x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

জয়তী রায়

sobdermichil | এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ব্যস্ত? কে? মন না শরীর?
ব্যস্ত? কে? মন না শরীর?

আমরা খুব ব্যস্ত। এই শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রাচীন অহংকার। নিজেকে প্রমাণ করার আকাঙ্খা। দ্যাখো! আমিও তো কিছু!

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বলতেন__মৌন থাকো। মানে? মানে হল , কথা বলো না। বেশ। তাই ই করলাম। মৌনতা ভঙ্গ হল। আনন্দে ডগমগ চললাম । পেরেছি ।পেরেছি। কথা না বলে থাকা! চাট্টিখানি? 

সন্ন্যাসী মৃদু হেসে বললেন: 

কথা না বলে কি করলে? 

তীরের মত জবাব আমার মুখ থেকে: 

" ভেবেছি। 

এবার হেসে উঠল পাশের সন্ন্যাসীরা। বুঝলাম, ডাহা ফেল। 

মুখ যতখানি চুপ। মন ততখানি সচল।


মৌনতা এক আশ্চর্য চাবিকাঠি। মনের সঞ্জীবনী ওষুধ। ক্লান্ত মনকে চাঙ্গা করার পদ্ধতি লুকিয়ে আছে মৌন থাকার মধ্যে। মনে রাখতে হবে, কোনো আঘাত থেকে কম কথা বলা অথবা স্বভাবে অথবা উদ্দেশ্য মূলক কম কথা বলা র কথা বলা হচ্ছে না। দিনের যে সময়টুকু মৌন থাকতে পারব ভাবছি, সে সময় মনের দরজা বন্ধ। 

অনেকেই রে রে করে আসবেন। বাড়িতে হাজার সমস্যা। মনের দরজা বন্ধ করলে চলবে? প্রশ্ন হল, যখন কোনো পরিশ্রমসাধ্য কাজ করি, সাহায্য করে আমাদের সুস্থ শরীর। তেমনি, সংকটে বিপদে সাহায্য করবে কে? সুস্থ সবল ঝলমলে মন! 

অসুস্থ শরীর দেখা যায়? অসুস্থ মন? তাও দেখা যায়। রঙ্গীন প্রজাপতি সাজে বসে থাকা মহিলার দল। হাসছে। খেলছে। মনে হবে এদের মত সুখী আর কে আছে! একটু লক্ষ্য করলে ধরা পড়ে ফাঁকি। একটু মনোযোগী হলে শোনা যায়, নিরুচ্চারিত উফফ শব্দটি। ভালো লাগছে না। কিছু ভালো লাগছে না। শেষ পর্যন্ত নিজের কবিতা , গান শেষ। বাড়ির দিকে রওনা। এসেছিলে কেন? লেখাটুকু শোনালে আর অন্যের লেখা শুনবে না? নাহ্। খু উ ব ব্যস্ত! কে ব্যস্ত? শরীর না মন? মন বসতেই পারছে না স্থির হয়ে। সেই ট্রেনিং নেই তার।

শিশু আপন স্বভাবে চঞ্চল। তাকে শাসন করা হয়। আমাদের চঞ্চলতা শাসন করবে কে? এমন মনে করার কারণ নেই, বাইরে থেকে যাকে দেখে মনে হচ্ছে শান্ত নদী, ভিতরে বইছে না উত্তাল ঢেউ? সামান্য কোনো ঘটনার জেরে ভেঙ্গে গেল বাঁধ। ভেসে গেল আরোপিত গাম্ভীর্য। এমন দেখা যায়, বিখ্যাত মহিলা। নানা দিকে কৃতি। হঠাৎ তার মনে হল, আশেপাশের সবাই খারাপ। শুরু হল বয়কট। যদি প্রশ্ন করি:

কি করে জানলে? ওরা খারাপ! 

মনে হল। ভীষন চালাক। ভীষন সুবিধেবাদী। 

কিছুদিন আগেই ত গলায় গলায়...

এখন বুঝলাম। মন বলল। আমি ভীষন লোক চিনি।

খুব সত্যি কথা___" আমি ভীষন লোক চিনি! 

আর নিজেকে? চেনো কি? নিজে তুমি কেমন গো? সেখানে কি বলে তোমার মন? 

সংকট সময়ে , সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলে , সে মন তোমার বশে নেই গো। সে জন্যই একটু মৌন থাকা। এটা একটা উপায়। খুব সহজে নিজের মনকে সুন্দর রাখার উপায়। আর কে না জানে? 

সুন্দর মন মানেই সুন্দর শরীর। সুন্দর সম্পর্ক।

সারাদিনে কিছুক্ষণ নিজেকে চুপ করিয়ে রাখলে , বহু উপকার হয়। এনার্জি জমা হয়। যে এনার্জি দুঃসময়ে কাজে লাগে।


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.