x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

sobdermichil | মে ২৬, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
পায়ে পায়ে আট। প্রিয় ওয়েবপত্রিকা ‘শব্দের মিছিল’ সাত পেরিয়ে আট বছরের পথচলা শুরু করলো। দুই হাজার বারোর রবিমাসের নয় তারিখে ‘শব্দের মিছিল’ যখন তার পথচলা শুরু করেছিল বাঙলাভাষা নির্ভর ওয়েবপত্রিকার ধারনাটা তখন ছিল নবীন, কিন্তু অন্তর্জালে বাঙলা সাহিত্য প্রয়াস ও প্রসারের বিপুল সম্ভাবনা অষ্পষ্ট ছিল না । শব্দের মিছিল যাত্রা শুরু করেছিল সেই ক্রান্তিক্ষণে । এখন আর ওয়েবপত্রিকা বা তার সাহিত্য প্রয়াসকে অবজ্ঞার চোখে দেখার কোন যায়গা নেই । মুদ্রিত ছোট পত্রিকা বা লিটল ম্যাগাজিন যেমন বাঙলা সাহিত্যের আঁতুড়ঘর, ওয়েবপত্রিকাও তেমনি । শব্দের মিছিল তার প্রচ্ছদে তাই ঘোষণা করেছে যে সে ‘উদীয়মান তারুণ্যের আতুরঘর’ ।

দারুণ দাবদাহ আর প্রখর খরতাপের মে মাস কিংবা বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যকে আমরা চিহ্নিত করি রবীন্দ্র-নজরুল মাস বলে । আমরা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি আমাদের প্রাণের মানুষ রবীন্দ্রনাথ আর জৈষ্ঠ্যের ঝড় নজরুল কে। খরতাপের এই মে মাসের আর একটা দিক আছে যা আমাদের ইতিহাসের সরণিতে পৌঁছে দেয়, পৌছে দেয় আমাদের সারস্বতভুমির গৌরবের সরণিতে ।
এ মাসে ৩১ দিনের দেওয়ালপঞ্জীর প্রথম তারিখটা স্মরণ করায় একটা দিন – মে দিবস, যে দিনটি জড়িয়ে আছে আমাদের অর্জিত আট ঘন্টা কাজের অধিকারের সঙ্গে। তা্রও ১১২ বছর আগে উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক মানুষ, আমাদের চিন্তা-চেতনা জাগরণের প্রথম পুরোহিত রামমোহন রায়ের আবির্ভাব হয়েছিল এই মাসের ২২ তারিখে । রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব দিনটি আমরা ভুলি না, ভুলি না নজজরুলের কথাও। রবীন্দ্রনাথের পিতৃদেব মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও তাঁর প্রিয় জ্যোতি দাদার জন্মও এই মাসে। রবীন্দ্রনাথের পরম সুহৃদ, বাংলার শিশুসাহিত্যের পিতৃপুরুষ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরির জন্ম এই মাসে। এবং কি আশ্চর্য, উপেন্দ্রকিশোরের পৌত্র বিশ্ববরেণ্য সত্যজিৎ রায়েরও জন্ম একই মাসে। বাংলার শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত জগতের আরো অনেক বরেণ্য মানুষের আবির্ভাব হয়েছিল এই খরতাপের মে মাসে। প্রবাদপ্রতীম সঙ্গীতপ্রতিভা পঙ্কজ কুমার মল্লিক, মান্না দে, বিশ্ববরেণ্য চিত্রপরিচালক মৃণাল সেন, খ্যাতকীর্তি অভিনেতা বিকাশ রায়, সাহিত্যও জগতের দুই খ্যাতকীর্তি মানুষ মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রর জন্ম এই রবিমাসেই।খরতাপের মে মাস সুতরাং সত্যই রত্নপ্রসবিনী।শব্দের মিছিল এই সব বরেণ্য মানুষদের স্মরণ করছে ও বিনম্র প্রণাম নিবেদন করছে।তার পথচলার শুরুও যে এই রবিমাসেই ।

আমরা এক বিপর্যস্ত সময়ের সাক্ষি। হিংসা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, অন্য-স্বরের প্রতি হিংসাশ্রয়ী আক্রমণ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিপর্যয়ে মানুষ বড় অসহায়। ধর্মীয় আস্ফালন ও যুদ্ধের উন্মাদনায় চৈতন্য অসাড় হয়ে যায়। তবু, ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ’ এই কথাটা আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই বিশ্বাসের ভিত্তিভুমিতে দাঁড়িয়ে বলবো মানুষ ঘুরে দাঁড়াবেই। ঋষিকল্প রবীন্দ্রনাথের শেষ জন্মদিনের অভিভাষণে উৎসারিত প্রত্যয় “একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রাএ অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ মর্যাদা ফিরে পাবার জন্য”। শব্দের মিছিলের প্রতিটি শব্দে উচ্চারিত হোক এই প্রত্যয়ের দীপ্তি ।

মিছিল কথাটা অঙ্গীকার ও প্রত্যয়ের দ্যোতক, ‘শব্দের মিছিল’ তাই তার শরীরে ধরে রেখেছে একটা অঙ্গূকার, আমাদের জানিয়েছে - “ মানুষের জন্য কথা বলা, মানুষের সঙ্গে চলায়, এই প্রজন্মের নির্ভীক সাহিত্য কর্মী,সংস্কৃতি কর্মী,শিক্ষাকর্মী,শিল্পী পাঠক শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অধ্যায়নরত ছাত্র ছাত্রীদের সক্রিয় আরাধনা এবং স্বচ্ছ অবস্থানকে সম্মান জানাতেই শব্দের মিছিলের নিবেদিত এই স্পর্ধা, এই প্রচেষ্টা, এবং চর্চিত এই প্রয়াস”। এই প্রত্যয়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নবীন, প্রবীণ সাহিত্যকর্মীরা তাঁদের সৃজনে-মননে মানুষের পক্ষে থাকবেন, তাদের বেদনার কেন্দ্রে হাত রাখবেন নিশ্চিতভাবেই এই প্রত্যাশা রাখি ।

সাত বছরের পথ চলায়, মিছিলের শরীরে এসেছে নানাবিধ বদল। পাঠক-লেখকের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল সখ্যতার ধারণার বেড়া ভাঙার প্রয়াস নিয়েছে। এমনই এক প্রয়াস ‘আত্মার সাধনা’ ও ‘আত্মার স্পন্দন’ সম্মাননা প্রদান কৃতি এবং নির্ভীক সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের। বিগত বর্ষগুলোতে এই সম্মাননা প্রদান যেমন সম্পন্ন হয়েছিল, তেমনই আর্থিক ও নানাবিধ কারণে ৫ম ও ৬ষ্ঠ বর্ষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা যায়নি । ৭ম বর্ষপূর্তিতে এই সম্মাননা প্রদান সম্ভব হবে, জুন ২০১৯ এর মধ্যে আশা করছি।

মিছিলের কোন এক সংখ্যায় যেন একটা পংক্তি পড়েছিলাম ‘পিঠে হাত রাখে আলো । আলো, এক চিরন্তন অনুভব’ । মিছিলের প্রতিটি শব্দ আলোকিত করুক মানুষকে ।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.