x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

তপশ্রী পাল

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ |
ভাষাহারা
ভাষা নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রথমেই মনে হল কখনো কখনো ভাষা স্তব্ধ হয়ে যায় । এখন তেমনি এক সময় । ভাষা আজ বাকরুদ্ধ ! আজ আমাদের প্রত্যেক ভারতবাসীর মনের ক্ষোভ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না । হ্যাঁ, আমি বলতে চাইছি কাশ্মীরের পুলোয়ামারর ঘটনার কথা । চুয়াল্লিশটি তাজা ভারতীয় সৈনিকের এক মূহূর্তে মৃত্যুর কথা ! ভাবার বিষয় যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ভাষা কি? তারা কি বোঝাতে চায় এই নৃশংস নরহত্যার মধ্য দিয়ে ? আমরা কি কেউ বুঝি সেই ভাষা? যে সব বাবা মায়েরা, স্ত্রীরা, পুত্র কন্যারা হারালেন তাদের ভালোবাসার ধনকে, ঐ নরপিশাচরা কি বোঝে তাদের পাথর হয়ে যাওয়া বুকের ভাষা আর বাঁধনহারা অশ্রুর ভাষা? অর্থাৎ ভাষা আজ অক্ষম মানুষের মনের ভাব বোঝাতে, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তুলতে ।

তাহলে ভেবে দেখতে হয় কখন ও কেন এই ভাষাহারা নিঃসীম অন্ধকার নেমে আসে । এটি তখনই হয়, যখন কবির ভাষায়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গৃহের প্রাচীর পৃথিবীকে শতধা বিভক্ত করে দেয় । ক্ষুদ্র ব্যাক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে বৃহৎ স্বার্থের ওপরে স্থান দেয় মানুষ । ইংরাজীতে যাকে বলে communication gap তাই গ্রাস করে সবাইকে । তাই কোন চিৎকার পৌছয় না কারো কানে । মানুষে মানুষে, দেশে দেশে, ধর্মে ধর্মে যেন সমুদ্রের দূরত্ব । রাজনীতির চোরা স্রোতের কালো গহ্বর গ্রাস করে নেয় সব সদিচ্ছা ।

আতঙ্কবাদীদের ভাষা ধর্মীয় জিহাদের ভাষা, ভয়ের ভাষা, যুদ্ধের ভাষা । এ ভাষা কি কোন রাষ্ট্রের ভাষা হতে পারে? না । আবার রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে রাজনীতি, ষড়যন্ত্র, দেশবিভাগ কি কোন সাধারণ মানুষের ভাষা হতে পারে? এর উত্তরও না । তাই আজ আমরা কোন ভাবেই একে অপরের ভাষা বুঝি না । পারস্পরিক আলোচনায় সমাধান করতে পারি না কোন সমস্যা । সুযোগসন্ধানীরা এই অবস্থার সুযোগ নেয় । অস্ত্র সরবরাহ করে, যুদ্ধ লাগায় । 

আজ ভাষাদিবসের প্রাক্কালে তাই চিন্তার বিষয় যে আজ আমরা কোন বিশেষ ভাষা বা বাংলা ভাষার কথা ভাবার সাথে সাথে আজ বুঝি মানবিকতার ভাষা সন্ধান করার সময় এসেছে । আসুন আমরা সবাই আজ বিভেদের ভাষা না বলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ স্থাপনের ভাষা বলি । আমাদের প্রত্যেকের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই একদিন বৃহৎ রূপ নেবে । নইলে কোনদিনই কাটবে না এই নিঃসীম অন্ধকার ।



tapasripal57@gmail.com

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.