x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯

শর্মিষ্ঠা ঘোষ

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
শর্মিষ্ঠা ঘোষ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সময় কোথাও একটা খোঁচা অনুভব করছি । মাতৃভাষার প্রতি ভাব ভালোবাসা কমে গেছে এমন নয় , আসলে আমায় ভাবাচ্ছে যুদ্ধভাষা বা ভাষার যুদ্ধ । একটি শোকগ্রস্ত জাতি শোক তাপ ভুলে যে হারে খিল্লিবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে , তার ভাষার নমুনা দেখে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে বাংলা ভাষা অভিধানে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি পরমত সহিষ্ণুতা শোভন সুন্দর যুক্তি বিবেচনা নৈঃশব্দ শ্রদ্ধা শ্লীল বলে কোন শব্দ কোনকালে ছিল না । ছিল শুধু আঞ্চলিক কিছু গালি গালাজ আর রিরংসা উন্মত্ততা ঘৃণা সন্দেহ বিদ্বেষ হিংস্র পাশবিক বর্বর উল্লাস ।

অনিয়ন্ত্রিত আবেগ এবং কুযুক্তি যখন গ্রাস করে নেয় সমস্ত শুভাশুভ , জন্ম দেয় কেবল ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা , প্রতিশোধ যখন শত্রু মিত্র আপন পর গুলিয়ে দেয় , হাতে মাখতে চায় নিজ পাড়ার জেলার রাজ্যের দেশের মানুষের রক্ত , ধর্ষণ করতে চায় বিরূদ্ধমতাবলম্বীদের , জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেয় উল্লাসে , দিয়ে বীরের মর্যাদা পায় , শুধু নিজ ধর্মের জাতের দলের লোক নয় বলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চায় একটি গণতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ থেকে , ক্ষেপিয়ে তোলা হয় দেশের একটি বৃহৎ সংখ্যক অশিক্ষিত অর্ধ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে , ধর্মের আফিমে বুঁদ করে রাখা যায় যে কোন জীবনমুখী সমস্যা ভুলে , তখন প্রশ্ন জাগে , তবে কি সত্যিই মৃত আমরা ? বাস করছি এক মৃত্যু উপত্যকায় ?

যে জাতি খালি দুর্বার মার্চ করছে এক জাত এক ধর্ম এক ভাষা এক খাদ্যাভ্যাস এক সংস্কৃতি এক পোশাক হবার দিকে ? তবে ঐ ভারত ভাগ্য বিধাতা কি নতুন করে লিখবেন সব ভুল ছিল, ভুল ছিল জনগণমন বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ জুড়ে মানুষের থাকাথাকি নিজ নিজ স্বাতন্ত্র বজায় রেখে এক বর্ণময় মালার বিভিন্ন ফুল হয়ে ফুটে ওঠা । এত ভুল শিখলাম আমরা ? এত ভুল করলাম তবে জেনে রবিঠাকুর নজরুল জীবনানন্দ মুন্সি প্রেমচাঁদ শামসুর রহমান জসীমুদ্দিন সাদাত হাসান মন্টো ? ভুল করলাম পুরাণ কোরান বাইবেল জেন্দ আবেস্তা ত্রিপিটক সমান শ্রদ্ধার জিনিস ভেবে ?

যারা ধর্মের বা ধর্মগ্রণ্হের অপব্যাখ্যা করে পরিভাষা তৈরী করে নেয় নিজ সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থতায় তাদের ঘৃণা করে ? গুলিয়ে যাচ্ছে ভাষা আমার হারিয়ে যাচ্ছে ভাষা । হে মা সরস্বতী ফিরিয়ে নাও বিদ্যা বুদ্ধি চেতনা জ্ঞান । আমায় কেবল অস্ত্র দাও । গণের মধ্যে লুকিয়ে গিয়ে হত্যা করে আসি ভাই বোন বন্ধু পরিজন । আত্মঘাতী হই । আত্মবিস্তৃত এক হুজুগে গণের একজন হয়ে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া ঢের ভাল ।


sharmisthaghosh1974@gmail.com

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.