x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

শুভ্রা রায় দত্ত

sobdermichil | নভেম্বর ৩০, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
শুভ্রা রায় দত্ত
এমনিতেই শরীর খারাপ,তদুপরি ব্যস্ত।তবু এত এত পোস্ট দেখে চুপ করেই বা থাকি কী করে?আফট্রল,বাজারি বিষয়ে নিজের দু-চারটি জ্ঞানের কথা কপচাতে না পারলে নেট খরচা দিয়ে ফেসবুক রাখা কেন??

সেদিন সেকশন ৩৭৫ নামে একটি সিনেমা দেখছিলাম।একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে তার উচ্চবিত্ত পরকীয়া পার্টনারের বিশ্বাসঘাতকার বদলা নিলো তাকে রেপ কেসে ফাঁসিয়ে।।।।মেয়েটির বক্তব্য এখানে অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য বলেই মনে হলো আমার....যে সে পুরুষটিকে ভালোবেসেছিলো,সর্বস্ব দিয়ে।স্বভাবতই তার প্রতি প্রত্যাশা,অধিকারবোধ,অভিমান,সন্দেহ ইত্যাদি প্রভৃতি পোষণ করতে করতেই একদিন সে টের পায় যে লোকটি অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গেও মাখো মাখো সম্পর্ক রাখে,স্ত্রীকে সামাজিক ক্ষেত্রে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করার জন্য আর নিজের সুনামের খাতিরে বাড়ীতে সাত্ত্বিক স্বামী সেজে থাকে।এইখান থেকেই সংঘাত।লোকটি নিজের বিত্ত আর সামাজিক অবস্থানের জোরে মেয়েটিকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়,আবার যখন মেয়েটি পরিকল্পিতভাবে তাকে শরীর দেয়,তখন ভোগ করতে পিছপা হয় না।পরিণতিতে সে ফেঁসে যায়,কারাদণ্ড হয় তার,স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করে এবং সকলে সবটা বুঝতে পেরেও আইনের প্যাঁচে কিছুতেই লোকটিকে বাঁচাতে পারে না---এমনই ছিলো মেয়েটির ছক।

এবং সে বলে যে একটি মেয়ের হৃদয় বিনষ্ট করা শরীর বিনষ্ট করার চেয়ে কম ধর্ষণ নয়।সামাজিক বা কর্মক্ষেত্রের উচ্চতর অবস্থানের সুযোগ নিয়ে একটি মেয়ের শরীর ভোগ করার ক্ষেত্রে তার কনসেন্ট বা সম্মতির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাবে তার "will" বা ইচ্ছা।এই আইনটি আমাদের মেয়েরা জানে?

তাই বন্ধু হোক বা বস,প্রেমিক হোক বা নিছক পার্টনার,মেয়েরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের শরীর দিতে বাধ্য হলে আইনের সাহায্য নিতেই পারেন।

যে দেশে মেয়েদের নিরাপত্তা নেই,ঘরে বাইরে পুরুষের চোখে হাতে পায়ের ফাঁকে মেয়েরা সর্বাঙ্গে ধর্ষিত হয়,মা বাবা সন্ধ্যার পর মেয়েদের অক্ষম পাহারা দিয়ে বেড়ান,নাহলে বিয়ে দিয়ে তাদের শরীরের অধিকার অন্য পুরুষের হাতে সম্পূর্ণ তুলে দিয়ে (বিবাহিত সম্পর্কে ধর্ষণের অভিযোগ ধোপে টেঁকে না) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন, সে দেশে মেয়েরা শুধু শরীর,শরীর আর শরীর।

অতএব বেশ করেছে গল্পের মেয়েটি।শরীর আমার অস্ত্র, হ্যাঁ শরীর আমার অস্ত্র। ছেলে ভুলাতে,চাকরি জোগাড় করতে, চাকরি টিঁকিয়ে রাখতে,বরকে কাত করতে,লেখা ছাপাতে,গানের অনুষ্ঠান জোগাড় করতে,মেয়েদের শুধুই শরীর ভাবা পুরুষকে শাস্তি দিতে শরীর আমার অস্ত্র।আপনার অস্ত্র যদি আপনার মেধা হতে পারে,আমার শরীর হতে বাধা কোথায়?কে ভোগ করে সেই শরীর???

আর অস্ত্র থাকলে তার সেফটি ক্যাচ তো রাখতেই হবে।মার্শাল আর্ট শিখবো নাকি আইনের প্যাঁচ,সেটা আমায় ঠিক করতে দিন মশাই।১০ জনে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়লে কোন ক্যারাটে আমায় বাঁচাবে?তাই যে সমাজে পুরুষের হাতে মেয়েদের সম্মান,সতীত্ব,যোনিত্ব...সব,সব....সেই পুরুষরা আমাদের রক্ষা করতে পারছে না যখন,নিজেরাই নিজেদেরটা বুঝে নেবো।

এটা যুদ্ধ।যুদ্ধে আবার ভালো মন্দ কী???


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.