x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শুক্রবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২০

সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী

sobdermichil | জানুয়ারী ৩১, ২০২০ | |
আত্মহত্যা ও আত্মহত্যাকারী এবং প্রচলিত ধারণার ময়নাতদন্ত
আমরা মানুষ, জীবনধারণের লড়াইয়ে টিকে থাকা প্রাণীজগতের সর্বোচ্চ প্রাণী বলে নিজেদের দাবী করি, বুদ্ধিমত্তার নিরিখে। তথাপি এই বুদ্ধিমান প্রাণীটিও কখনো কখনো আগ্রহ হারিয়ে ফেলে জীবনধারণ করে বেঁচে থাকার। এমনকি বেছে নেয় চরম পথ, আত্মহননের পথ। নিজেদের জীবন শেষ করার ক্ষমতা রয়েছে বলেই হয়তো প্রতিবছর বিশ্বের এক মিলিয়ন মানুষ এই পথ বেছে নেয়। এমনকি যেসমস্ত দেশে বা সমাজে আত্মহত্যা বেআইনী বা নিষিদ্ধ, সেখানেও মানুষ আত্মহত্যা করে।

২০১৯-এ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO (হু)-এর এক ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান, "প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন।" "হু"-এর ভয়ংকর এই তথ্য প্রকাশের পরও কী মানুষ নামক উচ্চকোটির জীবের জীবনধারণে অনাগ্রহী মানুষগুলি সম্পর্কে মানুষ উদাসীনই থাকবেন?

আত্মহত্যাকারীদের সম্পর্কে ধারণা
আত্মহত্যাকারীদের সম্পর্কে সবচেয়ে ভুল ধারণা হোলো যে, যারা আত্মহত্যা করবো এইকথা মুখে বলে তারা আসলে আত্মহত্যা করে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা আত্মহত্যা করে, তাদের শতকরা পঁচাত্তর (৭৫%) ভাগ জন কখনো না কখনো মুখে বলে তা আভাসে ইঙ্গিতে জানিয়েছে। যারা আত্মহত্যা করে তারা মৃত্যু সম্পর্কে বেশী আলাপ আলোচনা করে, বা মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তার অনুপস্থিতিতে কী হতে পারে এসব আলোচনা করে থাকে। এবং দুঃখের বিষয় তারা সাহায্যের জন্য (ক্রাই ফর হেল্প) সহযোগিতার হাতটি পায় না।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতার কারণেই এইসব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ইঙ্গিত বুঝতে পারে না। এমনকি মানুষের যথাযথ সতর্কতার অভাবে পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে উপযুক্ত সাহায্য নেওয়াও সম্ভব হয় না। সামাজিক অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণেই পরিস্থিতি জটিলতর হয়ে ওঠে। মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সঠিক সচেতনতা থাকলে হয়তোবা আত্মহত্যাকারীদের ফেরানো সম্ভব।

আত্মহত্যাকারীরা সকলেই বিষন্নতার রোগী, এই কথাটিও সর্বাংশে ভুল। সব আত্মহত্যাকারীরাই কিন্তু বিষন্নতার রোগী নয়। তবে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে একটি অংশ অবশ্যই বিষণ্ণতার রোগী। এছাড়াও

অন্যান্য মানসিক ডিসঅর্ডার, যেমন উদ্বেগজনিত (anxiety, stage tryst, social anxiety, social phobia) অথবা প্যানিক (panic disorder) কিম্বা  আসক্তি বা নেশা ইত্যাদি নানাধরনের মানসিক সমস্যাও কিন্তু মানুষকে চরমপন্থা বেছে নেওয়া হিসেবে, আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য বিষয় হোলো যে, বিষন্নতার রোগী আত্মহত্যা করলেও, তারা আত্মহত্যা করে যখন তারা তাদের চূড়ান্ত বিষণ্ণতা থাকাকালীন অবস্থায় থাকে তখন নয়। ভীষণ কঠিন খারাপ অবস্থা থেকে ধীরেধীরে যখন উন্নতি হতে শুরু হয় তখনই তারা আত্মহত্যা করে।

বিষণ্ণতা রোগাক্রান্তরা কখন আত্মহননের পথ বেছে নেয়?

