x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯

তপশ্রী পাল

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ভাষাহারা
ভাষা নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রথমেই মনে হল কখনো কখনো ভাষা স্তব্ধ হয়ে যায় । এখন তেমনি এক সময় । ভাষা আজ বাকরুদ্ধ ! আজ আমাদের প্রত্যেক ভারতবাসীর মনের ক্ষোভ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না । হ্যাঁ, আমি বলতে চাইছি কাশ্মীরের পুলোয়ামারর ঘটনার কথা । চুয়াল্লিশটি তাজা ভারতীয় সৈনিকের এক মূহূর্তে মৃত্যুর কথা ! ভাবার বিষয় যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ভাষা কি? তারা কি বোঝাতে চায় এই নৃশংস নরহত্যার মধ্য দিয়ে ? আমরা কি কেউ বুঝি সেই ভাষা? যে সব বাবা মায়েরা, স্ত্রীরা, পুত্র কন্যারা হারালেন তাদের ভালোবাসার ধনকে, ঐ নরপিশাচরা কি বোঝে তাদের পাথর হয়ে যাওয়া বুকের ভাষা আর বাঁধনহারা অশ্রুর ভাষা? অর্থাৎ ভাষা আজ অক্ষম মানুষের মনের ভাব বোঝাতে, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তুলতে ।

তাহলে ভেবে দেখতে হয় কখন ও কেন এই ভাষাহারা নিঃসীম অন্ধকার নেমে আসে । এটি তখনই হয়, যখন কবির ভাষায়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গৃহের প্রাচীর পৃথিবীকে শতধা বিভক্ত করে দেয় । ক্ষুদ্র ব্যাক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে বৃহৎ স্বার্থের ওপরে স্থান দেয় মানুষ । ইংরাজীতে যাকে বলে communication gap তাই গ্রাস করে সবাইকে । তাই কোন চিৎকার পৌছয় না কারো কানে । মানুষে মানুষে, দেশে দেশে, ধর্মে ধর্মে যেন সমুদ্রের দূরত্ব । রাজনীতির চোরা স্রোতের কালো গহ্বর গ্রাস করে নেয় সব সদিচ্ছা ।

আতঙ্কবাদীদের ভাষা ধর্মীয় জিহাদের ভাষা, ভয়ের ভাষা, যুদ্ধের ভাষা । এ ভাষা কি কোন রাষ্ট্রের ভাষা হতে পারে? না । আবার রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে রাজনীতি, ষড়যন্ত্র, দেশবিভাগ কি কোন সাধারণ মানুষের ভাষা হতে পারে? এর উত্তরও না । তাই আজ আমরা কোন ভাবেই একে অপরের ভাষা বুঝি না । পারস্পরিক আলোচনায় সমাধান করতে পারি না কোন সমস্যা । সুযোগসন্ধানীরা এই অবস্থার সুযোগ নেয় । অস্ত্র সরবরাহ করে, যুদ্ধ লাগায় । 

আজ ভাষাদিবসের প্রাক্কালে তাই চিন্তার বিষয় যে আজ আমরা কোন বিশেষ ভাষা বা বাংলা ভাষার কথা ভাবার সাথে সাথে আজ বুঝি মানবিকতার ভাষা সন্ধান করার সময় এসেছে । আসুন আমরা সবাই আজ বিভেদের ভাষা না বলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ স্থাপনের ভাষা বলি । আমাদের প্রত্যেকের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই একদিন বৃহৎ রূপ নেবে । নইলে কোনদিনই কাটবে না এই নিঃসীম অন্ধকার ।



tapasripal57@gmail.com

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.