তুহিন কুমার চন্দ

তুহিন কুমার চন্দ
ছড়ায় উৎসাহী অথচ তুহিন কুমার চন্দ ওরফে তুহিন শঙ্কর চন্দর নাম শোনেননি , হতেই পারে না । লেখার প্যাশন যাকে মিডল নেম বদলে ফেলতে বাধ্য করেছিল, সেই লেখক, সম্পাদক, প্রকাশকের সাথে এবারের 'শব্দের মিছিলে' র 'একমুঠো প্রলাপ'। আমাদের তরফ থেকে তুহিন বাবুর জন্য শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা অফুরান । 

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - দুই বাংলার বর্তমান ছড়াকারদের প্রথম পাঁচজনের লিস্ট করলে তাতে তুহিন চন্দ আসবেন । একইসাথে কবি , সম্পাদক , প্রকাশক , সংগঠক । সবেতেই সমান সফল । এই মাল্টিটাস্কিং এ যে সাহস , স্ট্যামিনা , প্রতিভা লাগে আপনি তার আশ্চর্য সমন্বয় । কিভাবে ভেবেছেন এবং বাস্তবায়িত করেছেন এতকিছু সফলভাবে ?

তুহিন কুমার চন্দ -  দুপার বাংলায় আমার চেয়ে অনেক মূল্যবান ছড়াকার আছেন। আমি প্রথম সারির কিনা সেটা আমার পাঠকরা বলবে। বিশেষ করে ক্ষুদেরা।

আমি বরাবর চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। প্রকাশক হবার পিছনে ছিলো নতুন লেখকদের কথা মাথায় রাখা । দেখেছি তাদের সৃষ্টিশীলতাকে প্রকাশ সহজে দেয়া যায় যদি কম খরচে ভাল বই এবং লেখকরা যেন না ঠকেন এই ভাবনা কাজ করে।ষ্ট্যামিনা,সাহস এবং পরিশ্রম যদি সৎভাবে করা যায় তাহলে সাফল্য পাওয়া যাবেই।আমি কোন কাজ করার আগে প্রথমেই খারাপটাকে প্রাধান্য দেই।তাতে সতর্ক হয়ে কাজ করলে সাফল্য আসতে বাধ্য।
শর্মিষ্ঠা ঘোষ - কবি এবং ছড়াকার এই দুই পরিচয়ের মধ্যে কোনটি আপনার সমধিক প্রিয় ?

তুহিন কুমার চন্দ -  আমি ছড়াকার হিসেবে শিশুদের মাঝেই থাকতে ভালোবাসি।তাতে মনটা পবিত্র থাকে। কবিতা লিখি তবে বেশী সাচ্ছন্দ্য ছড়ায়।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - ছড়া কেবল ছেলেভোলানো জিনিস নয় তা চরম বার্তাবহও । সুকুমার পরবর্তী কাদের রাখবেন এই কনসেপ্টের আওতায় ?

তুহিন কুমার চন্দ - ছড়া অবশ্যই ছেলে ভোলানো নয়,ছড়া সমাজের হাতিয়ার। দীনেশদা (কবি দীনেশ দাশ) আমাকে তার "কাস্তে" কবিতার বইয়ের একটা ছন্দবদ্ধ কবিতা সামনেই  লিখে দিয়েছিলেন। সেটা সবাই জানেন।"বেয়নেট হোক যত ধারালো কাস্তেটা ধার দিও বন্ধু........." সবাই জানেন।এটা তো সমাজের জন্য লেখা।কবিপুত্র কবি শান্ত্বনু দাশ সেবার "স্বনির্বাচিত" সংকলন করছেন,সঙ্গে কবি রুদ্রেন্দু সরকার।

কবিপুত্র আমার থেকে বয়েসে কিছুটা বড়।ওর এবং আমার সাহিত্য জীবনের গুরু ঁশিশির গুহের উৎসাহেই প্রকাশনার জন্ম দিয়েছিলাম।এখনো চলছে গত মাসেই তো ছড়ার দু'পাড় বাংলার সংকলন প্রকাশ হলো। ছড়া কখনোই ছেলে ভোলানো নয় বরং সমাজ সচেতনা মূলক। ননসেন্স রাইমও তাই" রোদে তাজা ইটের পাঁজা তার ওপরে বসলো রাজা,ঝুড়ি ভরা বাদাম ভাজা খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না"
পুরোপুরি সিম্বোলিক ছড়া।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ- পেশায় ছিলেন ব্যাঙ্কিং সেক্টরে।সেটা কি কোনভাবে সহায়ক হয়েছে সংগঠক হিসেবে সাফল্যের ক্ষেত্রে ? 