বিষণ্ণতার বিভিন্ন ভাগ আছে, যেমন:-

Major depressive disorder: একটানা অনেকদিন ধরে বিষণ্ণ জীবনযাপন করা।  আক্রান্তদের প্রায় পনেরো শতাংশ (১৫%) আত্মহত্যা করে।

Bipolar disorder: পর্যায়ক্রমে কিছুদিন খুব বিষণ্ণ থাকা, তারপর আবার কিছুদিন আবেগের তুঙ্গে থাকা। আক্রান্তরা বিষণ্ণ অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে আত্মহত্যা বেশি করে।

Borderline personality disorder: এই ধরনের মানসিক রোগের আক্রান্ত রোগীরা অনেকেই নিজেই নিজের শরীরের ক্ষতি করে, যেমন হাত বা কব্জি কাটে, শিরা ধমনী কাটে। এভাবেই তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

সাধারণত ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা বেশী আত্মহত্যা প্রবণ থাকে, এবং আত্মহত্যা করেও ফেলে। যেহেতু তাদের বয়স কম থাকে, মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হয় না, কারণ মানব মস্তিষ্ক পূর্ণবিকাশের জন্য প্রায় ২৫ বছর লাগে। জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কম থাকে, কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হয় সেসম্পর্কে কোনো স্বচ্ছ ধারণা বা জ্ঞান কম থাকে। বয়ঃসন্ধিতে হরমোনজনিত আবেগ ও ঝোঁকপ্রবণতার কারণে কিশোর ও যুবক বয়সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়, সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে।

আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে দ্রষ্টব্য সাধারণ লক্ষণ

✓আত্মহত্যাকারীদের ওজন কমতে থাকা। খাওয়ার ইচ্ছা ও রুচি চলে যাওয়া।

✓ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, যেমন, ইনসমনিয়া, কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, কম ঘুম হওয়া ইত্যাদি।

✓অস্বাভাবিক বেশি লজ্জা পাওয়া বা অকারণে

দায় অনুভব করা।

✓নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া এবং হতাশাগ্রস্ত হওয়া।

✓মৃত্যুবিষয়ক ঘটনাবলী অত্যধিক মাত্রায় ঘনঘন চিন্তা করা।

এইসব লক্ষণের মধ্যে ঘুম না হওয়া বা ইনসমনিয়া সবচেয়ে বড়ো ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ঘুম না হওয়া

অন্যান্য অনেক মানসিক ও নিউরােডিজেনারিটিভ রােগেরও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকসময় কোনো শারীরিক সমস্যাও রোগীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে এবং তাকে আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলতে পারে। যেমন:

✓কোনো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাজনিত রােগযন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়ে সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা।

✓নারীদের ক্ষেত্রে যেসব মেয়েরা ছোটবেলায় বাবা কিংবা মায়ের কাছ থেকে অবহেলা বা উপেক্ষা পেয়েছে তাদের আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশী।

✓হঠাৎ কোনো তীব্র নেতিবাচক আবেগ অনুভব করা। এই ইতিবাচক ও নেতিবাচক আবেগের মধ্যে প্রচুর পার্থক্য থাকলে তাতে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে। ✓বিশেষ বিশেষ অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে, যেমন মাদকাসক্তি এবং অ্যালকোহলের নেশা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

ভৌগোলিক অবস্থান ও আত্মহত্যার প্রবণতার সম্পর্ক

"জার্ণাল অফ রিসার্চ ইন পার্সোনালিটি"তে প্রকাশিত "Personality and Geography: Introverts Prefer Mountains" শীর্ষক অদ্ভুত একটি গবেষণার ফলাফলে জানা যায় যে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেট পাহাড়ি অঞ্চলে সেইসব স্টেটের মানুষজন, যেসব স্টেট সমতল অঞ্চলে সেইসব স্টেটের মানুষজনের চেয়ে বেশি অন্তর্মুখী (introvert) হয়ে থাকে। ভূগোল এবং ব্যক্তিত্বের মধ্যেকার এই সম্পর্কের কথাও সত্যিই অদ্ভুত। অর্থাৎ পাহাড়প্রেমী মানুষজন আসলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে অন্তর্মুখী স্বভাবের। সুতরাং, অন্তর্মুখী মানুষজন নিজের মানসিক পরিস্থিতি সঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারার ফলেও অবসাদ বা ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে, এবং অবসাদমুক্তির উপায় হিসেবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধেরর উপায়

✓সবচেয়ে প্রধান উপায় হচ্ছে মানসিক সমস্যা কিংবা ডিসঅর্ডারের সঠিক ও উপযুক্ত চিকিৎসা করানো। মনে রাখতে হবে মানসিক সমস্যার জন্য সাহায্য চাওয়া কিংবা চিকিৎসা করানোয় লজ্জার কিছু নেই। অন্যান্য রোগ যেমন ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা করানোতে নিশ্চয় লজ্জা বা গ্লানি থাকে না, তবে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার বেলায় সঙ্কোচ থাকবে কেন? অসুস্থ অনুভূতিহীন সমাজের ভয়ে নিজের অসুস্থতার কথা চেপে করে রাখা উচিৎ নয়।

