x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

সৌরভকুমার ভূঞ্যা

sobdermichil | মে ২৬, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
হেলমেট
অমিতেশবাবুর রিপোর্টটা আজ কাগজে ছবি সহ ফলাও করে বেরোনোর পর থানার ভেতরে চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। অনেক নেতা-মন্ত্রীর ফোন আসছে অবিরত। জবাবদিহী করতে করতে নাজেহাল অবস্থা ওসি সুবিকাশ দত্তের।

বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। প্রথম কয়েকমাস ঠিকঠাক ছিল। তারপর আবার যেই কে সেই অবস্থা। মানুষ সচেতন না হলে পুলিশ-প্রশাসন কতটুকুই বা করতে পারে।

হেলমেটহীন বাইকযাত্রা সহ আরও অনেক বেনিয়মের খবর ছবি সহ প্রকাশ করেছেন অমিতেশবাবু। ষাট ছুঁই ছুঁই রিপোর্টার অমিতেশবাবুর প্রভাব বেশ গভীর। তাই প্রশাসনিক মহলে ব্যস্ততা বাড়ে।

গত কয়েকদিন ধরে চলছে অভিযান। সুবিকাশ আজও কয়েকজনকে বাইকশুদ্ধ নিয়ে এসেছেন থানায়। এর মধ্যে প্রিয়ঞ্জন নামে একটি যুবক রয়েছে। হেলমেট পরা দূরে থাক, তার লাইসেন্সও নেই। তাকে নিয়েই বসেছেন সুবিকাশ। এমন সময় মোবাইলটা বেজে ওঠে।

‘অমিতেশ মিত্র বলছি।’

‘হ্যাঁ স্যার, বলুন।’

‘আপনি প্রিয়ঞ্জন বলে কাউকে থানায় এনেছেন?’

‘হ্যাঁ স্যার। ওনার কাছে....।’

তাকে থামিয়ে দিয়ে অমিতেশ বলেন, ‘বাচ্চা ছেলে, ভুল করে ফেলেছে। একটু বকে ঝকে ছেড়ে দিন।’

উত্তরের অপেক্ষা না করে লাইন কেটে দেন অমিতেশ। সুবিকাশ অবাক হওয়ারও সুযোগ পান না, আবারও মোবাইল বেজে ওঠে। এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার ফোন। অনেকটা আদেশের সুরে তিনি বলেন, ‘অফিসার, প্রিয়ঞ্জন অমিতেশবাবুর ভাগ্নে। ওর নামে কোনো কেস দেবেন না। ভদ্রভাবে ছেড়ে দিন।’

প্রিয়ঞ্জন চলে যাওয়ার পর কনস্টেবল বিধান বলে, ‘স্যার ওদের অন্যায় দাবি মেনে নিলেন?’

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, মলিন হেসে সুবিকাশ বলেন, ‘না মেনে কী কোনো উপায় আছে? আমার নিজের মাথায় তো হেলমেট নেই।’

বিধান কিছু বুঝতে পারে না। মাথার টুপিটা ঠিক করতে করতে বেরিয়ে যায়।


সৌরভকুমার ভূঞ্যা, তেরপেখ্যা, মহিষাদল পূর্ব মেদিনীপুর, ৭২১৬২৮ sesdekha@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.