x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শনিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৯

কোয়েলী ঘোষ

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৯ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
কোয়েলী ঘোষ
কাশ্মীর
ষোলই জানুয়ারি ,২০১৯

প্রিয় সুচরিতা , 

এখন অনেক রাত ।সারা কাশ্মীর জুড়ে তুষারঝড় চলছে। তুলোর মত বরফের আস্তরণে চারিদিক ঢাকা । আমি যেখানে থাকি ছোট্ট একটা ঘর ,মাথায় ছাউনি ।তার ওপর পুরু করে বরফ পড়েছে । সামনে খোলা জানলা।সেখানে বন্দুক ভরা আছে। ওপারে কাঁটাতার ,তার ওপারে পাকিস্তান। সবসময় আমাদের সজাগ থাকতে হয় কখন শত্রু আক্রমণ করে। এখানে দশ দিন সূর্য ওঠেনি। চারিদিক কুয়াশার চাদরে মোড়া । যেদিন সূর্য ওঠে বরফের ফাঁক গলে কি অপরুপ সেই দৃশ্য! আমি ছবি তুলে রাখি । দূরে একটা মন্দির আছে ।সেখানে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রণাম করে আসি । 

খুব বাড়ির কথা মনে পড়ে । সেই আমার ছোট্ট গ্রাম ।এতদিনে মাঠের ফসল কাটা হয়েছে ।তার ওপর সর্ষে ছড়িয়ে দিলেই চারিদিক কেমন হলুদ বরণ । মাকে বল , আমাদের মাটির বাড়িটা এবার পাকা করব সেইজন্য তিল তিল করে টাকা জমিয়ে রাখছি । 

আমার পাশেই যে ছেলেটা ছিল , নাম রাকেশ ।কাল জঙ্গির গুলিতে তার প্রাণ গেল । এরোপ্লেনে তার মরদেহ যাবে পাঞ্জাবের এক গ্রামের বাড়িতে । সারা গ্রাম ভেঙ্গে পড়বে , শেষবার বিদায় জানাবে । বীর সেনার জন্য কুর্নিশ আর স্যালুট ।

একটা কান্না দলা পাকিয়ে উঠছে গলার কাছে । গ্রামে ওর নতুন বিবাহিত স্ত্রী আর ছেলে মেয়ে । বৃদ্ধা মা ও আছেন । মৃত্যু আমাদের পায়ে পায়ে ঘোরে তবু আমাদের শোক করতে নেই জানো সুচরিতা । কঠিন ওই বরফের মত করেছি শক্ত কঠিন হৃদয় ।নির্ভীক সেনার মত বলে উঠবো -জয় হিন্দ ! ভারত মাতা কি জয় ! 

এই শীতের রাতে তোমায় মনে পড়ছে । তোমার নরম মুখ ,আদর ,ভালবাসা ,শেষবারে আসার সময় গাল বেয়ে নেমে আসা জল --সব অনুভবে ধরে রেখেছি মনের গভীরে । 

জানি না কবে ছুটি পাব । কবে তোমায় দেখতে পাব , তবে একটা করে চিঠি লিখব তোমার জন্য । সে চিঠি কোনদিন তোমার কাছে পৌছবে না । অপেক্ষায় থেকো ।আমার দেওয়া লাল শাড়িটি পরে হলুদ সর্ষে খেতে তুমি দাঁড়িয়ে , এই ছবিটা আমি রোজ দেখতে পাই , স্পষ্ট দেখতে পাই ।

তোমার জন্য ভালবাসা অনিঃশেষ আর মাকে প্রণাম জানালাম । 

ইতি ---
সুপ্রতিম 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.