x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

সৌরভকুমার ভূঞ্যা

sobdermichil | মে ২৬, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
হেলমেট
অমিতেশবাবুর রিপোর্টটা আজ কাগজে ছবি সহ ফলাও করে বেরোনোর পর থানার ভেতরে চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। অনেক নেতা-মন্ত্রীর ফোন আসছে অবিরত। জবাবদিহী করতে করতে নাজেহাল অবস্থা ওসি সুবিকাশ দত্তের।

বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। প্রথম কয়েকমাস ঠিকঠাক ছিল। তারপর আবার যেই কে সেই অবস্থা। মানুষ সচেতন না হলে পুলিশ-প্রশাসন কতটুকুই বা করতে পারে।

হেলমেটহীন বাইকযাত্রা সহ আরও অনেক বেনিয়মের খবর ছবি সহ প্রকাশ করেছেন অমিতেশবাবু। ষাট ছুঁই ছুঁই রিপোর্টার অমিতেশবাবুর প্রভাব বেশ গভীর। তাই প্রশাসনিক মহলে ব্যস্ততা বাড়ে।

গত কয়েকদিন ধরে চলছে অভিযান। সুবিকাশ আজও কয়েকজনকে বাইকশুদ্ধ নিয়ে এসেছেন থানায়। এর মধ্যে প্রিয়ঞ্জন নামে একটি যুবক রয়েছে। হেলমেট পরা দূরে থাক, তার লাইসেন্সও নেই। তাকে নিয়েই বসেছেন সুবিকাশ। এমন সময় মোবাইলটা বেজে ওঠে।

‘অমিতেশ মিত্র বলছি।’

‘হ্যাঁ স্যার, বলুন।’

‘আপনি প্রিয়ঞ্জন বলে কাউকে থানায় এনেছেন?’

‘হ্যাঁ স্যার। ওনার কাছে....।’

তাকে থামিয়ে দিয়ে অমিতেশ বলেন, ‘বাচ্চা ছেলে, ভুল করে ফেলেছে। একটু বকে ঝকে ছেড়ে দিন।’

উত্তরের অপেক্ষা না করে লাইন কেটে দেন অমিতেশ। সুবিকাশ অবাক হওয়ারও সুযোগ পান না, আবারও মোবাইল বেজে ওঠে। এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার ফোন। অনেকটা আদেশের সুরে তিনি বলেন, ‘অফিসার, প্রিয়ঞ্জন অমিতেশবাবুর ভাগ্নে। ওর নামে কোনো কেস দেবেন না। ভদ্রভাবে ছেড়ে দিন।’

প্রিয়ঞ্জন চলে যাওয়ার পর কনস্টেবল বিধান বলে, ‘স্যার ওদের অন্যায় দাবি মেনে নিলেন?’

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, মলিন হেসে সুবিকাশ বলেন, ‘না মেনে কী কোনো উপায় আছে? আমার নিজের মাথায় তো হেলমেট নেই।’

বিধান কিছু বুঝতে পারে না। মাথার টুপিটা ঠিক করতে করতে বেরিয়ে যায়।


সৌরভকুমার ভূঞ্যা, তেরপেখ্যা, মহিষাদল পূর্ব মেদিনীপুর, ৭২১৬২৮ sesdekha@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.