x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯

আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ |
আব্দুল মাতিন ওয়াসিম
বার্ধক্য
বুলান্দ আল্‌-হায়দারি, ইরাক 
অনুবাদ- আব্দুল মাতিন ওয়াসিম

আরও একটা শীত এলো
আর আমি, এখানে এই উনুনের পাশে বসে
স্বপ্ন দেখছি। দেখছি—
একটি মেয়ে
আমার স্বপ্নে বিভোর!
তার স্তনের নিভৃতে
আমি লুকিয়ে রাখছি একটি রহস্যকে
আর সে, বিদ্রূপ না-করে আগলে রাখছে সেই রহস্য!
আরও দেখছি, জীবনের বাঁকে এসে
আমি ছড়িয়ে দিচ্ছি নিজ আলো
আর সে চিৎকার করে বলছে—
এ আলো আমার, শুধু আমার
যেন কোনো নারী না আসে এ আলোর কাছে! 

এখানে, এই উনুনের পাশে
আসবে আরো একটা শীতকাল!
আর আমি, এখানেই বসে
বুনবো স্বপ্নের মায়াজাল
সঙ্গে মিশে থাকবে স্বপ্ন-ভাঙার ভয়। 
এ আশংকাতে ন্যুব্জ হয়ে থাকবো সদা— 
হয়তো সে ঘৃণা ভরে তাকাবে
আমার টাকপড়া কুচ্ছিত মাথা
বুড়ো ধূসর মনের দিকে;
আর লাথি মেরে চলে যাবে
আমার ভালোবাসাকে!
হ্যাঁ এখানে, এই উনুনের পাশেই
আমি ধীরে ধীরে হয়ে উঠবো
এক নারীর উপহাসের পাত্র!

আরও একটা শীত আসবে
আর আমি, এখানেই পড়ে থাকব
একাকী
প্রেমহীন
স্বপ্নবিহীন
চারপাশে কোথাও কেউ থাকবে না
কোনো নারীও না;
তারপর একদিন—
এখানে, এই উনুনের পাশে
মৃত্যু হবে আমার
হৃদয়ের তাপমাত্রাহীনতায়! 


[ বুলান্দ আক্‌রাম আল্‌-হায়দারি (১৯২৬ – ১৯৯৬)। বামধারার এক প্রগতিশীল কবি। ১৯৫৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর, সাদ্দামের বা’স পার্টি ক্ষমতা লাভের পরেই আরম্ভ করে ক্ষমতার অপব্যবহার। কবি তখন সেই স্বৈরাচারী, নব্য জাতীয়তাবাদী একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ফলস্বরূপ দেশ ত্যাগ করতে হয়; চলে যান লেবাননে। পনেরো বছর পর ১৯৭৭-এ ফিরে আসেন। ক’বছর থেকে  ১৯৮০-র শুরুর দিকে চলে যান লন্ডনে। আজীবন প্রবাসে থেকে লন্ডনেই ১৯৯৬-র ৬ই আগস্ট মঙ্গলবারে, ৭০ বছর বয়সে ব্রোম্পটন হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  
তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরল ও বিনয়ী।  হাসি দিয়ে সর্বদা জয় করতেন অশ্রু-দহন ও স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। দীর্ঘ জীবনযাত্রায় তিনি বাগদাদ থেকে লেবানন হয়ে পৌঁছন লন্ডনে। সেখান থেকে শুভ্র মেঘের বাহনে চেপে না-ফেরার দেশে। জীবনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল গভীর। তাই মৃত্যুর ভয় তাঁর উৎকণ্ঠাকে বাড়িয়ে দিত। তাঁর কাছে মৃত্যু একটি টাইম বোম, যার বিস্ফোরণে নিস্তব্ধ হয়ে যায় হৃদয়ের যাবতীয় চঞ্চলতা। আজীবন প্রবাসে ছিলেন বলে নিঃসঙ্গতা, প্রবাস-যন্ত্রণা ও ভিটেমাটির অনুরাগ বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর কবিতায়। সব সময় তাঁর ব্যাগে থাকত একটি পাণ্ডুলিপি, নির্জনতার অশ্রু দিয়ে লেখা কবিতাসমূহের। প্রকৃতপক্ষে সেগুলি বর্তমান ব্যস্ত পৃথিবীর এক নির্মম এবং বাস্তব চিত্র। সেই কবিতাগুলির একটি হল ‘শায়খূখাহ্‌’ (বার্ধক্য)। শেষের দশকে সান্ধ্যকালীন প্রায় প্রতিটি কাব্যপাঠের আসরে তিনি এই কবিতাটি পাঠ করতেন।]     


شيخوخة
بلند الحيدري
شتوية أخرى
…..وهذا أنا
هنا
بجنب المدفأة
أحلم أن تحلم بي امرأة
أحلم أن أدفن في صدرها
سرا
فلا تسخر من سرّها
أحلم أن أطلق في منحنى
عمري سني
تقول :
….هذا السنا ملكي فلا تقري له
امرأة
*
هنا بجنب المدفأة
شتوية أخرى
وهذا أنا
أنسج أحلامي وأخشاها
أخاف أن تسخر عيناها
من صلعة حمقاء في رأسي
من شيبة بيضاء في نفسي
أخاف أن تركل رجلاها
حبي
فأمسي أنا
هناك
جنب المدفأة
ألعوبة تلهو بها امرأة
*
شتوية أخرى وهذا أنا
وحدي
لا أحب
لا أحلام
لا امرأة
عندي
وفي غد أموت من بردي
بجنب المدفأة

Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.