✓মানসিক সমস্যার দ্রুত সমাধান না করলে এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং ক্রমশঃ খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যায়। কেউ বিষণ্ণতায় ভুগলে অবহেলা করা উচিৎ নয় মোটেই। Cognitive behavioural therapy নামক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

✓আত্মহত্যা করার মাধ্যমগুলির ব্যবহারের সুযোগ কমাতে হবে। যেমন, ঘুমের ওষুধ কিংবা অন্যান্য চেতনানাশক ওষুধ নারীরা বেশী ব্যবহার করে আত্মহত্যা করতে। সুতরাং এইসব ওষুধ দূরে রাখা।

পুরুষদের ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা এসবের ব্যবহারের সুযোগ কমাতে হবে। আমাদের দেশে অনেকে সিলিং ফ্যান কিংবা গাছ থেকে ঝুলে গলায় দড়ির সাহায্যে  আত্মহত্যা করে। কাজেই এইসবের মধ্যেও নজরদারি রেখে ব্যবহারের সুযোগ কমাতে হবে। এসবই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কানাডার কুইবেক প্রদেশের আত্মহত্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থার কথা:

১৯৭০ - ৮০-এর দশকে কানাডার কুইবেক প্রদেশের আত্মহত্যার হার বেশি ছিলো অন্যান্য প্রদেশ ও অন্যান্য দেশের তুলনায়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেলো যে, অনেকেই ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এইভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য, পরবর্তীকালে পদক্ষেপ নেওয়া হোলো। সেইসব ব্রিজের দুই পাশে মানুষের মাথাসমান উঁচু বেড়ি দেওয়া হোলাে এবং ব্রিজের দু'পাশ ধরে হাঁটাচলা বন্ধ করে দেওয়া হোলো। ফলস্বরূপ আত্মহত্যার হার কমানো সম্ভব হয়েছিলাে।

মানসিক রােগ বা সমস্যায় আক্রান্তদের উপর নজর  ও খেয়াল রাখা এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি। মানসিক ব্যথা যন্ত্রণার কারণ দূর করার চেষ্টা হিসেবে কারো সাথে আক্রান্তদের অনুভূতি, ব্যথা ইত্যাদি শেয়ার করা জরুরি। আত্মহত্যাই শেষ সমাধান বা একমাত্র সমাধান নয়, অন্যভাবে যুক্তিপূর্ণ বাস্তববাদী সমাধানের চিন্তা করা জরুরি। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া জরুরি, এতে লজ্জার কিছু নেই, বরং এতেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। যখন আক্রান্তদের সাহায্য লাগবে, তখন সাহায্য ব্যবহার করে সমাধানে পৌঁছতে চেষ্টা করা জরুরি।

আত্মহত্যার অধিকার

যখন কারুর আত্মহত্যা করার ইচ্ছা হয়, তখন সে আত্মহত্যা করতেই পারে, কারণ মানুষের নিজের জীবন শেষ করার ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবছর এক মিলিয়ন মানুষ এই পথ বেছে নেয়। এমনকি যেসব দেশে আত্মহত্যা বেআইনী বা নিষিদ্ধ সেখানেও মানুষ আত্মহত্যা করে। যেমন ভারতবর্ষে আত্মহত্যা অপরাধ।

আত্মহত্যা সম্বন্ধীয় বর্তমান ভারতীয় আইন

ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা একটি অপরাধ। সাজা সর্বাধিক একবছরের জেল অথবা জরিমানা অথবা দুইই হতে পারে, যদি প্রমাণিত হয় আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ।

এই আইনের সংশোধনী সংযুক্তি হয়েছে, মেন্টাল হেলথ কেয়ার অ্যাক্টের, ২০১৭-এর ১১৫ ধারা অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী যদি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকে, তবে তার কোনো সাজা হবে না।

পরিশেষে বলা যায়

নিজেকে সময় দিতে হবে। আবেগে কিংবা ঝোঁকের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিন্তা করতে হবে। নিজের কথা, পরিবারের কথা, বেঁচে থাকার প্রয়ােজনের কথা ভাবতে হবে। এই পৃথিবীতে প্রকৃতির কী বিপুল আয়োজন! সেখানে উপভোগ করে বাঁচার রসদের স্বাদের অনুভূতিবোধ জাগ্রত করাটা আত্মহত্য প্রতিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট গুগল সার্চ এবং আইপিসি

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.