x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

শনিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৯

সমীরণ চক্রবর্তী

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৯ | | মিছিলে স্বাগত
"কালের ভোলা"
কারা যেন দু'কানে গুঁজে দিয়েছে দুটি সাদা ধুতুরা, গলায় আকন্দের মালা, দোল শেষে ফেলে দেওয়া মেহেন্দি রঙা জটা চড়িয়ে দিয়েছে মাথায়।

নন্দী আর ভৃঙ্গী এলো গুটিগুটি পায়ে...

- এই ব্যাটা নন্দী, কি লুকোচ্ছিস রে ওটা ?

: আজ্ঞে বাবা, ক...ক...ক...কল্কে

- ব্যাটা হতচ্ছাড়া, আমাকে অভুক্ত রেখে যত্তসব বাঁদরামো

: আজ্ঞে, আমি তো তোমার চ্যালা, বান্দর হতে যাবো কোন দুঃখে...

- থাম, থাম ! অনেক হয়েছে । যা, এক ছিলেম গঞ্জিকা সেজে আন ।

নন্দী কল্কে সাজিয়ে আনে, ভৃঙ্গী বাবার হাতে ধরিয়ে দেয় রাংতা মোড়া খেলনা ত্রিশূল ।

বাবা দিচ্ছেন গুছিয়ে কল্কেতে দম...

ওদিক থেকে কারা যেন তারস্বরে বলে ওঠে, " ব্যোম ব্যোম ভোলে... "

বাবার তখন তুরিয় ভাব, মাখো মাখো গলায় নন্দীকে বললেন-

- হ্যাঁরে, আমায় কেমন মানিয়েছে রে ?

- দারুন, একটা সেলফি তুলে রাখো না কেন বাবা ?

- ধুর হতচ্ছাড়া, স্মার্ট ফোন কই ? আগে হলেও তাও ত্রিনয়নের ফ্রন্ট ক্যামেরাতে ছবি তুলে রাখতাম, এখন তো ব্যাটারী ডাউন,

বলেই এক নাগাড়ে খক খক করে কেশে নিলেন খানিক্ষণ । কাশির দমক থামতেই নন্দীকে উদ্দেশ্য করে

- এই কি যেন একটা নেই, শূন্য... শূন্য... মনে হচ্ছে,

বলতে বলতে সদ্য শিং গজানো আধদামড়া ষাঁড় বাবার সামনে কেবলু সেজে নতজানু হয়ে বসে পড়লো ।

বাবা একটু খুশি হতেই নন্দী বললো-

বাবা, আপনার সাপ মিসিং, কৈলাসের থানায় একটা ডায়েরি লিখিয়ে আসি ?

- তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি রে হতচ্ছাড়া ! ডায়েরি না ছাই, চোখের আড়ালে গিয়ে নেশা করার মতলব আঁটছিস ।

ঠিক তখনই, গঙ্গা পাড়ের রাস্তাটা নিয়ে কারা বিসর্জনে যাচ্ছে, ব্যাঞ্জ, তাসা, ছাগল বাঁশি, কুড়কুড়ি বাজনা আর তারস্বরে লাউড স্পিকারে বাজছে ' নাগিন নাগিন ' , ছেলে-ছোকরারা বিচিত্র সাপের ভঙ্গি করে নেচেই চলেছে ।

ঢুলু ঢুলু চোখে বাবারও ' নাগিন ' নাচার ইচ্ছে হলো । সেই কবে প্রলয় নৃত্য করেছিলেন, তারপর গ্যাঁট হয়ে বসে বসে, হাঁটু আর মাজায় মরচে পড়ে গেছে । একটু নাচার চেষ্টা করতেই...

পেছনে পরপর তিন লাথি।

নারী কণ্ঠে স্তব... ,

জানলার পর্দাটা বাতাসে উড়ছে, রোদ এসে চোখে পড়লো, পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করলেন বাবা।

- এম্মা, ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছিলাম,

ততক্ষণে নারী কণ্ঠ আরও প্রকট, " রাত দুপুরে ছাইপাঁশ গিলে, ভোরের বেলা বিছানায় তান্ডব হচ্ছে, হতচ্ছাড়া মিনসে !


bioplus.samiran@gmail.com
Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.