x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শনিবার, জানুয়ারী ১২, ২০১৯

জয়তী রায়

sobdermichil | জানুয়ারী ১২, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
জীবে প্রেম করে যে ই জন...

ঠাকুর ঘরে যাই রোজ। নেশা না। পরম্পরা রক্ষা করা। না হলে শ্বাশুড়ি মা কষ্ট পাবেন। তবে, আমার ঠাকুরের দল বেশ ভালো। নানারকমের চুক্তি আছে। এই যেমন, বেশী শীত করলে স্নান করব না। একবার খাবার দিলে, তিনবেলা ভাগ করে খাবে। আমি তো আর একলা দিচ্ছি না, অন্য বাড়িও ত দিচ্ছে। ওতো লোভ করলে চলে না! আজ ফুল কেনা হল না। যাক গে। কিছু মনে করো না। ঠাকুর বেচারা, বকুনি খেতে খেতে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে নিজের দুর্ভাগ্যের কথা ভাবেন!

আমি যেটা করি সেটা হল ধ্যান। তখনো পূবের আকাশে সুয্যি মামার দেখা নেই। শুকতারা আর কি তারা আছে। চাঁদ থাকে , তখন ধ্যান করি। এটা বলার কারণ হল, দুদিন আগে রাত আড়াইটার সময়, কনকনে ঠাণ্ডা , উপলব্ধি হল, কিস্যু করিনি জীবনে। বলতে পারো, জীবন্ত ঈশ্বর দর্শন হল আমার।

নেতাজী নগরে রাস্তার উপর এক ফ্ল্যাটে আমরা থাকি। ফ্ল্যাট ভালো হলেও, তার কৌলিন্য নিয়ে আমরা সর্বদাই নাক সিঁটকে থাকি, এবং অচিরে কোনো গ্ল্যামার বাড়ি যাব বলে আলোচনা করি, আর সে কারণেই এই বাড়ির অন্য বাসিন্দা সম্বন্ধে খুব বেশি খোঁজ খবর নি ই না।

দু দিন আগে মধ্য রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, কুঁ ই কুই শব্দে। যথারীতি কানে বালিশ চাপা দিলাম। পাশে বর ও তাই। দুজনেই বাড়ি আর জায়গা সম্বন্ধে বিড় বিড় করে ঘুমানোর চেষ্টা, আবার শব্দ, আবার বার বার। ধুত্তিরি ! বলে উঠে বারান্দায় গেলাম। দেখলাম, বাড়ির সামনে বড় রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সাত আটটা কুকুরের বাচ্চা। একেবারে ছোট্ট। সামনের ছাই গাদার নিরাপদ আশ্রয়ে, মায়ের কোলে ছিল। রাস্তার আলোয় দেখা যাচ্ছে, মা নেই। বাচ্চা গুলো গড়িয়ে নেমে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে গাড়ি আসতে পারে। কি হবে! কি হবে! 

ভাবছি। নিজেকে বারান্দায় রেখে ভাবছি। এমন সময় মধ্যরাতের হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে, আমাদের ফ্ল্যাটের ভাঙ্গা গেট( কোনো দ্বারোয়ান নেই) খুলে বেরিয়ে এলো মাদার টেরেসা। চিনি না ওনাকে। আমার প্রতিবেশী। অথচ জানি না। ফেসবুকে প্রচুর বন্ধু কিন্তু ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী চেনা হয় নি! 

যাই হোক, আপাদ মস্তক শীত বস্ত্র। মহিলা চলে এলেন বাচ্চা গুলোর কাছে, নিজের মনে বললেন

" চোখ ফোটেনি এখনও। মা ই বা কোথায়? 

বলতে বলতে মা হাজির। হাজির হলে হবে কি? কোনো সাহায্য করল না মহিলাকে। বেশ আরাম করে ছাই গাদায় শুয়ে পড়ল। মহিলা, একটি একটি করে ছড়ানো ছিটানো বাচ্চা গুলোকে ওর কোলে দিতে থাকল। সে বেশ ল্যাজ নাড়িয়ে থ্যাংকু বলল।

সব বাচ্চা মায়ের কোলে ফিরে গেলে, মহিলা হাত দুটো ঘষতে ঘষতে গেট বন্ধ করে বাড়ি ঢুকে এলেন। আমি হতভম্ভ বারান্দায় দাঁড়িয়ে।

কতবছর আগে একজন বলেছিলেন:
জীবে প্রেম করে যে ই জন, সে ই জন সেবিছে ঈশ্বর।

নতুন বছরের প্রাক্কালে খুব বড় শিক্ষা হল আমার।


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.