুকলো।বছর বাহান্নর ছায়ার তখন রান্না সব শেষ, উনুনে দুধ ফুটছে শুধু।বাপির চিৎকারে সামান্য কেঁপে উঠলো যেন।বাপি ততক্ষণে রান্নাঘরের মেঝেতে বাবু হয়ে বসে পড়েছে।

'একটা দারুণ খবর আছে মা, বাবা কই?'

ছায়ার ধড়ে প্রাণ এলো।

' উফ! এমন চমকে দিস না তুই! ভাবলাম কী জানি কী হল! তা কী ভালো খবর শুনি, তোদের কেস'টা মিটে গেল তাই না?'

ছায়ার চোখদুটো চকচক করে উঠলো।

' ধুৎ! আমাদের কেসের এই জন্মে কিছু হবে না, বলছি বাবা কই? বাবার জন্য একটা দারুণ খবর আছে'।

ছায়া জাল ওঠা দুধে বড় একটা ফুঁ দিয়ে, 'ছাদে, রোদ পোহাচ্ছে, বেচারার আঙুলের গিঁটে গিঁটে ব্যাথা বলছে...তা কী ভালো খবর বলবি? '

গায়ের চাদর'টা খুলে একপাশে রাখলো নীরেন্দ্র।রোদে শরীর'টা বেশ গরম হয়েছে এবার।আস্তে করে পা-দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিল।হাঁটুদুটোর মধ্যে মনে হচ্ছে যেন কোন খিল লাগানো আছে, হাজার চেষ্টাতেও পুরো সোজা করে মেলা যায় না আর। শরীর'টা সত্যিই খুব তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে গেছে।সংসারের কোন কাজে তো আর আসেই না চাকরিটাও শেষ করতে পারবে কী না সন্দেহ হয় নীরেন্দ্রর।হাট-বাজার, রেশন, ডাক্তার, ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বাইরের সবকিছু বাপিই সামলায়।এমনকি মেয়ের শ্বশুড়বাড়ির প্রতি যাবতীয় কর্তব্য - অনুষ্ঠানও বাপি আর ছায়া মিলেই সামলে নেয়।নীরেন্দ্র কোনরকমে রান্না ভাত'কটা খেয়ে হাফ কিলোমিটার সাইকেল ঠেলে স্কুলটায় যায়, সেখানে ফাইফরমাশ খেটে আবার সাইকেল ঠেলে বাড়ি এসে জিরোয়।এই সাইকেল চালানোর ধকল থেকে বাঁচার জন্য বাপি রিক্সা ঠিক করে দিয়েছিল।কিন্তু দিন কতক গিয়ে নীরেন্দ্র বন্ধ করে দেয়, বলে, ' রিক্সায় গিয়ে পা'দুটো আরও নাকি অকেজো হয়ে যাচ্ছে, মুড়তে পারা যাচ্ছে না'।বাধ্য হয়ে বাপি মেনে নেয়।কিন্তু ছায়া বুঝতে পেরেছিল পা মুড়তে না পারা'টা বাহানা, আসল কথা রিক্সায় বাজে খরচ হচ্ছে, বিশেষ করে ছেলেটা যখন বেকার।

' এই যে শ্রী নীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি! আপনি এখানে বসে রোদ খাচ্ছেন এবার তৈরি হোন আমাকে আর মা'কে মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য'।

বাপি একগাল হাসিমুখে কথা'টা বলেই নীরেন্দ্রকে জড়িয়ে ধরলো।তারপর খুব নরম করে নীরেন্দ্রর কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে, 'বাবা, বাষট্টি বছরের প্রস্তাব'টা পাশ হয়ে গেছে,খুব শিগগিরই চালুও হয়ে যাবে, ব্যাস! এখন আরও দু-বছর একদম নিশ্চিন্ত...!'

নীরেন্দ্র হাঁ করে ছেলের দিকে চেয়ে।তার দু-চোখের দৃষ্টিতে সেরকম কোন স্বস্তি বা সুখের আভাস দেখা গেল না, শুধুই একটা শূন্যতা আছড়ে পড়লো।

'তুই ঠিক জানিস বাপি?'

একরাশ উত্তেজনা নিয়ে ছায়ার প্রশ্ন।

'হ্যাঁ গো মা, এই তো কালুমুদির দোকানে মাল নিতে গিয়েই শুনলাম, ওর টিভি'টা চলছিল, খবরে বলল তো, আমি শুনেই সোজা এখানে বলতে এলাম। রেশন'টা মা পরে আনছি আগে একটু মিষ্টিমুখ করতে হবে... বাবা কিছু মালকড়ি ছাড়ো তো দেখি এবার, বেশি কিছু না কেজি খানেক পাঁঠা আর একহাঁড়ি ল্যাংচা, ব্যাস!'

