x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

সৌরভকুমার ভূঞ্যা

sobdermichil | মে ২৬, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
হেলমেট
অমিতেশবাবুর রিপোর্টটা আজ কাগজে ছবি সহ ফলাও করে বেরোনোর পর থানার ভেতরে চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। অনেক নেতা-মন্ত্রীর ফোন আসছে অবিরত। জবাবদিহী করতে করতে নাজেহাল অবস্থা ওসি সুবিকাশ দত্তের।

বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। প্রথম কয়েকমাস ঠিকঠাক ছিল। তারপর আবার যেই কে সেই অবস্থা। মানুষ সচেতন না হলে পুলিশ-প্রশাসন কতটুকুই বা করতে পারে।

হেলমেটহীন বাইকযাত্রা সহ আরও অনেক বেনিয়মের খবর ছবি সহ প্রকাশ করেছেন অমিতেশবাবু। ষাট ছুঁই ছুঁই রিপোর্টার অমিতেশবাবুর প্রভাব বেশ গভীর। তাই প্রশাসনিক মহলে ব্যস্ততা বাড়ে।

গত কয়েকদিন ধরে চলছে অভিযান। সুবিকাশ আজও কয়েকজনকে বাইকশুদ্ধ নিয়ে এসেছেন থানায়। এর মধ্যে প্রিয়ঞ্জন নামে একটি যুবক রয়েছে। হেলমেট পরা দূরে থাক, তার লাইসেন্সও নেই। তাকে নিয়েই বসেছেন সুবিকাশ। এমন সময় মোবাইলটা বেজে ওঠে।

‘অমিতেশ মিত্র বলছি।’

‘হ্যাঁ স্যার, বলুন।’

‘আপনি প্রিয়ঞ্জন বলে কাউকে থানায় এনেছেন?’

‘হ্যাঁ স্যার। ওনার কাছে....।’

তাকে থামিয়ে দিয়ে অমিতেশ বলেন, ‘বাচ্চা ছেলে, ভুল করে ফেলেছে। একটু বকে ঝকে ছেড়ে দিন।’

উত্তরের অপেক্ষা না করে লাইন কেটে দেন অমিতেশ। সুবিকাশ অবাক হওয়ারও সুযোগ পান না, আবারও মোবাইল বেজে ওঠে। এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার ফোন। অনেকটা আদেশের সুরে তিনি বলেন, ‘অফিসার, প্রিয়ঞ্জন অমিতেশবাবুর ভাগ্নে। ওর নামে কোনো কেস দেবেন না। ভদ্রভাবে ছেড়ে দিন।’

প্রিয়ঞ্জন চলে যাওয়ার পর কনস্টেবল বিধান বলে, ‘স্যার ওদের অন্যায় দাবি মেনে নিলেন?’

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, মলিন হেসে সুবিকাশ বলেন, ‘না মেনে কী কোনো উপায় আছে? আমার নিজের মাথায় তো হেলমেট নেই।’

বিধান কিছু বুঝতে পারে না। মাথার টুপিটা ঠিক করতে করতে বেরিয়ে যায়।


সৌরভকুমার ভূঞ্যা, তেরপেখ্যা, মহিষাদল পূর্ব মেদিনীপুর, ৭২১৬২৮ sesdekha@gmail.com

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.