x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

সোমবার, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | এপ্রিল ১৫, ২০১৯ |
মিলন মহান করো, হে বিবিধ
এক এক সময়ে খুব আতান্তরে পড়ে যেতে হয়। কোনটাকে কি নামে অভিহিত করব কিছু ঠিক করে ওঠা যায়না। একদিকে হয়তো টগবগ করে ফুটে ওঠা কারও বুকের রক্ত নিমেষে প্রেশার চড়িয়ে শোক কে পরিণত করে দিচ্ছে ক্রোধে। অন্যদিকে আবেগে আপ্লুত হওয়া অজস্র মন কোন কিছুই না বুঝে ভেসে যাচ্ছে সযত্নে লালিত উগ্র প্রেমের জোয়ারে। তার জন্য যা কিছুই ঘটে যাক ডোন্ট কেয়ার। নিয়ন্ত্রনহীন সেই পরিস্থিতির তোড়ে তখন কি কি তছনছ হয়ে যাচ্ছে তা ভাববার আর সময় কোথায়?

অবধারিত ভাবেই তাই জেগে ওঠে সেই প্রশ্নটাই – এত হিংসা কেন? কেন এত চরাচর জুড়ে অ-প্রেম ছড়িয়ে? অন্য কারও দিকে তাকানোর আগে যদি ঘরের দিকেই তাকাই তাহলে সেখানেও যে সবাই সুখে শান্তিতে বেঁচে আছে এমন দৃশ্য সর্বজন-গ্রাহ্য নয়! গার্হস্থ হিংসা তো কম কুরে কুরে খাচ্ছেনা মানুষকে! কত সংসারেই তো অকালে ঝরে যায় মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের। যতদিন লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করে পারা চালিয়ে যাওয়া, তারপর তো সেই পরিবারের সদস্যদের হাতেই নিগ্রহ, কখন কখনও খুন হয়ে যাওয়া। যাদের সঙ্গে অতি নিজের আত্মীয়তার সম্পর্ক হয়েছিল বলে ধরা হয় তাদের হাতেই! এত নিষ্ঠুরতা মানুষ পুষে রাখে কোথায়?

কেন এত হিংসা? প্রাণ এত হেলাফেলার বস্তু হয়ে উঠলো কেন? বিনা কারণে? ভাবা যায়না। একটা পরিমিতি বোধ থাকবে ধরে নিয়ে জীবন যাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছন্দ মিলিয়ে পূর্ণতার দিকে যেতে চায়, অনেক সময় তাদেরই কারও হিংসার আগুনের সামনে পড়ে যেতে হয় আচমকা। কিসে আসলে শান্তি চায় মানুষ? পরিবারের ছোট্ট গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজের দিকে তাকালে সেখানে ছবিটা আরও ভয়ংকর। একটা দমবন্ধ চাপা চাপা ভাব। যা যা ঘটে যায় চারদিকে তার পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব চিন্তাভাবনার কথা ব্যক্ত করতে গেলে হাজার বার ভাবতে হয় যার যার পছন্দ হলনা তারা কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে? মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে একটা ধারণা আছে, অন্য কেউ অন্যরকম ভাবে কিছু বলতে পারে ভাবতে পারে এটা অনেকে জানেই না। হয়তো এই অবস্থাটা ধীরে ধীরে খুব সাবধানে তৈরি হয়ে যায়। বিরুদ্ধ মত প্রকাশের অধিকার ততক্ষণই সহনীয় যতক্ষণ তা স্রোতের সঙ্গে মেলে। 

না মিললে? গণতন্ত্র চুলোয় যাক। প্রকৃত সত্যকে জানা আর চিনে নেওয়ার জন্য যে মিনিমাম ধৈর্য আর শিক্ষার প্রয়োজন সেই ভাবনা অর্থহীন। অশিক্ষা আর অসুস্থ চেতনা থেকে জেগে ওঠা মতবাদের উলটো সুরে কথা বললে তুমি চিহ্নিত হয়ে যাবে। তুমি অপছন্দের। তোমাকে নিয়ে তখন যা খুশি করা যায়। সীমাহীন হিংসা আর নিষ্ঠুরতা দিয়ে তোমাকে শেষ করে দেওয়া যায়। তুমি বলতে চেষ্টা করবে – শোন, বিরুদ্ধ মত থাকবে, আমাদের দেশটাই তো এমন, বিবিধের মাঝে মিলন মহান। জল হাওয়া মানুষ সংস্কৃতি ইতিহাস দর্শন সব মিলিয়েই তো ভারতবর্ষ। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। আসলে তুমি জানোনা ওসব শব্দগুলোকে কেউ পাত্তা দেয়না এখন। অনেকে শোনেইনি, জানেনা। তাই ‘অবাধ্য’ হলে বা কিছু পরামর্শ দেওয়ার মত কথা বললে তোমার প্রাপ্য নির্ভেজাল ক্রোধ আর হিংসা। যাদের মতের বিরুদ্ধে বলেছ, তাদের হাতে। এ শুধু ঘরে বা ঘরের বাইরেটাতেই নয়, এর পরিমণ্ডল অনেক ব্যাপক, বিস্তৃত। অথচ এর একটুও প্রতিফলন পড়েনা সমাজে ঘটে চলা হাজারো অনিয়ম, মিথ্যাচার, কুসংস্কার, বঞ্চনা আর সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে।

যতদিন না প্রকৃত শিক্ষা আর সুস্থ চেতনার বিকাশ হচ্ছে, ততদিন দাপিয়ে বেড়াবে শুধু এই অসহায়তা। ততদিন এর থেকে মুক্তি নেই।


tarasankar.b@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.