তুহিন কুমার চন্দ - ব্যাঙ্কার হিসেবে খুব সাবধানে কাজ করতে হয়েছে।ব্যাঙ্ক কখনোই লেখালেখির অনুমতি দেয়নি।তবুও লিখেছি। শো কজ খেয়েছি।তাতেও থামিনি।তবে আমার আসল নামে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।সেসময় থেকেই আমি তুহিন শঙ্কর চন্দ থেকে তুহিন কুমার চন্দ  হয়ে গেছি।আর আমাকে ছুঁতেও পারেনি। তবে ব্যাঙ্কের অবসর সময়ে ব্যাঙ্কে বসেই বেশীরভাগ লিখেছি।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ -  পাবলিক রিলেশান এবং সাহিত্য , সমান তালে  সামলাতে পারেন । ম্যানেজমেন্টের পাঠ কি জরুরী তবে সফল সাহিত্য সাধনায় ? 

তুহিন কুমার চন্দ - পাবলিক রিলেশন এবং সাহিত্য সমানভাবেই চলে এর জন্য ট্রেনিংয়ের দরকার নেই।ভাল ব্যবহার ও সততার দরকার শুধু।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - উঠতি ছড়াকারদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।বেসিক টেকনিক বা গঠনগত দিক যা নজর দেওয়া প্রয়োজন। 

তুহিন কুমার চন্দ - যারা নতুন ছড়া লিখছেন তাদের ছড়া/ কবিতা বেশী করে পড়তে হবে।ছন্দ কিভাবে ভাঙছে, গড়ছে ইত্যাদি । ছন্দের জন্য কানের ভীষন বড় ভূমিকা আছে।ছন্দ পতন হলেই কানে বাজবে।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ -  আপনার প্রতিষ্ঠিত "কবিকথা " দু বছরে পা দিয়েছে । কেন এমন একটি সংস্হার ভাবনা ?

তুহিন কুমার চন্দ - আমরা "কবিকথা"র জন্ম  দিয়েছিলাম এই ভেবে যে, আমরা সবাই যেন একসাথে চলতে পারি,বলতে পারি।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - রায়গঞ্জে বইমেলার আয়োজন করে আসছেন বহুদিন ধরে । সরকারী বইমেলার বাইরে কেন দরকার মনে করেছিলেন এমন বেসরকারী উদ্যোগ ? 

তুহিন কুমার চন্দ -  কেন আলাদাভাবে বইমেলার জন্ম দিয়েছিলাম রায়গঞ্জে,  সে বিরাট তিক্ত ইতিহাস। ২০০০ সনে বই পিপাসু মানুষের জন্য প্রতিবছর যেন বইমেলা রায়গঞ্জে হয় তাই।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - বাংলাদেশ যান প্রায়ই । সেটা কি শুধুই সাহিত্যিকের পর্চয়ে না কোন যোগ আছে আত্মিক ? 

তুহিন কুমার চন্দ - বাংলাদেশের সরকারী ডাক প্রথম পাই ১৯৯৯ সনে। উত্তরবঙ্গ থেকে আমাকেই ডাকা হয়েছিল।যার সংবাদ "উত্তরবঙ্গ সংবাদ" প্রথম পাতায় ছেপেছিল।তাতেই জানতে পারি উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম আমিই ওদেশে যাবার আমন্ত্রন পাই।

ওদেশে আমার অনেক সাহিত্যিক বন্ধু যেমন আছে,তেমনি আমাদের বংশধররা আছে,আমাদের বাড়ি এখনো আছে।তাই ডাক পেলেই ছুটে যাই।ওটা আমার জন্মভূমি যে!!

এই তো ৭ই জুলাই আবার সরকারী আমন্ত্রন পেয়েছি।যাব।বারবার যাবো আমার জন্মভূমির টানে।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ - এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কবিতা , গল্প , ছড়া , শিশুপাঠ্য মিলিয়ে প্রকাশিত গ্রণ্হের সংখ্যা কটি ও কি কি ? সেগুলি কোথায় পেতে পারেন উৎসাহী পাঠক ? সরকারী ও বেসরকারী স্বীকৃতি কি কি পেয়েছেন যদি বলেন ...

তুহিন কুমার চন্দ - সরকারী পুরস্কার "সুকান্ত পুরস্কার" (১৯৯৫), "শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যিক" ১৯৯৭, বেসরকারি পুরস্কারের সঠিক হিসেব নেই, প্রচুর। বইয়ের সংখ্যা ২৬ সম্পাদিত নিয়ে। নিজশ্ব বই ১০, তবে প্রথম কবিতার বই প্রকাশ পায় ১৯৭৫ সনে।মাননীয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী।সরকারী খরচে প্রকাশ পেয়েছিল " ওরা বেঁচে আছে " আমার কবিতার বই এটাই।বাকি সব ছড়ার। আমার "হাঁটি হাঁটি পা পা", "বেড়াল বেড়াল দুষ্টু বেড়াল" "এলাটিং বেলাটিং " " তুতুল নামের পুতুলটা"" গল্প শুধু অল্প নয়"বেশ জনপ্রিয়। আমার গবেষনা মূলক বই "মহাভারতীয় যুগের উত্তরবঙ্গ" এর জন্য আমার ড. ডিগ্রী প্রাপ্তি ঘটেছিল ড.আশুতোষ ভট্টাচার্যের অধীনে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন