x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

জয়তী রায়

sobdermichil | এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
ব্যস্ত? কে? মন না শরীর?
ব্যস্ত? কে? মন না শরীর?

আমরা খুব ব্যস্ত। এই শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রাচীন অহংকার। নিজেকে প্রমাণ করার আকাঙ্খা। দ্যাখো! আমিও তো কিছু!

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বলতেন__মৌন থাকো। মানে? মানে হল , কথা বলো না। বেশ। তাই ই করলাম। মৌনতা ভঙ্গ হল। আনন্দে ডগমগ চললাম । পেরেছি ।পেরেছি। কথা না বলে থাকা! চাট্টিখানি? 

সন্ন্যাসী মৃদু হেসে বললেন: 

কথা না বলে কি করলে? 

তীরের মত জবাব আমার মুখ থেকে: 

" ভেবেছি। 

এবার হেসে উঠল পাশের সন্ন্যাসীরা। বুঝলাম, ডাহা ফেল। 

মুখ যতখানি চুপ। মন ততখানি সচল।


মৌনতা এক আশ্চর্য চাবিকাঠি। মনের সঞ্জীবনী ওষুধ। ক্লান্ত মনকে চাঙ্গা করার পদ্ধতি লুকিয়ে আছে মৌন থাকার মধ্যে। মনে রাখতে হবে, কোনো আঘাত থেকে কম কথা বলা অথবা স্বভাবে অথবা উদ্দেশ্য মূলক কম কথা বলা র কথা বলা হচ্ছে না। দিনের যে সময়টুকু মৌন থাকতে পারব ভাবছি, সে সময় মনের দরজা বন্ধ। 

অনেকেই রে রে করে আসবেন। বাড়িতে হাজার সমস্যা। মনের দরজা বন্ধ করলে চলবে? প্রশ্ন হল, যখন কোনো পরিশ্রমসাধ্য কাজ করি, সাহায্য করে আমাদের সুস্থ শরীর। তেমনি, সংকটে বিপদে সাহায্য করবে কে? সুস্থ সবল ঝলমলে মন! 

অসুস্থ শরীর দেখা যায়? অসুস্থ মন? তাও দেখা যায়। রঙ্গীন প্রজাপতি সাজে বসে থাকা মহিলার দল। হাসছে। খেলছে। মনে হবে এদের মত সুখী আর কে আছে! একটু লক্ষ্য করলে ধরা পড়ে ফাঁকি। একটু মনোযোগী হলে শোনা যায়, নিরুচ্চারিত উফফ শব্দটি। ভালো লাগছে না। কিছু ভালো লাগছে না। শেষ পর্যন্ত নিজের কবিতা , গান শেষ। বাড়ির দিকে রওনা। এসেছিলে কেন? লেখাটুকু শোনালে আর অন্যের লেখা শুনবে না? নাহ্। খু উ ব ব্যস্ত! কে ব্যস্ত? শরীর না মন? মন বসতেই পারছে না স্থির হয়ে। সেই ট্রেনিং নেই তার।

শিশু আপন স্বভাবে চঞ্চল। তাকে শাসন করা হয়। আমাদের চঞ্চলতা শাসন করবে কে? এমন মনে করার কারণ নেই, বাইরে থেকে যাকে দেখে মনে হচ্ছে শান্ত নদী, ভিতরে বইছে না উত্তাল ঢেউ? সামান্য কোনো ঘটনার জেরে ভেঙ্গে গেল বাঁধ। ভেসে গেল আরোপিত গাম্ভীর্য। এমন দেখা যায়, বিখ্যাত মহিলা। নানা দিকে কৃতি। হঠাৎ তার মনে হল, আশেপাশের সবাই খারাপ। শুরু হল বয়কট। যদি প্রশ্ন করি:

কি করে জানলে? ওরা খারাপ! 

মনে হল। ভীষন চালাক। ভীষন সুবিধেবাদী। 

কিছুদিন আগেই ত গলায় গলায়...

এখন বুঝলাম। মন বলল। আমি ভীষন লোক চিনি।

খুব সত্যি কথা___" আমি ভীষন লোক চিনি! 

আর নিজেকে? চেনো কি? নিজে তুমি কেমন গো? সেখানে কি বলে তোমার মন? 

সংকট সময়ে , সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলে , সে মন তোমার বশে নেই গো। সে জন্যই একটু মৌন থাকা। এটা একটা উপায়। খুব সহজে নিজের মনকে সুন্দর রাখার উপায়। আর কে না জানে? 

সুন্দর মন মানেই সুন্দর শরীর। সুন্দর সম্পর্ক।

সারাদিনে কিছুক্ষণ নিজেকে চুপ করিয়ে রাখলে , বহু উপকার হয়। এনার্জি জমা হয়। যে এনার্জি দুঃসময়ে কাজে লাগে।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.