খবর'টা শুনে থেকে ছায়া আর বাপি দুজনেই যেখানে খুব নিশ্চিন্ত নীরেন্দ্র ঠিক সেখানেই কেমন যেন দ্বিধাগ্রস্ত।সন্ধ্যেবেলায় রোজ গ্রামের বাস-স্ট্যাণ্ডটায় বুড়োদের একটা ঠেক বসে।নীরেন্দ্রর বাড়ি থেকে হাঁটা পথ।শত কষ্ট হলেও নীরেন্দ্র ওই ঠেকটায় গিয়ে বসে, এমনকি শীতকালেও।ওখানে না বসলে নাকি রাতের ক্ষিদে ঘুম কিছুই হয় না।আজ কিন্তু নীরেন্দ্র গেল না। বাপি বেশ অবাক হল, বাবার চোখেমুখে আনন্দের কোন ছাপ নেই দেখে চিন্তাও হল বেশ।ছায়া অবশ্য বুঝিয়ে বলল, 'ভাবিস না, তোর বাবা আসলে শরীর'টা নিয়ে খুব চিন্তায় আছে, আরও দু-বছর চাকরিটা টেনে নিয়ে যাওয়া... বুঝতেই পারছিস! আর টানতে না পারলে অতগুলো টাকা হাতছাড়া হবে... এইসব নানান চিন্তাতেই একটু চুপ আছে, ঠাকুর করুক এর মধ্যেই তোর চাকরিটা লেগে যাক্, গেল মাসে মা'য়ের কাছে মানত করে এসেছি....মা গো একটু দেখো মা, একটু মুখ তুলে চেও'। ছায়া দু-হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে একটা প্রণাম ঠুকলো।

আজ সন্ধ্যে থেকেই লোডশেডিং। শীতকালে সাধারণত লোডশেডিং কমই হয় কিন্তু যখন হয় তখন বেশ লম্বা সময়ের জন্যই হয়।নীরেন্দ্র মশারির ভিতর রেডিওটা হাল্কা ভলিউমে নিয়ে শুয়ে আছে।বাপি আস্তে করে মশারির ধারটা'য় এসে দাঁড়াতেই নীরেন্দ্র বলে উঠলো, 'বাপি না কী রে! কিছু খবর নিলি লাইট কখন আসবে?...ঝড় নেই বৃষ্টি নেই এমন কারেন্ট গেল, কোন মানে হয়?'

নীরেন্দ্রর গলায় বিরক্তির আঁচ।বাপি মশারি'টা তুলে পা'দুটো ঝেড়ে নিয়ে ভিতরে গুছিয়ে বসল।

'নাহ! খবর নিই নি, ধুর ওরা ফোন ধরে নাকি?'

'সেই! ঠিকই বলেছিস, সরকারি অফিসগুলো এখন সব ঘুঘুর বাসা!'

রেডিওতে তখন পুরনো দিনের গান চলছে।

'এই গান'টা তো তোমার খুব প্রিয় গান তাই না বাবা? আগে খুব গাইতে, মা রেগে গেলে বেশি করে গাইতে, যতক্ষণ না মা হেসে ফেলছে...আর মা'ও হেসে ফেলতো, থাকতে পারতো না'।

আলো-আঁধারির মধ্যেও বোঝা গেল নীরেন্দ্রর মুখ'টা বেশ হাসি-হাসি।বাপি ঠিক লক্ষ্য করল।সুযোগ বুঝে কথা পাড়লো, 'বাবা, তুমি সরকারের এই নীতিটায় খুশি হওনি?.... মা বলছিল শরীর নিয়ে নাকি তুমি চিন্তা করছো, আর তো মাস দুয়েকের ব্যাপার তারপরেই তো তো দক্ষিণে যাচ্ছি। ওদের ওখানকার চিকিৎসা এত্ত ভালো, দেখো তোমার শরীর একদম ঝরঝরে হয়ে যাবে... '।

রেডিওটা বন্ধ করে নীরেন্দ্র বিছানায় উঠে বসলো।তারপর মুচকি হেসে,

' আচ্ছা বাপি তোর সেই একদম ছোট্টবেলার কথা, ঐ যখন তুই প্রাইমারিতে ছিলিস, কিছু মনে আছে? সেই আমি তোকে খাতায় কাজ দিয়ে যেতাম আর তুই ইস্কুল থেকে এসে করতিস?'

'আর না করলেই তুমি ফিরে এসে পিঠে গুমগুম দিতে, মনে থাকবে না আবার? উফ! তুমি তখন যা রাগী ছিলে! আর যত মার-বকুনি সব আমার জন্যই ছিল, দিদি'কে কিছুই বলতে না'।

একটা কপট রাগ- অভিমান নিয়ে বাপি বলল।নীরেন্দ্র জোর হেসে, ' তা তোকে নিয়েই যে আমার সব স্বপ্নগুলো ছিল, রমা সময় এলে পরের ঘরে চলে যাবে জানতাম, কিন্তু তোর কাঁধে ভর দিয়ে শেষ জীবন'টা যাতে উতরে যেতে পারি এই চিন্তাতেই তোর উপর নজরটা বেশি দিতাম।...বেশি কিছু চাইনি শুধু তোর পায়ের তলায় একটু শক্ত জমি হোক, একটা চাকরি, আর কিছু না, এখনো ওইটুকুই চাওয়া বাকি আছে, মরার আগে যেন দেখে যেতে পারি তোর চাকরি'টা হয়ে গেছে'।

নীরেন্দ্রর গলা'টা ধরে এলো।বাপি আলতো করে বাবার পিঠে হাত'টা রেখে, 'অত ভেবো না বাবা, কোর্টে কেস যখন গেছে তখন কিছু একটা হবে,একটু সময় লাগবে এই যা। প্যানেলটা বাতিল করা অত সহজ নয়।' 

' কী জানি কী যে সহজ আর কী যে শক্ত, কিছুই জানি না রে!'

এরপর কয়েক মুহুর্ত চুপ থেকে, 'বাপি তোর মনে পড়ে তোকে আমি বিজ্ঞান পড়াতে গিয়ে একদিন বলেছিলাম আমাদের চারপাশে কোথাও কোন শূন্যস্থান নেই, থাকতে পারে না, কোথাও যদি শূন্যস্থান তৈরি হয়ও বায়ূর ধর্ম হল সঙ্গে সঙ্গে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দেওয়া...মনে পড়ে?'

বাপি চুপ করে নীরেন্দ্রর দিকে চেয়ে রইল, চোখে এক সমুদ্র জিজ্ঞাসা। আজ এত বছর বাদ হঠাৎ করে বাবা এইসব কথা কেন বলছে, কেনই বা কিছুতেই খুশি হতে পারছে না তার চাকরি দু-বছর আরও বেড়ে যাওয়ায়...কেন? কেন খালি খালি পুরনো কথা, পুরনো স্মৃতি হাতরে বেড়াচ্ছে?

'জানিস বাপি, এখন বুঝতে পেরেছি তোকে আমি ভুল পড়িয়েছি, বইগুলোতে সব ভুল কথা লেখা ছিল।শূন্যস্থান থাকে, আমাদের চারপাশে, এই পৃথিবীতে, এই সমাজে... দিব্যি শূন্যস্থান থাকে, থাকছে....আর সেগুলো পূরণ হচ্ছে না, নাহ! পূরণ হচ্ছে না, উল্টে দিনদিন বাড়ছে।আর যারা জায়গা জুড়ে আছে তারা থেকেই যাচ্ছে।নড়বড়ে শরীর যা দিয়ে নতুন কিছু আর সম্ভব নয়, তাই নিয়েই আছে।এরা ক্ষয়িষ্ণু অথচ ভবিষ্যতের ধ্বজা এদের হাতেই ধরানো আছে।এরা ফুরিয়ে এসেছে তবুও ঠিক ফুরোচ্ছে না।অথচ যেখানে উদ্যম আছে, যেখানে অভিনবত্ব আছে সেখানে দ্যাখ কোন আশা নেই, সুরাহা নেই! সেইসব প্রাণগুলোর জন্য এক চিলতে জায়গা নেই...শুধুই শূন্যতা আছে।আর আছে হাজার হাজার শূন্যস্থান, শূন্যপদ!.... বড় কষ্ট হয় রে বাপি! ভাবতে গেলে বড় কষ্ট হয়...কোনদিকে যাচ্ছি আমরা, কোন ভবিষ্যতের বীজ ছড়াচ্ছি আমাদের সভ্যতার মাটিতে, বলতে পারিস?'

বেশ কিছুক্ষণ চারিদিক একদম চুপচাপ।শুধু দীর্ঘশ্বাসেরা একে অপরের সাথে কথা বলছে যেন, হতাশার কথা, অনিশ্চয়তার কথা।শেষমেশ সেই দম বন্ধ করা নীরবতায় ছেদ পড়লো যখন ছায়া রাতের খাবার বেড়ে ডাক দিল।বাপি ধীরেধীরে মশারি তুলে বেরিয়ে এসে দাঁড়ালো।নীরেন্দ্র তখনও ভিতরেই, কিছু একটা গভীর চিন্তার মধ্যে আছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তারপর কী একটা বিড়বিড় করে উঠলো।হুঁশ ফিরলো যখন বাপি বলল, ' কী হল বাবা? চল, মা খেতে ডাকছে!'

'হুঁ? ও হ্যাঁ চল্ চল্, রাত হয়ে গেছে এবার খেয়ে শুয়ে পড়ি'।নীরেন্দ্র মশারি থেকে বেরিয়ে এলো তারপর শাল'টা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে, 'আচ্ছা বাপি, বলছি কাল সকালে একবার যাবি আমার সাথে? '

'কোথায়? '

' কোর্ট চত্ত্বরে'।

'কোর্ট চত্বরে? কিন্তু কেন? '

নীরেন্দ্র আস্তে কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল, ' কেস করতে হবে, ইনজাংশন'।

'কীসের ইনজাংশন? কার বিরুদ্ধে? '

'সরকারের নীতির বিরুদ্ধে, যাবি কাল?'

বাপি থমকে দাঁড়ালো, নীরেন্দ্র উত্তরের অপেক্ষা না করে দরজার দিকে পা বাড়ালো।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.